দেশে হয়ে গেল বহুল আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। অতীতের সব বারের চেয়ে আলাদা জিনিস ছিল, সারা দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইসলামি দলগুলো এক বাক্সে নির্বাচন করার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। শুরুটা কওমি অঙ্গনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দল ও চরমোনাইয়ের মাঝে, পরে সেখানে জামায়াতে ইসলামী যোগ দেয়। বহু টানাপড়েনের মাঝে শেষ পর্যন্ত সেই কাঙ্ক্ষিত এক বাক্স নীতি সফল হয়নি। কওমী ওলামায়ে কেরামের একটা বড় অংশ বিএনপির পক্ষে রাজনীতি করেছেন, কওমি ঘরানার সবচেয়ে পুরনো দল জমিয়ত বিএনপির জোটে গেছে। চরমোনাই শেষ পর্যন্ত কোনো জোটে যায়নি। বাকি দলগুলো ও জামায়াত মিলে একটি জোট করেছে। আখেরে ধর্মীয় ভোটার শ্রেণি বিভক্ত হয়েছে, এবং অনেক জায়গায় এই বিভক্তি ফলাফল নির্ধারণে গুরুতর ভূমিকা রেখেছে।
শেষ পর্যন্ত জোট হলো না কেন? এর কারণ হিসেবে আমি মনে করি জামায়াত সহ অন্যান্য সবগুলো ইসলামপন্থি দল ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের চর্চা করে। ফলে যেখানে যারা সংখ্যালঘু, তারা সংখ্যাগুরু ধর্মীয় শ্রেণির শোষণের শিকার হয়। এইটা সব ক্ষেত্রে, সব জায়গায়। বিগত বছরগুলোতে তাবলীগের মধ্যে বিভক্তি খুব বাজেভাবে দৃশ্যমান ছিল, সেখানে বারবার সরকারের সহায়তা নিয়ে সমাধান করা হয়েছে। তাবলীগের সমস্যায় প্রশাসনের সঙ্গে যখনই বসা হয়েছে, সিদ্ধান্ত উলামায়ে কেরামের পক্ষে থেকেছে, কারণ তারা ক্ষমতাবান পক্ষ। দেশের যেখানেই মাজারপূজারিদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মীয় শ্রেণির দ্বন্দ্ব হয়, যেখানে সাধারণ ধর্মীয় শ্রেণির পক্ষে সরকারের সমর্থন থাকে, কারণ তারা ক্ষমতাসীন পক্ষ। পাঁচ তারিখের পরে প্রান্তিক এলাকাগুলোতে মাজারপূজারীরা ধর্মীয় শ্রেণির দ্বারা শোষিত হয়েছে, আবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জামায়াতের দ্বারা অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠী শোষিত হয়েছে। ফলে কুমিল্লার মুরাদনগরে যেখানে জামায়াত কওমি উভয়েই শোষক, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে এসে তাদের একজন শোষক, অন্যজন শোষিত।
এই বিষয়গুলো আমাদের চোখে খুব বেশি সমস্যার কারণ হয় না, কারণ ধর্ম প্রশ্নে সমাজের বেশিরভাগ মানুষ ক্ষমতাবান বর্গে পড়ে। এই নির্বাচনে ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই শোষণের প্রশ্নটাই ছিল প্রধান। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে তাদের চিন্তাচেতনা সমাজের সবাইকে মানতে বাধ্য করবে, এই আশঙ্কায় জমিয়ত হরওয়াক্ত বেকারার থেকেছে। মসজিদের ইমাম সাহেবান অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সবসময়ই এই আশঙ্কা করেছেন, ২০০১-০৬ আমলে যেভাবে জামায়াতের সঙ্গে একরকম লড়াই করে মসজিদের ইমামতি করতে হয়েছে, জামাত ক্ষমতায় আসলে কি সেই দিন আবার ফেরত আসবে না? এই ভয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ কওমি উলামায়ে কেরাম মাজারপূজারিদের সঙ্গে ঐক্য মেনে নিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে কি এই চিত্র বদলাবে? মোটেই না। শোষক ও শোষিতের প্রশ্ন সমাজভেদে, ক্ষমতাভেদে, প্রতিষ্ঠানভেদে একইরকমভাবে থাকবে।
এইবারের নির্বাচনে আমাদের কওমি পড়ুয়ারা কাকে সমর্থন করবে, এটা নিয়ে বেশ একটা দ্বিধাবিভক্ত দশা ছিল। এর কারণ আর কিছুই নয়, ক্ষমতাবান শ্রেণি হিসেবে আমরা কার দ্বারা শাসিত হতে চাই, নাকি নিজেরাই একটা ক্ষমতার বর্গ হয়ে উঠতে চাই, এই প্রশ্নের মীমাংসা আমাদের করা হয় নাই। যখন এগারো দলীয় জোট হওয়ার পায়তারা চূড়ান্ত হলো, তখন থেকে আমি কায়মনোবাক্যে চাচ্ছিলাম যেন ইসলামি আন্দোলন জামায়াতের শোষণের পরেও এই জোটে থেকে যায়। এর ফলে ক্ষমতায় আসার পর তারা নিজেরাই একটা ক্ষমতার কেন্দ্র হয়ে উঠে তার নিয়ন্ত্রিত জায়গায় শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারত। কিন্তু সেই আশা মাঠে মারা গেছে। একটা কল্পিত জনসমর্থনের মায়ায় পড়ে চরমোনাই নিজেরা আলাদা করে নির্বাচন করে সারাদেশে তের কোটির বেশি টাকা জামানত হারিয়েছে। মাত্র একটি আসনে জয়, দুটি আসনে মুখরক্ষার মতো ভোট এসেছে, বাকি সমস্ত আসনের অবস্থা ছিল মাস শেষের পকেটের মতো। এর ফলে কার কী ক্ষতি হয়েছে জানি না, কিন্তু ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ দল হিসাবে ভবিষ্যতে কোন ধরনের দর কষাকষির ক্ষমতা হারিয়েছে।
২.
প্রশ্ন হচ্ছে আমরা নিজেরা একটা ক্ষমতাবান শ্রেণি হিসাবে ক্ষমতার পিঠা খেতে চাই কি না, নাকি আমরা ক্ষমতাবানের হাতে শোষিত হয়ে, বাতিলের আতঙ্ক হয়ে ওয়াজের ময়দান কাঁপাতে চাই? দুঃখজনক হলেও সত্য, কওমি পড়ুয়া বড় একটা অংশ আমরা নিজেরা ক্ষমতাশালী হতে চাই না। আমরা শোষিত হিসাবে সমাজে অন্যের দয়াদাক্ষিণ্য নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। এই কারণে কওমি মাদরাসাগুলার একটা বড় অংশ উপস্থিত ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী বিএনপির বাইরে যেতে রাজি হয় নাই। আফটার অল, মাদরাসা-মসজিদগুলার বিদ্যমান কমিটি স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্বের হাতে। শোষিত হিসেবে শোষকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আমাদের কোনো কালেই ছিল না।
আমরা নিজেরাই চাই না বিদ্যমান অন্যান্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করে ক্ষমতা পিঠায় ভাগ বসাই, এই জন্য আমাদের সরাসরি প্রতিপক্ষ জামায়াতের সঙ্গে আমরা সরাসরি না লড়ে বিএনপির আঁচলের তলায় আশ্রয় নিয়েছি, যেন বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আমাদের মসজিদের মিম্বার, মাদরাসার কালেকশন ও ধর্মীয় মোড়লি ঠিক থাকে। কিন্তু এর ফলে আমাদের নিজস্ব স্বাধীনতার সূর্য আবারও ঘোর মেঘের আঁধারে ডুবিয়া গিয়াছে। এর বদলে যদি আমরা জামায়াতের সঙ্গে জোট করতাম, তাহলে হয়তো নির্বাচনে বিএনপি জিতলে তাদের দিক থেকে একটা চাপ থাকত, অনেকে চাকরি হারাত, কিন্তু স্বাধীনতার পক্ষে লড়াইটা আমরা করতাম। আর রিজিকের মালিক তো আল্লাহ।
আর যদি জামায়াত জিতেই যেত, তখন সেই সরকারে আমরা একটা বড় অংশিদার হতাম, এবং জামায়াতের সঙ্গে সরাসরি ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়াতাম। জঙ্গলে একটা বাঘের টেরিটরি আরেকটা বাঘের সঙ্গে লড়াই করেই ঠিক করতে হয়, কোন সিংহ এসে ঠিক করে দেয় না কার টেরিটরি কতটুকু হবে।
আপাতদৃষ্টিতে এই জোটের ফলে আমাদের জামায়াতের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতে হতো। যেমনটা জামায়াত আমাদের সঙ্গে করছে। কমন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ার জন্য সাময়িক শত্রুর সঙ্গে মিত্রতা করতে অসুবিধা তো নাই। বিশ বছর জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোট করে এখন দুই বাঘের টেরিটরি নির্ধারণের লড়াই হলো। জামায়াতের সঙ্গে জোটে গেলে আমারও নিজেদের ধর্মীয় বর্গে নিজস্ব টেরিটরি নির্ধারণের লড়াইয়ে নামতে পারতাম। বিএনপির আঁচলের তলায় আশ্রয় নিতে হতো না। এখন ইতিহাস সাক্ষী থাকবে, আমরা হীন গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারের জন্য ভিন্ন আদর্শের একটা দখলদার গোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করেছি। জামায়াতের সঙ্গে জোট করলেই যদি ঈমান, আখলাক সব কিছু বিলীন হয়ে যায়, তাহলে বিএনপির সঙ্গে যোগ দিলে কি তাদের অন্যায়ের কিয়দাংশের দায় আমার ওপরও আসে না? জামায়াত জোটে আমাদের অবস্থান সব মিলে চার ভাগের এক ভাগেরও বেশি থাকত, সেখানে বিএনপি জোটে আমাদের অংশ শতকরা এক ভাগ মাত্র। আমরা তো তাদের জোটে নিজেদের আখের গোছাতেই টানাটানিতে পড়ব, তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করব কিভাবে?
বেগম জিয়ার নামে গোনাহ মাফের দোয়া করলেই যেখানে চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়, সেখানে প্রতিবাদ তো সোনার পাথরবাটি। নির্বাচনে বিজয়ের পর তারা যে অত্যাচারের খোলা তরোয়াল হাতে প্রতিপক্ষের ওপর হামলে পড়তেছে, লুটতরাজের মচ্ছব বসায় দিচ্ছে, মেয়েদের ইজ্জতহানী করছে, তাদের বাধা দেয়া তো দূরে থাক, প্রতিবাদ করার মুখটুকু আমাদের থাকছে না, এইসব মজলুমদের বদদোয়া কি আমাদের ভাগেও কিছু পড়বে না?
বিপরীতে জোটের সব দলকে বাগে আনতে যেখানে এমপি বানাতে হয়েছে, মন্ত্রিত্ব দিতে হয়েছে, সেখানে আমাদের কিছু না দিয়েই তারা ফ্রি সার্ভিস নিয়ে গেছে। জামায়াত ক্ষমতায় আসবে না, এতটুকু নিশ্চয়তার জন্য আমরা ইজ্জত, আদর্শ, আকিদা সবকিছুর সঙ্গে আপস করেছি, মাজারপূজারিদের সঙ্গে ঐক্য করেছি, নিজ কওমের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছি, ইতিহাস কি আমাদের ক্ষমা করবে?
৩.
অনেক তো হতাশার কথা হলো, এইবার কিছু আশার কথা বলা যাক। এই ডামাডোলের মধ্যে কেউ হয়তো খেয়াল করেন নাই, মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই নির্বাচনে অনেক ভালো করেছে। যদিও তাদের প্রার্থী মাত্র দুজন জিতেছে, অপরদিকে এনসিপির ছয়জন। কিন্তু এনসিপি তিরিশটা আসনে প্রার্থী দিয়ে ৩ পার্সেন্ট ভোট পেয়েছে, সেখানে খেলাফত মজলিস ২৩টা আসনে প্রার্থী দিয়ে ২ পার্সেন্ট ভোট পেয়েছে। প্রার্থী বাছাই, তাদের ইমেজ, স্ট্র্যাটেজি এই সমস্ত কারণে তাদের বিজয়ী প্রার্থীর সংখ্যা কম হলেও ফলাফল হিসাবে খারাপ না।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ঐতিহ্যবাহী রাজনীতির ধারা শেষ হতে যাচ্ছে, আগামী একত্রিশের নির্বাচনে মানুষের মূল চাহিদা থাকবে এখনকার আন্ডারডগ দলগুলো, তাই তাদেরকে সেইভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে মামুনুল হক সাহেবের সম্ভাবনা আছে, পুরো কওমি মাদরাসার ভোটব্যাংক নিজের করে নেয়ার। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে নিজের প্রয়োজনীয়তা যদি প্রমাণ করা যায়, তখন এটা পুরো বাংলাদেশি মুসলিম কম্যুনিটির জন্যই ভালো।
একটি পুরনো রাজনৈতিক দল হিসাবে তারা কীভাবে কী করবেন, এটা তো তারাই ভালো বলতে পারেন। কিন্তু একজন আগ্রহী দর্শক হিসাবে আমি তাদেরকে কিছু পরামর্শ দিতে পারি। প্রথমত দল হিসাবে তাদের ধর্মীয় ইমেজের বাইরে সামর্থ্যবান একটা ইমেজ দাঁড় করানো। বাংলাদেশের যে রাজনীতি, এইখানে একজন আলেম, বক্তা, এইসবের চাইতে ইমেজ হিসাবে মানুষ ক্যাপাবল কাউকে চায়, যার কাছে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয় না। এই জন্য দরকার ক্ষমতা, টাকাপয়সা, জনগণের সমস্যা নিয়ে দৌড়ানোর মানসিকতা। এই পরিস্থিতিতে তারা দলের মধ্যে এমন কিছু লোক ভিড়াতে পারেন, যারা মামুনুল হকের রাজনীতি সাবস্ক্রাইব করেও সামর্থ্যবান, উদারহস্ত। এদের মাধ্যমে পরবর্তী পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত হচ্ছে, তরুণ মাদরাসাপড়ুয়াদের প্রয়োজন পূরণ করা। একজন কওমি মাদরাসার শিক্ষক হিসাবে তিনি খুব ভালো করেই জানেন, তার ছাত্ররা পেশাগত জীবনে মসজিদ-মাদরাসার বাইরে গিয়ে অন্য কোনো কাজ করতে কতটা হিমশিম খায়। এই সমস্যা দূর করতে তিনি কেবল কওমি মাদরাসার ছেলে মেয়েদের জন্য একটা ট্রেনিং সেন্টার করতে পারেন আস সুন্নাহ স্কিল ডেভলপমেন্টের মতো করে। সেখানে স্বল্প মূল্যে তাদের কাজকাম শেখানোর সুযোগ হবে, এবং পরবর্তীতে এই সমস্ত ছেলেপেলে এবং তাদের পরিবার হবে তার সম্ভাব্য ভোটার।
এই নির্বাচনে তারা যেসব এলাকায় প্রার্থী দিয়েছেন, সেখানকার মানুষের জন্য তাদের উদ্যোগ হতে পারে উন্মুক্ত শিক্ষালয়, কৃষি শিক্ষালয় ইত্যাদি। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে গ্রামের নারী ও কর্মজীবি পুরুষদের দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান ও হাতের কাজ শেখানো হবে। পুরুষদের জন্য থাকবে ফ্রি কৃষি শিক্ষার ক্লাস। তাদের জীবনের সমস্যাগুলো শুনতে হবে। মাওলানা মামুনুল হক সাহেব নিজে সারা দেশে ওয়াজ করেন, দলের প্রধান হিসাবে এইসব উদ্যোগগুলো নিজ হাতে তদারকি করবেন, মাসে দুমাসে একবার সেখানকার দায়িত্বশীলদের নিয়ে বসবেন। জনগণের প্রয়োজন পূরণের উদ্যোগ নেবেন। মোটাদাগে নিজ কওমের ভাগ্য পাল্টাতে হলে তাকে এখন এরদোগান, ইমরান খান, রাহুল গান্ধী মডেলের কাছাকাছি বাংলাদেশি ভার্সন ফলো করতে হবে।
রাহুল গান্ধী একটা কথা বলছিলেন, যারা সততার সাথে রাজনীতি করতে চায়, ইনিশিয়ালি তারা ব্যর্থ হয়। কিন্তু সে যখন লেগে থাকে, তখন একটা সময় পরে মানুষ বুঝতে পারে যে সে নিজের ভাগ্য বদলাতে আসে নাই। তখন জনগণ সেই সততার রাজনীতি সাবস্ক্রাইব করে। মামুনুল হক সাহেব সেই লম্বা রেসের ঘোড়া হবেন ইনশাল্লাহ। যদি তিনি তার ঠিকঠাক রাজনীতিটা করেন, আগামী নির্বাচনে বিশজন সংসদ সদস্য নিয়ে সংসদে যাওয়া ইনশাল্লাহ কেউ ঠেকাতে পারবে না। একই কথা অন্যান্য ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও প্রযোজ্য। কেবল ধর্মীয় ইস্যুতে না, জনসম্পৃক্ত অন্যান্য ইস্যুতেও তাদের ভোকাল হওয়া জরুরি। দেশের মানুষের চাহিদা বুঝে, তাদের কথাগুলো নিজেদের মুখে আনার ব্যাপারে যে যত বেশি সফল হবে, তার সমর্থন সম্ভাবনা তত বাড়বে। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা, তিনি সেই কওমের ভাগ্য বদলান না, যারা নিজেরা ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করে না।