কুররাতুল আইন হায়দার (১৯২৭–২০০৭) ছিলেন প্রভাবশালী ভারতীয় উর্দু ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও সাংবাদিক। উর্দু সাহিত্যে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন তার বিখ্যাত উপন্যাস আগ কা দরিয়া-এর মাধ্যমে, যেখানে প্রাচীনকাল থেকে ভারত বিভাগের পরবর্তী ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সাহিত্যিক পরিবারে জন্ম নেওয়া হায়দার “আইনি আপা” নামে পরিচিত ছিলেন। তার পিতা সাজ্জাদ হায়দার ইলদারিম এবং মাতা নজর সাজ্জাদ হায়দার দুজনই লেখক ছিলেন। তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা অর্জন করেন এবং ২০০৫ সালে পদ্মভূষণ পান।
যা ছিল, যা আছে এবং যা হবে—সবই তাঁহার পক্ষ থেকে। আমি আমার পেছনে একটি তুরীয় আওয়াজ শুনতে পাই, ‘যা কিছু দেখো, তা বইয়ে লিখে রাখো।’
এই প্রতিবেদনটি জীবন-সংগ্রামে পরাজিত ও বিজয়ীদের নিয়ে।
তারাই সফল হন, যারা নিজেদের বিজয়ের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলেন।
(খোদা সেই জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে না।) যোগ্যতমের বেঁচে থাকার প্রাকৃতিক নিয়ম এটা দেখে না—কে মুশরিক, কে কলমা পাঠকারী, কে মূর্তিপূজক, আর কে কমিউনিস্ট।
যখন প্রথম রানি এলিজাবেথ থেকে শুরু করে দ্বিতীয় এলিজাবেথ পর্যন্ত তৈরি পান্না-সবুজ গাছের নিচে বিস্তৃত মানুষদের ফেলে আমেরিকান উড়ন্ত হাতি ঝাঁ করে ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছায়, পৃথিবীর মুশরিকদের বশীভূত করে তারা চাঁদের পৃষ্ঠে নিজেদের ইঞ্জিল রেখে আসে, অর্ধ পৃথিবী শাসন করে; তখন তাদের সভ্যতাগ্রহণ ও জীবনযাত্রার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ‘প্রাচীন প্রাচ্য আধ্যাত্মিক সভ্যতার’ নামধারীরা অস্থির ও ব্যাকুল।
সামনে ফার্স্ট ক্লাসে নিউ ইয়র্কের এক সিন্ধি ব্যবসায়ীর বয়স্ক স্ত্রী এক স্থূলকায় পাঞ্জাবি মেয়ের সাথে একটি মাইক্রোওয়েভ তন্দুরের আলোচনা করেন। যা তিনি সম্প্রতি কিনেছেন এবং তাতে মাত্র ৩ মিনিটেই খাবার রান্না হয়ে যায়।
(মনে রেখো, আর বিশ্বাস স্থাপন করো, নুহের দ্বিতীয় মহাপ্লাবন বৃদ্ধার এই মাইক্রোওয়েভ তন্দুর থেকেই শুরু হবে।)
স্থূলকায় পাঞ্জাবি মেয়েটি গলায় সর্বশেষ ফ্যাশনেবল গুরুর মালা পড়ে আছে। সে ফিলাডেলফিয়ায় জাঁকজমকপূর্ণ জীবন যাপন করে। আর ওদিকে নাস্তিক রুশ ধর্মবিরোধীরা চাঁদের পৃষ্ঠে তাদের হাতুড়ি-কাস্তের প্রতীক রেখে এসেছে এবং বাকি অর্ধ-পৃথিবীর ওপরও রাজত্ব করছে।
‘দুই উদয়-অস্তের মালিক’ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যেসব মুসলিমকে তেল প্রদানের মাধ্যমে প্রচুর ধনসম্পদ দান করেছেন, সেই নব্য পেট্রো-ডলারপতি মুসলিমরা বর্তমানে মন্টে কার্লো এবং লাস ভেগাসে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, সেই ধনদৌলত ওড়ানোর আগ পর্যন্ত তারা ভ্রমণ করবে।
ফার্স্ট ক্লাসে সিন্ধি মেয়েটির সামনেই কয়েকজন আরব বসে আছেন। তাদের হাতে বিস্তারিত তথ্যসহ চকমকে সচিত্র পুস্তিকা, যা বিনোদনকেন্দ্র এবং সেইসব জুয়ার আড্ডার তথ্যে পূর্ণ—যেন ফেরেশতাদের রানির দরবার, যেখানে পৌঁছে তারা লক্ষ লক্ষ পেট্রো-ডলার জুয়ায় হারাবে। (কোনো সমস্যা নেই যদি ভারতীয় উপমহাদেশ—পাকিস্তান ও ভারতের—দরিদ্র মুসলিম ছাত্ররা তাদের স্কুল-কলেজের ফি দিতে না পারে)।
তাদের স্ত্রীরা নাকে কাঠের কীলক লাগিয়ে পর্দা করে বসে আছেন। লন্ডন-প্যারিসে দেদারসে কেনাকাটা করে এখন আমেরিকাতে গিয়েও দেদারসে কেনাকাটা করবেন। (কোনো সমস্যা নেই যদি দুর্দশাগ্রস্ত ফিলিস্তিনি নারীরা তাদের ভাঙা তাঁবুতে বোমা হামলার শিকার হন)।
এই জ্ঞান-বুদ্ধিহীন দলটির চূড়ান্ত গন্তব্য, আমেরিকার ‘সিলভার স্টেট’ নেভাডা রাজ্যের লাস ভেগাস শহর—যেটি স্প্যানিশরা প্রতিষ্ঠা করেছিল। বিগত শতাব্দীতে এই শহর ছিল সোনা-রুপার খনি অনুসন্ধানকারীদের জুয়ার আখড়া। বর্তমানে এটি বিশ্বের প্রধান জুয়ার কেন্দ্র।
হায়, আফসোস! যখন নতুন পৃথিবী সৃষ্টির সময় এলো, তখন হেরেম শরিফের শায়েখরা তাদের ধনসম্পদ নিয়ে পশ্চিমা জুয়াড়িদের ডেরায় পাড়ি জমাচ্ছেন।
স্বর্ণকেশি মেয়েরা ইংরেজি-ফরাসি-স্পেনিশ ভাষায় রেশমি কণ্ঠে ঘোষণা দিচ্ছে। লস এঞ্জেলেসের স্পেনিশ বংশোদ্ভূত এক আমেরিকান টিভি তারকা জানালা দিয়ে বাইরে অস্তগামী সূর্যাস্তের দিকে তাকিয়ে আছে। এই একই সূর্য ৬ শ বছর আগে ইসলামি আন্দালুসের মাদিনাতুয যাহরায় ডুবেছিল।
তারপর এই সুদর্শন অভিনেতার পূর্বসূরিদের ওপর নতুন করে উদিত হয়, যখন তারা নতুন পৃথিবীর পশ্চিম উপকূলে আল হামরা, মদিনাতুল মারইয়াম, মালিকাতুল মালাইকা—এল পুয়েবলো দে, নুয়েস্ট্রা সেওরা লা রেইনা দে লস অ্যাঞ্জেলেস প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় থেকে এই সূর্য এখানে ঝলমল করছে।