মিনা বাজার (অষ্টম পর্ব)

মূল : আব্দুল হালিম শরর লখনভি

মাসুম বিন শাহাদাত

অষ্টম অধ্যায় : দাসত্বের দুর্দশা

বাদশাহ ওই রূপসীর দোকান থেকে চলে গেলে তার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে দাঁড়ায়। সে দিশেহারা ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে, দুশ্চিন্তার সাগরে হাবুডুবু খায়। শেষে উঠে নির্জন কক্ষে গিয়ে নিজের প্রিয় বান্ধবীকে ডাকে, যে তার শৈশবের সখী এবং সবসময়ের বিশ্বস্ত সঙ্গী।

পাশে এসে বসতেই সে বলে ওঠে, ‘শওকত আরা, বড়ই বিপদে পড়েছি। জাহাঁপনা ফেরার সময় নিজ প্রাসাদে আমন্ত্রণ করে গেছেন। ভয়ে আমি না করতে পারিনি এবং যেতে রাজি হয়েছি। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাকে নিতে পালকি আসবে।’

শওকত আরা হেসে বলে, ‘তাহলে আর চিন্তার কী আছে? যাও, মজমাস্তি করো। আমাদের ভুলে যেও না কিন্তু! আমি তো আগেই বলেছিলাম, তোমার এই রূপ-সৌন্দর্য রাজপ্রাসাদের যোগ্য। খোদা আমার সেই বাসনা পূরণ করেছেন।’ 

‘এটা নিছক গালগল্প ও হেসে উড়িয়ে দেওয়ার মতো বিষয় নয়। আমি জানতে চাই, আমার কী হবে? বাদশাহর কাছে না যাওয়া অসম্ভব। আর এটা লুকানোর মতো বিষয় নয় যে, বাড়ির কেউ জানবে না।’

আজই পুরো বাজারে সংবাদটি ছড়িয়ে পড়বে। ওদিকে আমার স্বামী এমন স্বভাবের লোক, আমার এখানে আসাই তো সহ্য করতে পারেন না। বাদশাহর আদেশ ও তার মা-বোনদের জোরাজুরিতে বাধ্য হয়ে রাজি হয়েছেন। তবে একটি শর্ত দিয়েছেন, তুমি আমার সাথে থাকবে এবং সারাক্ষণ নজর রাখবে, আমি যেন কারও সাথে কথা বা ইশারা করতে না পারি।

এখন রাজপ্রাসাদে যাওয়ার খবর শুনলে কী হবে! সিপাহি পুরুষ; তাকে দরবারের বড় বড় অমিরদের মধ্যে গণ্য করা হয়। তাছাড়া সে সম্মান-মর্যাদার ব্যাপারে এতই যত্নশীল, আমার নাক ও চুল কেটে ফেলবে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তার পক্ষে তো কিছুই অসম্ভব নয়!’

এই রূপসী ছিল শাহজাহানের দরবারের পাঁচ হাজারি মনসবদার ও খ্যাতিমান রসালদার জামাল খানের স্ত্রী। তার আসল নাম গুলরুখ বেগম। সে এক সম্ভ্রান্ত ধনী পরিবারের কন্যা। জামাল খান তার সৌন্দর্যে এতই মুগ্ধ যে, বিয়ের দিনই তার নাম রেখে দেয় ‘জামাল আরা’। পাগলা প্রেমের পাশাপাশি তার ঈর্ষা ও অহং এতই বেশি যে, নিজ স্ত্রীকে কোনো আমিরের বাড়িতেও যেতে দিত না। মিনা বাজারে আসার বিষয়েও সে ছিল ঘোর বিরোধী।

কিন্তু রাষ্ট্রের উজির সাদুল্লাহ খান বাহির থেকে এবং তার মা ভেতর থেকে তাকে বোঝান, এটা একদম ঠিক হবে না। বাদশার সঙ্গে আবার কীসের পর্দা? তাছাড়া সেখানে তো মুখ ঢাকার সাধারণ অনুমতি আছেই। তা সত্ত্বেও তুমি যদি স্ত্রীকে মিনা বাজারে না পাঠাও, তাহলে মমতাজ বেগম অসন্তুষ্ট হবেন আর জাহাঁপনার মনেও ক্ষোভ সৃষ্টি হবে।’

উজিরের কথায় তার ওপর কোনো প্রভাব না ফেললেও মায়ের কথায় সে রাজি হয়। তবে যাওয়ার সময় স্ত্রীকে খুব তাকিদ দেয়, নেকাব ছাড়া যেন বাদশাহর সামনে না আসে। কিন্তু বাজারে আসা সব আমিরের স্ত্রী এবং নিজ চাচাতো বোন শওকত আরাও তাকে বাধ্য করে যে, বাদশাহর সামনে পর্দা করা যাবে না।

সকল নারীর মাঝে তুমি যখন একাকী নেকাব পরে থাকবে, তখন বাদশাহ হয়তো নিজেই তোমাকে নেকাব খোলার নির্দেশ দেবেন। বাকি থাকে স্বামীর আদেশ, তাকে কে বলতে যাচ্ছে? অবশেষে সবার কথায় অসহায় গুলরুখ বাদশাকে নেকাবহীন অবস্থায় দেখা দেয়। এখন দরবারে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ পেয়ে তো তার হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ার দশা! 

শওকত আরা দীর্ঘক্ষণ তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনে, কিন্তু কোনো উত্তর করে না। অবশেষে বলে, ‘সত্যিই তো এটা খুব ভয়ানক ব্যাপার, কিন্তু এখন আর উপায়-বা কি আছে? তোমাকে অবশ্যই প্রাসাদে যেতে হবে। এখন আর জামাল খানকে সংবাদ দেওয়ার মতো সময় নেই।

‘এরপর তো আমার অস্তিত্বই থাকবে না। ভুলেও যদি শুনতে পারে, আমি প্রাসাদে গিয়েছি, তাহলে জানে মেরে ফেলবে!’

‘কিন্তু এতে তোমার কোনো দোষ নেই।’

‘বেপর্দায় বাদশার সামনে যাওয়া কি দোষ নয়? তুমিই আমাকে নষ্ট করেছ!’

‘সে সংবাদ পাওয়ার আগেই তুমি দরবারে পৌঁছে যাবে। আমার মতে, তুমি যেমন তার অনুমতি ছাড়াই বাদশার সামনে গিয়েছিলে, তেমনই দরবারেও চলে যাও আর যত দ্রুত সম্ভব ফিরে এসো। জামাল খান সংবাদ পেয়ে গেলে তখন নিজের অপারগতা প্রকাশ করবে। আর সংবাদ না পেলে মনে করবে, বড়ই বাঁচা গিয়েছে।

এসব কথা বলতে বলতেই প্রাসাদরক্ষী পালকি নিয়ে হাজির হয় এবং তাগাদা দিতে থাকে, দ্রুত উঠে বসুন, প্রাসাদে পৌঁছেই জাহাঁপনা আপনাকে তলব করবেন, আপনি উপস্থিত না হলে তখন আমাদের ওপর কিয়ামত নেমে আসবে।

এবার গুলরুখ বেগমের হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। সে শওকত আরাকে পেছনের কক্ষে নিয়ে গিয়ে বলে, ‘আমি তো কয়েদিদের মতো যাচ্ছি। কিন্তু তুমি অন্তত এটুকু করো, এক্ষুণি কাউকে দিয়ে বাড়িতে সংবাদ পাঠাও। এটা লুকিয়ে রাখার মতো বিষয় নয়, ভোরের আগেই পুরো শহরে সংবাদটি ছড়িয়ে পড়বে। তিনি অন্যদের মাধ্যমে সংবাদটি জানতে পারলে আমার জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং অপারগতা প্রকাশের সুযোগটুকুও আর থাকবে না। আমার ভালো বোন, এতে দেরি কোরো না। সামান্য দেরি হলেও আমি বুঝে নেব তুমি আমার বোন নও, দুশমন।’

এ কথা বলে জবাবের অপেক্ষা না করেই সে দ্রুত পালকিতে সওয়ার হয়। 

প্রাসাদে পৌঁছেই বাদশাহ মমতাজ বেগমকে ডেকে এনে নিজের পাশে বসান। সবাইকে সরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আজ আমি এমন একটি কাজ করেছি, যার জন্য তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত!’

‘সেটা কি? হযরত দয়া করে বলুন। আর আমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, কেননা জাহাঁপনার ইচ্ছা ও খুশিই আমার কাছে সবচেয়ে বড়।’

‘মিনা বাজারে আজ এমন এক পরির মতো সুন্দরীকে দেখেছি, আমার মন তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার হৃদয় ছিল অশান্ত। আমি কেবল বিস্মিত হয়ে ওই সুন্দর মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে থাকি এবং তার সাথে কথা বলি।

এরপর বাদশাহ সেসব কথা বর্ণনা করেন, যা ওই রূপসীর সাথে ঘটেছে। আর সেসব ঘটনাও সবিস্তারে উল্লেখ করেন, যেগুলো ঘটেছিল। শেষে যখন বলেন, ‘আমি তাকে এখনই রাতে আমার সাথে দস্তরখানে খাবারের আমন্ত্রণ জানিয়েছি, তখন রানি হতভম্ব হয়ে পড়েন। তিনি আতঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি তাকে জিজ্ঞেস করেছেন, সে আসলে কে? কোন পরিবারের মেয়ে? কার স্ত্রী বা কন্যা?’

‘অতি আবেগের তাড়নায় জিজ্ঞাসা করা হয়নি। তার দোকান থেকে বের হওয়া মাত্রই তার কল্পিত মুখচ্ছবিটি এমনভাবে চোখের সামনে ভাসতে থাকে এবং তার মায়ায় মুগ্ধ করে, পথে কাউকে জিজ্ঞাসা করার সুযোগটুকুও পাইনি।’

‘কিন্তু হুজুর বড়ই অসাবধানতা করেছেন, খোদা জানেন, কে সে? কারও স্ত্রী হলে তো বড়ই বিপদ! হয়তো তার স্বামী ঈর্ষার জোশে আত্মহত্যা করবে বা এমন কিছু করে বসবে, যাতে সবার বদনাম হবে।’

‘কিন্তু আমি তো তাকে খারাপ কোনো উদ্দেশ্যে ডাকিনি। শুধু কিছু সময় তার সঙ্গে কথা বলার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কাউকে আমন্ত্রণ জানানো কি গুনাহ?’

‘কারও স্ত্রীকে নিজ প্রাসাদে নিমন্ত্রণ করে ডেকে আনা আপনার কাছে তুচ্ছ ব্যাপার হতে পারে, কিন্তু তার স্বামীর কাছে এটা মৃত্যুর সমতুল্য।’

‘তোমার জন্য সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। তোমার নিশ্চিন্ত থাকার জন্যই আমি তাকে এখানে ডেকেছি, যাতে প্রথমে তুমি তার সঙ্গে দেখা করো এবং তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। এতে এই সুবিধা হবে, যখন সে সবসময় তোমার কাছে থাকবে, তোমার অনুপস্থিতিতে তার সাথে দেখাসাক্ষাৎ হবে না, তখন যেমন তোমার সন্দেহের অবকাশ থাকবে না, তেমনই তার স্বামীরও সন্দেহ করা উচিত হবে না।’

‘আমি কোনো অবস্থাতেই সন্দেহ পোষণ করব না, জাহাঁপনা আমার সামনে দেখা করুন বা একাকী নির্জনে। কিন্তু তার স্বামী নিশ্চিন্ত থাকবে, এটা বলা কঠিন। তার অপমানের জন্য তো এটুকুই যথেষ্ট, তার স্ত্রী আপনার রাজপ্রাসাদে এসেছে।’

‘কত উজির ও আমিরের স্ত্রীই তো সবসময় এখানে আসে, আমার সাথে দেখাও করে, কই তাদের তো অবমাননা হয় না; শুধু তারই অবমাননা হবে?’

এমন সময় প্রাসাদরক্ষী এসে সংবাদ দেয়, যে স্ত্রীলোককে জাহাঁপনা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তিনি এসেছেন। ফলে বাদশাহ মমতাজ বেগমকে বলেন, ‘প্রথমে তুমি তাকে নিজের কাছে ডেকে এনে দেখা করো। আর জানার চেষ্টা করো, সে কে? পরিবার কেমন? যদিও আমি তাকে অতিউৎসাহী হয়ে প্রাসাদে ডেকেছি, তবুও তোমাকে ইচ্ছাধিকার দিচ্ছি, তুমি চাইলে তাকে আমার সাথে দেখা করাতে পারো, আবার না-ও করাতে পারো।’

‘যেই বস্তুর প্রতি জাহাঁপনার আগ্রহ, সেটা পূরণ করা আমার কর্তব্য। আমি তার কাছ থেকে সব কথা জেনে নেব এবং তাকে আপনার দস্তরখানে বসিয়ে দেব। আপনি তাকে যে ওয়াদা করে ডেকে এনেছেন, অবশ্যই তা পূরণ হওয়া উচিত!’

এ কথা বলে মমতাজ বেগম উঠে তার বিশেষ দাওয়াখানায় চলে যান। আর প্রাসাদরক্ষীকে নির্দেশ দেন, তাকে যেন নিয়ে আসে। সামনে এসেই গুলরুখ বেগম তাকে সম্মান প্রদর্শন করে। রানি তাকে ডেকে নিজের কাছে বসিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। কিন্তু তিনি লক্ষ করেন, সে খুব ভীত, ভয়ে কাঁপছে। জিজ্ঞাসা করেন, ‘ভয় পাচ্ছ কেন? তোমার কথা জাহাঁপনার ভালো লেগেছে, তাই ডেকে আনা হয়েছে। এতে ভয়ের তো কোনো কারণ নেই।’

গুলরুখ বেগম বলে, ‘হযরত জিল্লে সুবহানির দয়া ও অনুগ্রহে আমার কোনো ভয় নেই। তবে আমার স্বামীকে ভয় করি। তার অনুমতি ছাড়াই এখানে এসেছি।’

‘তোমার স্বামী কি তোমার এখানে আসা পছন্দ করে না?’

‘কী জানি তিনি পছন্দ করেন কি না? তবে তিনি খুবই সন্দেহপ্রবণ ও সন্ধিগ্ধ স্বভাবের মানুষ। আমি তো মনে করি, আপনার কাছে আসা ও মহামান্য সম্রাটের সেবায় উপস্থিত হতে পারায় নিজের সম্মান বেড়েছে, আর গৌরবের মাথা আকাশ ছুঁয়েছে। কিন্তু জানি না তিনি কী ভাবেন, বিশেষ করে যখন আমি আজ পর্যন্ত কখনো তাকে জিজ্ঞাসা না করে এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করিনি।’

‘তার নাম তো বলো, হয়তো আমি তাকে চিনি।’

‘জাহাঁপনারই একজন দাস, মহারানি অবশ্যই তার নাম শুনে থাকবেন।’ এরপর সে লজ্জায় নিজের দৃষ্টি অবনত করে বলে, ‘দরবারের উচ্চপদস্থদের মধ্যে এক ৫ হাজারি আমির, জামাল খান, যিনি রিসালদার পদেও আসীন রয়েছেন।’

‘হ্যাঁ, জানি। তুমি কোনো চিন্তা করো না তো! আমি তার কাছে সংবাদ পাঠিয়ে বলব, মিনা বাজারে তোমার সাথে দেখা করে খুশি হয়ে জাহাঁপনা কিছু কথা বলার জন্য রাজপ্রাসাদে ডেকেছেন, নিজের সঙ্গে বিশেষ স্থানে বসিয়ে তোমাকে ও তোমার স্ত্রীকে সম্মানিত করেছেন।’

‘মহারানির যা ইচ্ছে। আশা করি, এতে তার মন শান্ত হবে। তাছাড়া যা হওয়ার তা তো হবেই।’

‘এ নিয়ে চিন্তা করো না, যা হবে ভালোই হবে। আর জামাল খানের এত সাহস নেই, তোমাকে জাহাঁপনাহর কাছে আসার জন্য অপবাদ দেবে। আর যদি এসব বিষয় তার অপছন্দই হয়, তবে তোমাকে কেন মিনা বাজারে পাঠাল? আর তোমার নাম কী?’

‘বাবার বাড়িতে তো আমার নাম গুলরুখ, কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে সবাই আমাকে জামাল আরা বলে ডাকে।’

‘বোঝা যায়, তোমার স্বামী তোমাকে খুব ভালোবাসে। তাই সে নিজের নামের সাথে মিলিয়ে তোমার নাম রেখেছে।’

‘আগে তো তাই-ই ছিল। কিন্তু এখন দেখুন না কী হয়!’

‘কিছুই হবে না, যেমন ভালোবাসা তোমার মধ্যে আজ পর্যন্ত আছে, পরেও তা-ই থাকবে। এবার চলো, জাহাঁপনার কাছে গিয়ে বসবে।’ এ বলে মমতাজ বেগম তাকে নিয়ে বাদশাহর কাছে উপস্থিত করেন। মুখোমুখি হতেই নকীবার আহ্বানে সে অধিক ঝুঁকে সম্মান জানায়।

বাদশাহ বলেন, ‘তুমি এসে পড়েছো? আমি তোমার অপেক্ষাতেই ছিলাম। ‘এসো, এসো, আমার পাশে এসে বসো।’ এ বলে তিনি তাকে নিজের পাশে বসান।

মমতাজ বেগম বলেন, ‘এই হলেন আপনার পাঁচ হাজারি মনসবদার এবং বীর সেনাপতি জামাল খানের স্ত্রী গুলরুখ বেগম, কিন্তু তার স্বামী তাকে জামাল আরা উপাধিতে ডাকে।’

‘ও, জামাল খানের স্ত্রী! তার আসল নাম তো ছিল ইউসুফ খান। আমিই তাকে জামাল খান উপাধিতে ভূষিত করেছি।’

‘আর সে নিজের নামের সাথে মিলিয়ে জামাল আরা বানিয়ে মহামান্যের সৌভাগ্যের অংশীদার করেছে।’

‘সর্বদিক থেকেই সে এই সম্মানের যোগ্য। তার স্বামীও খুবই সুদর্শন পুরুষ। দরবারি আমিরদের মধ্যে কেউই এত সুন্দর ও আকর্ষণীয় নয়। এজন্য আমি তাকে জামাল খান উপাধি দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন জানতে পারলাম, সে দেখতে যেমন সুদর্শন, তেমনই তার স্ত্রীও রূপবতী।’

মমতাজ বেগম মনে করেন, যতক্ষণ আমি এখানে আছি, জাহাঁপনা এই সুন্দরী নারীর সাথে স্বাধীনভাবে ও স্বস্তির সাথে আলাপ করতে পারবেন না। তাই তিনি উঠে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তা দেখে বাদশাহ তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘বেগম, কোথায় যাচ্ছো? আমি তো তোমার সাথে অঙ্গীকার করেছিলাম, তার সাথে আমি যা কিছু বলব, তোমার সম্মুখেই বলব।’

‘এখনই আসছি, একটি জরুরি কাজে যাচ্ছি।’ এ বলে তিনি উঠে চলে গেলেন। আর বাদশাহও গুলরুখের প্রতি মনোযোগী হয়ে বলেন, ‘আমি তোমার অপেক্ষাতেই ছিলাম, তুমি আসায় খুব খুশি হয়েছি। আজ মিনা বাজারে তোমার কথা ও আচরণ আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে, তোমাকে ছাড়া খাবারে স্বাদ পেতাম না।’

‘আপনার দয়া ও অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা আদায় করা আমার পক্ষে অসম্ভব। দাসীর জন্য এটা বড়ই সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু দাসী এর যোগ্য নয়।’

‘তুমি খুবই ভাগ্যবান। এই রূপ-সৌন্দর্যের জন্য খোদার শুকরিয়া জ্ঞাপন করো। যার কারণে তোমার চেয়ে ভাগ্যবান পৃথিবীতে আর কেউ নেই।’

‘আর এই দরবারে আসা তার চেয়েও বড় সৌভাগ্য হত, কিন্তু…কিন্তু’ বলে থেমে যায়। তার চেহারায় আক্ষেপ ঝরে পড়ে। বাদশাহ আগে থেকেই মনে মনে ভাবছেন, এখানে তার মধ্যে আগের সেই উচ্ছ্বাস নেই, যা মিনা বাজারে দেখেছিলেন।

বাদশাহ তার দুঃখভরা মুখ দেখে বলেন, ‘সম্ভবত তোমার ভয়, জামাল খান তোমার এখানে আসা মেনে নেবে না। এমনটা হবে না। তার এত সাহস নেই যে, আমার সাথে আহারের কারণে রাগ করবে। তোমাকে আমি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে ডাকিনি।

শুধু এটুকুই চাই, তোমাকে দু-তিন দিন প্রাসাদে মেহমান বানিয়ে তোমার কথা উপভোগ করব, তোমার মুখশ্রী মমতাজ বেগমকে দেখাব। নিশ্চয়ই তুমি বুঝতে পারছো, আমার অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে তোমাকে রানির সঙ্গে দেখা করাতাম না!’

‘নিশ্চয়ই আমার জাহাঁপনার নেকনীতি ও পবিত্রতার প্রতি পূর্ণ ভরসা আছে। কিন্তু খোদা যদি তাকেও নিশ্চিন্ত করতেন, যার সাথে আমার পূর্বপরিণয়।

‘তার এত সাহস নেই, আমার ওপর বা তোমার ওপর কোনো কুধারণা করবে।’

এরই মধ্যে মমতাজ বেগম এসে দস্তরখান বিছানোর আদেশ করেন এবং তাতে নানা ধরণের সুস্বাদু খাবার সাজানো হয়। ঠিক তখনই প্রাসাদের এক কর্মচারী এসে জানায়, ‘হুজুর, শাহজাদি জাহানারা বেগমের শরীর খারাপ করেছে। তিনি রানি সাহেবাকে স্মরণ করেছেন।’ এ কথা শুনে মমতাজ বেগম বাদশাহর কাছে নিবেদন করেন, ‘জাহাঁপনা দয়া করে খাবার গ্রহণ করুন, আমি একবার তাকে দেখে আসি।’

‘খাবার তো খেয়ে যাও!’

‘না, আমি এখন আহার করব না।’

‘তাহলে সেখানে পৌঁছেই সংবাদ দিয়ো এবং অবস্থা সম্পর্কে জানিয়ো।’

‘আমি এখনই খবর পাঠাচ্ছি।’ এ বলে তিনি উঠে চলে যান। আসলে শাহজাদির কোনো অসুখ ছিল না। মমতাজ বেগম নিজেই এই বাহানা করে চলে যান, যাতে বাদশাহ স্বাধীনভাবে তার নতুন প্রেমিকা গুলরুখের সাথে কথা বলতে পারেন এবং মিলিত হন। আর গুলরুখও যেন সাহস পায় তার সাথে নির্বাধে কথা বলার। বাদশাহও বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারেন, কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে জোর করে থামাতে চাননি। মনে মনে তার চলে যাওয়ায় কৃতজ্ঞ হন।

শেষ পর্যন্ত অবস্থা এমন দাঁড়ায়, বাদশাহ গুলরুখের সাথে হাসি-মশকরা করে তার হৃদয়ের দরজা খুলতে চান এবং তাকে নির্ভয়ে কথা বলতে উৎসাহিত করেন। কিন্তু সে নীরব থাকে। সকল প্রশ্নের সরল উত্তর দেওয়া ছাড়া আর কিছু বলে না। অবশেষে বাদশাহ বলেন, ‘গত রাতে তুমি আমার কাছে যে হীরার পদ্মটি বিক্রি করেছো, সেটা আমার খুবই প্রিয়। কিন্তু তোমার এ উদাসীনতা যেন এমন বিপর্যয়ে না ফেলে, কাউকে দিয়ে দেওয়া হয়।’

‘ওই পদ্মটি হুজুর এমন এক কৃতজ্ঞ ও পবিত্র দাসীর কাছ থেকে পেয়েছেন, (খোদা না করে তো) বিষক্রিয়ার পরিবর্তে সেটা অমৃতের মতো কাজ করবে।’

‘এতে বিষের প্রভাব যদি নাও থাকে, তবুও তোমার এই উপেক্ষা তা তৈরি করে দেবে।’

এ কথা শুনে গুলরুখের চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। বাদশাহ হতভম্ব হয়ে বলেন, ‘একি, তুমি কাঁদছো কেন? আমি কি তোমাকে এমন কোনো কথা বলেছি যা তোমার অপছন্দ; না কি এতে তোমার আত্মসম্মানে আঘাত লেগেছে?’

‘মহামান্যের প্রতি কি অভিযোগ থাকতে পারে? কাঁদছি নিজের দুর্ভাগ্যের ওপর। একদিকে আমার চেয়ে সৌভাগ্যবান কেউ নেই। এমন এক স্থানে এসেছি, যেখানে রাজত্ব, ধনদৌলত, সম্মান—সবকিছু দাসীর সামনে অপেক্ষা করছে। শহরের এমন কোনো অভিজাত নারী নেই, যে ঈর্ষা করছে না। অন্যদিকে খোদা আমাকে এমন দুর্ভাগা ও অযোগ্য করে বানিয়েছেন, এসব সম্মান কোনো উপকারে আসে না।’

‘কেন উপকারে আসে না?’

‘কারণ আমাকে অন্যের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে এবং অন্যের অধীন করা হয়েছে।’

‘আমি কি তোমাকে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছি? আমি তো কেবল তোমাকে কিছু সময়ের জন্য খুশি করতে এবং কিছু কথা বলার জন্য ডেকেছি।’

‘কিন্তু আমার স্বামী আমাকে অন্য কারও সাথে ওঠাবসা করা ও কথা বলা একদমই পছন্দ করেন না। তিনি আমাকে খুব ভালোবাসেন, সর্বদা সুখী রাখতে চান। তবে দুঃখের বিষয়, আমি এর যোগ্য নই। এখন যদি তিনি আমার এখানে আসার সংবাদ শোনেন, খোদা জানেন, তিনি মনে মনে কী ভাববেন এবং কী করবেন!’

‘সে তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করলে কঠিন শাস্তি পাবে। তোমার এখানে আসা, আমার সাথে দেখা করা এবং আমার পাশে বসা, কোনোভাবেই শরয়ি গুনাহ বা নৈতিক বিচ্যুতি নয়। তাহলে সে তোমাকে কীসের অপবাদ দিতে পারে? এর কোনো পরোয়া কোরো না, নিশ্চিন্তে বসে হাসিখুশি কথা বলো। আমি এর দায়িত্ব নিচ্ছি, সে তোমার প্রতি কোনো কুধারণা পোষণ করবে না। আর সে যদি এতই সন্দেহপ্রবণ হয়ে থাকে, আমার কথা শুনেও আশ্বস্ত না হয়, তাহলে সে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।’

‘এতে কোনো সন্দেহ নেই, তিনি খুবই সংবেদনশীল। বরং এ ব্যাপারে একটু বেশিই সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তবে আমি এটাও সহ্য করতে পারব না, তিনি আমার কারণে কষ্ট পাবেন।’

‘যেহেতু তুমি এখানে এসেছো এবং আমার কথায় এসেছো, তাই এ ব্যাপারটা তো আর মুছে ফেলা যাবে না। তবে কাল সকালে আমি দরবারে প্রথম কাজ হিসেবে জামাল খানকে ডেকে বলব, আমার কথায় লোকেরা তোমার স্ত্রীকে রানির কাছে নিয়ে এসেছে। আমিও তার সাথে দেখা করেছি। কিন্তু তোমার সম্মানকে নিজের মনে করে তার নিষ্কলুষতা ও পবিত্রতার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেছি। আর এ বলে আমি তার থেকে স্বীকারোক্তি নেব, তার মনে যেন কোনো প্রকার সন্দেহ না থাকে। তোমার প্রতি আমার অনুরোধ, এসেই যেহেতু পড়েছো, দিন তিনেক রানির কাছে থাকো, আমার সাথে দুবেলা আহার করো।’

‘আমার সম্মান বৃদ্ধির জন্য এটুকুই যথেষ্ট।’

‘এবার তাহলে হাসিমুখে কথা বলো।’

‘মিনা বাজারে জাহাঁপনার সাথে দু-একটি কথা বলেছি, তাতেই আমাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। যদি আরও কিছু বলি, তাহলে খোদা জানেন, হুজুর জিল্লে সুবহানি আমাকে কী নির্দেশ দিয়ে বসেন!’

‘ওই কথার জাদুতেই তো আমার হৃদয় অস্থির হয়ে পড়েছিল, এখন ওই একই কথার প্রভাবে তা শান্তি ও স্বস্তি পাবে।’

‘একই বস্তুতে এমন দুটি বিপরীত গুণ কীভাবে থাকতে পারে?’ 

বাদশাহ মুচকি হেসে বলেন, ‘এটাই তো তোমার সৌন্দর্য ও ভঙ্গিমার মুজেজা।’

‘এতেই আমার ভয়, প্রথম কথোপকথন আমার স্বামীকে সন্দিহান করে তুলেছে। এবার এই দ্বিতীয় কথোপকথন যদি রানিকেও সন্দিহান করে তোলে, তাহলে দ্বীন-দুনিয়ার কোথাও আর ঠায় পাব না।’

‘এর কোনো ভয় নেই। আমার প্রিয় জীবনসঙ্গী ও রানি তোমার স্বামীর মতো সন্দেহপ্রবন ও অবিশ্বাসী নয়।’

এভাবে বিভিন্ন আলাপ ও খোশগল্প চলতে থাকে এবং মাঝরাত পর্যন্ত এর ধারা অব্যাহত থাকে। গুলরুখ বেগম জোর করে নিজেকে প্রফুল্ল ও হাস্যোজ্জ্বল রাখার চেষ্টা করে এবং কৌতুকপূর্ণ আলাপ চালিয়ে যায়। বাদশাহ তাকে কোনো চটুল মন্তব্য করে অনুপ্রাণিত করতে থাকে। কিন্তু বাইরে থেকে তাকে যতই হাসিখুশি মনে হোক না কেন, তার হৃদয় কষ্টে ভরে উঠছিল। এই অনুভূতি মাঝেমধ্যে তার চেহারাতেও প্রকাশ পায়, বাদশাহ নিজেও সেটা লক্ষ করেন।

এরপর রাত গভীর হলে বাদশাহ বিশ্রাম নেন, আর গুলরুখ বেগমকে মমতাজ বেগমের কামরায় নিয়ে আসা হয়, যেখানে তার জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

মমতাজ বেগম তখনও জেগে ছিলেন, কিন্তু সতর্কতাবশত গুলরুখের সাথে বাদশাহর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, তা জিজ্ঞাসা করেননি। ভোরে বাদশাহ গুলরুখকে নাস্তায় ডাকেন। মমতাজ বেগম নিজ স্বভাবের বাইরে গিয়ে নাস্তায় আসেননি, শুধু গুলরুখকে দাসীদের সাথে পাঠিয়ে দেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বাদশাহ জিজ্ঞাসা করেন, ‘বেগম আসেনি কেন? রাতে ফিরে এসেছিল, না কি জাহানারার কাছেই থেকে গিয়েছে?’

সেবিকা জানায়, ‘তিনি রাতেই ফিরে এসেছেন, তবে এখন বিশ্রাম নিচ্ছেন।’ তখনি এক দাসী মমতাজ বেগমকে ডেকে আনে। তাকে দেখামাত্রই বাদশাহ জিজ্ঞেস করেন, ‘জাহানারা কেমন আছে?’

মমতাজ বেগম আশ্বস্ত করে বলেন, ‘ভালো আছে। রাতে শরীর একটু খারাপ করেছিল বলে আমার বেশিক্ষণ থাকার প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু কথা বলতে বলতেই অনেক দেরি হয়ে যায়।’

‘যাক ভালো, এসো, বসো। কিন্তু এখন দেরি করলে কেন?’

‘দেরিতে ঘুম ভেঙেছে তাই।’

‘এমন তো নয়, তুমি গুলরুখের সামনে আমার কাছে আসতে সংকোচ করছো? যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে এটা তোমার ভুল। আমি তোমাকে বলেছিলাম, আমি গুলরুখকে প্রধানত তোমার প্রশান্তির জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কারণ মিনা বাজারে তাঁর সৌন্দর্য ও আচরণে আমি যে আনন্দ পেয়েছি, আমি চাই তুমিও তা আমার সামনে উপভোগ করো। এজন্যই আমি তোমাকে বলেছিলাম, যতক্ষণ সে আমার কাছে থাকবে, তুমিও উপস্থিত থাকবে। রাতে হঠাৎ এমন এক ঘটনা ঘটে গেল, বাধ্য হয়ে তোমাকে চলে যেতে হলো, কিন্তু এখন তোমার দেরিতে আসায় আমার সন্দেহ হচ্ছে, তুমি তার উপস্থিতিতে আমার সাথে বসতে লজ্জা বোধ করছো।’

মমতাজ বেগম হাসিমুখে বলেন, ‘জাহাঁপনার ধারণা কিছুটা ঠিক, কিন্তু এমন তো হয়নি, আপনি আমাকে ডেকেছেন, আর আমি আসিনি।’

‘আমি চাই, তুমি নিজ থেকেই চলে এসো। তোমার না আসার পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে, হয়তো আমার প্রতি তুমি মন্দ ধারণা পোষণ করো, নয়তো তাকে একা রেখে তার স্বামী জামাল খানকে তার প্রতি সন্দেহ করতে বাধ্য করতে চাও।’

‘দুটো কথা একসাথে ঠিক হবে না। তবে হ্যাঁ, আমি চাই, গুলরুখের সাথে কথা বলার সময় হযরত যেন স্বাধীন থাকেন। কেননা আমার সামনে হয়তো কোনো এমন কথা আপনার মনে আসতে পারে, যেটা বলা আপনি সংকোচ করবেন।’

‘তোমার এটা কেন মনে হলো, আমার মনে এমন কোনো চিন্তা আসবে? এটাকেই আমি কুধারণা বলে থাকি। আমার মনে এমন কোনো অনুভূতি থাকলে আমি তাকে প্রাসাদে ডেকে তোমার সাথে দেখা করতাম না। বরং দেখা করতাম অন্য কোথাও। মূলত আমি তাকে ডেকেছি তোমার সাথে দেখা করানোর উদ্দেশ্যেই।’

‘জাহাঁপানার এই করুণার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

এবার রানিও বাদশাহর পাশে এসে বসেন, পরস্পরে হাসিখুশি ও ভালোবাসাপূর্ণ কথা বলতে শুরু করেন। রানি যদিও খুবই শান্ত স্বভাব ও নীরব প্রকৃতির মানুষ। তবুও স্বামীর খুশির জন্য হাসিখুশি ও মজার কথা বলেন, যাতে গুলরুখ বেগমও একই রকম কথা বলে আর জাহাঁপনা তার কথায় খুশি হন। এরপর থেকে মমতাজ বেগম বাদশাহ ও গুলরুখ বেগমের কথার মাঝে অংশগ্রহণ করতে থাকেন।

চলবে…

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments