কালো অপেরা, একটি দীর্ঘ নোট
দিগন্তে ঝুলে থাকে লাল–সবুজের ফুসফুস,
তার ভেতর ঢুকে আছে সীমান্তের ছায়া, চুক্তির ঘাম, মানচিত্রের ঠান্ডা আঙুল; তবু তো রোজ হাঁড়িতে ভাত ফোটে, বাংলা এখনো স্বকণ্ঠে গান গেয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রের টেবিলে কাগজ সাদা, চকচকে;
তার নিচে রক্ত শুকিয়ে যাচ্ছে ধীরে, একটা নাম হয়ে—ওসমান হাদি! নাম মানে ক্ষত, ক্ষত মানে প্রশ্ন;
বিচার কি তবে পরিচয় দেখে?
একটা দড়ি—মিথ্যা ধর্ম অবমাননার,
তার নিচে ঝুলে থাকে দীপু দাশ! প্রমাণ শব্দটা কেমন নির্বাক হয়—ঘড়ির কাঁটা থামে, রাষ্ট্র হাই তোলে, আর সত্যটা গিলে ফেলে তৌহিদী জনতার অবোধ জিহ্বা!
এদিকে পাঁচ বছরের আয়শা—আগুনের বর্ণমালা শিখে ফেলেছে দ্রুত; নেতার উঠোনে পোড়ে তার ঘুম,
রাষ্ট্রের খাতায় শুধু ধোঁয়ার হিসাব। আয়শার মৃত্যু—একটা নীরব ফাইল, খোলা থাকে; বাতাসে উল্টায়, অথচ কেউ পড়ে দেখে না আর।
ইনকিলাব মঞ্চের পর
রাস্তায় নেমে এসেছে শত হাদিদের পা—
হাদি চত্বরে বিছিয়ে আছে রক্ত-চিহ্নের নথিপত্র—
কংক্রিটে লেখা হয় দাবি, চুপ থাকা এখন অপরাধ।
সংস্কৃতি মানে শুধু উৎসব না—সংস্কৃতি মানে
দাঁড়িয়ে থাকা, দাঁত কামড়ে।
ভারত আগ্রাসনের দীর্ঘ ছায়া আসে—আমাদের উঠোন মাপে, চালের বস্তা গোনে, ভাষার গায়ে হাত রাখে; তবু এই দেশ—মাটি, নদী, লোককথা—
নিজের নামটা ভুলে যাবে না। যার প্রমাণ শহীদ আবরার, শহীদ ওসমান হাদি!
রাষ্ট্র বলে, অপেক্ষা! সময় বলে, ক্ষত!
মানুষ বলে: বিচার! তিনটে শব্দ—একটা শরীর,
ভেতরে আগুন, বাইরে স্লোগান—
“তুমি কে আমি কে?”
এ দেশে আবার ফ্যাসিস্ট হতে চাইবে—
সে যেন ইতিহাসের পাতায় আঙুল রাখে! এবং মনে রাখে পলায়ন এখন আর কোনো কাকতাল না,
এ দেশে ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত পালায়।
শেষ শব্দটা কেউ মুছে ফেলতে পারে না—
বিচার—একটা দীর্ঘ, অন্ধকার নিশ্বাস!
জুলাইয়ের দিকে ফিরে যাই
জুলাই যেন আজ থমকে দাঁড়িয়েছে—
শহরের বুকে আবার লেগেছে রক্তের ধুলা।
অদৃশ্য কারা এসে আমাদের ভরসায় আঘাত করে?
কারা দমাতে চায় আমাদের বিপ্লব, আমাদের ওসমান হাদিকে? অথচ রক্ত ছুঁতেই বোঝা যায়—
বিপ্লব জন্মায় ভিতরের গভীর চাপা কণ্ঠ থেকে।
একজন হাদি পড়ে গেলে—
হাজার মানুষের পাঁজর কেঁপে ওঠে একই স্পন্দনে।
এই আক্রমণ কেবল শরীর ভাঙার নয়,
এই আক্রমণ সময়, তারিখ এবং হৃদয় ভাঙার।
জুলাইকে আটকে রাখতে চায় যারা,
তাদের ধ্বংস অনিবার্য!
মনে রেখো, জুলাই কোনও দিনপঞ্জি নয়,
মানুষের দীর্ঘক্ষোভে ধরা এক দহন।
যারা চেয়েছিল সব থেমে যাক,
তারা জানেই না কত দ্রুত প্রতিরোধ জেগে উঠবে।
ইতিহাস সাক্ষী—
বিপ্লবীকে দমাতে পারে, এমন কোনো বুলেটের জন্মই হয়নি আদৌ!
শহরের পথঘাট জুড়ে আজ ছড়িয়ে আছে সেই নিঃশব্দ জুলাইয়ের প্রতিজ্ঞা—
যা থামবে না, নিভবে না কোনোদিন! ফ্যাসিবাদির বিরুদ্ধে মানুষের ভিতরেই জন্ম নেবে আজীবন,
প্রতি মুহূর্তে নতুন করে।
দুই টা কবিতা ই মন ছুঁয়েচে