হিজল জোবায়েরের তিনটি কবিতা

হিজল জোবায়ের

অগ্নিভুখ


পরীদের জাগ্রত স্বপ্নের মতো এ জোৎস্না, আর খাড়ি বেয়ে বহুদূর চলে গেছে শশক শিকারীরা, সিলিকন-স্তনের ভারে কুঁজো হওয়া নারীদের গ্রাম পিছে ফেলে।

 

আর আমিই আমার অনন্ত রৌরব ছেনে জন্ম দিয়েছি তোমাকে।

 

জলঘড়ি উপচে ওঠে আজ। হেমন্তের ঝরোকায় কেবলই উজ্জয়নী ঝরাপাতা। 

 

অন্ধকার স্বয়ংপ্রভ তবু, পরীদের জাগ্রত স্বপ্নের মতো এ জোৎস্নায়, অলীক, তোমার স্বরব্যাঞ্জন থেকে ছিটকে পড়ছে হাওয়া পৃথিবীপৃষ্ঠের অগ্নিভুখ প্রতিটি সরাইখানায়।

 


 নন্দনতত্ত্বের খসড়া


মুছে গেলো তটরেখা

গোধূলির আলোয় উদ্বৃত্ত যেটুকু লালিমা

 

তবু ওড়ে ডানাহীন হাঁস

 

কতোটা বিকৃত সেই বিকলাঙ্গ হাঁসের উড়াল?

 

পাখির পালকে আমি টুকে রাখি সেই কথামালা,

শাল্মলী তরুটির নিচে৷ 

 

 

মেলে ধরলাম হাতের সকল তাস

 

এখানে কোনো ত্রাতা নেই, দেখো

দুর্ভিক্ষ আছে

 

রাজার গায়ে জামা নেই,

রানী স্বৈরিণী

 

এইখানে মহাকাল শেষ হয়ে গেছে 

বাতিঘরের ঠাণ্ডা আলোর নিচে

 

স্মৃতি থেকে তেতো গন্ধ ছড়াচ্ছে,

আর বিসর্গবহুল বুদ্বুদ উঠে আসছে জলাধার থেকে

 

ফাল্গুনের পুষ্পিত বিকেল ঝরে গেছে

রাত্রির কবরখানায়

 

তবু ওড়ে ডানাহীন হাঁস— উদ্ধৃতিচিহ্নবিহীন

মুহুর্মুহু আছড়ে পড়ে, সমাধিসৌধের স্তম্ভিত পাথরে পাথরে। 

 


পুনর্জাগরণ


দ্রুতলিখনের ভাষায় রচিত ভাড়াটে খুনীদের এই জানালাবিহীন ঘর। আর রহস্যময় একটি চিঠির কেবল হাতবদল, হেমন্তের মদের দোকানে। 

 

বধ্যভূমির পথে সারি সারি পাথর, বিকচ মুণ্ডু যেনবা। 

 

বিষণ্ণ শহর, তোমাকে কী নাম দেবো আমি?

 

কারফিউর অন্ধকারে আমাদের উন্মত্ত মিলনের রাত৷ গুপ্ত সংকেতে আমাদের প্যারানয়েড রোদের দুপুর।

 

তারপর যুদ্ধবিমান। বাতাসের নিরুচ্চার অভিশাপে পরাগশূন্য হেমন্তের অন্তিম মাধুরি।  রণাঙ্গনে গুলিবিদ্ধ ঘোড়ার শেষ চিৎকার। 

 

তবু, মাইনের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা গোলাপের সৌন্দর্য যাচনা করেছি৷ 

 

বিষণ্ণ শহর, পুনর্জাগরণের মতো সুন্দর হও তুমি। 

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments