১.
তুমি না থাকলেও সারাটা দিন তোমারে নিয়ে কত কি করার থাকে
তোমার হয়ে নিজেরে আউলাই কিছুক্ষন
পিরিতির নজর দিয়ে নিজেরে দেখি
যেন রাইখা গেছো—আমি এমন এক আমানত তোমার
সকাল বিকাল আর সমস্ত আন্ধার
বুকের ভিতর ফু দিয়ে দিয়ে ভরায়া রাখতেছি আয়াতুল কুরসি
আমারে আমার কাছেই কইরা গেছো জামানত তোমার
তুমি নাই—আমার শরীর থেকে বাতাস টাইনা নিতেছে তোমার সুরভী
স্মৃতির ভিতর থেকে তোমার কত ভঙ্গিমা ইয়াদে আসতেছে
যেন আমি এক আনচান দুপুর
আর খোয়াবে পষ্ট হইতেছে তোমার শরীর
তুমি নাই—নিমের সবুজ আমারে ভাবতেছে বনবাসী!
২.
তোমারে ছাড়া কিছুই ভাল্লাগে না আর
এই বেরহম পিরিতি মাইনা নেয়া লাগে
ভাবি, তোমারে ভালোবাসি তাই
যেকোনো সুন্দরের দিকে নজর দিতে মন চায় আজও
তুমি দরিয়ার বাতাসে মেলে দিও চুল
পায়ের পাতায় শাদা শাদা ফেনার নরম আসতে দিও
আর ধরে দেইখো আমার খুশবু লেগে থাকা ছোট ছোট নুড়ি
যখন চেখে দেখবা নীল আর কিড়কিড়ে বালুর স্বাদ
আমার কিশোরীর মতো উল্লাসের সুন্দর তোমার মনে পইড়া যাবে
দুনিয়ায় যত আছে ইশকের কথা
তার ভিতরেই আছি তুমি আর আমি
তোমারে ছাড়া ভাল্লাগে না কিছু
একটা দুঃখের গান বাজায়া সারাদিন মনটারে ভারী কইরা রাখি
৩.
তুমি থাকলে মনে হয় সবকিছু ঠিকঠাক আছে
পাতা নড়তেছে, গাছটা জিন্দা আছে
পরাণ আছে পাখিদের ভিতর
কত পাথর আর ঢেউ পার হয়ে যাওয়ার কথা ভাবি
আসলে অতটুক দূরেই যাইতে চাই
যট্টুক গেলে একটা রিক্সা ডেকে ঘরে ফিরা যাবে
পায়ের কাছে আমার বিলাইয়ের ঘুম কী সুন্দর হয়ে আছে!
তুমি থাকলে মনে হয় ঘুম ভালো হবে
আমারই স্বপ্নে আমারে কাবু করবে না কেউ
যত সরে সরে শুই আর কাইত হয়ে থাকি দেয়ালের সাথে
আমারে পাবা ঠিকই তোমার মাংসের ভিতর
নরম নোনতা রাত পার হলেই ফজরের আজান শোনা যাবে
জানি না তোমাকে ভোলার তরিকা আছে নাকি কোথাও
জানের ভিতর সারাদিন তুমি এক ধরফর পাখি
যে যারেই ডাকুক—এইভাবে চমকাই
যেন আমারেই ডাকতেছো তুমি!
তুমি থাকলে মনে হয়, যেকোনো দরিয়া আমি পার হয়ে যাব সাঁতার ছাড়াই
দারুণ!
ভালো লেগেছে অনেক।
রুম্মানা জান্নাতের কবিতা ভালো লাগে সব সময়ই।