রাবিয়া সাহিন ফুল্লরার অনূদিত কবিতা

রাবিয়া সাহিন ফুল্লরা

গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রালের কবিতা


সুন্দরতা

 

বাবুটা এত যে ননাইয়া
যেমন মিষ্টি এই বইতে থাকা হাওয়া।
যদি সে আমার মাই পেয়ে যায় আর আমি ঘুমাইতে থাকি
সে টানে আর আমি টেরও পাই না।

বাবুটা ঐ নদীর চাইতেও সুরেলা
যে তার বাঁকে চক্কর দেয় পাহাড়টারে।
আমার জাদু ঐ দুনিয়ার চাইতেও সুন্দর
যেখানে সে একটা নজর চুরি করে নেয়।

বাবুটা অনেক অনেক দামি
বেহেশতে যাওয়া বা পুরা দুনিয়া পাওয়ার চাইতেও।
আমার মাইয়ে সে পায় জন্তুতা
আর আমার গানে মখমলতা।

তার ছোট্ট শরীর এতটাই ছোট
লাগে যে একটা ছোট্ট বীজ যেন
স্বপ্নে যতটা না ভারী তার চাইতেও কম ওজন;
কেউই তারে দেখে নাই, তবুও সে আমার!

 


ফোরো ফারোখজাদের কবিতা


লেটার অন

 

একদিন আমার মউত আসবে

হতে পারে এটা উজ্জ্বল, বসন্তের কোন ভোর

হতে পারে দূরবর্তী শীতের কোন  সইন্ধ্যা

অথবা খুব সম্ভবত কুয়াশার, 

বা তুষারপড়া গুমোট কোন রাইত

 

ঐদিন বিষণ্ন,

ঝলমল অথবা মেঘলাও হতে পারে, তবুও

এটা হবে বাকিসব দিনের মতন 

একটা ফাঁপা দিন

ফিউচারের একটা মিথ্যা রচনা

অতীতের একটা পিকচার

 

ঐ দিন,

অন্ধকার গুহার মতন হবে আমার চোখ

ঠান্ডা মার্বেলের মতন হবে আমার ফেইস

আর আমারে নেয়া হবে 

একটা চটজলদির ঘুমের জন্যে

আমার রঙিন সব স্বপ্ন পিছনে ফেলি

 

আমার হাতগুলা  ফ্যাকাশে হয়ে যাবে

আমার কাব্যিকতা খাঁচা ছাড়ি পলাবে 

আমার রুহ তার শেষ লাইনের কম্পনেই হারায় যাবে

আর তারপর, সেখানে না থাকবে কোন দুঃখ, ব্যথা আর চোট

 

এই দুনিয়া,

একনাগাড়ে আমার নাম ধরি ডাকবে

এইভাবেই তারা পৌঁছাবে আমারে কবরে রাখতে

ওহ, বেবাক রাইতে সম্ভবত আমার লাভার যারা

কিছু ফুল রাখবে আমার কবরের উপ্রে

 

তারপর, 

আমার দুনিয়ার গাঢ় ছায়াটা

হঠাৎ করেই দূরে সরি যাবে

আর ভরা চান্নি পসরে, এক রাইতে

অপরিচিতজনেরা পড়বে আমার কবিতা

 

কোন এক কড়কড়া রইদের দিনে,

তারা আমার ছোট্ট রুমে হাঁটাহাঁটি করবে

আমার স্মরণে

এরপর আমার আয়নাতে  তখনও 

তারা দেখবে এক গোছা চুল 

জীবনের অনেক অনেক চিহ্ন

আমার আঙুলের ছাপসকল

 

আমার আত্মা—

একটা পালতোলা নৌকার মতন

এইটা আমার গতর থেকে আমারে মুক্ত করি পলাবে

চোখের সীমানা থেকে জাস্ট নাই হয়ে যাব আমি

একটা ছন্নছাড়া ঘুড়ির মতন, অপার ভ্রমণে।

 

দিন এত জলদি সপ্তা হয়ে যাবে

আর সপ্তা এত দ্রুত মাস হয়ে যাবে যে

তোমরা ঘড়ির চোখে পলকহীন তাকায়েই থাকবা

মিছামিছি অপেক্ষা করবা 

আমার চিঠির, আমার কলের।

 

বাট এরপরও,

আমার লাইফলেস বডি শান্তভাবেই রেস্ট নিবে

তোমাদের থেকে

তোমাদের অন্তরের খোঁয়াড় থেকে, দূরে

মাটির শব্দহীন আজায়।

 

পরে

এই সূয্য, এই বাতাস আর এই বিষ্টি

আমার কবরের ঠান্ডা পাথরগুলারে পলিশ করি দিবে

আর সবশেষ আমি মুক্ত হবো

একেবারে মুক্ত হবো

পুনরায় ফিরি আসার মিথ, 

নাম আর যশের বাইরে।

 


মরম আল মাসরীর কবিতা


এইটা ছিল বাতাস

 

এইটা তোমার ভুল ছিল না

এইটা আমারও ভুল ছিল না

এইটা ছিল বাতাস

যেইটা বয়ে নিয়ে গেছে

আমার কামনার 

পাকা আপেলটারে।

 


মায়া এঞ্জেলোর কবিতা


লাইফ ডাজ নট ফ্রাইটেন্ড মি 

 

দেয়ালভরা ছায়া

আর দালান জুড়ে হৈচৈ

তবু জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।

নেড়িকুত্তার অহেতুক ঘেউ ঘেউ

কিংবা মেঘে মেঘ হয়ে থাকা অশরীরী কেউ

এমন জীবনরেও আমি ডরাই না একদম।

 

জালিম বুড়ি শাকচুন্নি

বা কোন সিংহ, হোক বন্য

কোনটারেই ডরাই না আমি।

 

হোক আগুনজ্বলা ড্রাগন

অন মাই কাউন্টারপেন

সেটাও ডরাই না আমি একদম।

 

আমি “ভাউ” দিই উল্টা

আমি খিলখিলায়ে উঠি

আর ওরা দৌড়ায়,

আমি কান্দি না

তাই তারা পালায়,

আমি জাস্ট হাসি

আর তারা আউলায়ে যায়।

 

জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।

 

তাগড়া ব্যাটারা মারামারি করে, করুক

রাতের অন্ধকারে নিজেরা একা একা।

জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।

 

পার্কে প্যান্থার

অচেনালোকভরা অন্ধকার’

না, কোনটারেই আমি ডরাই না। 

ঐ নতুন ক্লাসরুম যেখানে

ছেলেরা আমার চুল টানে

কিংবা (কিসি বেবি গার্লস

উইথ দেয়ার হেয়ার ইন কার্লস)

কোনটারেই আমি ডরাই না মোটেও।

 

আমারে ব্যাঙ আর সাপও দেখাইতে আইসো না

আর যদি শুনেও থাকো আমার চিৎকার

যদি আমি ভীত হয়েও থাকি

সেটা শুধুমাত্র আমার স্বপ্নেই।

 

আমার কাছে এক জাদুমন্ত্র আছে

গুজায়ে রাখছি হাতার ভিতরে।

 

আমি দরিয়ার তলদেশেও হাঁটতে পারি,

আর শ্বাস না নিয়েও বাঁচতে পারি।

 

জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।

 

একটুও না।

 

একটুও না।

 

আমি জীবনরে ডরাই না মোটেও।

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments