নন-ফিকশনে কথাসাহিত্য করবার যে দাওয়াত কাছের মানুষজনরে টুকটাকভাবে দিতেছি মেলাদিন ধইরাই বিভিন্ন কাজ বা প্রকল্পের শিরোনাম আকারে, তার মানেটা এখনও তাফসির করা হয় নাই। অদ্য তা করবার খায়েশ রাখি।
অবশ্য তার আগে একটা কথা খোলাসা করা জরুরি যে কথাসাহিত্য কেন শুধু নন-ফিকশনে, ফিকশনে কেন নয়। উত্তর হইল, কথাসাহিত্য দ্বারা ফিকশনই বোঝানো হয় এবং তা নিয়া কাজ হইতেছেও, ফলে সেই খাতে কাজ করবার জন্য আলাদাভাবে দাওয়াত দিবার কিছু নাই।
বাকি থাকে নন-ফিকশনে কথাসাহিত্য। তো নন-ফিকশনে কথাসাহিত্য দ্বারা আমরা যা বুঝাইতেছি তা একবাক্যে বললে, এর মানে হইতেছে, ‘নন-ফিকশন বিষয়ে কোনোরূপ নির্ধারিত কাঠামোর ভিতরে না থাইকা ভাবের অকৃত্রিম অকপট বেপরোয়া সবিস্তার লিখিত প্রকাশ।’ কাঠামো দ্বারা মুরাদ হইল নন-ফিকশনের সকল ‘নিয়মমানা’ জনরা যথা : রচনা, প্রবন্ধ, গবেষণা এবং আরও যা যা।
অবশ্যই আমাদের দাওয়াতে এইসব বন্ধের ডাক দেওয়া হইতেছে না; বরং ওগুলিকে শুধুমাত্র রথী-মহারথীদের জন্যই খাস করা হইতেছে; এবং জনগণের জন্য এরই আরেকটা শাখা খোলা হইতেছে আর তা হইল, ওইসব নন-ফিকশনেরই কথাসাহিত্যিক প্রকাশ। এর লক্ষ্য, কিছু বলতে হইলে নির্দিষ্ট কাঠামোর ভিতর দিয়া বলতে হবে নাইলে তোমার বলাটা বলা না এইরূপ ধারণা থেকে বের হইয়া উন্মুক্ত ভাবপ্রকাশের জন্য জনতার সামনে থেকে সকল কাঠামোর বাধা-প্রতিবন্ধকতা তুইলা দেওয়া এবং তাদের সিরিয়াস আলাপের ভিতরে আসতে দেওয়া—যাতে তারা ভাষা নির্মাণে বাধ্য হয়—এবং তাদের থেকে ভূমিধস বয়ান এক্সপেক্ট না কইরা তাদের সরল অকৃত্রিম ভাবপ্রকাশরে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সেটারে দৈনিক কাগজে-ম্যাগাজিনে-ওয়েবজিনের পাতায় স্থান দেওয়া, যেখানে সব সুডো বুদ্ধিজীবীর দল জুইড়া বসছে এবং তারা জনতার জন্য কোনো প্রবেশাধিকার রাখে নাই।
উদাহরণ দিয়া বললে এই প্রকল্পের প্রস্তাবনা এই যে, ফ্যাসিবাদ জিনিসটা কী তা নিয়া চোশত ইন্টেলেকচুয়াল আলাপ যারা দিতে পারবেন দিবেন, না পারলে অন্তত ফ্যাসিবাদের আমলে জানালার পাশে বইসা ইউটিউবে ফুল ভলিউমে ফ্যাসিস্টবিরোধী কিছু শুনতে কেমন ভয় লাগত তার বিবরণ হইলেও বলবেন। সেকুলারিজম জিনিসটা কী তার আলাপ মহারথীদের কাজ হিসাবে থাকলেও এইক্ষেত্রে আপনি একটা নাগরিক হিসাবে সেকুলার এরায় রাস্তাঘাটে বের হইলে ঠিক কী ফিল করেন তা সবিস্তারে বলবেন। ধরা যাক, এক্ষেত্রে আপনি তালাল আসাদ পইড়া দেখলেন যে উনি সেকুলারিজমরে কীভাবে কীভাবে ব্যাখ্যা করছেন, এর কী কী প্রবণতা চিহ্নিত করছেন; এরপর বললেন যে আপনার আমজনতাধর্মী জীবনযাপনে সেইসব ব্যাখ্যার ও প্রবণতার কোনো বাস্তব নজির আপনি ফেস করছেন কি না। এ-ই হইল গণভাবচর্চা, জনতারে তাদের অভিপ্রায় ব্যক্ত করবার সুযোগ কইরা দেওয়া, যাতে অন্য কেউ আইসা তার নিজের বয়ানরে জনতার বয়ান বইলা দাবি না করতে পারে।
আমাদের মনে হইতেছে, কথাসাহিত্য জিনিসটা শুধু ফিকশন না হইয়া ব্যাপক অর্থেই ‘কথাসাহিত্য’ হইতে হবে, গণমানুষের ভাবপ্রকাশের অবলম্বন হইতে হবে। শুধু ফিকশনের কাঠামোর ভিতরে ঢুকলে তা একটা বিশেষ শ্রেণি কর্তৃক সীমিত অর্থের কথাসাহিত্য হইল।
আমরা যেই রিয়ালিটিতে বাস করি তাতে কাঠামোর ভিতরে থাইকা ভাবপ্রকাশে আমাদের আর পোষাইতেছে না; এগুলি আমাদের কাছে আরোপিত ও অপর্যাপ্ত লাগতেছে। যেখানে আমাদের জরুরত হইল কথারে অকপটে বেপরোয়াভাবে কোনোরূপ ভানভণিতা ছাড়াই সবিস্তারে বলা, যা ফিল করতেছি তা বলা, সত্যটা নিঃসংকোচে তুইলা ধরা, সেখানে নানারকম কাঠামো আমাদের সীমিত, স্বল্প ও সম্ভাবনাহ্রাসপ্রাপ্ত করতেছে; নানারকম ‘প্রথম আলো’ আমাদের সামনে নানারকম রেস্ট্রিকশন নিয়া দাঁড়াইয়া আছে, আমাদের ভাবপ্রকাশের পথে বাধা হইয়া আছে এবং আমরা ওইসব ওইসব মেইনটেইন করতে গিয়া অহরহ অসত্য বা অর্ধসত্য বলতেছি, যা উপলব্ধি করি নাই তাও মুখস্থভাবে বলতেছি এবং এর মধ্য দিয়া গন্তব্যকে আরও দূরবর্তী কইরা তুলতেছি। এই ধারা থেকে বেরোইতে হবে।
এই সুরতে, আমরা যখন একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস লেখতেছি, তখন আমরা নিজেরা যা, তার রূপ অনেকাংশে প্রতিফলিত হইলেও যখন ‘সিরিয়াস’ কিছু লেখতে বসতেছি, তখন এই ‘লেখা’র স্বার্থেই ভিন্ন মানুষ হইয়া উঠতেছি; ‘লেখা’র স্বার্থেই এমন কথা বলতেছি যা আমাদের যাপনের ভিতর দিয়া—যাপন শারীরিক হোক বা চিন্তাগত—উইঠা আসা না, বরং পড়াশোনা কইরা শেখা।
এই সুরতে, একজন যখন কোনো প্রবন্ধ লেখতেছেন, তখন তিনি প্রবন্ধে একটু পর পর শিরোনাম দিয়া লেখা লাগে এই মুখস্থ ধারণার পোষ্য হিসাবে একটু পর পর শিরোনাম দিতেছেন। এমন না যে ওইসব শিরোনাম ভিতরের কথার চাপে তার কলমের ডগায় আসতেছে এবং তিনি আসলেই ওইসব শিরোনামের দরকার বোধ করছেন বইলা লেখতেছেন। বরং তিনি ওইসব বের করতেছেন কুন্থন কইরা, কাঠামো মেইনটেইন করার স্বার্থে, আরোপিতভাবে।
এই ধারা চিন্তারে আগাইয়া নিবে না। এরকম পড়াশোনা কইরা শেখা জিনিস আরও সুন্দর কইরা সাজাইয়া এখন এআই-ই লেখতে পারে। সামনে আরও ভালোমতন পারবে।
কাঠামোর দরকারে মানুষ যেভাবে মুখস্থ জিনিস উৎপাদন করতেছে, একইভাবে কাঠামোর দরকারে সে ভাবপ্রকাশে অনেক কম্প্রোমাইজও করতেছে। আদিব হুজুরের সফরনামায় আমরা দেখি, কীভাবে তিনি ভাবের চাপে ভাইসা যাইতেছেন—এইটা ভালো ব্যাপার ছিল—কিন্তু পরক্ষণেই তিনি আবার সংযতও হইতেছেন এবং ‘প্রিয় পাঠক’ বইলা সরাসরি সম্বোধন কইরা স্বীকার করতেছেন যে তিনি কথার তোড়ে কোত্থেকে কোথায় ভাইসা গেছিলেন এবং এখন তিনি আবার মূল ট্র্যাকে ফিরতেছেন। মানে তিনি এটারে দূষণীয়ই ভাবেন এবং তা স্বীকার করার মধ্য দিয়া বোঝান যে, তিনি এই বিষয়ে সতর্ক। কিন্তু বারংবার করার দরুন এই স্বীকারোক্তির পদ্ধতিটা ঠিক লেখার গতিবিধির সাথে খাপ খায় না। তিনি যেখানে ভাইসা গেছেন সেখান থেকে মূল স্রোতে ফেরত আসার মাঝখানের সংযোগস্থলগুলিরে যদি মসৃণ কইরা তুলতেন যাতে পাঠক বুঝতেই না পারে যে তিনি কখন গেলেন আর কখন কীভাবে আবার মূল ট্র্যাকে ফিরলেন, তাহলেই বরং সেটারে কুশলতা বলা যাইত। কিন্তু তা না কইরা এরকম স্বীকারোক্তি মূলত কাঠামোর কাছে নতিস্বীকার।
সফরনামা লেখার সময় এইসব লেখা যাবে না, এইসব এইভাবে এইভাবে এই পরিমাণ লেখতে হবে, প্রয়োজনে শব্দের মিছিলের মুখে ব্যারিকেড দিতে হবে, কিংবা একটু এলোমেলো হইয়া গেলে বিনয়ের সাথে স্বীকার করতে হবে যে ভুল পথে যাওয়া হইছিল—এগুলিই হইল কাঠামোর শাসন মাইনা নেওয়া। এগুলির দ্বারা কোনো উপকার তো হয়ই না, বরং লেখকের সংযমের দরুন পাঠক অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হন।
লেখক যেটারে বলা জরুরি ভাবতেছেন তা বলবেন না কেন? কাঠামোরক্ষার স্বার্থে? এই শিরোনামের অধীনে এর চাইতে বেশি লেখা যাবে না, এই প্যারায় এই পরিমাণ লেখা লাগবে, এইসব ধরাবান্দা নিয়ম পালনের জন্য? তাহলে মানুষের কাছে কি তার ভাবপ্রকাশের জরুরিয়তের চাইতে কাঠামোগত তাহসিনিয়ত মেইনটেইন বড়ো হইয়া গেল? কাঠামো কি ভাবপ্রকাশরে শাসন করবে? করা উচিত না। লেখক তার জরুরিয়তের কথাগুলি লেখবেন, কাঠামোর স্বার্থে আপস করবেন না।
প্রশ্ন হইল, তাহলে কি আমরা যাচ্ছেতাই লেখারে অনুমোদনের কথা বলতেছি? তাও না। কাঠামো ভাঙা মানে কমনসেন্স বিসর্জন দেওয়া না। লেখা বিচারের ক্ষেত্রে একমাত্র যেই জিনিসটার দিকে খেয়াল রাখা লাগবে তা হইল, লেখকের কমনসেন্সের কম্পাস ঠিক আছে কি না, সে তার ভিতরের কথাটা লেখতেছে কি না, বলার কথাটা ঠিকঠাক জোরালোভাষায় অকপটে ভানভণিতাহীনভাবে কম্প্রোমাইজ না কইরা বলতে পারতেছে কি না। শব্দের টানে যে শব্দ লেখে সে তো এমনিতেই অহেতুক কথা বলতেছে এই অর্থে যে সে যা বলতেছে তা মিন কইরা বলতেছে না। এইসব খেয়ালে রাখার পরে কেউ পারলে কাঠামো মেইনটেইন করুক; না পারলে না করুক, সে গন্তব্যে পৌঁছাইছে।
প্রচুর নবীন লেখক তাদের নবিশির সময়টায় যা বলতে চান তা কোন কাঠামোর ভিতর দিয়ে বলবেন তা নিয়া ভোগেন। অনেকের ভিতরে যখন লেখার কোনো ভাব জমে, বা আরেকটু সরাসরি বললে, যখন তিনি কোনো ‘নৈতিকতার পাঠ’ বা উপদেশ বা ‘সত্যের জয়’ আবিষ্কার করেন, তিনি তা গল্পের ভিতর দিয়া বলার জন্য বসেন। এরকম গল্পের পরিণতি আগেই নির্ধারিত। এরকম গল্প-উপন্যাসে একটা পূর্বনির্ধারিত ‘শিক্ষা’রে জোর কইরা খাওয়ানোর চেষ্টা দেখা যায়। এগুলি কোনো কাজের কাজ হয় না।
ভাবপ্রকাশ কেন শুধু গল্প-উপন্যাস-কবিতা-প্রবন্ধের ভিতর দিয়াই করতে হবে? ভাবপ্রকাশের জন্য প্রচলিত কাঠামোগুলির বাইরে আর কিছু দেখতে না পারা, ভাবতে না পারাও একটা অক্ষমতা এবং এগুলির বাইরে কোনোকিছুরে স্বীকৃতি না দেওয়া একপ্রকার স্বৈরাচারিতা ।
বর্তমানের উপলব্ধি ও উদ্ধারগুলিরে যদি আমরা আমাদের জবানের মারফতে সবিস্তারে খুইলামেইলা ধরতে পারি এবং আগামীর দিনগুলিতে যা অনিবার্য হইয়া উঠবে বইলা আমাদের ধারণা, বা অনিবার্য না হোক, অন্তত প্রাসঙ্গিক থাকবে বইলা আমাদের ধারণা, তার আগাম তফসির যদি সবাই মিলা করতে পারি, তাহলে একটা কাজের কাজ হবে। এর ফলে গণমানুষ তাদের ভাষার কাছে যাইতে পারবে, ভাষা বিনির্মাণে গণভূমিকা পালন করতে পারবে এবং এর ফলে যে ভাষাটা গইড়া উঠবে তা হবে নিজেদের বোধের ভিতর থেকে, নিজেদের বুদ্ধির অনুমোদন থেকে উইঠা আসা ভাষা; এবং এভাবে চিন্তার দিকেও একটা সজাগ দৃষ্টি রাখা যাবে।
‘জনতার অভিপ্রায়’ ব্যক্ত করা নিয়া যে কথা হয়, তা সম্ভব হবে যদি জনতার একটা অংশ, আমাদের বিচারে অন্তত বিশ-ত্রিশ শতাংশ, তাদের অকপট উপলব্ধিরে ব্যক্ত করবার ভাষা পান। তাদের ফিকশন রাইটার বা বুদ্ধিজীবী হইতে হবে না। গল্প-উপন্যাস-কবিতা বা ইন্টেলেকচুয়াল বইপত্র লেখতে পারতে হবে না। শুধু অকৃত্রিম অভিপ্রায়টা ব্যক্ত করতে পারলেই হবে।
স্মরণ করেন নবিজি সা.-এর দুধমাতা হালিমা সাদিয়ার ওই নবজাতকের সন্ধানে মক্কায় আসার বিবরণটা। খেয়াল করেন তিনি কতটা অকপট। নবিজিকে একে একে সব ধাইমার সামনে পেশ করার পর কেউই যখন নিতে রাজি হইতেছে না, ওই সময়টার কথা তিনি সিম্পলি এভাবেই বলতেছেন যে :
‘সবার সামনেই নবিজিকে পেশ করা হইল। কিন্তু যখনই বলা হইত তিনি এতিম, কেউ তাকে নিতে চাইত না। আসলে বিষয়টা হইল, আমরা শিশুর পিতার কাছ থেকে ভালো এনামের আশা করতাম। এজন্য তাকে দেখার পর ভাবলাম, শিশুটা তো এতিম, আর তার মা ও দাদার কাছ থেকে কতটুকুই বা আশা করা যায়। মূলত এজন্যই আমরা তাকে নিতে চাইতেছিলাম না।
এভাবে দেখতে দেখতে যারা আমার সঙ্গে আসছিল, সবাই কোনো না কোনো নবজাতক পাইয়া গেল। বাকি থাকলাম খালি আমি। এরপর সবাই যখন ফিরা আসব ভাবতেছি, তখন আমি শওহরকে বললাম, আল্লাহর কসম, সবাই বাচ্চা নিয়া ফিরবে আর আমি খালি কোলে ফিরব, এটা আমার একদম ভালো লাগতেছে না। আমি ওই এতিম বাচ্চাটাকেই নিয়া আসব। তিনি বললেন, সমস্যা নাই, এটা করতে পারো। হয়তো আল্লাহ এরই মধ্যে বরকত দিবেন।
তখন আমি আবার গিয়া তাঁকে সঙ্গে কইরা নিয়া আসলাম। তাকে নিয়া আসার পিছনে এটাই কারণ ছিল যে, তাকে ছাড়া আমরা আর কাউকেই পাইতেছিলাম না।’ [1]সিরাতে ইবনে হিশাম
সম্পূর্ণ ভণিতাহীন উচ্চারণ। সত্যটারে সরাসরি বলতেছেন। কোনোকিছু লুকাইতেছেন না। মিথ্যা তো বহু দূরের কথা, সত্যরে একটু প্রচ্ছন্নও কইরা তুলতেছেন না। এগুলিই অকৃত্রিম প্রকাশ। আগামীর দিনে এগুলি মূল্যবান হইয়া উঠবে। পক্ষান্তরে, যেই লেখায় কোনো চিন্তার সংযোজন নাই, অকৃত্রিমতার চর্চা নাই, শুধু একটা কাঠামোর মধ্যে দিয়া আগেকার কথাই কৃত্রিম ভাষায় (তথা শেখানো ভাষায় বা মুখস্থ ভাষায়) বলা আছে, তা খুবই ভ্যালুহীন একটা বস্তু হইতে যাইতেছে; এগুলি দৈনিক পত্রিকায় ছাপানো লেখার মতন যার স্থায়িত্ব বড়োজোর এক দিনের, বা কয়েক ঘণ্টার। এরপর মানুষ এগুলি ভুইলা যাবে।
নবীন লেখকদের উচিত হবে শুরুতে কাঠামোর ফান্দে না পইড়া ভাবের অকৃত্রিম সবিস্তার প্রকাশ করতে শেখা। অকৃত্রিম ভাবপ্রকাশের পর তা যে কাঠামোর মধ্যে পড়ে পড়ুক, না পড়লে না পড়ুক। লেখক হওয়ার জন্য গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ লেখতে পারতে হবে এই চিন্তা থেকে বেরোইতে হবে। কলমরে বাইন্ধা না রাইখা সবিস্তারে ভাবপ্রকাশের জন্য খুইলা দিতে হবে। তরুণরা এইটা করার পর আবিষ্কার করতে পারবেন যে কীভাবে তার লেখা তার চাইতে বেশি ইন্টেলিজেন্ট হইয়া ওঠে।
তথ্যসূত্র:
| ↑1 | সিরাতে ইবনে হিশাম |
|---|