মিতিলের দাদু ও মুক্তার গাছ

মাহমুদুর রহমান

অংক নিয়ে মিতিলের ভয় কিছুতেই কাটে না। যোগ বিয়োগ সে শিখে ফেলেছে। গুণটাও মোটামুটি পারে। ভাগ করতে গেলেই সমস্যা বাড়ে। স্কুলে বুঝতে কষ্ট হলেও বাসায় সিমিন আন্টি সহজ করেই বোঝান। কিন্তু মিতিলের মনে থাকে না। মনে থাকলেও অংক করতে গেলে গুলিয়ে যায় সব।

আজও একই অবস্থা। তিনের ঘরের একটা ভাগ সে কিছুতেই মেলাতে পারছে না। কোনটার পর কোনটা করবে এখন সেটাও মনে করতে পারছে না। কান্না পাচ্ছে খুব মিতিলের। কাল দশটা ভাগ হোমওয়ার্ক আছে স্কুলে। ভাগফল না মিললে সে কিছুতেই স্কুলে যাবে না। কিন্তু স্কুলে না গেলেও সমস্যা। তাই সে সামিয়ার কাছ থেকে খাতা নিয়ে এসেছে। সামিয়ার খাতা দেখে অংক করবে।

দুটো অংক তোলা কেবল শেষ হয়েছে। আর তখনই ঘরে ঢুকলেন মিতিলের দাদু সালেহা বেগম। তিন দিন হলো ওদের বাসায় এসেছেন। দাদু এলেই মিতিলের মন ভালো হয়ে যায়। অনেক কারণ আছে। দাদু ভালো আচার বানান। দাদু ভালো গল্প বলেন। তারচেয়ে বড় কথা, দাদু এলে তিনি মিতিলকে সময় দেন। বাবামা তো মিতিলকে খুব বেশি সময় দিতে পারেন না। দুজনেই চাকরী করেন।

কিন্তু দাদু থাকতে চান না বেশিদিন। বছরে দুইবার হয়তো আসেন। তিন দিন পরই যাই-যাই করতে থাকেন। মিতিল খুব মন খারাপ করে। তখন মিতিলের দাদু বলেন, ‘তুমিও আমার সাথে চলো। উঠানের পেপে গাছটা তোমার জন্য কাঁদে।’

এই পেপে গাছ নিয়ে একটা মজার গল্প আছে। মিতিলের তখন পাঁচ বছর বয়স (এখন ওর বয়স দশ)। বরিশালে দাদাবাড়িতে গেল। শহরেই ওদের বাড়ি। গ্রামেও একটা বাড়ি আছে। তবে মিতিলের জন্মের আগের বছরই শহরে উঠে গিয়েছিল দাদা-দাদু। অবশ্য শহরের বাড়িতেও কিছুটা গ্রামীণ পরিবেশ আছে। ঘরের চারপাশে প্রচুর জমি আর তাতে নানা রকম গাছ। মূল ঘরের পেছনেই একটা পেপে গাছ আছে। কোনোরকম পরিকল্পনা করে লাগানো হয়নি। বীজ থেকে আপনা আপনিই জন্মে বড় হয়েছে গাছটা।

মিতিল ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে গাছে আঘাত করেছিল তার হাতে থাকা একটা কলম দিয়ে। গাছ কেটে সেখান থেকে বেরিয়েছিল কষ। দাদু বেরিয়েছিলেন কোনো কাজে। দেখেছিলেন মিতিলের কাণ্ড। আর মিতিলও দাদুকে কাছে দেখে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘গাছটার এমন কেন হলো?’

দাদু বলেছিলেন, ‘তোমার গায়ে আচড় লাগলে তুমি কাঁদো না? গাছটাও কাঁদছে। তুমি ব্যথা দিছো গাছটাকে।’

এরপর আর কোনোদিন কোনো গাছে আঘাত করেনি মিতিল। ফুল ছেঁড়েনি, ডাল ভাঙেনি।

অংক করতে করতে এত কথাও মনে পড়ে যায় মিতিলের। মা বলেন, এত সব চিন্তা করে বলেই মিতিলের অংক মনে থাকে না। তবে মিতিলের মনে হয় দাদু যদি গল্পের মতো করে অংক বোঝাত তাহলে অংক কখনো ভুল করত না মিতিল।

মিতিলের খাতার নিচে আরেকটা খাতা অর্ধেক ঢোকানো দেখলেন দাদু। ভালো করে দেখলেন আর দেখে বুঝলেন যে আরেকটা খাতা থেকে অংক দেখে লিখছে মিতিল।

দাদু বললেন, ‘মিতি-দাদু, দেখে দেখে অংক লিখলে তো অংক শেখা যাবে না।’

মিতিল এমনিই কাঁদো কাঁদো মুখে ছিল, এবার কেঁদেই ফেলল। বলল, ‘আমি কী করব! আমি তো চেষ্টা করলাম। পারছি না। খালি ভুল হয়। কিন্তু অংক হোমওয়ার্ক শেষ করতে না পারলে সবাই আমাকে বোকা মনে করবে।’

দাদু বললেন, ‘তাই বলে তুমি নকল করবে? এটা কি ঠিক?’

মিতিল কোনো উত্তর দিল না। কেবল মুখ নামিয়ে নিল একটু। দাদু আবার বললেন, ‘নিজের কাজে কখনো অসততা করতে হয় না দাদু।’

মিতিল এবার বলল, ‘কিন্তু সাদিক তো সায়েমের খাতা দেখে অংক করে হায়েস্ট নম্বর পায়।’

সালেহা বেগম জানেন, অনেকেই এরকম করে। কিন্তু তারা একসময় এর ফল পায়। কিন্তু সেসব জটিল কথা মিতিলকে এখন বোঝানো কঠিন। তিনি কেবল বললেন, ‘তা হয়তো পায়। কিন্তু ওকে যদি বইয়ের বাইরের অংক দেয়া হয়, ও পারবে না। বা বড় ক্লাসে আরো কঠিন অংক আসলে তখন আর দেখেও লিখতে পারবে না। পরিশ্রম না করলে ভালো কিছু পাওয়া যায় না।’

মিতিল খানিকটা আনমনা হয়ে গেল। দাদু তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। এমন সময় মিতিল যেন আনমনেই বলে উঠল, ‘আমি যদি রাজকন্যা হতাম। তাহলে পরিশ্রম করতে হতো না।’

দাদু সে কথায় হেসে উঠলেন। তারপর বললেন, ‘মিতি-দাদু, আমাদের মনে হয় রাজা, রাজপুত্র, রাজকন্যাদের জীবন অনেক সহজ। কিন্তু তুমি কি জানো, রাজপুত্রদের অস্ত্র চালানো, যুদ্ধ করা শিখতে হতো? রাজকন্যাদেরও পড়াশোনা করতে হতো। তারচেয়েও বড় কথা, রাজাদেরও পরিশ্রম করতে হতো। পরিশ্রম ছাড়া যারা রাজত্ব করত, তারা রাজত্ব ধরে রাখতে পারত না। অন্য কেউ নিয়ে যেত।’

মিতিল বলল, ‘হুউউ, অন্য রাজারা এসে দখল করে নিত।’

দাদু বললেন, ‘শুধু তা-ই না। আরো অনেক সমস্যা হতো। সেসব বাদ দাও, তোমাকে পরিশ্রমের ফল নিয়ে একটা গল্প বলি।’

গল্পের কথা শুনতেই মিতিল খুশি হয়ে উঠল। দাদুও শুরু করলেন—

সে অনেক অনেক দিন আগের কথা। মনে করো এই বাংলাদেশেরই কোনো এক গ্রামে ছিলেন এক জ্ঞানী ব্যক্তি। মনে করি তার নাম আমিন উদ্দিন। তিনি অনেক পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু কৃষিকাজ বা অন্য কোনো কাজ শেখেননি। আর তখন এমন স্কুলও ছিল না। একটা পাঠশালা খুলেছিলেন আমিন। কিন্তু গরিব কৃষকদের ছেলেমেয়েরা সেখানে পড়তে যেত না। এক দিন গেল তো দুই দিন গেল না। আমিন উদ্দিনকে দেয়ার মতো টাকাও তাদের বাবা মায়ের ছিল না। তাই পাঠশালা বন্ধই হয়ে গেল।

আমিন উদ্দিনের বউ আলেয়া বেগম কষ্ট করতে পারতেন। কিন্তু অনেক দিন অভাবে, দুঃখে থেকে তার মন-মেজাজ ভালো থাকত না। একদিন আমিন উদ্দিনকে আলেয়া বললেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের রাজা প্রতিদিন তার দরবারে যাওয়া জ্ঞানীদের অনেক অনেক দান করেন। তুমি একদিন রাজধানীতে যাও। রাজার কাছ থেকে দান নিয়ে এসো।’

আমিন উদ্দিন কিছুক্ষণ ভাবলেন। তারপর বললেন, ‘রাজার কাছ থেকে দান নিতে আপত্তি নেই। কিন্তু একটা কথা আছে। আমার দাদা বলেছিলেন, কারো কাছ থেকে দান বা সাহায্য নিতে হলে এমন কিছু নিতে হবে যা ঐ ব্যক্তি নিজের পরিশ্রমে আয় করেছেন। রাজা যদি তেমন কিছু দেন তাহলেই আমি নেব।’

পরদিন একটা গামছায় তিনটা রুটি আর এক টুকরা গুড় বেঁধে আমিন যাত্রা করলেন রাজধানীর দিকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত হেঁটে তিনি রাজধানীতে পৌঁছলেন। একটা মসজিদের বারান্দায় বসে রুটি গুড় খেয়ে পুকুর থেকে পানিও পান করলেন। রাতে তো রাজার দরবার বসে না। পরদিন সকালেই যেতে হবে। রাতটা ঐ মসজিদের বারান্দাতেই কাটালেন গামছা পেতে। তখন শহর-গ্রামের মসজিদ তালাবন্ধ থাকত না। গরিব মানুষ, পথিকরা আশ্রয় নিতে পারত।

যা-ই হোক। সকালে আমিন গেলেন রাজবাড়ি। দরজায় বহু লোকের ভিড়। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমিন দেখা পেলেন রাজার। রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি আপনার জন্য কী করতে পারি?’

আমিন তার দুরবস্থার কথা বললে রাজা তাকে ১০০ স্বর্ণমুদ্রা দেয়ার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তখনই আমিন বলে উঠলেন, ‘মহারাজ, অপরাধ ক্ষমা করবেন। একটি প্রশ্ন করতে চাই।’

রাজা প্রশ্ন করতে বললেন। আমিন উদ্দিন বললেন, ‘এই ১০০ সোনার মোহর কি আপনি নিজের পরিশ্রমে অর্জন করেছেন?’

রাজা ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি ভাবলেন কয়েক মুহূর্ত। তারপর বললেন, ‘না তো। আমি তো পরিশ্রম করে কিছু রোজগার করি না।’

আমিন বললেন, ‘তাহলে মহারাজ, এই দান আমি গ্রহণ করতে পারব না।’

রাজার সভাসদরা সবাই অবাক হলেন। কেউ কেউ রাগও করলেন। কিন্তু রাজা তাদের ইশারায় নীবর থাকতে বললেন। তারপর আমিনকে বললেন, ‘দাঁড়ান। আমি শপথ করেছিলাম, আমার কাছে কেউ এলে তাকে খালি হাতে ফেরাব না। আপনিও খালি হাতে যাবেন না। আমাকে একদিন সময় দিন। কাল আমি আপনাকে নিজের পরিশ্রমে আয় করা অর্থ সাহায্য করব। আর আজকের দিনটা আপনি অতিথিশালায় থাকবেন। অতিথিশালা প্রজাদের কর থেকেই চালিত। সেখানে সবারই অধিকার আছে।’

আমিন আপত্তি করলেন না। তাকে একজন পেয়াদা অতিথিশালায় নিয়ে গেল। আর এদিকে রাজা নিজের ঘরে গিয়ে ছদ্মবেশ নিয়ে বের হলেন পরিশ্রম করে আয় করার জন্য।

তিনি একটা দোকানের সামনে গিয়ে বললেন, ‘এখানে কি কোনো কাজ পাওয়া যাবে?’

দোকানদার লোকটা রাজার শরীর স্বাস্থ্য দেখে বুঝতে চেষ্টা করলেন একে দিয়ে পরিশ্রম করানো যাবে কিনা। তারপর বললেন, ‘আমার দোকানে আজ ১০ কলসি পানি লাগবে। তুমি কুয়া থেকে ১০ কলসি পানি তুলে দাও। পাঁচটি তামার মুদ্রা পাবে।’

রাজা খুশি হয়ে কুয়ার কাছে গেলেন। কুয়াটা দোকান থেকে বেশ দূরে। কুয়া থেকে দড়ি দিয়ে পানি তোলা কষ্টের কাজ। তারপর কলসি মাথায় দোকান পর্যন্ত পানি আনা আরো কষ্টের। রাজা দুই কলসি পানি এনেই হাঁফিয়ে গেলেন। কোনো মতে চার কলসি পানি আনলেন। পাঁচ নম্বরটা আনার সময় দোকানের কাছে এসেই পড়ে গেলেন আর কলসি গেল ভেঙে।

দোকানদার তো হায়হায় করে উঠলেন। তেড়ে মারতে গেলেন রাজাকে। কিন্তু তারপর কী মনে করে আর মারলেন না। বললেন, ‘চার কলসি পানির জন্য দুটো তামার মুদ্রা দিলাম। আর যেন কখনো তোমার চেহারা না দেখি।’

রাজা সেই দুই মুদ্রা নিয়ে খুশি হয়ে চলে গেলেন। ভাবলেন তার শপথ অন্তত ভঙ্গ হবে না। সেই সঙ্গে বুঝলেন যে পরিশ্রম করা সহজ না।

পরদিন আমিন আবার গেলেন রাজার দরবারে। রাজা তাকে দেখে বললেন, ‘আমিন উদ্দিন, আমি পরিশ্রম করে খুব বেশি আয় করতে পারিনি। মাত্র দুটি তামার মুদ্রা আমি তোমাকে দিতে পারি। তবে নিজের শ্রম দিয়েই আমি তা আয় করেছি।’

আমি উদ্দিন খুশি হয়ে মুদ্রা দুটি নিয়ে বললেন, ‘এতেই আমি খুশি মহারাজ।’

আমিন উদ্দিন খুশি হলেও আলেয়া বেগম খুশি হতে পারলেন না। রাজার দরবার থেকে লোকে শত সোনার মোহর আনে আর আমিন আনলেন দুটো তামার মুদ্রা! আলেয়া রাগ করে মুদ্রা দুটো ছুঁড়ে ফেললের উঠানের কোনায়।

পরদিন থেকে আমিন শুরু করলেন জনমজুরি। কোনো মতে দুই বেলা খেয়ে চলতে লাগল তার। মাসের পর মাস যায়। একদিন আলেয়া দেখলেন উঠানের কোনায় একটা অচেনা জাতের গাছের চারা। প্রথমে তুলে ফেলতে চাইলেও তুললেন না। চারাটা বড় হতে থাকল। ছোট গাছটাই ফল দিল ছয় মাসে। তবে খুব অদ্ভূত ফল। সাদা, গোল গোল কিন্তু খুব শক্ত। খাওয়া যায় না। একদিন পাশের বাড়ির ছোট মেয়ে জামিলা এসে সেই ফল দেখল। আলেয়া বললেন, ‘কোনো কাজেই লাগে না। কিন্তু দেখতে সুন্দর। তাই আমি বাক্সে রেখে দেই।’

কম বয়সি জামিলা খেলার জিনিস মনে করে ফল নিয়ে গেল মুঠো ভরে। দুইদিন পর তার বাবা আনোয়ারের নজরে পড়ল সেগুলো। জামিলাকে বলল, ‘তুই এগুলো কই পেলি মা?’

জামিলা বলল সে আমিন কাকার বাড়িতে পেয়েছে। আনোয়ার মনোযোগ দিয়ে দেখলেন তা। তিনি ফলের ব্যবসা করেন। রাজধানীতে মাঝে মাঝে যান। এই ফল তিনি কোথাও দেখেননি তবে তার একটা সন্দেহ হলো।

পরদিন দুটো ফল নিয়ে আনোয়ার রওয়ানা হলেন রাজধানীতে। রাজার দেখাও পেলেন। আনোয়ার শুনেছিলেন রাজা তার মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গয়নার জন্য দরকার চমৎকার মুক্তা। আনোয়ার রাজার হাতে ফল দুটো তুলে দিলেন। রাজা চকচকে চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোথায় পেলে এই অমূল্য মুক্তা, আনোয়ার মিয়া?’

আনোয়ার জানালেন তার গ্রামের আমিন মিয়ার উঠানের গাছে মুক্তা ধরেছে। রাজা সেকথা শুনে বিশ্বাস করলেন না। কিন্তু আনোয়ার নানাভাবে বলার পর রাজা নিজেই দেখতে চাইলেন সেই গাছ।

লোকজন নিয়ে রাজা যখন আমিন উদ্দিনের উঠানে ঢুকলেন, তখন বিকাল প্রায় শেষ। আমিন উদ্দিন খেত থেকে ফেরেননি। দৌড়ে গেলেন গাছের কাছে। ছোট একটা গাছ মুক্তায় ভর্তি। রাজা বললেন, ‘সুবহানআল্লাহ।’

তার পরই রাজার মনে হলো অন্য কিছু। তিনি ঠিক করলেন গাছটা উপড়ে নিয়ে যাবেন। আলেয়া বেগম এতো মানুষের সামনে কিছু বলার সাহস পেলেন না। রাজার পেয়াদারা তাই মাটি খুঁড়ে গাছটা শিকড় সুদ্ধ উপড়ে ফেলল। রাজা দেখলেন শিকড়গুলো বেরিয়েছে দুটো তামার পয়সা থেকে। তিনি অবাক হলেন। আর তখনই আমিন উদ্দিন খেত থেকে ফিরে বাড়ির উঠানে ঢুকলেন।

রাজাকে আমিন বললেন, ‘মহারাজ, আপনি আমার বাড়িতে?’

তাকে চিনতে পারলেন রাজা। জানালেন অদ্ভূত এই ফলের কথা শুনে তিনি নিজে এসেছেন। তারপর গাছটা উপড়ে ফেলতেই দেখলেন নিচে দুটো তামার মুদ্রা।

আমিন তখন হাসছেন। তিনি রাজাকে জানালেন আলেয়া দুটো তামার মুদ্রা ছুঁড়ে ফেলেছিল রাগে। আর এই দুটো তামার মুদ্রাই রাজা তাকে দিয়েছিলেন। রাজার নিজের পরিশ্রমে আয় করা সেই তামার মুদ্রা। আর তা থেকেই হয়েছে এই অমূল্য মুক্তার গাছ।

রাজা বুঝলেন পরিশ্রমের ফল কোনো না কোনোভাবে আসেই। আর তিনি সবার সামনে প্রশংসা করলেন আমিনের সততা ও বুদ্ধির। গাছটা তুলে নেয়ার মতো অন্যায় করার কারণে তিনি আমিন ও আলেয়ার কাছে ক্ষমা চাইলেন। গাছটা আবারও পোঁতা হলো আগের জায়গায়। সেই সঙ্গে রাজা ঘোষণা করলেন, আমিন উদ্দিন তার ছোট ছেলে থেকে শুরু করে নাতি নাতনিদের শিক্ষক নিযুক্ত হবে।

 

সালেহা বেগমের গল্প শেষ হলে মিতিল বলল, ‘আমাদের তো আর মুক্তার গাছ হবে না।’

সালেহা বেগম হেসে বললেন, ‘তা হবে না। তামার মুদ্রা থেকে তো গাছ হয় না। কিন্তু গল্পে, রূপকথায় তো অনেক কিছুই হতে পারে। আর এই গল্পটা আমাদের বোঝায় পরিশ্রম করলে তার ফল একদিন না একদিন পাওয়াই যায়।’

মিতিল কোনো কথা বলল না। সালেহা বেগম দেখলেন মিতিল তার বান্ধবীর হোম ওয়ার্কের খাতাটা বন্ধ করে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখল। সালেহা বেগম জানেন, মিতিল আর কখনো বুদ্ধি না খাটিয়ে অংক করবে না।

 

(মুক্তার গাছের অংশটা ভারতীয় রূপকথা থেকে অনুপ্রাণিত)

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments