আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসার পর একনায়কতন্ত্র কায়েম এবং ফ্যাসিজমের ধারক ও বাহকে পরিণত হয়েছিল। ফ্যাসিজমের মৌলিক বৈশিষ্ট্য যেমন এক নায়কতন্ত্র, বিরোধীদের দমন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নামে মুজিববাদের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নোংরাভাবে দৃশ্যমান হয়েছে এই সময়। হিটলার (জার্মানি), মুসোলিনি (ইতালি) ও ফ্রাঙ্কো (স্পেন) সকলেই একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারা নিজেদেরকে দেশের একমাত্র নেতৃত্ব হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতেন। ঠিক তেমনি হাসিনাও রাজতন্ত্রের মতো সকল ক্ষমতা তার পরিবারের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করে রেখেছিল। তাই হাসিনাকে বলা যায় ক্ল্যাসিকাল ফ্যাসিস্ট। দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং বিরোধী দলের জন্য স্বাধীন রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। সর্বোপরী বাংলাদেশকে প্রভু রাষ্ট্রের প্রেসক্রিপশনে পাপেট রাষ্ট্র পরিণত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সাম্য, ন্যায়বিচার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দিয়ে যে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই জুলাই বিপ্লব সফল হতে পারে। আর এই বিপ্লবের যে রক্ষাকবজ জুলাই সনদ, তা বাস্তবায়নে প্রয়োজন এর আইনগত বৈধতা।
হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের উপকরণগুলো ছিলো কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ও বিরোধীদের দমন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ, মুজিববাদী রীতি, মুজিবের প্রতি তীব্র ভক্তি ও শ্রদ্ধার নামে দেশ শাসনের বৈধতা অর্জন করা। এসবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করতে ফরাসি বিপ্লবের আলোকে জুলাই অভ্যুত্থানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কারণ এই সময় হাসিনা সরকার রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা নিজ হাতে কেন্দ্রীভূত করেছে। সংসদ নেত্রী হিসেবে বিচারপতি অভিশংসন করার ক্ষমতা সংসদে নিয়ে এসেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে। ফলে প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগে তার অঙুলি হেলনে মুসোলিনির চেয়ে ভয়ংকর হয়ে দাঁড়ায়। ভোট ডাকাতি, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচনী ফলাফলের প্রতি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থেকেছে বছরের পর বছর। ২০১৪ সালের নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনকে “বিনা ভোটের” নির্বাচন বলে দেশে-বিদেশে সমালোচনা হলেও তিনি তার ক্ষমতা পোক্ত করেছেন। কিন্তু এই তিন নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করার দাবিও জোরালো হলেও তা অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে না।
১. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ
ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য মিডিয়া ও বাকস্বাধীনতা দমন করে সরকারের পক্ষ থেকে একগুঁয়ে প্রচার চালানো। যেমনটা আমরা দেখি গত ১৫ বছর মিডিয়াকে সরকারের অনুগত করা হয়েছে। গণমাধ্যমের নিবন্ধন বাতিলের হুমকি দিয়ে সব ধরনের অপকর্মের বৈধতা হাসিনা সরকার আদায় করেছে। বিরোধীদলের সমালোচনার জন্য সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বহু সাংবাদিক গুম, খুন ও হেনস্তার শিকার হয়েছে। আবার সাগর রুনির মতো হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তার তদন্ত প্রতিবেদন ১৭ বার পরিবর্তন করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের যারাই সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন, তারা অধিকাংশ সময় পুলিশের হুমকি, হামলা বা সামাজিকভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন। এ ধরনের কাজ বিশেষ করে জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টির জন্য করা হয়। আর তা একটি ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থায় হতে পারে। এটাকে আমরা বলতে পারি Fear politics। অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে Fear politics বলতে বোঝায় “Fear politics, also known as politics of fear, refers to the use of fear as a tool by political leaders, governments, or organizations to influence public opinion, gain support, or maintain control”। অর্থাৎ ভয়ের রাজনীতি বলতে এমন এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল, যেখানে রাজনৈতিক নেতা, সরকার বা কোনো সংগঠন ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে ভয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করে ও জন সমর্থন অর্জন করে। এই কৌশলে সাধারণত নিজস্ব অবৈধ নীতির বৈধতা আদায়ের জন্য বিরোধীদের হুমকি, বিপদে ফেলা বা সম্ভাব্য শত্রুদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ এবং ভিন্নমতকে দমন করে নিজের অবৈধ কাজের বৈধতা আদায় করা হয়। ভীতির রাজনীতি না করলে এসব অবৈধ নীতি জনগণ ও বিরোধীদের প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হতো।
২. মিথ্যা জাতীয়তাবাদী রীতি ও মুজিববাদ
আওয়ামী লীগ “মুজিববাদ” এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অতিমাত্রায় ব্যবহার করেছে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য এবং মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও জাতীয়তাবাদের নামে মুজিববাদ প্রচারের মাধ্যমে সরকার তার শাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সরকারের প্রতি আনুগত্য বাড়ানোর জন্য জয় বাংলা শ্লোগান, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে অনুষ্ঠান ও উন্নয়নের প্রোপাগাণ্ডা জাতীয়তাবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ফ্যাসিস্ট শাসক হিটলারও একইভাবে জাতীয়তাবাদী শ্লোগান ও প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে জনগণকে একত্রিত করতেন এবং জাতির শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছেন। ঠিক তেমনি শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ভাষা যেমন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল, শেখ মুজিবুরের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতীয় গৌরব অর্জিত হয়েছে, তা বারবার তুলে ধরেছে।
ফ্যাসিস্ট শাসকরা নিজেকে ক্ষমতায় টিকে রাখতে একটি “Cult of Personality” অর্থাৎ নিজের দলের প্রতিষ্ঠাতা বা নেতাকে মহৎ ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরতে হয়।[Soames, Jane. (1993). The Political and Social Doctrine of Fascism: Benito Mussolini. 3rd Edition 1993.] যেখানে জনগণের সামনে তাদের নেতাকে দেবতার মতো শ্রদ্ধা করার পরিবেশ তৈরি হয়। যেমন হিটলার এবং মুসোলিনি নিজেদেরকে দেশপ্রেমের প্রতীক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। হাসিনা শেখ মুজিবুর রহমানকে ব্যক্তিগত পূজার জায়গায় নিয়েছেন। মুজিবকে সকল জাতীয় নেতা যেমন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানীর চেয়ে মহামানব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অথচ মাওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে পাকিস্তানি শাসকদের হুশিয়ার করে বলেন, “যদি পূর্ব পাকিস্তানে শোষণ অব্যাহত থাকে তবে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানকে “আসসালামু আলাইকুম”[Seeds of independence sown at Kagmari Confce: speakers (March 1, 2028). The daily NewAge] জানাতে বাধ্য হবেন। যে ছয় দফা দাবি নিয়ে আওয়ামীদের এত গর্ব, তার প্রথম দফা “লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেশনে পরিণত করতে হবে, যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তয়স্ক নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত আইন পরিষদ সার্বভৌম হবে”। শেরে বাংলা উপস্থাপিত এই লাহোর প্রস্তাবের আলোকে যে ছয় দফা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা ভুলেও একবারও উচ্চারিত হয়নি। তাছাড়া, শারমিন আহমদ (২০১৪) সালে তার তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা বইয়ে জানান—তাজউদ্দীন আহমদ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে টেপ রেকর্ডারও নিয়ে যান। কিন্তু মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তিনি বলেন “এটা আমার বিরুদ্ধে দলিল হয়ে থাকবে। এর জন্য পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের জন্য বিচার করতে পারবে”।
৩. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও সাংবিধানিক অধিকার হরণ
আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বলা হয়, “বাংলাদশেরে জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করনার্থে, র্সাবভৌম গণপ্রজাতন্ত্ররূপে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করিলাম”। পরবর্তী সময়ে আমাদের সংবিধানে বৈষম্য দুরীকরণে ১৯ (২) নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতা, ৩৭ নং অনুচ্ছেদে সমাবেশের স্বাধীনতা, ৩৮নং অনুচ্ছেদে সংগঠনের স্বাধীনতা, ৩৯ নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা এবং ৪০ নং অনুচ্ছেদে পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। এতগুলো সাংবিধানিক অধিকার হরণ করার পর সরকারের কখনো বৈধভাবে জনগণের শাসক থাকতে পারে না। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সময়ে হাসিনা আমাদের মধ্যযুগীয় শাসনে ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফরাসী বিপ্লবের পূর্ববর্তী সময়ে যেমন রাষ্ট্রব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা এবং নির্বাহী ক্ষমতার এক ব্যক্তির নিকট কুক্ষিগত ছিল। ঠিক তেমনি, হাসিনা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেন। নির্বাচন নামের প্রহসনে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেন। নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও সংসদ যেন তখন রাজতন্ত্রের রাজা পরিচালনা করছিল।
৪. পাপেট রেজিম
হাসিনা বিদেশী প্রভুদের খুশি করতে বাংলাদেশকে একটি পাপেট রাষ্ট্র পরিণত করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্রিস্টিনা মার্কেক (১৯৫৪) পাপেট রাষ্ট্র বলতে বোঝান—এমন দেশ, যাকে স্বাধীন বলে দাবি করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পররাষ্ট্রনীতি ও সর্বোপরি বৈশ্বিক অবস্থান ঠিক করে দেয় আরেকটি রাষ্ট্র, তখন সেই রাষ্ট্রকে পাপেট রাষ্ট্র বলে। পাপেট রেজিমের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো নিম্নরুপ :
১. নিজ দেশে এই রেজিমের গ্রহণযোগ্যতা কম ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে
২. সরকার ব্যবস্থা সাধারণত স্বৈরাচারী বা রাজতন্ত্রী হয়ে থাকবে
৩. প্রভু দেশের সাথে অসম চুক্তি থাকবে
৪. পররাষ্ট্র নীতি ও সামরিক নিরাপত্তা নিজেরা দেখলেও তা নিয়ন্ত্রণ করে প্রভু রাষ্ট্র এবং
৫. পাপেট রেজিম সাধারণত প্রভু দেশের রাজনৈতিক আদর্শ লালন করে।
উল্লেখিত ৫টি বৈশিষ্ট্যের প্রায় সবগুলোই আওয়ামি রেজিমের মধ্যে ছিল। একটি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের নাগরিক, রাজনৈতিক ও বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নামে সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। তেমনি ভারতের সাথে একপাক্ষিক ট্রানজিট দিয়ে নাম মাত্র শুল্কে পণ্যপরিবহন অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে উত্তরপূর্ব ভারতের সাথে মূল ভারতীয় ভূখণ্ডের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় পদ্ধাসেতু নির্মাণ না করে ভারতের সুবিধার্থে ফরিদপুর-মাওয়া পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আর জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো নিরাপত্তামূলক কাজ ভারতীয় কোম্পানি দিয়ে করানো এবং সবশেষে আদানির সাথে অসম বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি করা হয়েছে। এভাবে বিজেপির নির্বাচনী অনুদান দাতা আদানিকে অর্থায়ন করার অর্থ কী দাঁড়ায়? শুধু মাত্র ভারতের স্বার্থের বিষয় বিবেচনা করে তিস্তা বাঁধ নির্মাণে চীনের সহায়তা নেওয়া যাবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার জন্য চতুর্থ বা পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ক্রয় করা যাবে না। আধুনিক সাবমেরিন ক্রয় করলে কথা শুনতে হবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ট্রানজিট নিলেও ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপালে পণ্য পরিবহন করা যাবে না।
৫. ফরাসি বিপ্লব ও জুলাই অভ্যুত্থান
ফরাসি বিপ্লবের মূলে ছিল রাষ্ট্র কর্তৃক বৈষম্যের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। ফ্রান্সের তৎকালীন সমাজ তিনভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথম স্টেটে ছিল ক্লার্জি, যাদের ছিল ধর্মীয় ক্ষমতা এবং কিছু বিশেষাধিকার। দ্বিতীয় স্টেটে ছিল অভিজাতরা, যাদের ছিল রাজকীয় ক্ষমতা এবং শাসনব্যবস্থায় উচ্চ পদ। তৃতীয় স্টেটে ছিল সাধারণ জনগণ। এই জনগণের মধ্যে ছিল কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা। যারা জনসংখ্যায় বেশি। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক অধিকার ছিল খুবই কম। রাষ্ট্র তাদের নিকট থেকে বেশি কর ও রাজস্ব সংগ্রহ করে চললেও তাদের ছিল না কোন রাজনৈতিক ক্ষমতা। রাজ দরবারের অপব্যয়, সে সময় আমেরিকান বিপ্লবে অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে রাজা ষোড়শ লুই তার শাসনকালেও ঋণের চাপ সামলাতে ব্যর্থ হন। মুদ্রাস্ফীতি, দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষ এবং খাদ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ জনগণের দুর্দশা বৃদ্ধি পায়। এতে বিপ্লবের জন্য পটভূমি তৈরি হয়। যেমনটা আমাদের দেশে দেখা যায়। সাধারণ মানুষ করে জর্জরিত। গত কয়েকর বছর মূদ্রাস্ফীতির চাপে মানুষ অতিষ্ঠ। অনাহারে বা অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছিল। কিন্তু উন্নয়নের প্রোপাগান্ডা তাদের শুনতে হচ্ছিল। শেয়ার বাজার থেকে তাদের নিংস্ব করা হয়েছে। তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আর তাই তারাও রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে।
৬. রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসম্য এবং চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স
ফরাসি বিপ্লবে মন্টেস্কুর বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান লক্ষণীয়। তিনি প্রথাগত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে ধারণা (notions of authority), সামাজিক ব্যবস্থা (social order), রাষ্ট্র ব্যবস্থা (governance) চ্যালেঞ্জ করেন। মন্টেস্কু তার স্পিরিট অব ল (১৭৪৮) এ বলেনÑ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি প্রথম ধারণা দেন রাজনৈতিক ক্ষমতা সরকারের একটি শাখার নিকট কুক্ষিগত থাকতে পারে না। তা নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের নিকট থাকতে পারে। যাতে করে কোন একটি সংস্থা অত্যাধিক ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করলে অন্য সংস্থা তা ব্যালেন্স করার ক্ষমতা রাখে। মন্টেস্কু বিশ্বাস করতেন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রকৃত আইনের শাসন ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই তিনি বলেছিলেন “There is no greater tyranny than that which is perpetrated under the shield of the law and in the name of justice” (Montesquieu, 1748/1989, Book XII, Chapter 4)। অর্থাৎ আইনের ঢালে ও ন্যায়ের নামে যে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তার চেয়ে বড় স্বৈরশাসন আর কিছু নেই। ঠিক একইভাবে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির নামে ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নামে বিরোধীদের গণহারে রাজাকার বলে ট্যাগ দেওয়া, মৌলবাদ হিসেবে চিন্তা করা, জোর করে জঙ্গী বানানো ও স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বলে প্রমাণ করে গুমতন্ত্রের শিকার করার মতো বড় স্বৈরশাসন আর হতে পারে না। ফরাসি বিপ্লবে প্রতিধ্বনি হয়েছিল (Liberty, Equality, Fraternity) যার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার। ফরাসি বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল এমন প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যেখানে রাজতন্ত্র এবং যাজকদের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার বিরুদ্ধে ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ফলে বিপ্লবের পর ঘোষিত ‘Declaration of the Rights of Man and of the Citizen (1789)’ আরও স্পষ্ট করে স্বাধীনতা, ব্যাক্তি সম্পত্তি এবং নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার উপর জোর দেয়। পরবর্তী সময়ে ১৭৯১ সালে ফরাসি সংবিধানে রাজার ক্ষমতা সংকোচন করা হয়। যেখানে আইন পরিষদ, রাজা ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হয়।
৭. বিপ্লব পরবর্তী বাস্তবতা ও তুরস্কের অভিজ্ঞতা
কিন্তু জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আমরা অস্থিতিশীল সমাজ ব্যবস্থায় আটকে পড়েছি। অথচ ২০১৬ সালে সামরিক ক্যুর পর তুরস্ক বিদ্রোহীদের খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল দুটি উপায়ে। প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান প্রথমত গুলানি মুভমেন্টের প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী, মিডিয়া কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এমনকি স্কুল শিক্ষককে পর্যন্ত চাকরিচ্যুত করেছেন। দেখা গেলো নতুন নিয়োগ করা ফাইটার জেটের বৈমানিক বা বিমান বাহিনীর সদস্যরা গুলানি মুভমেন্টের সাথে যুক্ত। তিনি তাদের বরখাস্ত করে নিয়োগ পরীক্ষায় ২য় বা ৩য় স্থান অধিকারকারী ও অবসরপ্রাপ্ত পাইলটদের দিয়ে বিমানবাহিনী পুনর্গঠন করেন। গোয়েন্দা বিভাগকে ঢেলে সাজান। যদিও তখন বিবিসি, সিএনএনসহ পশ্চিমা মিডিয়া মানবাধিকার হরণ হচ্ছে বলে তুরস্কের কঠোর সমালোচনা করে। তিনি দমে যাননি বরং সামরিক বাহিনী পুনর্গঠন করেন। রাষ্ট্রের গুরত্বপূর্ণ কাঠামো যেমন সামরিক বাহিনী, নিরাপত্তা সংস্থা, প্রশাসন সংস্কার ও বৈদেশিক আগ্রাসন মোকাবেলায় গোয়েন্দাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ান। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা নিয়ন্ত্রণ করার পর তিনি রাষ্ট্রের হুমকি কুর্দি বিদ্রোহীদের দমনে মনযোগী হন। শুধু তাই নয়, গোয়েন্দা সংস্থাকে তিনি ২০১৭ এর মধ্যে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। একারণে Weise (২০১৭) বলেন “By 2017, a presidential decree placed MIT directly under President Erdoğan’s authority, granting him control over domestic and overseas intelligence gathering”। আর সবশেষে মাত্র ১২ দিনের তুরস্কের গোয়েন্দা সমর্থনে সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের ক্ষমতায় বসান। আর এসবের ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি। বর্তমানে ৬৫% ড্রোনের বাজার তুরস্কের দখলে। তুরস্ক সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিজেদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন করেছে। একই সাথে বিশ্বরাজনীতিতে রাশিয়া ও আমেরিকার সাথে খেলছে। তুরস্কের শুদ্ধি অভিযানের সময় পশ্চিমারা অনেক সমালোচনা করেছিল। কিন্তু তুরস্কের সরকার বলেছিল, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কারের প্রয়োজন। তেমনি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমান সরকারের কিছু বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমাদের জুলাই সনদ হলো, কিন্তু তার আইনগত বৈধতা ঝুলে থাকলো। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বৈধতা পেলো না। এখন পর্যন্ত সংবিধানের কোন অংশ হতে পারলো না।
বাংলাদেশকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় টিকে থাকতে হলে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সামরিক আগ্রাসন মোকবেলায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিবেশীদের ৪.৫ জেনারেশন রাফায়েল থাকলে আমাদেরও অনন্ত জে ১০সি’র মতো ফাইটার জেট থাকতে হবে। সামরিক হুমকি মোকাবেলা জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ডেটারেন্স পাওয়ার থাকতে হবে। তবেই কেবল বহিঃশত্রু হামলা করতে ভয় পেতে পারে। মায়নমারের মতো দেশের নিজস্ব মিসাইল ব্যবস্থা ডেভলপ করলে আমাদের তার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। আক্রমণমূলক না হোক, প্রতিরক্ষামূলক ডেটারেন্স পাওয়ার না থাকলে, নিজস্ব প্রতিরক্ষার সমরাস্ত্র না থাকলে আমরা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে পারবো না। পৃথিবীতে চিরস্থায়ী বন্ধু রাষ্ট্র বা শত্রু রাষ্ট্র বলে কোন ধারণা নেই। যেই চীন ভিয়েতনামের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছিল, সেই চীনের সাথে স্বাধীনতার ৫ বছর পর ভিয়েতনামের যুদ্ধ হয়। এখন আবার আমেরিকাই ভিয়েতনামে সবচেয়ে বড়ো বৈদেশিক বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র। প্রতেবেশী যদি আমাদের পারমাণবিক হুমকি দেয়, তবে আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশের সাথে পারমাণবিক সমঝোতায় যেতে হবে। সবার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে দেশের। আগ্রাসনমুক্ত পরিবেশে প্রতিবেশীর সাথে আলাপে বসলে ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার আশা করা যায়।
সর্বোপরি এ সবকিছু বাস্তবায়ন করতে হলে জুলাই সনদের আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে। সবগুলো রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করার পর মূলত রাজনৈতিক বৈধতা বা নৈতিক বৈধতা পেতে পারে। কিন্তু এর আইনগত বৈধতা (legal validity) জুলাই সনদ পায় না, যদি না তা সংবিধানে গণভোটের মাধ্যমে অন্তর্ভূক্ত করা না হয়।
- কারণ এটি বর্তমানে রাজনৈতিক ঘোষণামাত্র যা সংবিধান বা সংসদে গৃহীত আইনি নথি নয়। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও আন্দোলনের অংশগ্রহণে গঠিত একটি অন্তবর্তী রাজনৈতিক চুক্তি, যার উদ্দেশ্য ছিল “পরবর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা” নির্ধারণ করা।
- এই সনদ অনুযায়ী এখনো কোনো সংবিধান সংশোধনী হয়নি। অথচ এই সরকার সংবিধানের ১০৬ ধারার আলোকে সুপ্রিম কোর্টের আইনি ব্যাখ্যা গঠন করা হয়েছে।[Bangladesh High Court Division. (2024, September). Writ Petition No. 9123 of 2024: Regarding the legality of the Interim Advisory Government. Dhaka: Supreme Court of Bangladesh.] বাংলাদেশের কোন সংসদ বা নির্বাচিত সরকার এটি অনুমোদন দেয়নি। মনে রাখা প্রয়োজন সংবিধানের ১০৬ ধারায় রাষ্ট্রপতির আইনি প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে ১০৬ ধারা নিজ থেকে সরকার গঠনের ক্ষমতা দেয় না। যদি বর্তমান সরকারের বৈধতা আদালতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী হয়, তবে এটি “advisory legitimacy” বহন করে। তাই এর আইনগত বৈধতা পেতে হলে গণভোট, সংসদ বা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দরকার।
- তাছাড়া, জুলাই সনদ সংক্রান্ত আদালত কর্তৃক এমন কোন রায়ও নেই যেখানে সংবিধান স্থগিত করে মার্শাল ল চলাকালীন সময়ে মেজর জিয়াউর রহমানের মতো সংবিধানে কোন ধারা সংযুক্ত করা হয়নি। অথচ মার্শাল ল এর সংবিধান স্থগিত করে নতুন সংযোজন বিয়োজন করা হলেও এত বড় বিপ্লবের পর সংবিধানের যে অংশটুকু সমস্যা, তা পরিবর্তন করা হয়নি। উল্টো পুরো সংবিধান বাদ দিবে কি দিবে না, না ৭২ এর সংবিধান অনুসরণ করবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
- এটি এখন কেবল “moral or political document” আইন নয়। অথচ গণভোটের মাধ্যমে এই সংস্কার করা না হলে বর্তমান ইন্টেরিম সরকার কেন তিন মাস না থেকে এতদিন থাকলো, কোন প্রক্রিয়ায় তারা ক্ষমতাসীন হলো বা এই সনদ তৈরি অথবা এতসব অধ্যদেশ জারির এখতিয়ার কী করে পেলো, তার বৈধতা পরবর্তী সংসদ থেকে আসতে হবে। আর তা না হলে বিপদে পড়বেন উপদেষ্টারা। কারণ পরবর্তী সরকার গঠনের সম্ভাবনা যেই দলের বেশি, তারা এই সব বৈধতার অজুহাতে সরকারের নিকট অন্যায় আবদার করতে পারে। ফ্যাসিবাদীদের মতো তারাও পনের বছর থাকা নিশ্চিত করবে। এক ফ্যাসিবাদের হাত থেকে আমরা আরেকজনের হাতে উঠতে পারি।
এটা সবার জানা প্রয়োজন যে বাংলাদেশের সংবিধান (১৯৭২) অনুযায়ী রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও বৈধতা আসে সংবিধান থেকেই। যদি July Charter সংবিধান-বহির্ভূত কোনো নীতি বা কর্তৃপক্ষ চালু করে, তবে তা অসাংবিধানিক হয়ে পড়বে। তাই এ ঘোষণাকে বৈধ করতে হলে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে বা অন্তবর্তী সরকারকে সাংবিধানিকভাবে অনুমোদিত করতে হবে। জুলাই সনদের নীতিমালা (যেমন নির্বাচন, দুর্নীতি দমন, নতুন সংবিধান প্রণয়ন, বিচারবিভাগের সংস্কার ইত্যাদি) কার্যকর করতে হলে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ সবকিছুর আইনি ভিত্তি লাগবে। এই ভিত্তি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগযোগ্য হবে না। মনে রাখতে হবে, চাণক্যের আগ্রাসনমুখী রাজনীতি ভদ্রতা বোঝে না। তারা আঘাতের বদল বোঝে প্রত্যাঘাত। আর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হলে জনগণের কাছেই ফেরাতে হবে রাজনৈতিক ক্ষমতা।
গ্রন্থপঞ্জির তালিকা
১. Constitution of the People’s Republic of Bangladesh. (1972, November 4). Article 106. Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs, Government of the People’s Republic of Bangladesh.
Retrieved from https://www.lawyersnjurists.com/lawyer_ci/bangladesh-constitution-1972
২. Oxfordreference. Politics of fear. Accessed on 30.12.2024. Rertrived from https://www.oxfordreference.com/display/10.1093/oi/authority.20110803100334825?utm_source
৩. Soames, J. (1993). The Political and Social Doctrine of Fascism: Benito Mussolini. 3rd Edition 1993. Leonard and Virginia Woolf at the Hogarth Press. London: Tavistok Square.
৪. Seeds of independence sown at Kagmari Confce: speakers (March 1, 2028). The daily NewAge page. Retrived from https://www.newagebd.net/article/35753/seeds-of-independence-sown-at-kagmari-confce-speakers
৫. আহমদ, শারমিন । (২০১৪)। তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা। পেপার ব্যাক সংস্করণ। ঐতিহ্য: ঢাকা।
৬. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। (২০১৬) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৭. Markek, K. (1954). Identity and Continuity of States in Public International Law. Library Droz. P178.
৮. ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১, পরিচালক নির্বাচন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ, ইত্যাদি ধারা ১৫ (৯)
৯. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। (২০২৩)। বিবিএস জিডিপি ডাটা, ২০২৩। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রেস, ঢাকা।
১০. Bangaldesh Bank. (2024). Inflation Data July, 2024. Retrieved from https://www.bb.org.bd/en/index.php/econdata/inflation
১১. Montesquieu. (1989). The spirit of the laws (A. M. Cohler, B. C. Miller, & H. S. Stone, Trans.). Cambridge University Press. (Original work published 1748)
১২. Rousseau, J.-J. (1968). The social contract (M. Cranston, Trans.). Penguin Books. (Original work published 1762)
১৩. BBC (31 July, 2016). Turkey’s President Erdogan seeks to rein in spy agency after coup. Retrived From: https://www.bbc.com/news/world-europe-36934889?utm_source=chatgpt.com
১৪. Weise, Zia (August, 2017). Erdoğan tightens grip on intelligence agency.POLITICO.EU. Retrived from: https://www.politico.eu/article/turkey-president-recep-tayyip-erdogan-tightens-grip-on-intelligence-agency/
Well said