চকচক না করলে সোনা হয় না

আবদুল হক

সোনা খুব দামি, কিন্তু লোহা মূল্যবান। আপনার ঘরে দা, খুন্তি, শাবল, কুড়ুল, কড়াই আছে। এগুলো লোহার। আছে লোহার আরও নানা জিনিস। একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, সব লোহা সোনা হয়ে গিয়েছে। খুশি হবেন, তাই না? কিন্তু এই ঘটনা যদি দুনিয়াসুদ্ধ লোকের একসঙ্গে ঘটে, তবে কী হবে? দা দিয়ে কেউ বাঁশ কাটতে পারবে না। করাত দিয়ে গাছ চেরা হবে না। কলকারখানার তাবৎ চাকা চাপে বেঁকেচুরে এবড়োখেবড়ো হয়ে যাবে। আস্ত মানবসভ্যতাই যাবে চিড়েচ্যাপটা হয়ে। তার মানে সোনা কাজের জিনিস নয়। তাই এটা মূল্যবানও নয়। কিন্তু দামি। শুধু দামি নয়, সাধারণের নাগালের সীমায় সবচেয়ে দামি। কিন্তু কেন দামি? কারণ আবহমান কুসংস্কার। কারণ সোনা চকচক করে।

এবার ধরা যাক, সব সোনা হঠাৎ লোহা হয়ে গেল। সত্যিই যদি সেটা হয়ে যায়, তাহলে লোহার দাম সোনার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হবার কথা। এজন্য, যে দু লাখ টন সোনা আছে পৃথিবীতে, আমি কখনো প্রার্থনা করি না যে, সেটা লোহা হয়ে যাক, আর সব লোহা বদলে যাক সোনায়। কারণ তেমনটা ঘটলে লোহার সুঁই ডাকাতি করবার জন্য লোকে সোনার তৈরি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলে পড়বে।

সোনা আর লোহায় মূল পার্থক্য স্থিতি, ঘনত্ব, চুম্বকত্ব ও পরিবাহিতায়। কিন্তু সে রসায়নের বিষয়। আমার মনে এত রস নেই। কাজেই রাসায়নিক কথা বাদ দিয়ে আমি বরং কাষায়নিক কথা বলি। কথা হল গিয়ে, সোনা চকচক করে। সোনা কেন চকচক করে, আমি জানি না। তবে তার চকচক নিয়ে আমার বকবক করবার কারণ জানি। ‘চকচক’ ও ‘বকবক’ হল ধ্বন্যাত্মক শব্দ বা অনুকারশব্দ। চিন্তা করে দেখলাম, বিশেষত বাঙলাভাষায়, অনুকারশব্দের জোর অন্য সমস্ত শব্দের চেয়ে বেশি। কিন্তু আমরা কমজোরেরা এদের ব্যাপারে বিলকুল বেখবর। সেই কবেকার রবীন্দ্রনাথ ও তাঁরই সময়কার দু-একজনের পরে এত এত দিন বয়ে গেল, কেউ এদের চেহারার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখল না। বকবক করবার এই বিস্তীর্ণ জায়গাটা তাই একেবারে খালি পড়ে আছে।

ধ্বন্যাত্মক শব্দ হল সেসব শব্দ, যেগুলো কোনো ধ্বনির অনুকরণে তৈরি হয়েছে। অনুকরণে তৈরি বলে এগুলোকে অনুকারশব্দও বলা হয়। এ শব্দগুলোর কারিশমা বুঝতে হলে, কোনো শব্দ আমরা কীভাবে বুঝি, সেইটে আগে বুঝতে হবে। ‘ছাগল’ বললে আমরা বুঝি ছোট এক ধরণের পালিত চতুষ্পদ। বুঝি ছবির সাহায্যে। আমাদের প্রত্যেকের মাথায় ছাগলের ছবি আছে। অনেক ছবি। ছবিতে ছাগলটা বা ছাগলগুলো হয়তো ঘাস খাচ্ছে, চরে বেড়াচ্ছে মাঠে, লাফাচ্ছে বা বাঁধা আছে খুঁটিতে। ‘ছাগল’ শব্দ শোনামাত্রই আমাদের মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ছাগলের সবচেয়ে উজ্জ্বল ছবিটা সামনে আনে। আমরা সেই ছবির দিকে তাকিয়ে কথকের কথিত ‘ছাগল’ শব্দটার অর্থ ধরতে পারি। এখানে ‘ছাগল’ হল একটা সঙ্কেত, যা সাঁটা আছে মস্তিষ্কের ওই ছবির সঙ্গে। একজন ইংরেজের মাথায়ও ছাগলের ছবি আছে। কিন্তু ‘ছাগল’ বললে সে এর অর্থ কিছুই বুঝবে না। কারণ তার মাথার ছবিগুলোতে সাঁটা আছে অন্য কোড—গৌট। অর্থাৎ আদতে ‘ছাগল’ বা ‘গৌট’ শব্দের কোনো অর্থ নেই। বরং একেকজন ওই ছবিতে একেক রকম ‘কোড’ বসিয়ে নিয়েছে, যার যার সুবিধেমতো। ফলে, ছাগলের জন্য একজন আরবের মাথায় আছে অন্য কোড, একজন স্প্যানিশের অন্য, একজন ফরাসির অন্য। অন্যের অন্য, অন্যের অন্য। তাই আমরা যদি এ ছবিতে ‘হাতি’ কোড বসাতাম, তবে ‘হাতি’ শুনলে বুঝতাম, ভ্যাঁ ভ্যাঁ করা ছাগলের কথাই বলা হচ্ছে।

একইভাবে যেসব শব্দের বাহ্যিক কোনো ছবি হয় না, সেসব শব্দেরও কাল্পনিক ছবি আছে আমাদের মনে। সেটা থাকতেই হবে। কারণ ছবি ছাড়া অন্যকিছু মানবমস্তিষ্ক ধারণ করতে পারে না। এই ব্যাপারটা চিত্রকর ও কবিরা ভালো বলতে পারবেন। আচ্ছা, ‘ভালো’ অর্থ কী? এরও তো ছবি হয় না, কিন্তু আপনি যখন ‘ভালো’ শব্দটা শোনেন বা ভাবেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক হাজির করে আপনার দেখা কোনো ভালো মানুষ বা ভালো অনুষঙ্গের ছবি, কিংবা সাদা বা উজ্জ্বল কোনো আয়তন। এই ঘোরানো প্রক্রিয়ায় শব্দের অর্থ বুঝতে কিছুটা সময় লাগে, আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বোধিত ভাব যথেষ্ট স্পষ্ট হয় না। ঠিক এইখানেই খেল দেখায় ধ্বন্যাত্মক শব্দ। এজন্য রবীন্দ্রনাথ দুঃখ করে বলেছিলেন, আমাদের অভিধানকারেরা ধ্বন্যাত্মক শব্দকে জায়গাই দিতে চান না। অথচ এগুলো বাদ দিলে গোটা বাঙলাভাষাটা একেবারে পঙ্গু হয়ে পড়ে।

‘আমি ডাল ভেঙে পড়ে গেলাম’ বললে, আপনি অর্থটা ওইভাবে ঘুরিয়ে বুঝবেন। কিন্তু নজরুল যখন লিখলেন—‘ও বাবা মড়াৎ করে, পড়েছি সড়াৎ জোরে!’, তখন কি বিদ্যুৎগতিতে ধাক্কা মেরে আপনার মস্তিষ্কের দরোজা খুলে সশব্দে আস্ত দৃশ্যটা ঢুকে পড়েনি? ‘শুধু বালি, কাদা নাই কোথাও’-এর সঙ্গে ‘চিকচিক করে বালি কোথা নাই কাদা’ মিলিয়ে ফারাকটা দেখুন, শেষ ছবিটা কি অনেক জ্বলজ্বলে আর স্পষ্ট নয়? ছোট কোনো এক ছড়াকার, তবু শব্দে আঁকা তাঁর ছবিটা দেখুন—‘ঝিকমিক দশদিক নাই পিক পাপিয়া, সাদা বক চকচক উড়ে যায় ডাকিয়া’। ‘দ্রুত চলে গেল’-এর বদলে ‘সাঁ করে চলে গেল’ বলে এর দ্রুতিটা খেয়াল করুন। রবীন্দ্রনাথ এই ‘সাঁ করে চলা’-কে খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে বলেছেন:“গতির দ্রুততা প্রধানত চক্ষুরিন্দ্রিয়ের বিষয়; কিন্তু আমরা বলি ধাঁ করিয়া, সাঁ করিয়া, বোঁ করিয়া অথবা ভোঁ করিয়া চলিয়া গেল। তীর প্রভৃতি দ্রুতগামী পদার্থ বাতাসে উক্তরূপ ধ্বনি করে, সেই ধ্বনি আশ্রয় করিয়া বাঙলাভাষা চকিতের মধ্যে তীরের উপমা মনে আনয়ন করে। তীরবেগে চলিয়া গেল, বলিলে প্রথমে অর্থবোধ ও পরে কল্পনা উদ্রেক হইতে সময় লাগে; সাঁ শব্দের অর্থের বালাই নাই, সেইজন্য কল্পনাকে সে অব্যবহিতভাবে ঠেলা দিয়া চেতাইয়া তোলে।”

বাঙলা ছাড়াও আরো দু-চারটি ভাষা যাঁরা আয়ত্ত করেছেন, তাঁরা আন্দাজ করতে পারবেন যে, ধ্বন্যাত্মক শব্দের সংখ্যা ও চমৎকারিত্বে আমরা অন্যদের চেয়ে কতটা অগ্রসর। সেই তুলনামূলক আলোচনায় গেলে আলাদা আরেকটা লেখা লিখতে হবে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘ধ্বন্যাত্মক শব্দ’ প্রবন্ধে ছশো পঞ্চাশটি শব্দ উল্লেখ করে বলেছেন, এগুলোই সব নয়। বাঙলা ধ্বন্যাত্মক শব্দভাণ্ডার অনেক বড়। এদেশের উপভাষাগুলোতেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরও বেশুমার ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ভালো হত, যদি কেউ এই সমস্ত শব্দ কুড়িয়ে ও সেগুলোর প্রয়োগ দেখিয়ে একটা বই করতেন!

তো, এই যে অনুকারশব্দ বা ধন্যাত্মক শব্দ, ব্যাকরণে এরা পড়ে অব্যয় শব্দশ্রেণিতে। চারটে প্রকার আছে অব্যয়ের: পদান্বয়ী, সমুচ্চয়ী, অনন্বয়ী ও ধ্বন্যাত্মক। আমাদের আলোচ্য শব্দগুলো হল ধন্যাত্মক অব্যয়। তবে ধন্যাত্মকের চেয়ে অনুকার বলাই সঙ্গততর বলে মনে হয়। সংজ্ঞার দিকে খেয়াল করলেই তা বোঝা যায়। সংজ্ঞা বলে, এসব অব্যয় বাস্তব ধ্বনির ব্যঞ্জনা দেয় কিংবা অনুভূতিগ্রাহ্য অনির্বচনীয় ভাব দ্যোতিত করে। কড়কড় করে মেঘ ডাকলে বা ঝরঝর করে বৃষ্টি হলে ধন্যাত্মক নাম খাপ খায়, কেননা কড়কড় ও ঝরঝর যথাক্রমে মেঘ ও বৃষ্টির ধ্বনির অনুকৃতি। কিন্তু ঝাঁঝাঁ রোদ বা খাঁখাঁ মাঠ বললে ধ্বনির অনুকৃতি হয় না, কেননা ঝাঁঝাঁ ও খাঁখাঁ রোদ ও মাঠের ধ্বনি নয়, বরং বিশেষ ভাবের অনুকৃতি। তাই অনুকারশব্দ বা অনুকার অব্যয় বললে তা ধ্বনির অনুকৃতি ও ভাবের অনুকৃতি দুটোকেই শামিল করে। হালে বাংলাদেশের বাংলা একাডেমি ‘প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ’ নামে দু খণ্ডে যে ঢাউস বস্তু ছেপেছে, তাতে তারা ইংরেজির অনুকরণে এসব অনুকারশব্দের শ্রেণিনাম দিয়েছে ‘আবেগ-শব্দ’। নামটা শুদ্ধ না হলেও সরেস বটে। কেননা এর মানে দাঁড়ায় ‘সখি, বয়ে গেল বেলা’ বা ‘সুখে আমায় রাখবে কেন, রাখো তোমার কোলে’-তে আবেগটাবেগের বালাই নেই।

তাহলে দাঁড়াল এই যে, অনুকারশব্দকে দুভাগে ভাগ করা যায়: ধ্বন্যাত্মক অনুকার ও ভাবাত্মক অনুকার। মজার ব্যাপার হল, উপরে যেমনটি বলেছি, অনুকার শব্দের সম্পদে আমাদের বাঙলাভাষা অন্য সবার চেয়ে ধনী, বিশেষ করে তার ভাবাত্মক অনুকার শব্দে। অন্যান্য ভাষায় ধ্বন্যাত্মক অনুকারশব্দ কিছু কিছু আছে, কিন্তু ভাবাত্মক অনুকারশব্দ বিরল। যেমন: ‘কাক ডাকে কা কা’—একে আরবি, ফারসি, উর্দু, ইংরেজি প্রভৃতি ভাষায় অনুবাদ করা যাবে; কিন্তু ‘মাঠ খাঁখাঁ করছে’ বাক্যের মোটামুটি ভাব অন্যান্য ভাষায় অর্থবাচক শব্দে ‘প্রকাশিত’ করা গেলেও বাঙলার মতো ভাবাত্মক অনুকারশব্দে জলজ্যান্ত করে ‘প্রকটিত’ করা সম্ভব নয়—কেননা ভাবাত্মক অনুকারশব্দের সম্পদ তাদের নেই।

সেটা আমাদের আছে। আমরা অনুকারশব্দের যাদুতে শব্দের শক্তির সীমাকে ধ্বনির সীমা ছাড়িয়ে কল্পনার দিগন্তে বহুদূর বিস্তৃত করে নিয়েছি। তাই শীতে আমাদের গা কনকন করে, ভয়ে ছমছম করে, ব্যথায় ঠনঠন বা চিনচিন করে, যন্ত্রণায় ছটফট করে, ঘামে জবজব করে, বিরাগে ঘিনঘিন করে, রাগে গিসগিস করে, ঘৃণায় রিরি করে, অভিমানে চোখ ছলছল করে, হতাশায় ফ্যালফ্যাল করে তাকাই, রেগে গেলে তাকাই কটমট করে, দুর্ভাবনায় মাথা ঝিমঝিম করে, দুর্বলতায় গা টলমল করে, ভয়ে কান ভোঁভোঁ করে বা বুক ধড়ফড় করে, অজানা আশঙ্কায় আবার বুক দুরুদুরু করে, উত্তেজনায় হাত নিশপিশ করে, ঘুমে চোখ ঢুলুঢুলু করে। দরকারমতো এসব অনুকার অব্যয়কে আমরা চমৎকার বিশেষণ করেও ব্যবহার করতে পারি। স্রেফ রঙের জন্য নিবেদিত অনুকারশব্দগুলোর কথাই ভেবে দেখুন না! টকটকে লাল, কটকটে হলুদ, খুজবুজে সবুজ, নিশপিশে নীল, কুচকুচে কালো, ধবধবে সাদা। বাঙলা বিনে আর কোথায় আছে এত অসম্ভব সুন্দর শব্দমালা? দগদগে ঘা, গনগনে আগুন, খটখটে শুকনো, থমথমে রাত, ঘুটঘুটে অন্ধকার, মিটমিটে আলো, কনকনে শীত, খনখনে কাশি, লকলকে জিভ, লিকলিকে বেত, ফুটফুটে চেহারা, জবজবে ঘাম, সপসপে ভিজে, কিটকিটে তেল, ঢলঢলে যৌবন, এবড়োখেবড়ো রাস্তা। দুনিয়ার কোন ভাষায় আছে এমন রঙিন ও প্রাণবন্ত ছবিঅলা অনুকারশব্দের মঞ্জরি! এই যে সব কনকন ছমছম ঠনঠন জবজব ঘিনঘিন গিসগিস নিশপিশ ধবধবে টকটকে কুচকুচে থমথমে ঘুটঘুটে শব্দমালা, এরা কিন্তু বাস্তব ধ্বনির অনুকৃতি নয়। বাস্তবে তো এখানে কোনো ধ্বনিই ছিল না। এ হল কল্পনার ধ্বনি, যা আমরা শুনি মনের কান দিয়ে।

একইভাবে প্রকৃতির শূন্যতা, নির্জনতা, ব্যাকুলতা বা তীব্রতা বুঝাতে আমরা চমৎকার সব কাল্পনিক ধ্বন্যাত্মক বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণ ব্যবহার করি। শূন্য বাড়িটা কেমন খাঁখাঁ করছে, ধু-ধু মরুভূমিতে ঝাঁঝাঁ করছে রোদ, দিনমান হু হু হাওয়া বয় টাঙ্গুয়ার হাওরে, পোড়োবাড়িটা হাঁ হাঁ করছে, দিঘিতে জল থৈ থৈ করছে, কাঁঠালচাঁপার গন্ধে ম ম করছে চারদিক। হাট করে খোলা, হুট করে চলে গেল, চট করে বলে ফেলো, গুম হয়ে বসে থাকো, বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল, দাউদাউ আগুন জ্বলছে, দিঘিটা জলে টইটম্বুর, ওড়নাটা একদম ফিনফিনে, ছেলেটা সারাদিন টো টো করে ঘোরে, তরতর করে উঠে গেল, গলগল করে রক্ত বইছে, ফিক করে হেসে ফেলল, তুলতুলে নরম, গনগনে গরম, ছিপছিপে পাতলা, কেমন ড্যাবড্যাব করে তাকাচ্ছে, মেয়েটির ছলছলে চোখ, লণ্ঠনের টিমটিমে আলো। উদাহরণ ভূরিভূরি দেওয়া চলে। কিন্তু বকবক বেশি হয়ে যাচ্ছে। হক হক কিছু বলে সটকে পড়ি।

আমি খেয়াল করে দেখেছি, যিনি যত বড় শক্তিমান লেখক তিনি তত অনায়াসে জায়গামতো যুৎসই অনুকারশব্দটি বসিয়ে দেন। অন্যরা তা করেন না, কারণ পারেন না। তাঁরা সোনার বাজারমূল্য জানলেও তার চকচক করার বাগমূল্য ঠিক আঁচ করতে পারেন না। সোনা যদি চকচক না করত তবে সে সোনাই হতো না—আমাদের মেয়েরা একটু গয়নার জন্য এত হাপিত্যেশ করত না, ব্রুনেইয়ের গাড্ডু সুলতান সোনার খাটে ঘুমাত না, আর দুনিয়াসুদ্ধ চোরাচালানিরা দেশে দেশে এমন হুমড়ি খেয়ে পড়ত না। কাজেই চকচক করা চাট্টিখানি কথা নয়। দামি লেখা লিখবেন না মূল্যবান লেখা, সে আপনার মর্জি। কিন্তু অনুকারশব্দের ছটায় আপনার লেখাটা যেন চকচক করে, এ-ই আমার সবিনয় নিবেদন।

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments