অভ্যুত্থানের পরে
যখন শহিদের রক্ত মাটিতে পড়ে,
তখন আসমানে অনেক রঙিন বেলুন উড়তে থাকে,
যারা ছিল আজাদির পাশে,
তাদের হাতে থাকে ধনুক,
সেইটা তাক করতে হয় বেলুন বরাবর
একটু সময় গেলে সেই বেলুন সিমানার বাইরে চইলা যায়,
তখন তির যতই উপরে উঠুক বেলুন আর ছুইতে পারে না,
এখানে অখানে সেই তির লাগতে থাকে,
আর আজাদির খোয়াব হইতে থাকে ভোতা
যখন আজাদির খোয়াব দেখতে থাকবা হে মানুশের দল,
প্রত্যেকটা বেলুন যেন তিরে বিধতে থাকে এই কোশেশ করতা থাকবা,
যত বেলুন ছুইটা যাবে তোমার নিশানা থিকা,
সেগুলাই অল্প পরে বেমক্কা বোমা হয়া পড়বে তোমার উপর
এগুলা মাঠ থিকা পাওয়া এলেম,
যা শিখতে কুরুলুস ওসমানকে বুলেটের নিচে যাইতে হইসে
ওসমান হাদি
একটা অটোরিশকায় আমরা যাইতে থাকি,
পিছনে গুপ্তঘাতক আছে এই ভাইবা
পর্দা উঠায়া তাকাইতে থাকি বারবার
বাতাসে ঘুষি প্রেকটিস করি,
শেডো বক্সিং করি বারবার,
কে আসবে কুপোকাত করতে,
তোরেও ছাড়ব না মাস্তান,
এই রক্ত অযথা বইতে দিব না
আর একটু পরই দেখা যায় হাতিরপুলের শেষ আর বাংলামোটরের মাথা,
আমি জানি আরেকটু পরেই দুর থিকা দেখা যাবে ইনকেলাব কালচারাল সেন্টার,
আমি চোখ বন্ধ কইরা থাকি তাকাবো না অইদিকে,
অইখানে ওসমান হাদির সাথে দেখা হইল কয়দিন আগে,
আমার না মনে পড়ুক কেউ গুলি খাইসে,
আজকের দিনটা রিজিকের জন্য অফিস করতে হবে
একটু পরেই দেখি ওসমান হাটতেসে একটা ভিডিওতে,
ওরে জড়ায়া ধরে এক্টা বাচ্চা,
ওর হাতে টাকা গুইজা দেয় চায়ের দোকানদার,
ওরে আদর কইরা দেয় কালা বোরকা পরা আম্মা,
আর ওসমান এক্টু পর কানতে থাকে নিজের আম্মা আর বাচ্চার কথা মনে কইরা,
আর এতটুকুই, তারপর তার মনে পড়ে বাংলাদেশের কথা,
তারপর দুইহাত দুইদিকে ছড়ায়া দিয়া বলে,
হে বাংলাদেশের লোকেরা, এই জান আমি তোমাদের জন্য কোরবান কইরা দিলাম
এরপর আমার রিজিকের জন্য অফিস করা হয় না,
গলার মাঝখানে জাক্কুম বোধ হইতে থাকে,
দম নিতে যায়া দেখি নাক মুখ সব বন্ধ হয়া গেসে,
একটা গুপ্তঘাতক আমারে দম বন্ধ কইরা মাইরা ফেলতে চায়
আর আমি কানতে থাকি আমার দেশের কথা মনে কইরা,
ও আমার দেশরে, আমি তোমারে ভালোবাসি,
আমি তোমার জন্য কোরবান কইরা দিই আমার জানরে,
আমি আবু সাঈদ হয়া যাই, দুইহাত দুইদিকে চইলা যায়,
আমি গাজি কুরুলুস ওসমান হয়া যাই,
আমি বীর হাদি হয়া যাই,
আমার আর কিছু মনে থাকে না
আমি বাংলামোটর যাইতে চাই না কোনোদিন,
বাংলাদেশরে আমি সুন্দর না বানায়া কোনোদিন ঘর থিকাই বাইর হইতে চাই না,
আমি গন্তব্য ঠিক কইরা ফেলসি শাহাদাতের তামান্না দিয়া,
খোয়াব আর পিরিতের অনন্ত বাসনায় একলা শহিদ হয়া যাব,
কিন্তু ওসমানের সাহসের কোনো সিম্বলের কাছাকাছি কোনোদিন আমি যাইতে পারব না,
কারন আমার শরিল আর মনের ভিতরে কাপুরুষতার এক দগদগে ঘা পরনের বাইরে চইলা আসছে,
যেইটা বীর ওসমান হাদির কাছাকাছি গেলে লজ্জায় পায়ের কাছে লুটায়া পড়তে চাইবে বারবার
দারুণ!