কিছু কথা না বলাই রেখে দাও
কিছু কথা না বলাই রেখে দাও
কিছু কথা না শোনাই রেখে দাও
হৃদয়ের সকল কথা যদি বলেই ফেলো তবে
সকল কথাই যদি শুনে ফেলো তবে
বাকিই-বা থাকলো কী আর
একখণ্ড নিরব অস্থিরতা—
এক গড়ে না উঠা এক রঙিন পৃথিবীতে
একটা খিড়কি না খোলাই রেখে দাও
প্রেম এখন হইবো না
কেউরর হা করা চক্ষুর মধ্য দিয়া
যেই তেরাগুলা জ্বলজ্বল করে,
কাজল কাজল মেঘ আর বিষ্টির সুন্দর রূপের ভিতরে দিয়া
যেই মুলাকাত হয়,
এইটা জ্বর লাগাইল দিলে—মরার মতো সময়েই হইবে
মহব্বত এই এখনই হইবে না, এইটা কিছুদিন বাদে
এই দিনগুলা গুজরায়া গেলে, তখন
এর ইয়াদের মধ্যেই হইবে।
হারায়া যাওয়ার আগে
তারে ডাক দেও তুমি
ডাকছো যখন;
গলা ফাটায়াই ডাকো
মিইলা যাইতে পারে
নাইলে
আস্তা একটা জীবন তো
লিলামে উইঠা যাবে।
বাবার গোরস্থানে শুইয়া আছি আমি
বাবা, তোমার কবরের পারে ফাতেহা পড়তে আসিনাই আমি
আমার একিন হইলো—তুমি মরতেই পারো না বাবা
তোমার মউতের নিষ্ট খবর ছড়ায়া দেওয়া লোকটা পুরাদস্তুর মিথ্যাবাদী ছিল
আর তুমি এইটা কখন ছিলা যে—
শুকনা শিরিষের পাতার মতো হাওয়ায় হাওয়ায় উইড়া যাইবা তুমি
আমার চোখ দুইটা—
তোমার হাইটা যাওয়া জীবনের গলি-ঘুপচিতেই গইড় দিতে থাকে
আমি আমার দুনিয়া জুইড়া
তোমার সুনাম আর সাদেকির জিন্দেগিটাই দেখি
কই—
কোথাও কিছুই তো বদলায়নাই বাবা
তোমার নরম হয়া আসা হাত আমার আঙুলের ডগায় বইসা দম নিতে থাকে
লেখতে বসতে গিয়া
আমার কুরসির ভিতর তোমারেই বইসা থাকতে দেখি
আমার রগরেশায় বইতে থাকা প্রতিটি রক্তকণা
তোমার কইরা যাওয়া ভুল আর
তোমার জুব্বার আস্তিনে লাইগা থাকা ব্যর্থতার দায় সাথে নিয়াই বইতে থাকে
আমার অস্ফুট কথার ভিতরেও বইসা থাকে তোমার জেহেন
আমার বেরাম বালিশের পাশে তুমি
আমার দমফাঁস লাগা সময়ের ভিতরেও তুমি
তোমার সমাধিফলকের ওপর সুন্দর হরফে
তোমার নাম লেইখা দেওয়া লোকটাও ছিল
চরম মিথ্যাবাদী
বাবা,
তোমার কবরের ভিতর পইড়া আছি আমি
তুমি বাইচা ফিরতেছো আমার আস্তাটা জীবনের ভিতর
এখন, এখটুখানি ফুরসত পাও যদি
ফাতেহা পড়তে চইলা আসো বাবা।
হাওয়াই ঘুড়ির দুঃখ
চেরি ফুলের মতো
একটা একটা করে
কথাদের পসরা সাজাও
বিলাও সেই রূপ—যাতে,
ঈর্ষায় কাজল পরে চাঁদ
উদিত রাতের তারা
চিনি—তুমি, আমি
তারে প্রশ্ন করি—
দূরত্বের ডেফিনেশন কী!
প্রশ্ন করি—
কোন সে মেঘের ঘনঘটায় দেয়াল ঝুলেছে প্রেমে
কেন-ইবা ছিঁড়ে যায় ফিনফিনে কাগজের ঝিলমিলে এক হাওয়াই ঘুড়ির সুঁতো
বৃহৎ বৃহৎ আদাব ও তসলিমাত জানবেন!
BABA KOBITA OSOMOBOB SUNDOR