উদিত দুঃখের দেশ (দশম পর্ব)

মূল : জুলফা কাতু’

আবিদা সুলতানা উমামা

আ’মের ‘না’ শোনার সাথে সাথে আমার পেট গুড়গুড় করে। ‘যা বলছি আগে, কথা তাই।’

এবারেও আমরা সেই হলওয়েতে দাঁড়িয়ে। বিশ মিনিট আগে এক মহিলার ক্ষত সেলাই করেছি, তার রক্তে আমার হাত এখনো আঠালো হয়ে আছে। মহিলার মাথার চোটে দেয়া আগের সেলাইটা খুলে গিয়েছিল, ক্ষতটা এত গভীর যে সেলাই দিয়ে তা আটকে রাখা যায়নি। অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে উনি জ্ঞান হারান। উনাকে চিকিৎসা দিতে দিতে ভাবছিলাম আ’মকে কী কী বলবো। অথচ আমি মুখ খোলার আগেই ও আমাকে দমিয়ে দিয়েছে।

‘এখানে আমি খয়রাত দিতে আসিনি, সালামা।’ কাঠিন্যভরা চোখে বলে ও। ‘সমস্যা শুধু তোমার না। আমার কাছে সবাই-ই কোনো না কোনো বিপদে পড়ে আসে। এক বাপ আসছিলো তিন বাচ্চা আর অসুস্থ বউ নিয়ে। ওরেও আমার মানা করতে হইছে, তোমারেও না করে দিলাম।’

আমার চোয়াল শক্ত হয়ে আসে, শক্ত মুঠিতে দেবে যায় নখ। আমাদের এই দুঃসময়কে পুঁজি করে যে ব্যবসা আ’ম চালাচ্ছে, তা ভাবতেই আমার গা ঘিনঘিন করছে। চাইলেই লায়লার সোনার গয়না দিয়ে আ’মের সাথে দরদাম করতে পারতাম। কিন্তু ওর মত লোকের কাছে মাথানত করার ইচ্ছা আমার নেই। সেই অহম আমার জিভ জড়িয়ে রেখেছে। এতকিছুর পরে আমি হামযার মনের আশা পূরণ করার সাথে সাথে আমার রোগীদের ফেলে পালিয়ে যাওয়ার বিশ্রি সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলেছি। অথচ এখন আ’মের লোভের কারণে থেমে যেতে হচ্ছে।

ও নখ কামড়ায়। ‘কিছু বলবা না?’

আমাকে সাবধানে কথা বলতে হবে। শুধু অহমের জোরে তো আর প্রাণ বাঁচবে না। ওকে এখন উল্টাপাল্টা কিছু বললে আমাদেরকে আর নৌকা নাও দিতে পারে। এমনকি তাবৎ পৃথিবীর সমস্ত সোনার গয়না এনে দিলেও দিবে না।

‘আচ্ছা, আমি টাকার ব্যবস্থা করবো।’ আরোপিত বিনয় দেখিয়ে বলি ওকে। ‘কিন্তু তুমি আরেকটু ভেবে দেখলে ভালো হইত। আমরা অল্প বয়সি দুইটা মেয়ে। জার্মান ভাষাও জানিনা। কোনোদিন সিরিয়ার বাইরে কোথাও যাই নাই। তুমি তো আমাদের আত্মীয় হও—সিরিয়ান আমরা।’

আম প্রথমে নিরুত্তর থাকলেও ওর চোখে ভিন্ন এক ঝিলিক। দেখে মনে হল ভালো জব্দ হয়েছে আমার কথায়। এরপর ঘোঁৎঘোঁৎ করে বলে, অত ভালো মানুষ হয়ে বাঁচা গেলে তো হইতোই। টাকা না থাকলে নৌকা তুমি পাবা না, সোজা কথা।’

আর তারপর হেঁটে চলে যায় ও।

হতাশা আর ভয় একসাথে জেঁকে ধরলে সেই তেতো ওষুধের মত মনে হয়, সহজে যার তিতকুটে প্রভাব কাটে না। সারাদিন এই তেতো স্বাদটা মুখে লেগে ছিলো। শরীরের ক্লান্ত হাড়গোড় টেনে ঘরে ফেরার পর লায়লাকে যখন আ’মের কথাগুলো বললাম, ওর ম্যারম্যারে চেহারা দেখে সেই তেতোভাব বেড়ে গেলো আরো। ওর গয়নার কথা কেন বললাম না তা আর জিজ্ঞেস করে না ও। শুধু বিছানা করে দিয়ে আমার চুলগুলো আলতো করে পেছনে সরিয়ে দেয়।

‘ব্যাপার না,’ ধীরস্বরে বলে লায়লা, ‘আমাদের কিছু হবে না।’

বুকের ভেতর এক তীব্র শূন্যতা খাবি খায় আর আমি অপলক তাকিয়ে থাকি ছাতের দিকে। মনে হয় যেন বুকের ভেতরে কোথাও হৃদযন্ত্র নামে কোনো কিছুর অস্তিত্বই নেই, যেন আমি বেঁচে আছি বুকের খাঁচায় হুড়কোর মত ঝুলে থাকা কোনো ভগ্নাবশেষ নিয়ে।

দেশছাড়ার কথা ভাবতে ভাবতে মগজের ভেতর কোথাও একটু একটু করে আশার বীজ বুনন শুরু হয়। ধীরেধীরে ঢুকে পড়ি কল্পনার জগতে। সেই ‘না হওয়া জীবন’টার কথা আর ভাবি না। ভাবি একটা বাস্তব জীবন, লায়লাকে নিয়ে জার্মানির একটা এপার্টমেন্টে। হয়ত ভাঙাচোরা তবু চলে। আমাদের খিলখিল হাসির ফোয়ারা আর ছোট্ট সালামার আঁকা ছবিতে আমরা সেটা ভরে তুলব। তারপর একদিন হয়ত আমাকে পেয়ে বসবে সেই জাদুকরী গল্পেরা, না লিখে যেসব আমি মাটিচাপা দিয়ে রেখেছি বুকের অতলে। আমাদের যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে, তাই দিয়েই একটা ঘর সাজানোর কথা ভাবতে থাকি আমি।

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমে আসা পর্যন্ত লায়লা বসে থাকে আমার কাছে। ‘কিছু লাগলে বইলো, আমি আছি তোমার কাছে, ওকে?’ ওর কথায় মাথা নেড়ে সম্মতি দেই। দরজা বন্ধ করে দিয়ে ও জেগে থাকে, আর সারাঘরে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। তখনই কল্পনারা ফিরে আসে ঠিক সেখান থেকে যেখানে থমকে গিয়েছিলো তখন। এবার ভাবনার জগতে আসে কেনানও, ওর ভাইবোনসহ। আনন্দ, স্বস্তি আর ভরপেটে আমাদের দিন কাটে। ওই মুহূর্তটুকুর জন্য মনে হয় রাতের এই নিকষ আঁধার আসলে অতোটাও বর্ণহীন না।

তখনই রুমের কোনায় কারো মৃদু হাসি শোনা যায়। তাকাতে ইচ্ছা করে না আমার।

‘এক শব্দে যদি তোমারে বর্ণনা করতে বলে কেউ সালামা…’ খাওফের লাইটারের আওয়াজ শোনা যায়। এরপর একটা গভীর শ্বাস, এরপর নিঃশ্বাস। ‘তাইলে আমি বলবো আইরনি’

‘মারা খাও,’ কর্কশ গলা আমার।

টের পাই ও আমার পাশে এসে বসেছে, তবু ওর দিকে না তাকিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছি এই আশায় যে ও চলে যাবে।

আজকাল নিজেকে মনে হয় লোহায় গড়া মানুষ। আমার সমূহ ব্যস্ততা শুধু ভাঙা হৃদয়ের টুকরোগুলো জোড়া দিয়ে রোজকার অনিবার্য ধ্বংসযজ্ঞের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করাকে ঘিরে। আমার ড্রয়ারে প্যানাডলের পাতা রাখা আছে জেনেও নিজের সাথে যুদ্ধ করতে হয় যেন খেয়ে কমিয়ে না ফেলি একটা। হতে পারে তিনটাও খেয়ে ফেলব একসাথে। লায়লা নিজেও মাথাব্যথা হলেও খায় না। হুট করে জরুরি দরকারে যদি না পাই, সেই ভয়ে ওষুধগুলো তুলে রেখেছি।

এই দুঃসময় পার হয়ে যাবে।

‘আমি বলতে বাধ্য,’ খাওফ আবার শুরু করে, ‘তোমার উন্নতি দেখে ভাল্লাগতেসে। এখন আরেকটু কাজ করা লাগবে। কালকে গিয়ে আ’মরে বলবা যে তুমি ওরে গয়নাগাটি যা আছে সব দিবা। এমনকি ও যদি এই বাড়িও দাবি করে তাইলে সেটাও দিয়ে দিবা। ঠিকাছে, এইটা দিয়ে ওর কোনো লাভ হবে না। তারপরও।’

জবাব দেই না আর। গতরাতের মুহূর্তগুলোর জন্য আমার মন আনচান করে, কালকে ও এরকম বিরক্ত করেনি। মন আনচান করে আরেকবার কেনানের সাথে কথা বলার জন্য, ওর চোখে পোড়খাওয়া জীবনের প্রতিফলন দেখার জন্য।

‘না,’ খাওফের স্বর এবার খুব চাঁচাছোলা। ‘ওই ছেলে এক বিরাট ঝামেলা। তোমার যেই নরোম মন, ওর এইসব দেশপ্রেমিক কথাবার্তায় তোমার মন এইখানে থেকে যাওয়ায় রাজি হয়ে যাবে। বহুদিনের কষ্ট আর পরিশ্রম দিয়ে আমি তোমারে রাজি করাইসি, ওরে এত সহজে তোমার মন বদলাইতে দিব না আমি। তুমি এখন—’

‘চলে যাব, জানি আমি,’ শেষমেশ ওর দিকে তাকিয়ে বলেই ফেলি।

বিরক্তি নিয়ে ও আমার দিকে তাকায় কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না। ‘কেনানের থেকে দূরে থাকবা।’

‘প্যারা নাই, হামযার কথাই আমার কাছে সবার আগে। তুমি ভাই দোয়া করো যে আ’ম যেন স্বর্ণের বিনিময়ে রাজি হয়।’

তীক্ষ্ণ দাঁত বের করে হাসে খাওফ। ‘আহা, আ’মরে রাজি করানোর জন্য যে তুমি যে কোনো কিছু করতে রাজি এই ভরসা আমার আছে।’ হাতের সিগারেটেটা ও বারবার আঙুল বদল করে। দেয়ালে আর ছাতে তারই ছায়া বারবার রূপ বদলায়। হা করা মুখ আর ফাঁকা চোখের মত ভয় জাগানো ছায়া তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। একটু পরেই শুরু হয় ভুতুড়ে চিৎকার।  ভয়ে আমি দুইকানে হাত চেপে ধরি আর যত জোরে সম্ভব চোখ বুঁজে থাকি।

এইসব ভেদ করে ভেসে আসে খাওফের স্বর, ‘তুমি ভালো করেই জানো হামযা থাকলে কী বলতো। ও অবশ্যই চাইতো যেন তোমরা চলে যাও এখান থেকে। পারলে দুই হাত জোড় করে মিনতি করত।’

‘সালামা,’ আমার কানে হামযার আওয়াজ বাজে। ভীষণ আহত শোনায় তা। ‘সালামা, আমাকে তুই কথা দিছিস, মনে আছে? কথা দিছিলি না তুই লায়লাকে বাঁচাবি? নিজেকে রক্ষা করবি? আম্মার চলে যাওয়ার দায় মিটাবি তুই বলসিলি। নিজে কথা থেকে কি তুই ফিরে যাবি, বল?’

চোখ জ্বালা করে আমার। পাশ ফিরে বালিশ তুলে মাথার উপর চেপে ধরি। ‘আর না, প্লিজ!’

হঠাৎ নিরবতায় ছেয়ে যায় সারাঘর, একমুহূর্তের জন্য মনে হয় সত্যিই সব নিরব হয়ে গেছে। কিন্তু চোখ খুলতেই দেখতে পাই আমার খাটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে হামযা।

ওর কপালে একটা উন্মুক্ত ক্ষত। বাদামি চোখ জোড়া শুরু হয়ে আছে অসন্তুষ্টিতে। গালে লেগে আছে নানা বর্ণের ক্ষতচিহ্ন। শেষবার ওকে যে কাপড়ে দেখেছি ঠিক সেগুলোই পড়ে আছে এখন কিন্তু এখন তা ছেঁড়া, কাদামাখা আর রক্তাক্ত।

আমার বিশ্বাস হয় না ও হামযা। ও তো খওফ।

কিন্তু বুকের ভেতরের সমস্ত অনুভূতিরা জানে, এ অবয়ব হামযারই।  এই দৃশ্য আমার মস্তিষ্কের তৈরি হলেও হামযা তো কষ্ট পাচ্ছেই, তাও যদি ও মারা না গিয়ে থাকে।

‘সালামা, ওরা যদি লায়লাকে ধরে ফেলে, তুই ভালো করেই জানিস ওরা ওকে কি করবে।’ ওর কথায় আমার ঠোঁটফুটে আর্তনাদ বেরিয়ে আসে। ‘তোরে যদি তোকে ধরে ফেলে? তোদেরকে কোনদিন ওরা মরতে দিবে না। সালামা, দোহাই লাগে তোরা চলে যা এখান থেকে। আব্বুর কথা ভাব একবার। আমার কথা ভাব।’

চোখের পানিতে চামড়া জ্বালা করে আমার, যেন এসিড পড়ছে। ‘হামযা, প্লিজ! আমি বলসি তো আমি চলে যাব।’

ও মাথা নাড়ে। ‘তাইলে আ’ম যা চাইছে ওরে তা দেস নাই কেন? সালামা, যে কোনো মূল্যে তোদের বাঁচতে হবে।’

‘আমি সব দিব, সব করব। প্রমিস’

চোখের পলক ফেলতেই হামযা হারিয়ে যায়। সেখানে নৈশব্দ ভেদ করে হাজির হয় খওফের গলা। ‘যতবার কেনানের কথায় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবা, ততবার নিজের ভাইয়ের কথাগুলা মনে করে দেখবা।’

‘ব্লাডরুট,’ হাঁপাতে হাঁপাতে আওড়াই আমি। ‘সাদা পাঁপড়ি, হলুদ বুক। ভেতরে লাল রস। শ্বাসনালীর অসুখ-বিসুখে অল্প মাত্রাতেই কার্যকরী। ব্লাডরুট, ব্লাডরুট, ব্লাডরুট।”’

‘ওই ছেলেটা যদি তোমার মত বদলায় দিতে পারে, সালামা’ খওফ বলে যায়, ‘আমি তোমার এমন অবস্থা করবো যে ফুল কী জিনিস সেটাও আর মনে থাকবে না।’

পরদিন।

হাসপাতালে ঢুকতেই ডাক্তার যিয়াদ আমার দিকে দ্রুতপায়ে এগিয়ে আসেন। বহুদিন পর তার চেহারায় হাসি ফুটতে দেখছি।

‘সালামা!’ বলে ডাক দিয়ে বললেন, ‘ওষুধের একটা শিপমেন্ট আসছে। প্যানাডল, সিপ্রোফ্লক্সাসিন। এরিথ্রোমাইসিন। এমনকি মরফিনও আছে।’

শুনে মুখ হা হয়ে যায় আমার। আনন্দে ভরে ওঠে বুক। একটা স্বাভাবিক জীবন আমাদের থাকলে, আমার রোজকার দায়িত্বগুলোর মধ্যে একটা হতো ডাক্তার যিয়াদকে ওষুধ রিস্টকের আপডেট দেয়া। ওষুধ সাজানো, কাউন্সেলিং আর তালিকা প্রণয়ন করা হতো আমার প্রধান কাজ। তখন হয়ত ওষুধ রিস্টকিং উৎযাপন করার মত ঘটনা মনে হতো না। বড়জোর একঘেয়ে লাগতো। ‘কীভাবে?’

‘এফএসএ এগুলো চোরা চালান দিতে পেরেছে।’ ডাক্তার যিয়াদ বলেন। হাতটা চুলের ভেতর একবার চালিয়ে নেয়া দেখে বোঝা যায়, অদ্ভুত এক আশার বলয় ঘিরে রেখেছে উনাকে। ‘তোমার জন্য বক্সগুলো ওষুধের স্টকরুমে রাখা হয়েছে।’

হাসি চওড়া হয় আমার। ‘এখনই যাচ্ছি।’

আজ হাসপাতালে অনেক আলো। রোগীদের চেহারাগুলো ক্লান্তকিষ্ট হলেও আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে আছে। কে জানে, এ আমারই কল্পনা কি না।

আমি ছুট দেয়ার আগেই ডাক্তার যিয়াদ আমাকে থামিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘কালকে হুট করে চলে গেলে, সব ঠিকঠাক তো? ঘুম, খাওয়া হচ্ছে ঠিকমতো? কোনোকিছু লাগবে?’

‘আমি ঠিকঠাক আছি,’ জবাব দিই। আর এই মুহূর্তে, এত এত রোগীর ভিড়ে এই কথাটাকেই সত্যি মনে হয়। আপাতত আমি ঠিক আছি। কেবল ঠিক আছি।

উনি বিশ্বাস না করে থাকলেও বাড়তি কিছু আর বললেন না।

কথা ঘুরানোর জন্য আমি লামার কথা বলি, ওর সার্জারি যে ভালোয় ভালোয় উতরে গেছে যে কথা জানাই। এতে উনার চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে যায়। আমার উপস্থিত বুদ্ধির কিঞ্চিত প্রশংসাও করেন।

‘সাব্বাশ,’ হাসিমুখে বলেন।

তারপর আমি স্টকরুমে চলে আসি। খুব হালকা লাগছে নিজেকে। গতরাতের সেইসব ভয়ানক দুঃস্বপ্ন যেভাবে আমাকে অতল গহ্বরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলো তার লেশমাত্র নেই এখন। আজকের দিনটা ভালোভাবে শুরু হলো। ভালোই যাবে ইনশাআল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments