মিনা বাজার উদ্বোধন
বসন্ত ঋতুর মাঝামাঝি সময়; শুক্রবার দিন, বাদশাহ শাহজাহান নিজের নতুন নির্মিত অতুলনীয় জামে মসজিদে নামাজ আদায় করেন। তারপর লাল কেল্লায় গমন করেন। মসজিদে এত মানুষের ভিড় হয়, ইতোপূর্বে যা কখনো দেখা যায়নি। কেননা দূর প্রদেশ, পার্শ্ববর্তী শহর ও নগরের অভিজাত বংশের নারীরা যারা বাজারে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে এসেছে, তাদের সাথে পুরুষদেরও ঘটেছে ব্যাপক সমাগম। তাই শহুরে বসতিকে দু-তিনগুণ বলে মনে হচ্ছিল।
যদিও পূর্ব থেকেই বারংবার ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু আজ জুমার নামাজের পর মসজিদের মিনারে দাঁড়িয়ে মুয়াজ্জিন ঘোষণা করে—
‘আজই আমাদের মহারানি মমতাজ বেগম মিনা বাজার উদ্বোধন করবেন। সাধারণ ও উচ্চ বংশীয় সকলের এতে অংশগ্রহণ করা উচিত। এই বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নারীদের কল্যাণ এবং তাদের নৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের জন্য।’
জুমার নামাজের পরই শহরের বাইরের এবং ভেতরের সবাই রাস্তায় এসে জড়ো হয়, যেদিক দিয়ে রানি ও শাহজাদিদ্বয়ের সওয়ারি জঁমকালোভাবে বের হবে। বাজারের গুরুত্ব বোঝাতে সওয়ারির আসনে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। অশ্বারোহী ও পদাতিক সৈন্যরা নতুন উর্দি পরে। বিশেষ সৈন্যদের পর সাধারণ সৈনিকরা তাদের দলবল ও সম্মানজনক বৈশিষ্ট্য—হাতি-ঘোড়া, ঢাল-তলোয়ার ইত্যাদি নিয়ে ঝান্ডা উঁচু করে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করে।
তারা বাজারে পৌঁছলে অন্দরমহলের ব্যবস্থাপনাকারী নারীরা ছাড়া অন্য কোনো নারী ভ্রমণ কিংবা বেচাকেনার জন্য ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। তবে দোকানগুলোকে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে ব্যবসায়ী পণ্য। দোকানিরা তাদের স্বভাব-রুচিমাফিক সাজসজ্জা করেছে।
বিকেলের মধ্যেই রানি বাজারে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ তার সুসজ্জিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত মিশ্রামগৃহে জিরিয়ে নেন। শাহজাদিদ্বয় ছিল তার সঙ্গে। প্রথমে তারা ভবনের পাশের নহরের বৃত্ত ও পুলগুলো দেখে। তারপর ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করে বাজারের সবগুলো দোকানের বৈশিষ্ট্য। পর্ববেক্ষণ করে হাউজ ও তার ওপর নির্মিত শঙ্কুযুক্ত গম্বুজসমূহ। আর তৃণভূমিতে গিয়ে বিস্মিত হয়ে যায়, শৈল্পিক নির্মাণ কত দ্রুত জমিনকে সমতল ও সবুজ ঘাসে ভরিয়ে তুলেছে। অভিসারের এই স্থানটি যেন এক টুকরো জান্নাত। সুন্দরী নারী দোকানিগণ রানির সফরসঙ্গী।
এই অভিসারের প্রশস্ত চত্বরের মাঝখানেই সিংহাসন পাতা। রানি তার ওপর বসেন। তার ডান-বামে দ্যুতি ছড়ান শাহজাদিদ্বয়। রানি সঙ্গে আসা নারীদেরকে ডেকে সামনে বসান। অনেকেই আদবের সাথে সামনে এসে সুদৃষ্টি কামনা করতে চায়। তাদেরকে খুশি করার জন্য তিনি কপালে হাত রেখে বলেন—
‘হে নারীগণ, এটা কোনো দরবার নয়; সাধারণ একটি বাজার। আমরা এখানে জড়ো হয়েছি ক্রেতা-বিক্রেতা পরিচয়ে। সকলের মর্যাদাই এখানে সমান। সুদৃষ্টি কামনা করতে চাইলে রাজপ্রাসাদে আসবেন। এখানে এর প্রয়োজন নেই। আমার ইচ্ছা, সকল নারী পরস্পরে বোনের মতো মিশবেন। দরবারে গরিবদের ওপর ধনীদের শ্রেষ্ঠত্ব থাকে, কিন্তু এখানে গরিবদের শ্রেষ্ঠত্ব থাকা প্রয়োজন। আমিরজাদিদের কর্তব্য, গরিব নারীদের সম্মান প্রদর্শন করা। কারণ আমরা তাদের থেকেই সম্মানের আশা করে থাকি।
আমি প্রতিদিন এখানে এসে কিছু সময় বসব, সাধারণ-অভিজাত সকল নারীর সঙ্গেই হাসিখুশি ও হৃদ্যতার সাথে মিশব। আমার একটাই অনুরোধ আপনাদের কাছে, সবার সাথে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সাথে মিশবেন। কারও মনে কষ্ট দেবেন না। কথাটি এজন্য বললাম, নারীরা, বিশেষ করে ধনী নারীদের মধ্যে গর্ব-অহংকার অনেক বেশি থাকে। সামান্য ধনদৌলতের কারণে তারা অহংকার করতে থাকে। এটা অনেক খারাপ বিষয়।
এই বাজারের মূল উদ্দেশ্য, নারীদের থেকে এই দোষ দূর করা। নিজেদের পোশাক, সম্মান ও অলংকার নিয়ে অহংকার করার পরিবর্তে একে অপরের সাথে মেশা ও সম্মান করতে শেখা। অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। এখনই বাজার উদ্বোধন করা প্রয়োজন। সাধারণ ও বিশেষ সবাইকে ভেতরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়।
আমি এই প্রথা পালনের জন্য দালানের দিকে যাচ্ছি। সকল নারী তাদের নিজ নিজ দোকানে অবস্থান করুন। যেসব নারী আসবে তাদেরকে মার্জিতভাবে নিজেদের পণ্য দেখান। ধনী-গরিব কোনো নারীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন না।’
নারীগণ রানির অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অঙ্গীকার করে, তারা তার নির্দেশ অমান্য করবে না। বাজারে আগত সবার সাথেই হাসিমুখে মিশবে।
এরপর রানি সেখান থেকে উঠে দালানে যান। উপস্থিত নারীগণ নিজেদের দোকানে যায়। তখনই আদেশ করা হয় বাজারের ফটক খুলে আগত নারীদের ভেতরে নিয়ে আসতে। ফটকের ওপর রানির বান্ধবীরা দাঁড়িয়ে যায়। সম্মানের সাথে আগত নারীদের শাহি দালানের দিক থেকে বাজারে নিয়ে যায়। ফটকে হাজারো নারীর ভিড়।
বিভিন্ন বাহনে চড়ে বিশিষ্ট ধনী নারীরা অপেক্ষায় থাকে, ফটক খুলতেই প্রবেশ করবে। যদি পুরুষরা আসত তাহলে নিঃসন্দেহে এত ভিড় ও হাঙ্গামা হতো, ফটক পার হওয়াই কঠিন হতো। কিন্তু নারীরা যেহেতু বাহনে ছিল, এ কারণে তাদেরকে সুন্দরভাবে নামানোর ব্যবস্থা করা হয়। তেমন কোনো সমস্যা হয় না।
যে নারীই বাহন থেকে নামছিল, তাকেই কোনো সম্মানিত নারী নিজের সাথে শাহি প্রাসাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল, যেখানে মমতাজ বেগম দাঁড়িয়ে আছেন তাদেরকে স্বাগত জানাতে। এভাবে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারীদের আসার ধারাবাহিকতা চলতে থাকে।
সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে বাজারের সবদিক আলোকিত হয়ে ওঠে। সকল স্থান ফানুস ও প্রদীপের আলোতে উজ্জ্বল। প্রতিটি হাউজের পাশে মশালধারীরা মশাল জ্বালিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা আগমনকারী নারীদের বাজার ঘুরিয়ে দেখায়। দোকানের মূল্যবান ঝাড়গুলোতে আলো ঝলমল করে। মনে হয় যেন পুরো বাজারটি দিনের মতো উজ্জ্বল। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকে আলোর জগৎ। বিশেষ করে শাহি দালানের ঝাড়বাতিগুলো খুবই উজ্জ্বল আলোকিত, যার জ্যোতি বাজারে বিনোদনের খোরাক জোগায়। বাজারটি যেন আশ্চর্য পরিদের উদ্যান।
খরিদদার ও ভ্রমণকারী নারীরা যদি ভালো করে সেজেগুজে আসত, তবে দোকানি নারীদের রূপ-সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যেত। তখন এটা আর বাজার থাকত না। মনে হতো যেন সৌন্দর্যের জমকালো প্রদর্শনী হল, যাতে হিন্দুস্তান তার সকল রূপ-সৌন্দর্য এনে জড়ো করেছে। সুন্দরী নারীরা এত সাজগোজ করেছে, দর্শনকারীরা তাদের দেখে হতবাক। আকাশের সৌন্দর্য, বসন্ত ও ঘাসের সৌন্দর্য, মানুষের মুখের সৌন্দর্য উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে পৃথিবীর শিল্পীরা যে পূর্ণতা দেখিয়েছে তা আগে কখনো দেখা যায়নি।
বাজার তো ছিল মণিমুক্তার। কিন্তু প্রশান্তিদায়ক দৃষ্টির সামনে এটি এমন এক সৌন্দর্য-বিকিকিনির বাজারে পরিণত হয়, যা শহরের বাজারগুলোকে নিরানন্দ করে তোলে। সুন্দর চেহারার দীপ্তির সামনে বিক্রির জন্য আনা হিরাজহরত বিবর্ণ হয়ে পড়ে।
কর্পূরের মোমবাতির মুখে বইতে থাকে বাতাস। এমন সৌন্দর্যের মাহফিল আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি। তা এমন দুর্লভ সৌন্দর্যের উপকরণে পূর্ণ ছিল এবং দোকানগুলোতে মণিমুক্তার পসরা সাজানো হয়েছিল, সেগুলো দেখে রানি ও শাহজাদিদ্বয় বাহবা দিচ্ছিল।
বাজার যখন নারীদের দ্বারা পূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন রানি পুনরায় একটি চক্কর দেন। দোকানগুলোতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে সুন্দরী নারী বিক্রেতা, তাদের ব্যবসায়ী পণ্য ও পরির মতো গ্রাহকদের গভীর দৃষ্টিতে দেখেন। আর মনে মনে হয়রান হয়ে যান, হিন্দুস্তান ধনদৌলত ও সৌন্দর্য দুদিক থেকে কতই না সমৃদ্ধ!
ব্যবসায়ী নারীরা মুচকি হেসে মোতি পেশ করলে রানি দ্বিধায় পড়ে যান, তাদের মুক্তোর মতো দাঁত দেখবেন না মোতি দেখবেন। তারা দুর্লভ লাল চুনি দেখালে রানির হতবিহ্বল দৃষ্টি লাল চুনির পরিবর্তে তাদের লাল ঠোঁটে আটকে যায়। এমন কোনো পাথর বসানো গয়না ছিল না, যা রূপসিদের চেহারার জ্যোতির সামনে ম্লান হতো না।
তিনি ভালো করে বাজার ঘুরে দেখেন। দোকানদার ও সুন্দরী নারীদের সাথে সাক্ষাৎ করে ক্লান্ত বিবশ হয়ে নিজের আলিশান দালানে ফেরেন। সখীরা লক্ষ করে তিনি বিষণ্ণ। কিন্তু কেউ তার কারণ জানতে সাহস করে না। এই বাজার তার হৃদয়ে এক অদ্ভুত প্রভাব ফেলেছে। তিনি আপন মনেই বলছিলেন—
এই সৌন্দর্যের বাজার যদি তার স্বামী দেখে, তাহলে আল্লাহই কেবল রক্ষাকারী। তার হৃদয় যেন স্থির থাকে, নিয়ত খারাপ না হয়। যখন নারীরাই এই সুন্দরীদের দেখে হতবাক, তখন পুরুষদের মন কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে? তাছাড়া শাহজাদা ও আমিরগণ যখন এই সৌন্দর্যের মেলায় আসবে, তখন তাদের অবস্থা কেমন হবে?
এমন তো হবে না, আমি যে মিনা বাজার খুলেছি তা দুনিয়ার জন্য বড় ফেতনা হয়ে উঠবে। শুধু শুধু আমি গুনাহগার হব। আমার বিশ্বস্ত স্বামী প্রতিজ্ঞা করেছেন, পথভ্রষ্ট হবেন না। তিনি হয়তো তার প্রতিজ্ঞার কথা মনে রাখবেন। কিন্তু তার সাথে যে শাহজাদা ও আমিরগণ আসবে তাদের মধ্যে কে দৃষ্টি হেফাজতের ওয়াদা করেছে? তাদের অধিকাংশের অবস্থা এমন হবে, এই সৌন্দর্যের বাজার দেখতেই নিজেদের স্ত্রীদের কথা ভুলে যাবে।
এসব ভাবতে ভাবতে তিনি আপন মনে বলেন, এটা কি ঠিক হবে, সকল নারী দোকানদারের সাথে দেখা করে জোর নির্দেশ দেবো, যখন বাদশাহ ও তার সঙ্গীরা আসবে, তখন তাদের চেহারায় ভালো করে পর্দা টেনে নেবে। কাউকে নিজের মুখ দেখাবে না! কিন্তু আমি হাজার বললেও কেউ এর ওপর আমল করবে না। বোরকার অনুমতি তো সাধারণভাবে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু নারীদের আশ্চর্য স্বভাব, সুন্দরী নারীদের নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শনের শখ থাকে।
পর্দা একটি শরয়ি বিধান; এই বিধানের কারণে নারীরা ঘর থেকে বের হয় না। কিন্তু এই বিধানটি তখনই মানা হয়, যখন নারীরা ঘরের ভেতরে থাকে। বাড়ির বাইরে বেরুলেই অদ্ভুত তামাশা দেখা যায়, ধর্মীয় নির্দেশের কারণে তো বৃদ্ধ নারীরা খাস পর্দা করে। তাদের পক্ষে চেহারা দেখানো অসম্ভব।
এর বিপরীতে যুবতি ও অল্প বয়সি মেয়েরা তাদের আবেগী স্বভাব ও অস্থিরতার কারণে সবখানে ইতস্তত তাকিয়ে থাকে এবং ُনিজেদের প্রদর্শন করে বেড়ায়। আর কারও সাথে চোখাচোখি হলে লজ্জায় মুখ লুকালে তা মুখ দেখানোর চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় ও বিপজ্জনক করে তোলে।
এ কারণে পর্দার জোর নির্দেশ দেওয়া হলেও বৃদ্ধ নারীরা, যাদের সংখ্যা এখানে নেহাতই কম, তারা তো পুরো পর্দা করবে। কিন্তু সেটা যুবতিদের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তারা যেকোনোভাবে সৌন্দর্য প্রদর্শন করবে।
তখন ওই মুখ দেখানো বেপর্দায় থাকার চেয়েও ভয়ংকর হবে। তাছাড়া এমন নির্দেশ জারি করলে বাদশাহর বিরুদ্ধাচরণ হবে। আমার কথা বিবেচনা করে মুখে কিছু না বললেও মনে মনে অসন্তুষ্ট হবে। মিনা বাজার খোলা হয়েছে কেবল তার আগ্রহ ও উৎসাহে। আর নারীদের ধনদৌলত ও নৈতিকতা বিষয়ে যা কিছু বলা হয়েছে সবই মিথ্যা-প্রতারণা। তার প্রকৃত উদ্দেশ্য, রূপ-সৌন্দর্যের তামাশা দেখা। এটা অনুমান করা যে, রাজ্যে কী পরিমাণ সুন্দরী-রূপসি নারী আছে।
রানি সর্বদিক বিবেচনা করেও এই আপদ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে পান না। এসব চিন্তা করতে করতে তিনি মহলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যাওয়ার পূর্বে এ নির্দেশ দিয়ে যান, ‘আগামীকাল বা পরশু হযরত জাহাপনা জিল্লুল্লাহ তার শাহজাদা ও দরবারিদের সাথে মিনা বাজার পরিদর্শনে আসবেন। তাই তার আগমনের পূর্বে কেউ কোনো কেনাবেচা করবেন না। দোকানদার ও ঘুরতে আসা নারীরা চাইলে তাদের চেহারায় নেকাব পরতে পারবেন।’
এ নির্দেশ দিয়ে রানি ও শাহজাদিদ্বয় ঘোড়ায় চড়ে প্রাসাদে ফিরে যান। বাজারে অর্ধরাত পর্যন্ত আনাগোনা চলতে থাকে। সকল ভ্রমণকারী ও অনেক দোকানদার নারীও তাদের দোকান হেফাজতের ব্যবস্থা করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়। কোনো দোকানি তার দোকানেই রাত কাটায়। রাজপ্রাসাদে ফিরে শাহজাদিরা তাদের প্রাসাদে চলে যায়। মমতাজ বেগম শাহজাহানের সান্নিধ্যে সিংহাসনে বসেন। বাদশাহ অপেক্ষায় ছিলেন, তাকে দেখতেই বলেন, ‘এসেছ? মিনা বাজারের উদ্বোধন ভালোভাবে হয়েছে? আমি অপেক্ষা করছিলাম, তুমি আসলে জিজ্ঞেস করব। বলো, উদ্বোধন কেমন হলো? কী পরিমাণ নারী এসেছে? তারা কেমন ও কোন স্তরের? সামগ্রী কত এবং কী ধরনের? দোকানিদের কী অবস্থা? তাদের চেহারা-সুরত কেমন? যেসব নারী ঘুরতে এসেছে তারা কেমন দেখতে? বিস্তারিত বলো, সেখানে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী কী করলে?’
‘পানাহ! আপনি একসাথে এতগুলো প্রশ্ন করেছেন, আমি মনে রাখতে পারছি না। আপনার মুনশিকে ডেকে লিখিয়ে নিলে আমার জবাব দিতে সুবিধা হবে।’
বাদশাহ মুচকি হেসে বলেন, ‘আমার মন এত অস্থির হয়ে আছে, যা কিছু জিজ্ঞেস করার সব একসাথে বলে ফেলেছি। লেখার কোনো দরকার নেই। যা ভুলে যাবে আমি জিজ্ঞেস করে নেব।’
‘প্রশ্নের ভারে সব ভুলে গেছি। এটাও মনে নেই জাহাপনা প্রথম কোন কথাটি জিজ্ঞেস করেছেন। হ্যাঁ, মনে পড়েছে, আপনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, উদ্বোধন কেমন হয়েছে? শুনুন তাহলে। আমি যখন সেখানে যাই, তখন বাজার সাজানো-গোছানো ছিল। সকল দোকানদার তাদের দোকানে চলে গিয়েছিল। তবে কেউই ভেতরে ঘুরতে যেতে পারছিল না।
আমি গিয়ে প্রথমে শাহি ভবনে যাই। এরপর বাজার ঘুরে দেখি। দোকানগুলো ঘুরে দেখি, নারীরা তাদের দোকান সজ্জিতকরণে ভালো নৈপুণ্য দেখিয়েছে। তারা দোকানগুলোকে সাজিয়েছে নববধূর বেশে। এমন সুন্দর অলংকারে সাজিয়েছে, আমি দেখে হতবাক হয়ে গেছি।
বাজার ও বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে দেখার পর আমি আবার শাহি ভবনে ফিরে আসি। আদেশ জারি করি, বাজারের ফটক খুলে দেওয়া হোক এবং বাইরে জমায়েত হওয়া নারীদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হোক। আমার সখীরা, মহলে কাজ করা নারী ও আমিরের স্ত্রীগণ, বিশেষ করে মন্ত্রী সাদুল্লাহ খানের স্ত্রী-কন্যারা নির্দেশ পেয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে যায়। যেসব নারী বাহন থেকে নামছিল তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে আমার কাছে নিয়ে আসে। এভাবে নারীরা নামতে থাকে, আর আমি ভবনের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সবাইকে স্বাগত জানাই।
‘সত্যিই তুমি আমার ধারণার চেয়েও বেশি বিনয় দেখিয়েছ। সাধারণত তুমি নিজের আসনে বসে থাকো। কোনো নারী আসলে নকিবা তোমার সুদৃষ্টি কামনা করলে তবেই তার দিকে ফিরে তাকাও।’
‘আমি তো আগেই বলেছি, এটা দরবার নয়, বাজার। এখানে ছোট-বড় সবাইকে সমানভাবে সুন্দর ব্যবহারের সাথে মিশতে হবে। সাধারণ নারীদের প্রভাবিত করতেই আমি এই পদ্ধতি অবলম্বন করি। এটা মহলে কীভাবে সম্ভব?
‘এজন্য আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ। বলো, তারপর কী হলো?’
‘এভাবে তারা আমার সাথে দেখা করে খুশি হয়। যদিও অল্প সংখ্যক নারীই কথা বলার সাহস দেখায়। তবে তাদের চোখেমুখে কৃতজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট।’
‘তা-ই হওয়া উচিত। তোমার কোনো ধারণা আছে, প্রথম দিন উদ্বোধনে কী পরিমাণ নারী এসেছে?’
‘আমার অনুমানে দোকানি নারীদের সংখ্যা ৪-৫ হাজার হবে। ১২শ দোকান আছে এবং প্রতিটি সম্ভ্রান্ত ও ধনী দোকানি তাদের সাথে দুই-তিনজন করে নারী অবশ্যই এনেছেন। এ থেকে অনুমান করা যায়, প্রায় ৫ হাজার নারী উপস্থিত ছিলেন।
যারা দেখতে ও ঘুরতে এসেছিল, তাদের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি নয়। তারপর আমার পক্ষ থেকে ৪শ নারীকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বেশ ভালো সমাগম ঘটেছিল আর বাজারে প্রচুর ভিড় ছিল। সন্ধ্যায় আলো জ্বলতেই এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়। এমন মনোরম পরিবেশ, যেটা ভাষায় বর্ণনা করতে পারব না। এরপর মহাশয় আর কী জিজ্ঞাসা করেছিলেন? আমি তা একদমই ভুলে গেছি।’
‘আমি সম্ভবত এটা জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারা কোন ধরনের নারী এবং তাদের অবস্থাদি কেমন?’
‘আজ আমি সেখানে কোনো গরিব বা নিম্নবর্গের নারীকে দেখিনি। বিক্রেতা নারীরা সবাই খুব ধনী প্রভাবশালী লোকদের স্ত্রী ও কন্যা। এমনকি ঘুরতে আসা নারীরা সবাই উচ্চপদস্থদের স্ত্রী এবং অধিকাংশই দোকানিদের আত্মীয়স্বজন। সেখানে কোনো সাধারণ নারীকে দেখিনি।’
‘এরপর আমার প্রশ্ন, দোকানিদের অবস্থা কেমন? তাদের কাছে কী পরিমাণ পণ্য ছিল? পণ্যগুলো কী ধরনের?’
‘দোকানিদের অবস্থা আমি আগেই বলেছি। তবে সবাই খুব খুশি আর এমন সাজগোজ ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে দোকানে বসেছে, তাদের মুখ ছাড়া কারও নজর তাদের পণ্য বা দোকানের সাজসজ্জায় পড়ে না। মনে হয়, মানুষ তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে দেখতে চায়। ঘুরতে আসা নারীরা তাদের দেখার পাশাপাশি নিজেদের প্রদর্শনেরও শখ মেটায়।
উভয়ে মিলে বাজারকে যেন স্বর্গ করে তুলেছে। আর মনে হয়, কোহেকাফের পরিদের এখানে জড়ো করা হয়েছে। তবে দোকানগুলোতে পণ্য খুব বেশি দেখা যায়নি। অধিকাংশ দোকানি মণিমুক্তা বিক্রি করতে এসেছে। তাদের দোকান পণ্যে ভরিয়ে তুলবে এমনটি আশা করা যায় না। কিন্তু যারা নিজ হাতে তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে এসেছে, তাদের দোকানগুলো ভালোই ভরে উঠেছে আর দেখাচ্ছেও খুব চমৎকার।’
‘মণিমুক্তার দোকানগুলো আরও সজ্জিত হওয়া উচিত। তুমি কাল গিয়ে এর ব্যবস্থা করাবে।’
‘অবশ্যই আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। তবে তা না করেও দোকানগুলো এত সমৃদ্ধ ও জমজমাট হয়েছে, দেখলেই মন ভরে যায়।’
‘এরপর বলো আমি কী জিজ্ঞেস করেছিলাম?’
‘এরপর মহামান্য যা জিজ্ঞেস করেছেন তা আমি কখনোই ভুলব না। আপনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, দোকানি নারীদের রূপ-সৌন্দর্য্য কেমন? এটা কি ভোলার বিষয়? যদিও এ সম্পর্কে আগে বলেছি, তবুও আপনার আগ্রহের খাতিরে আবারও বলছি। সবাই যেন জান্নাতি হুর। একে মিনা বাজার বা মণিমুক্তার বাজার বলা ঠিক হবে না। বলতে হবে সৌন্দর্যের বাজার, আর আগ্রহী চোখ এর ক্রেতা। আমি মনে করি এটাই জাহাপনার আসল উদ্দেশ্য, যা খুব ভালো ও আশার চেয়ে বেশি পূরণ হয়েছে। আপনি তা দেখলে এক আশ্চর্য ঘোরের মধ্যে থাকবেন।’
‘আমার এমন নিয়ত থাকলে কি কোনো সমস্যা আছে? সুন্দর রূপ দেখা কি গুনাহ?’
‘গুনাহ তো নির্ভর করে দর্শনকারীর দৃষ্টি ও তার মনের খেয়ালের ওপর। যে খারাপ চোখে দেখবে ও খারাপ নিয়ত রাখবে সে গুনাহগার হবে। আর যে পবিত্র মনে দেখবে তার জন্য গুনাহ নেই। কিন্তু ভাবনার বিষয় হলো, এত সুন্দরীর ভিড়ে একজন মানুষ কীভাবে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে?’
‘তুমি কি আমার প্রতি সন্দেহ পোষণ করছ?’
‘হযরত তো স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো নারীকে খারাপ চোখে দেখবেন না। এটা সবার প্রশান্তি ও স্বস্তির জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আপনার সাথে যেসব শাহজাদা ও আমিরগণ এই সৌন্দর্যের বাজারে যাবে, তাদের কী হবে? তারা তো কোনো ওয়াদা করেনি। আমার ভয় হয়, মহামান্যের প্রথম কেনাকাটাতেই সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমি মনে করি এসব সুন্দরী নারীকে দেখার পর খুব কম সংখ্যক পুরুষই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।’
‘ইনশাআল্লাহ, এমন হবে না। আমি এ ব্যাপারে পূর্ণ খেয়াল রাখব। যাওয়ার সময় সবাইকে বুঝিয়ে দেবো। সবার কাছ থেকে অঙ্গীকার নেব, যারা ভেতরে যাবে কোনো নারীর প্রতি কুদৃষ্টি দেবে না। যারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে না, তারা ভেতরে যাবে না। তুমি কি মনে করছ আমার এ নির্দেশ ও অঙ্গীকার নেওয়ার ফলে কোনো প্রভাব পড়বে না?’
‘অবশ্যই প্রভাব পড়বে। আমি এর ওপর আশ্বস্ত হচ্ছি। এছাড়া আর কী-ই বা উপায় আছে? আল্লাহ না করুক, যদি বাজারের কারণে কোনো ফেতনা হয়, আমি নিজের মুখ দেখাতে পারব না। আর আপনাকেও মানুষ আড়ালে সমালোচনা করবে। তাই আমার নিবেদন হলো, মহামান্য এ ব্যাপারে সতর্ক হবেন এবং এর প্রতি সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।’
‘আমি দেখাশোনায় কোনো কমতি রাখব না। আচ্ছা, তুমি তো সবকিছুরই বর্ণনা দিয়েছ। তারপরও আরেকবার বলো, সেখানে গিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী কী করেছ। হয়তো কোনো বিষয় থেকে যেতে পারে যা আমার জানা জরুরি।’
‘আমি গিয়েই একটু বিশ্রাম নিতে আমার ভবনে যাই। এরপর সঙ্গীদের নিয়ে বাজার ঘুরে দেখি। দোকান আর দোকানিদের অবস্থা নিজ চোখে পর্যবেক্ষণ করি। অনেক দোকানি, যাদের দোকানে আমি গিয়েছি, তাদের অনেকেই আমার সঙ্গী হয়।
এভাবে নারীদের একটি বড় দল আমার সঙ্গী হয়ে পড়ে। তাদের সাথে আমি বিনোদন কেন্দ্রের উদ্যানে পৌঁছাই। সেখানে আমার সিংহাসনের ওপর বসি। জাহানারা ও রওশনারা আমার ডান-বামে বসে। সঙ্গে আসা সব নারীকেও আমি পাশে বসতে বলি।
কতক নারী উপহার নিয়ে আসে। আমি তাদের ওপর হাত রেখে বলি, এটা কোনো দরবার নয়, বাজার। এখানে আমরা সবাই সমান। আমরা শুধু পরস্পরের সঙ্গে ভালোবাসা ও স্নেহের বিনিময় করতে এসেছি। দরবারে ধনীরা বেশি সম্মান পায়, কিন্তু এখানে গরিবদের মর্যাদা বেশি। এ কারণে সম্পদশালী নারীদের উচিত নিজেদের মর্যাদা অনুযায়ী গরিব নারীদের থেকে আদব ও সম্মানের আশা না করে তাদের সম্মান করা। কেউ যেন মনে কষ্ট না পায়।
আমার কথা বড় প্রভাব ফেলে। অসহায় নারীদের মুখে কৃতজ্ঞতার আলো ফুটে ওঠে। এমনকি সম্ভ্রান্ত ও ধনী নারীরাও খুশি ছিল।’
‘এখন খুশি হবেই। মন থেকেই খুশি হবে। কিন্তু যখন এই নীতি অনুযায়ী আমল করবে, তখন ধনী নারীরা খুশি থাকবে না। এতে নিজেরা অপমান বোধ করবে। তবে তারা যাই ভাবুক না কেন, আজ তুমি সেখানে সম্পূর্ণ শাহি শৈলী এবং একজন প্রকৃত রানির যোগ্যতা দেখিয়েছ। দুনিয়ার রাজত্ব কেবল এ কারণে, যাতে আমির ও ধনী লোকেরা গরিব ও নিম্নবর্গের ওপর অত্যাচার করতে না পারে।
এই পৃথিবীতে সবাই একই সম্মান-মর্যাদা ও সমান স্তরে থাকবে, এটা সম্ভব নয়। নিজের পরিশ্রম, যোগ্যতা, সাহস ও অবদানের ভিত্তিতে কেউ কেউ উন্নতি করে। এরপর নিজ ক্ষমতা ও প্রভাবের অহংকারে অন্যের ওপর অত্যাচার করে; গরিবদের অবমাননা করে। সুতরাং নিপীড়িতদের ন্যায়বিচার করার লক্ষ্যে খোদা রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।
খারেজিরা ও অনেক প্রাচীনপন্থি লোকেরা ভুলবশত ধরে নেয়, রাজ্যে যখন কেউ রাজা হয়, তখন সে সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে। এটি মানব সমতাবিরোধী। এ কারণে তারা খোদ রাজ্যেরই শত্রু হয়ে সকল বাদশাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। কিন্তু তারা এ বিষয়টি ভাবে না, বাদশাহকে বানানো হয়েছে কেবল মানুষের মধ্যে সমতা রক্ষার জন্য। যদি কোনো বাদশাহ অত্যাচারী ও অহংকারী হয়ে ওঠে এবং প্রকৃত দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে শরিয়ত ও নৈতিকতার দৃষ্টিতে প্রজারা বিদ্রোহ করে তাকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করে ন্যায়পরায়ণ ও সৎ রাজা নির্বাচনের অধিকার রাখে। তুমি আজ তোমার দায়িত্ব পালন করেছ।’
‘আমি জানি না আমার কর্তব্য কী। তাছাড়া এত বুদ্ধিও আমার নেই যে আপনার মতো এমন জ্ঞানগর্ভ কথা আমার মাথায় আসবে। হ্যাঁ, তবে যা ভালো ও উপকারী মনে হয়, তা করার চেষ্টা করি। নারীদের বিষয়টি বোঝানোর পর আমি নিজ দালানে এসে বাজারের ফটক খুলে দিই। আর যেমনটি বলেছিলাম আগত নারীদের স্বাগত জানাই। সন্ধ্যায় অনেক লোক ঘুরতে আসলে আবারও বাজার ঘুরে দেখি। দোকানদার ও আগত লোকদের পারস্পরিক আচরণ, অবস্থা, পণ্য ইত্যাদি দেখে প্রাসাদে ফিরি।
এরপর ঘোষণা করে বলি, “কাল বা পরশু জাহাপনা আমির ও শাহজাদাদের সাথে বাজারে এসে ব্যক্তিগত কেনাকাটা করে যাবেন।”
‘এরও ঘোষণা দিয়ে দিয়েছ? ভালোই হয়েছে। আগামীকাল গিয়ে দেখবে সাধারণ নারীদের ওপর কী প্রভাব ফেলে। তুমি গতকাল বা পরশুর কথা বলে ভালো করেছ। সবাই ভাববে আমি কালই চলে আসব। ফলে যারা একে অশোভন মনে করবে, তারা কাল আসবে না। আগামীকাল তুমি গিয়ে দেখবে, নারীদের ভিড় কম না বেশি। যদি ভিড় বেশি হয়, তাহলে বুঝে নেবে সবাই আমার আগমনে খুশি। এতে তারা কোনো অসুবিধা দেখছে না।
যদি লোকসংখ্যা কম হয় তাহলে বুঝবে আমার আগমনে তারা খুশি নয়। লোক সমাগম বেশি দেখলে কোনো দ্বিধা না করে ঘোষণা করবে, আমি আজকের চতুর্থ দিন সোমবারে মিনা বাজার পরিদর্শনে যাব। আর কম দেখতে পেলে ঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা একসাথে ভেবে দেখব কী করা যায় এবং কীভাবে নারীদের আশ্বস্ত করা যায়। তারপর যা ভালো মনে করব তা-ই করব।’
এই সিদ্ধান্তে বৈঠক শেষ হয়। বাদশাহ এসব বিষয়ে এতই মগ্ন হয়ে পড়েন, অন্যদিনের তুলনায় আজ একটু দেরিতে মোতি মসজিদে এশার নামাজ পড়তে যান।