দুয়ারে পাষাণ তালা (দশম কিস্তি)

মূল : মুস্তফা করিম

আরমান আল-বাঙালি

নুরা থকানের মারে সবার থেকে আলাগ হইয়া গুটিশুটি মাইরা বসে। 

আমার জিল্লতি এখনো ফুরায় নাই। এদের সাথে কিনা এখন আমার বসা লাগবে। এদের দেওয়া দুধ আমার বেটির খাওয়া লাগবে। আমার কপালই আসলে খারাপ, তভি তো আরও নীচ হইয়া গেলাম।

ক্লান্ত মগজে এইসবই ঘুরপাক খায় নুরার মাথায়। একসময় মাটির পেয়ালায় এক নারী দুধ নিয়া আসে। নুরা তার হাত হইতে পেয়ালাখানা নিয়া শাদানের মুখে ধরে।

খানিকবাদে কতক জোয়ান নারী-পুরুষ আসে। তাদের গায়ে-কাপড়ে লাল ধুলামাটির আস্তর দেখা যায়। এই গাঁয়েই থাকে এরা—দূরে কোথায় কোন মাকান বনতেছে, ওইখানে ইটভাঙা আর জোগানের কাজ কইরা আসছে। সাঁঝের বেলা আন্ধেরা ছাইয়া আসা আবছায়ার ভিতরে এদের সরু-সন্দিগ্ধ দৃষ্টি নুরার চোখে পড়ে না। কাছেই বইসা আছে রেনো, একটা শুকনা রুটি দইয়ে ভিজাইয়া খাইতেছে, খানিক আগেই যেগুলি তার সামনে রাইখা গেছে এক নারী। একই খাবারের জন্য নুরারেও সাধছিল সে। কিন্তু নুরা মাথা নাড়াইয়া না বইলা দিছে। এখন তার খিদা নাই, পিয়াসাও নাই, সেরেফ এক খওফনাক আন্ধেরা দূর দূর তক ফয়লাইয়া আছে, যেখানে থাইকা থাইকা আশার মৃদু মৃদু কিরণেরা ঝিলিক দিয়া ওঠে, রেনোর হার্দিকতা না থাকলে সেগুলিও হয়তো থাকত না।

অবশেষে গরমের ঝিমধরা ভ্যাপসা মন্থর সন্ধ্যাবেলা ফুরাইয়া আসে। আন্ধেরা তার নিশ্ছিদ্র আবরণে দশদিক ছাইয়া ফেললে গাঁয়ের ঘরগুলিতে চুলার আগুন অন্ধকারে দানবের জ্বলজ্বল চোখের মতন জ্বইলা ওঠে। সুনসান নীরবতার মাঝে বাচ্চাদের কান্না আর কুত্তার ঘেউঘেউ প্রকট হইয়া কানে বাজে। 

নুরা কাউরে কিছু বলে না। কোট ফাতাহ খানে যাইবার লাই সে উইঠা দাঁড়ায়। রেনো একবার নুরার সাথে যাইতে চায়, পরে হিম্মত হয় না তার। রাতের বেলা মালিক জহিরের গাঁয়ে তো বটেই, আশেপাশেরও কোনো গাঁয়ে যাওয়া তার জন্য হারাম। রাতের আন্ধারে নীচ জাতের লোকেরা জঘন্যসব কুকর্ম করে। যুগ যুগ ধইরা তাদের কুকর্মা ঠাওরানো হইতেছে। ফাসাদের সময়ে মুসলমানেরা এদের দয়া কইরা থাকতে দিছিল। তাছাড়া মরা জানোয়ার উঠানোর জন্যও এদের রাখার জরুরত ছিল।

‘বেটি, দরকার লাগলে কইস।’

‘আল্লাহ তোমার ভালো করুক,’ নুরা শুধু এইটুকুই বলতে পারে। তার মনে চায় রেনোরে তার সাথে আসতে বলে। কিন্তু যুগযুগের জমানো জাতঘিন্না আর বেগানায়ির দেয়াল এত সহজে ধইসা পড়বার নয়। দুনিয়ায় তার চাইতেও নীচ জাতের লোক আছে, এই সবক বংশপরম্পরায় তার পর্যন্ত আইসা পৌঁছাইছে। অন্য কোনো দিন হইলে রেনোরে খারাপ ভাষায় বলত সে। যেই জিল্লতি নুরা সইছে, তার আক্রোশ অন্য কারও ওপর ঝাড়তে পারলে মনের জ্বালা মিটত খানিকটা। কিন্তু আজ না। রেনোর ইনসানিয়ত নুরার ভিতরকার অনেক জটিল গিরা খুইলা দিছে। চিড় ধরাইছে ঘিন্নার জমাট পলেস্তারায়। ঝলসানো গরমের সন্ধ্যায় রেনোর হামদর্দি যেন একখণ্ড রহমের মেঘ, একপশলা মিহি বারিশ। তবু নুরার দ্বিধা কাটে না।

গাঁয়ের লোকদের নজর বাঁচাইয়া আমবাগানে পৌঁছায় সে। ভাবে, এখান দিয়া চুপিসারে কুঠুরিতে ঢুকতে পারবে। গাছপালা আর ঝোপঝাড়ের আড়ালে ঝিঁঝিপোকার দল একটানা ডাকে। বাতাসে ভাইসা বেড়ায় ঘুটা পোড়ানোর গন্ধ আর আমের ঘেরান। 

কিন্তু কুঠুরির দরজায় আইসা দিল বইসা যায় নুরার। দুয়ারে পাষাণ তালা ঝুলতেছে। চারপায়া আর দুইচারটা বাটিঘটি যা ছিল সব অযত্নে পইড়া আছে বাইরে। বকরিটা বান্ধা আছে চারপায়ার এক পায়ার সাথে। নুরা বুইঝা যায়, গাঁও ছাড়ার ফরমান দেওয়া হইছে তারে। 

আন্ধেরা রাত। আবছায়া তারায় ভরা আকাশ। হাবেলির বন্ধ ফটকের পাশে অশ্বত্থের গাছটা অশুভ আত্মার মতন ডালপালা ছড়াইয়া দিছে চারদিকে। প্রকৃতি তার বিশালতার মাঝে ক্ষুদ্র হীন ক্ষীণ নিঃসঙ্গ দুই মা-বেটিরে যেন লুপ্ত কইরা নিতে চায়।

‘ঠিক আছে, মালিক। আমাদের মতন অভাগাদের দোষই খালি চোখে পড়ে তোর।’ খোদার দরবারে মালিক জহিরের শেকায়েত জানাইতে জানাইতে চারপায়ার ওপর বইসা পড়ে নুরা। এখন আর রোনা আসে না। আঁসুর দল শুকাইয়া গেছে কবে। চিন্তার দুয়ারগুলি একে একে বন্ধ হইয়া আসতেছে। অবশ হইয়া পড়তেছে সমস্ত দৈহিক অনুভূতি। শুধু দিল ধড়কায়, তেজভাবে ধড়কায়—তার জিন্দেগির আখেরি আলামত, তার অজুদের নিশানা। 

হুঁশ ফেরে নুরার। এইভাবে বাঁইচা থাকা যাবে না, ভাবে সে। খোলা আসমানের নিচে দানাপানিহীন মানুষ দিনদুয়েকের বেশি জিন্দা থাকতে পারে না। বে-ঘর মানুষের জিন্দেগি যাপন দুশওয়ার। এই সেই কুঠরি যেখানে একদা দুই ঘড়ি শান্তি পাইছিল সে। এখানেই তার জনম, বাইড়া ওঠা, জোয়ান হওয়া, শাদি হওয়া। এই ছিল তার বাপ-মায়ের ঠিকানা। কিন্তু তবু দিনশেষে এ তো মালিক জহিরেরই জায়েদাদ। এখান থেকে সে অন্যসব কিষাণের মতো নুরারেও বহিষ্কার করতে পারে এবং আজ সেই লমহাই আগত। নুরা তার পাপের ফল পাইছে। খোদা তার এক বান্দা দিয়া আরেক বান্দারে সাজা দেন।

‘তোর মার বাঁইচা থাকনের আশা নাই, বেটি। মইরা যাবে তোর মা।’ কম্পিত ঠোঁটে বলে নুরা, নিজের গাল মেয়ের উষ্ণ ঠোঁটে লাগায়। মায়ের গর্দান শক্ত নিগড়ে জড়াইয়া ধরে শাদান, নরম ঠোঁটে চুমা খায় নুরার গালে।

‘মা.. মা..’ মাতৃপ্রেমে আপ্লুত হইয়া ডাকে শাদান। তার কণ্ঠে আশ্রয়ের আকুতি। যেনবা বলে, ‘আমারে সেই আপদ হইতে বাঁচা যা তোর ভাগ্য হইয়া গেছে।’ 

অজুদের কোথায় কোন শিকড়ে যেন টান পড়ে নুরার। কীসের একটা জোশ তার সর্বসত্তায় ভর করে, তারে শিখা দেয়, উত্তাপ দেয়। শাদানের চোখের পানে তাকায় নুরা। বেটির জিসিমের চেনা গন্ধ নাকে টানে।

‘আমি মরব না বেটি। তোর মা তোর লাইগা বাঁইচা থাকবে।’ নুরার কথা তার হৃদয়ের প্রতিধ্বনি হইয়া বাজে। শাদানরে সবটা শক্তি দিয়া বুকে জড়াইয়া লয় সে। মেয়ের শরীরের উত্তাপ সঞ্চারিত হয় তার শিরায়-উপশিরায়। সে তার কাছে এমন আমানত যার হেফাজতের উম্মিদ অন্য কারও কাছে রাখা যায় না। 

চারপায়ার ওপর স্তূপাকারে পইড়া থাকা পুরাতন কাঁথাকাপড় একপাশে সরাইয়া নুরা শাদানরে নিয়া শুইয়া পড়ে। দৃষ্টির সীমানায় ঝুইলা থাকে খোলা আসমান। অনন্ত নক্ষত্রবীথি তারে মায়াজালের মতন টানে। সম্মোহিত চোখে তাকাইয়া থাকে নুরা। মাঝেমধ্যে তার দৃষ্টিবিভ্রম ঘটে। লাগে যেন তারকারা ছুইটা যায়, একটা আরেকটার পিছনে ধাওয়া করে। রাতের বাতাসে প্রহেলিকা ভাসে, হাবেলির ওপর দিয়া ধোঁয়ার মতন উইড়া যায়। পাথুরে মসজিদে গম্বুজে মিনারে ছাইয়া থাকে বোবা নিস্তব্ধতা। চারপাশে কোনো দুশমন নাই তো দোস্তও নাই। অশ্বত্থের গাছটা, যার ডালে দোলনা ঝুলাইয়া ঝুল খাইত সে, বাচপানেও, বড়ো হইয়াও, সেই গাছটারেও লাগে অচেনা।

বেশ দেরি কইরা মসজিদের মিনারে এশার আজান ধ্বনিত হয়। মজিদ আজান দিতেছে। যেরকম নির্দয়ভাবে সে ওয়াজেদরে মারছিল তা ফের চোখের সামনে ভাইসা ওঠে নুরার। ‘খোদা, ওর ওপর গজব ডালো। ওই হাবেলির ওপর বিজলি গিরাও। মালিক জহিররে নাস্তানাবুদ কইরা দাও যার নগ্ন লোমশ পা আমারে মালিশ করতে হইত। ইমাম আমার স্বামী। তারে হেফাজত করো, তার ওপর রহম করো।’ নুরা বারবার একই দোয়া করে। 

ধীরে ধীরে আকাশের তারকারা একটা দুইটা কইরা নিভতে থাকে আর তা দেখতে দেখতে চোখ বুইজা আসে নুরার। কিন্তু ঘুম ভালো হয় না। এপাশ-ওপাশ কইরা রাত পার করে সে। অতঃপর দূর দিগন্তে যখন ভোরের উজালা উদিত হয়, তখন মজিদের গলাখাকারিতে তার ঘুম ভাঙে।

‘তুই এইখানে থাকতে পারবি না। মালিকের হুকুম।’ উত্তেজিত গলায় বলে মজিদ। 

নুরা তার পড়শি। ওর বাপ-মাও আজীবন কাটাইছে তার পড়শে। নুরার মতন তারাও তারে আপনা মানত। কিন্তু মজিদের চোখে এইসব রিশতার কোনো মানে নাই। জিন্দেগিভর সে বেশুমার গুনাহ করছে এবং সেগুলির কথা ভুইলাও সারছে। তার বিশ্বাস, খোদা তারে মাফ কইরা দিছেন। বছরের পর বছরের রিয়াজত-মুজাহাদা বিফলে যাওয়ার কথা না। সে খোদার হইয়া গেছে, খোদাও তার হইয়া গিয়া থাকবেন। মানুষ ও মানুষের জীবন, তাদের মহব্বত ও নফরত, তাদের লালসা ও হিংসা, তাদের তামান্না ও আরজু, তার চোখে এইসবের কোনো মূল্য নাই। কামেল লোকদের এইসব নিয়া মাথা ঘামানোর জরুরত হয় না। খোদার এশকে জ্বলতেছে এমন লোকের এত অবসর কই যে সে আরেক মানুষের কমজোরিরে নিজের কমজোরি ভাইবা চিন্তা করবে?

মজিদের কথার জবাব দেয় না নুরা। যতখানি সামান উঠাইতে পারে, মাথায় তুইলা রেনোর উদ্দেশে রওনা দেয়। গতকালের ঘটনা সারা গাঁও জাইনা গেছে। রাস্তাঘাটে যারাই নুরারে দেখে, গালি বকে, খিস্তি আওড়ায়। নুরা শুইনাও না-শোনা কইরা দেয়। 

 

***

 

কুঠুরির সামনে বইসা রেনো তার বান্দরগুলারে জলে ভিজানো ছোলাবুট খাওয়াইতেছে। এরকম সময় কোট ফাতাহ খানের দিক থেকে যেই রাস্তাটা তার এলাকায় আইসা ঢুকছে তার মাথায় নুরারে সামানসহ আসতে দেখে সে। নুরার অপারগ দশা বুঝতে পারে রেনো। কাছে আসলে কান্ধের ওপর ঘুমন্ত শাদানরে দেইখা সে স্নেহভইরা হাসে।

‘আমি এখানে কিছুদিনের জন্য থাকতে পারি?’ নুরা আর্জি জানায়। আশাভরা চোখে তাকাইয়া থাকে রেনোর দিকে।

রেনো একটু ভাবে। তারপর দাঁত বাইর কইরা বলে, ‘হাঁ, থাইকা যা এইখানে। একটা আধভাঙা ঘরে আগে বকরি-ভেড়া বান্ধা হইত, ওইটা সাফ কইরা মেরামত কইরা দেবো।’ তার চেয়ে উঁচা জাতের কাউরে আশ্রয় দিলে তার মান বাড়বে, ভাবে রেনো।

নুরা গাঁয়ে দুই ফেরি লাগায় এবং সামানপত্র যা ছিল তা নিয়া বকরিসহ চইলা আসে। রেনোরে সে বলে, সে মসজিদের ইমামরে শাদি করছিল। কিন্তু গাঁয়ের লোকেরা তা মাইনা লয় নাই, যেহেতু তার আগের স্বামী এখনো জিন্দা আছে বইলা ধারণা। এইজন্য মালিকের হুকুমে গাঁয়ের লোকেরা ইমামরে মাইরা ভাগাইছে আর তারে গাঁও থেকে বহিষ্কার করছে। 

রেনো তার কথা বিশ্বাস করে কি না বুঝতে পারে না নুরা। সে ডরে ডরে দিন কাটাইতে লাগে। হার রোজ এই আশায় বাঁচে যে একদিন ইমাম ওয়াজেদ তার তালাশে এইখানে আইসা হাজির হবে।

 

৪.

কোট ফাতাহ খানের কতিপয় বুজুর্গ যদি না আগাইয়া আসতেন তো ওয়াজেদরে পিটাইতে পিটাইতে মওতের ঘাটে উতরাইয়া দেওয়া হইত। কিন্তু সম্মানিত বুজুর্গগণের কথায় প্রহারকারীরা প্রহার হইতে বিরত হইয়া ওয়াজেদরে গ্রামের বাইরে পশ্চাদ্দেশে যথাবিহিত লাত্থি ও ঘাড়ের উত্তর মুড়ায় চূড়ান্ত চপাটের সহিত বিদায় জানাইয়া গালি বকতে বকতে ওয়াপেস চইলা আসে। 

ওয়াজেদের বিশ্বাস হইতে চায় না যে সে ছুটকারা পাইছে। পিছন ফিরা তাকানোর জুররত নাই তার। যৎসামান্য শক্তি শরীরে অবশিষ্ট আছে, তা সম্বল কইরা সে হাঁচড়াইয়া-পাচড়াইয়া উইঠা দাঁড়ায়, অতঃপর ভাগতে শুরু করে। না মাথার ওপর প্রখর রোদের ঠাহর তার থাকে, না পায়ের নিচের কঙ্করময় পথের। দূরে নারিয়া নামক শহরতলির রেলওয়ে স্টেশনে কোনোভাবে পৌঁছাইতে হবে তার। যেকোনো মূল্যে কোট ফাতাহ খান ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ছাইড়া দূরে যাইতে হবে—এমন কোনো জায়গায়, যেখানে কেউ তারে চেনে না, যেখানে কোট ফাতাহ খানের কারও যাতায়াত নাই, এই তার খায়েশ। দৌড়ের ধকলে তার বুক হাপরের মতন উঠানামা করে, শরীর ঘামে জবজব করে। আখেরকার সে সড়কের ধারে একটা বটগাছের ছায়ায় বসে কিছুক্ষণের জন্যে। একটু ধাতস্থ হইলে আস্তিন দিয়া মোছে ঘামে ভিজা চেহারা। কাপড়ের ওপর রক্তের ছোপ ছোপ দাগ দেইখা তার রুহ জিল্লতির মারে নুইয়া পড়ে, লাঞ্ছনাবোধে হয় জর্জরিত। তার মস্তক অবনত, জিহ্বা শুকাইয়া কাঠ, শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত, যেন জখমি হরিণ। খানিকবাদে মাথা তুললে চোখে পড়ে সেই সড়ক যেই পথে সে এতদূর ভাইগা আসছে। কোট ফাতাহ খান থেকে সে বহুদূর আইসা পড়ছে। গাঁয়ের নামনিশানাও আর চোখে পড়ে না। আলবাত্তা দূরে ধূসর দিগন্তের কিনারায় যেখানে সড়ক গাছগাছালির ভিতরে গুম হইয়া গেছে সেখানে একদল লোকরে আসতে দেখে, তার দিকেই আসতেছে শায়েদ, তারে বকেয়া সাজা দেওয়ার জন্যে। উইঠা দাঁড়ায় ওয়াজেদ। কিন্তু এখন দৌড়ানো অসম্ভব। পায়ে লাগে যেন কয়েক মনের বোঝা বাইন্ধা দেওয়া হইছে। কোনোমতে পা টাইনা টাইনা চলে সে। 

‘খোদা! বহুত বড়ো গুনাহ করছি আমি। আমারে মাফ করো। এই জালেমদের হাত থেকে বাঁচাও।’ ওয়াজেদের কণ্ঠ কাঁপে-কাঁপে।

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments