মিনা বাজার (তৃতীয় পর্ব)

মূল : আব্দুল হালিম শরর লখনভি

মাসুম বিন শাহাদাত

নির্মাণ ও সাজসজ্জা 

তৃতীয় দিন মিনা বাজারের দালানের নকশা রানির নিরীক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। বাদশাহ ও বেগম তা নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করে। মহেলের সম্মানিত সুরুচিবোধ-সম্পন্ন নারী ও কতক আমিরের স্ত্রীকে দেখিয়ে পরামর্শ নেওয়া হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নকশাটি প্রধান স্থপতির কাছে পাঠানো হয়, যেন এর উপযুক্ত একটি আলিশান দালান দ্রুত নির্মাণ করে। 

বাদশাহর জন্য নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়, সপ্তাহে দুই-তিন বার নিজে উপস্থিত থেকে পরিদর্শন করা—নির্মাণকাজ কতটুকু হলো, কীরূপ গতিতে চলছে। অন্দরমহলে থাকলে রানির সাথে অধিকাংশ সময় বাজারের আলাপ হয়। বাজারের গঠন-বিন্যাস, সাজসজ্জার বিষয় নিয়ে চিন্তাফিকির চলে।

প্রায় তিন মাসে দালানের কাজ সম্পন্ন  হয়। সেইসাথে সাজসজ্জাও পরিপূর্ণ হয়। চত্বরে একটি বড় প্রশস্ত প্রাঙ্গন রাখা হয়, যেখানে হাতি-ঘোড়া ও ঘোড়া-মহিষ টানা গাড়ি এবং সব ধরনের সওয়ারী সহজে যেতে পারে। প্রাঙ্গনের আশপাশে প্রায় একশো বিশটি কুঠুরি। 

কুঠুরিগুলো এ উদ্দেশ্যে নির্মিত, যাতে গাড়িঘোড়া রাখা যায়, ঘোড়া-মহিষ বাঁধা যায়। প্রবেশদ্বারের কাছে ভেতর দিকে হাতি বাঁধার জন্য হাতিশালার মতো উঁচু জায়গা রাখা হয়। মোটকথা, যেসব উচ্চ মর্যদা-সম্পন্ন শাহজাদি ও বেগম আসবেন, তাদের সওয়ারী রাখার জন্য এই প্রাঙ্গনটিই যথেষ্ট।

এছাড়াও অন্য প্রবেশদ্বার আছে, যেখানে রয়েছে পর্দার সুব্যবস্থা। সকল নারী তাতে প্রবেশ করে শান্তিপূর্ণভাবে বাজারে যেতে পারবে। তাদের প্রস্থানের পর সওয়ারী বাইরে অবস্থান করবে। বাজারের বিশেষ দরজাটি খুবই সুন্দর মনোগ্রাহী। তার ওপর শিল্পীরা সুন্দরভাবে লতাগুল্ম এঁকেছে, সুন্দর অভিনব শিল্পকর্ম করেছে। সর্বত্র স্বর্ণপানি দিয়ে লেপে এমন পালিশ করা হয়েছে যে, তৈমুরি রাজত্বের সম্মান ও পূর্ণতা দেখে দর্শনার্থীদের চোখ ধাঁধায়। 

দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই বাজার। তার ওপর দৃষ্টি পড়তেই চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে। দুটি বড় প্রশস্ত রাস্তা পরস্পর ছিন্ন করে চারদিকে ঘিরে চলে গেছে। সামনেই একটি প্রশস্ত মাঠ, যার মধ্যে একটি সুন্দর মনোহর মিনারসহ দালান। এর চূড়ায় সোনালি শীর্ষ আর চারপাশে ছোট ছোট শীর্ষসহ গম্বুজের সারি। তার বৃত্তে প্রধান শীর্ষ কেন্দ্রের ভূমিকা পালন করছে। ছোট ছোট শীর্ষের মাঝে একে মনে হচ্ছে যেন  চাঁদ তার পাশ থেকে তারাগুলো হটিয়ে গোলাকার বৃত্ত বসিয়েছে। 

দালানের ফুলদার রেশমি কার্পেটের ওপর স্বর্ণরুপার আসন ও বিছানা সুন্দরভাবে সাজানো। আসনে বিছানো উন্নত মানের ইরানি ও তুর্কি কার্পেট। মাঝখানে জরির নকশা করা আসন ও বালিশ। এই বিশেষ স্থানটি মমতাজ বেগম ও তার দরবারি নারীদের জন্য। 

চারদিকে যে রাস্তাটি গিয়েছে, সব দিক মিলিয়ে দেড় শতাধিক দোকান সুন্দর করে সাজানো। এমনইভাবে রাস্তার দুদিকে মিলিয়ে তিনশো এবং পুরো বাজারে সর্বমোট বারোশো দোকান। দোকানগুলো লতাগুল্ম ও সোনারুপার কারুকার্যের নৈপুণ্যে যেন সাদ্দাদের বেহেশত। 

এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে একটি লম্বা সোনালি লতাগুল্ম চলে গেছে, যা আশ্চর্য সৌন্দর্য দেখায়। তার প্রতি দৃষ্টি পড়তেই মোহগ্রস্ত করে ফেলে। সব দোকানের জানালায় ঝুঁলছে পুঁতির মালা। বাইরের দিকটি কাটা কাপড় দিয়ে সুন্দর রঙের চিরহরিৎ ফুল দ্বারা সজ্জিত। ভেতরের দুদিকে ঝুলছে রেশমের পর্দা। নারীদের রূচি অনুসারে তাতে রয়েছে জরির লতা, সোনালি রেশমি কাপড়ের ঝুল। আর তাতে বসানো হয়েছে রূপার জাল। 

যেহেতু সকল দোকানই দোহারা, তাই ভেতরে তিন তিনটি মেহরাব, যার চারদিকে সে কাজই করা যা দুই দিকে করা। তবে মেহরাবের ওপরের অংশ কাপড়ের সুন্দর ফুল দ্বারা সজ্জিত। 

যার নিচে ঝুলছে স্বর্ণের তার নির্মিত ঝালর। আর মাঝখানে রয়েছে সুসজ্জিত পর্দা। দোকানের পেছন কামরার সৌন্দর্যে সাধারণ কাজই করা হয়েছে। ওই কামরাগুলোর পেছনে সামান্য কিছু জায়গা রাখা হয়েছে, যাতে যেসব নারী আসবে তারা নিজেদের বাড়ির মতো আরাম বোধ করে। আর পেছন কামরা ও তার সাথে লাগোয়া স্থানটিতে স্বাধীনভাবে ওঠাবসা করতে পারে।

বাজারটি পূর্ণ সজ্জিত হলে মমতাজ বেগম তার একান্ত দাসী ও মহলের নারীদের নিয়ে বড় ধুমধামে তা দেখার জন্য আসে। প্রথমে তার জন্য নির্মাণ করা দালানটি দেখে, এরপর প্রত্যেক দোকানে গিয়ে ভেতর থেকে দেখে এবং খুব খুশি হয়। বাদশাহও তখন সেখানে পরিদর্শনের জন্য আসে। তিনি বলেন, 

‘বাজার ঘুরে দেখেছ? কোনো জিনিসের কমতি থাকলে বলতে পারো।’

‘যে জিনিস আপনার পরিচালনায় নির্মিত, তাতে কি কোনো কমতি থাকতে পারে? সত্যিই খুব সুন্দর হয়েছে। দালানের চেয়েও বেশি সুন্দর এর সাজসজ্জা ও কারুকাজ।’

‘যথাসম্ভব নারীদের রুচির প্রতি খেয়াল রাখা হয়েছে।’

‘প্রাসাদ নির্মাণ ও সাজসজ্জায় খোদা  আপনাকে যে যোগ্যতা দিয়েছেন, তা অন্য কোনো বাদশাহকে দেননি। আমি শুনেছি অনেক রাজ্যে বাজার ওপর থেকে ঢাকা থাকে। যদি এই চৌরাস্তা সেখানকার মতো ঢেকে দেওয়া হয় এবং সবগুলো ছাদে কারুকার্য করা হয়, তবে কেমন হয়?’

‘সেসব রাজ্যে ছাদঢাকা বাজার এজন্য তৈরি হয়, যাতে বরফ বর্ষণ ও বর্ষাকালে কাঁদা থেকে সুরক্ষিত থাকে। তাছাড়া সেখানে প্রচুর ঠাণ্ডাও থাকে, যে কারণে ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচার প্রয়োজন হয়। হিন্দুস্তানে এমন বাজার হলে বাতাস বন্ধের কারণে শ্বাসরুদ্ধ হবে, আলোও কম হবে। আলোর ব্যবস্থা করা হলেও এ পরিমাণ আলো হবে না, যাতে সবকিছু তার নিজ গুণে দেখা যায়। এখানে যেহেতু অধিক পরিমাণে মণিমুক্তা কেনাবেচা হবে, সেজন্য বেশি আলোর প্রয়োজন।

তাছাড়া আমাদের এখানে না বরফ বর্ষণের শংকা আছে, না বষন্তকালে বৃষ্টির। তাই এখানে বাজার উন্মুক্ত হওয়াই ভালো। যাতে দমকা হাওয়া বয়। তবে তোমার তা-ই পছন্দ হলে, আমি হুকুম দিচ্ছি, রাস্তার চারপাশে ছাদ করে দিতে।

‘না, আমি আপনার বর্ণনা দ্বারাই বুঝে গেছি। আসলেই ছাদ করে দিলে মানুষের কষ্ট হবে। প্রচুর অন্ধকার হওয়ায় যেসব সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা বিবর্ণ দেখাবে। কিন্তু আমার আরও দুটি বিষয়ে খেয়াল এসেছে। প্রথমত, এখানে কোনো হাউজ নেই; যদিও অনেক হাউজের প্রয়োজন। যেসব লোক এখানে এসে থাকবে তারা পানি কোথা থেকে আনবে? ভিস্তিদের মাধ্যমে পানি আনার দ্বারা উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। 

দ্বিতীয়ত, যে সকল নারী এখানে এসে অবস্থান করবে, থাকবে, তাদের বিনোদনের জন্য ফুলের বাগান বানানো প্রয়োজন। যাতে সেখানে গিয়ে বসতে পারে এবং পরস্পর মিলিত হয়। আপনার যে মহৎ উদ্দেশ্য, নারীদের মাঝে মেলামেশা বাড়ানো সে উদ্দেশ্য একটি প্রশস্ত বাগান দ্বারাই পূর্ণ হতে পারে।’

‘নিঃসন্দেহে দুটো বিষয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে চলো সব দিকে ঘুরে দেখি, কোথায় কোথায় হাউজ বসানো যায় এবং বাগানটি কোন স্থানে ভালো হয়।

এরপর বাদশাহ ও বেগম সাহেবা মাঝখানের দালানের কাছে আসে। বাদশাহ চারদিকে গভীর দৃষ্টি দিয়ে বলেন, ‘দালানের পাশের মাঠ যথেষ্ট এবং রাস্তাগুলোও বেশ প্রশস্ত। আমার মতে, প্রাসাদের আশপাশে বৃত্তাকারে চার হাত প্রশস্ত একটি দৃষ্টিনন্দন নহর বানিয়ে দেওয়া এবং চারদিকের সকল রাস্তার সম্মুখে একটি করে পোল নির্মাণ করা। হাউজের কিনারে কিনারে উভয় দিক থেকেই কৃত্রিম ফুলের তোড়া রেখে দেওয়া হবে। আর পুলের দুদিকে জলভরতি পিতলের বালতি থাকবে। এমনইভাবে চারো রাস্তার মাঝে একশ কদম দূরত্বে চক্রাকারে হাউজ থাকবে, যার ব্যাস দুগজের বেশি হবে না, মর্মম পাথর দিয়ে নির্মিত হবে। এর ওপর সুন্দর মনোরম গম্বুজ বানানো হবে।’

‘এমন হলে খুব সুন্দর হবে, বাজারের জাঁকজমক হবে দিগুণ। দালানের পাশের হাউজ ও তার পুল আশ্চর্য শান দেখাবে। তাছাড়া রাস্তার হাউজগুলোর মাঝে যে গম্বুরের সারি হবে, তা বাজারে খুব উঁচ্চস্তরের সৌন্দর্য সৃষ্টি করবে।’

‘কিন্তু বাগানের বিষয়টি কঠিন। প্রথমত, তা দ্রুত তৈরি করা কঠিন হবে; দ্বিতীয়ত দালানটি নির্মিত হওয়ার পূর্বে এর চিন্তা মাথায় আসেনি। তথাপি তোমার খুশির জন্য আমি এটা করব, চারো রাস্তার প্রত্যেকটির একটি থেকে অপরটির মাঝে যে মাঠ পড়ে আছে তা সমতল করে সবুজ ঘাস লাগিয়ে দেব, যেন তা বিস্তৃত তৃণভূমিতে পরিণত হয়। সবখানে ফুলের গাছ লাগানো হবে। বিভিন্ন স্থানে হাউজ বানানো হবে, যাতে ফোয়ারা ছুটবে। 

এভাবে চারদিকে বিস্তৃত জায়গা সবুজ হবে। যা হবে সুন্দর অভিসারের জায়গা। তাতে বসার জন্য বিভিন্ন চত্তর বানিয়ে তার ওপর কার্পেটের বিছানা বিছিয়ে দেব, যাতে নারীরা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এসে পরস্পরে মিলিত হতে পারে এবং একে অপরের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে।

‘এটা বাগান থেকে ভালো, নারীরা এতে ভ্রমণ করে বাগান থেকে বেশি আনন্দ  লাভ করবে। কিন্তু আমি চারটি তৃণভূমির ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করি। কেননা এর কারণে সাহচর্য বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। আমি চাই সকলে একটি স্থানে জড়ো হোক।’

‘একটাই হওয়া উচিৎ, কিন্তু এর দ্বারা বাগানের দালানের নকশা অপূর্ণ থাকবে। এটা ভালো হবে না, চারটি তৃণভূমি চার শ্রেণির নারীদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হবে? দুটি মুসলিম নারীদের জন্য, দুটি হিন্দু নারীদের জন্য। আর প্রত্যেক দুটি ভ্রমণকেন্দ্রের একটি সম্মানিত নারীদের জন্য, অন্যটি সাধারণ নারীদের জন্য।’

‘আমি এই পৃথকীকরণের বিরুদ্ধে। আমার মতে হিন্দু-মুসলমান, আশরাফ- আতরাফের মধ্যে বিশেষাধিকার থাকবে না। হিন্দু নারীরা মুসলিম নারীদের পাশে এবং গরিব নারীরা ধনী নারীদের পাশে বসবে। এটা আপনার দরবার নয়, বরং সাধারণ মানুষের মাহফিল। যাতে কোনো পার্থক্য ও বিশেষাধিকার থাকা উচিত নয়। এখানে সকলে একে অপরের সাথে পরিচিত হবে এবং এখান থেকে যাওয়ার সময় অন্তরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহানুভূতির প্রেরণা নিয়ে যাবে।’

‘ঠিক আছে, ভ্রমণের স্থান একটাই হবে।’

‘আমি প্রতিদিন কিছু সময় এখানে এসে বসব এবং হিন্দু-মুসলমান নারীদের  স্বভাব-রুচিমতো আপ্যায়নের ব্যবস্থা করব। আশরাফ-আতরাফ সকলের সঙ্গে মিশব। সবাইকে কুশল জিজ্ঞেস করব এবং মহব্বতের সবক শেখাব।’

‘তোমার সদিচ্ছাপূর্ণ এই আখলাকি শিক্ষাকেন্দ্র রাষ্ট্রের জন্য উপকারী হবে।’

বাজারের যেসব জায়গা এখনো শূন্য পড়ে আছে, সেগুলো ভালো করে ঘুরে ঘুরে দেখে, প্রতিটি বিষয়ে চিন্তা করে বাদশাহ ও রানি সাহেবা মহলে ফিরে যান।

যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাৎক্ষণিক তার নির্দেশ জারি করেন। খুবই গুরুত্বের সাথে বলা হয়—সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যেই যেন হাউজ, ফোয়ারা, পুল, হাউজের গম্বুজ, তৃণভূমি প্রস্তুত হয়ে যায়। বেশি করে সময় দেওয়া হয়, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কাজটি সম্পন্ন হয়। সাথে সাথে এই ঘোষণাও দেওয়া হয়, আজ থেকে দেড় মাস পর শাহজাহানের যুগের মিনা বাজার খোলা হবে।

ঘোষণাতে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। আর উচ্চ-নিচ সবাইকে আশা দেওয়া হয়, রানি মমতাজ বেগম নিজে বাজারটি উদ্বোধন করবেন। সকল উচ্চ ও সাধারণ নারী, যারা অংশগ্রহণ করবে, তাদের সাথে প্রতিদিন সাক্ষাৎ করবেন এবং তার দয়া-অনুগ্রহ দ্বারা সৌভাগ্যবান করবেন।

পত্রবাহকদেরকে দূর-দূরান্তের শহরগুলোতে এই ঘোষণা দিয়ে পাঠানে হয়—শহুরে-গ্রাম্য সবাইকে এই শাহি বাজারে সম্মানের সাথে আসন দেওয়া হবে। আর গরিব নারীদের ধনী নারীদের থেকে বেশি খাতিরযত্ন করা হবে। 

ঘোষণার পনেরো-বিশ দিনের মধ্যেই হাজার হাজার উটের হাওদা ও পালকি বড় ধুমধামের সাথে দিল্লির উদ্দেশে আসতে থাকে। মুগল সাম্রাজ্যের রাজধানীতে নারীদের এত সমাগম হয়, যা আগে কখনো দেখা যায়নি এবং ইতিহাসে কখনো শোনা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments