বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম মহিলা সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯২১ সালে চট্টগ্রাম থেকে। বেগম সুফিয়া খাতুন সম্পাদিত এ পত্রিকার নাম ‘আন্নেসা’। এ মাসিক পত্রিকাটির উদ্দেশ্য ছিল, নারীকল্যাণ ও তার প্রচার। পত্রিকাটির প্রকাশক ও পরিচালক ছিলেন মোহাম্মদ আবদুর রসিদ সিদ্দিকী।
জাহান আরা চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৩৩৯ সালের পৌষ মাসে ‘রূপরেখা’ নামে একখানা বার্ষিকী প্রকাশিত হয়। পরবর্তী বছর ‘রূপরেখা’র নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বর্ষবাণী’।
মুহম্মদ হাবিবুল্লাহ্ ও শামসুন নাহার সম্পাদিত ‘বুলবুল’-এর প্রথম সংখ্যা ১৩৪০ সালে (বৈশাখ-শ্রাবণ) প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকা প্রথমে বছরে তিনবার প্রকাশিত হত। ১৩৪৩ বাংলার বৈশাখ থেকে ‘বুলবুল’ মাসিক পত্রিকায় রূপান্তরিত হয়।
ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্র ‘জাগরণ’-এর প্রথম সংখ্যা সুলতানা বেগমের সম্পাদনায় ১৩৪৯ বাংলার বৈশাখ মাসে বাঁকুড়া তরুণী সংঘ থেকে প্রকাশিত হয়।
১৯৪৭ সালের ২০শে জুলাই (৩ শ্রাবণ ১৩৫৪) নূরজাহান বেগম ও বেগম সুফিয়া কামালের সম্পাদনায় ‘সচিত্র সাপ্তাহিক বেগম’ কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। ‘নারীর সর্বাঙ্গীন উন্নতি ও মঙ্গল তথা দেশের ও দশের উন্নতি ও মঙ্গল সাধন এই সাপ্তাহিকের বিশেষ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।’ প্রথম বর্ষ ১২শ সংখ্যা থেকে (২রা নভেম্বর ১৯৪৭) পত্রিকাটি নূরজাহান বেগমের সম্পাদনায় প্রকাশিত হচ্ছে।
১৯৪৭-এর পর এদেশ থেকে প্রকাশিত প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সুলতানা’। ১৯৪৯ সালের ১৪ই জানুয়ারী বেগম সুফিয়া কামাল ও জাহানারা আরজু সম্পাদিত এ পত্রিকার প্রথম সংখ্যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের মহিলা সমাজের উন্নয়ন এ পত্রিকার লক্ষ্য ছিল।
কবি গোলাম মোস্তফার পত্নী মাহফুজা খাতুন সম্পাদিত ‘নও বাহার’ মাসিক পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বাংলার ভাদ্র মাসে। পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যায় বলা হয়েছিল :
“…নারী প্রগতি নও বাহারের অন্যতম সাধনা হইবে। তবে নারী প্রগতির আধুনিক বিকৃত আদর্শ আমরা গ্রহণ করিব না। নারীর সত্যিকার জাগরণই আমরা কামনা করিব। ইসলাম নারী জাতিকে যে অধিকার ও মর্যাদা দিয়াছে, তাহাকে সমাজে আমরা রূপায়িত করিতে চেষ্টা করিব। পাকিস্তানের নারীরা যাহাতে পাকিস্তানমনা হইয়া উঠেন; গৃহ, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও মুসলিম জাহানের প্রতি তাঁহাদের কর্তব্য ও দায়িত্ববোধ যাহাতে তীক্ষ্ণ হয় এবং সর্বোপরি বিশ্বসভায় যাহাতে বাংলার মুসলিম নারী তাঁহার গৌরবময় আসন লাভ করিতে পারেন, তজ্জন্য ‘নও বাহার’ সর্বদাই তাঁহাদের খিদমতে হাজির থাকিবে।”
কলকাতার ‘দৈনিক ইত্তেহাদ’ পত্রিকার মহিলা বিভাগ পরিচালনা করতেন প্রথমে হাজেরা মাহমুদ, পরে হোসনে আরা রশীদ, তারও পরে আফরোজা বুলবুল।
১৯৫০ সালে ‘বেগম’ পত্রিকা কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হলো। তখন থেকে আজ পর্যন্ত পত্রিকাটি নূরজাহান বেগমের সম্পাদনায় প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
পঞ্চাশের দশকে বেশ কয়েকজন মহিলা সাংবাদিক বিভিন্ন পত্রিকায় যোগ দেন। ‘দৈনিক মিল্লাত’-এর মহিলা বিভাগ পরিচালনা করতেন মাফরুহা চৌধুরী। ষাটের দশকে তিনি ‘দৈনিক পাকিস্তান’-এ যোগ দেন। এখনও তিনি ‘দৈনিক বাংলা’র মহিলা বিভাগ পরিচালনা করছেন।
রাবেয়া খাতুন ও জাহানারা ইমামের যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল সাহিত্য সাময়িকী ‘খাওয়াতীন’। ১৯৫৪ সালে রাবেয়া খাতুনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মাসিক ‘অঞ্জনা’। এ ছাড়া তিনি সম্পাদনা করতেন ‘সিনেমা’ পত্রিকার সাহিত্য বিভাগ।
পঞ্চাশের দশকে প্রকাশিত হয়েছিল বেগম সুফিয়া কামালের সম্পাদনায় ‘সুলতানা’ এবং লায়লা সামাদের সম্পাদনায় ‘ললনা’ ও ‘অনন্যা’। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লায়লা সামাদ প্রথমে ফ্রি ল্যান্সার সাংবাদিক হিসেবে দৈনিক সংবাদে কাজ শুরু করেছিলেন।
১৯৬৩ সাল থেকে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এর মহিলা বিভাগ পরিচালনা করছেন আখতারুন নাহার বেগম। ঐ বছরই হাসিনা আশরাফ যোগ দেন ‘দৈনিক পাকিস্তান’-এ। বর্তমানে তিনি ‘দৈনিক বাংলা’র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। ‘দৈনিক আজাদ’-এর মহিলা বিভাগ মকবুলা মঞ্জুর পরিচালনা করতেন। বর্তমানে তিনি ‘বেগম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত। পাকিস্তান অবজারভার-এর মহিলা বিভাগের পরিচালিকা ছিলেন গীতিয়ারা বেগম। এ ছাড়া ‘দৈনিক মিল্লাত’ ‘দৈনিক ইত্তেহাদ’ ও ‘দৈনিক পয়গাম’ পত্রিকার মহিলা বিভাগ সম্পাদনা করতেন যথাক্রমে হাসি সিদ্দিকী, মীনা চৌধুরী ও আসমা আবাসী।
স্বাধীনতা লাভের পর পত্রিকা সম্পাদনায় মহিলাদের অগ্রগতি সাধিত হয়। ১৯৭২ সাল থেকে কেবল মাত্র মহিলাদের পত্রিকাই নয়, সামগ্রিকভাবে পত্রিকা সম্পাদনায় মহিলারা এগিয়ে এসেছেন। ঢাকা থেকে ১৯৭২ সাল হতে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকার দিকে আলোকপাত করা যাক।
১৯৭২ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ডঃ নূরুন নাহার সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘রজনী গন্ধা’। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় বেগম রোকেয়া রহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘ভীমরুল’। ১৯৭৫ সালে ফারহানা হক রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক ‘প্রবাসীর ডাক’। নাজমা চৌধুরী প্রকাশিত, নুরজাহান বেগম সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘নববার্তা’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘খবর’ (বর্তমানে দৈনিক) পত্রিকার কার্যনির্বাহী সম্পাদক ছিলেন হোসনে আরা চৌধুরী। ঐ বছরই প্রকাশিত হয় হেনা আক্তার চৌধুরী সম্পাদিত ‘মমতা’। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় মাহমুদা পারভিন সম্পাদিত ‘তিলোত্তমা’। হাজেরা সুলতানা সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘নতুন কথা’ প্রকাশিত হয় ১৯৮০ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী।
ফুল্লরা বেগম ফ্লোরা সম্পাদিত ‘চিত্রবাংলা’, মমতাজ সুলতানা সম্পাদিত ‘সাংবাদিক, সুলতানাদৌলা সম্পাদিত Weekly National Voice, ফরিদা ইয়াসমীন সম্পাদিত ‘নয়া দর্পণ’ ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় উম্মেল খায়ের সম্পাদিত Weekly Durbeen। ঐ বছরই প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘আনন্দ পত্র’ এবং সাপ্তাহিক ‘অভিসারিকা’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদিকা ছিলেন যথাক্রমে রোকসানা সুলতানা ও জিনাত মাহমুদ।
১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় মোহসেন আরা রহমান সম্পাদিত ‘সন্দ্বীপ’, হোসনে আরা আজিজ সম্পাদিত ‘চক্র’ এবং লীনা কবির সম্পাদিত ‘লাবণী’। ১৯৮৬ সালে ফয়জুননেসা আহমেদ-এর সম্পাদনায় ‘দেশ সমাচার’ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘স্বদেশ খবর’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদিকা শামিমা আমিন। এ ছাড়া প্রকাশিত হয়েছে ফেরদৌসী বেগম সম্পাদিত ‘আঁচল’, মোহসেন আরা রহমান সম্পাদিত ‘স্বদেশ খবর’ এবং মোমেনা আক্তার খানম সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘আলো’।
নির্যাতিতা মহিলাদের একমাত্র কন্ঠ সংগ্রামী মহিলা পাক্ষিক ‘রণ রঙ্গিনী’ ১৯৭২ সালের ১৪ই এপ্রিল জাহানারা খানমের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। ৫ই অক্টোবর এ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন সৈয়দা আয়েশা খানম। ১৯৭২ সালে মহিলা সম্পাদিত আরো তিনটি পত্রিকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। আগস্ট মাসে প্রকাশিত হয় আইভি রহমান সম্পাদিত পাক্ষিক ‘ললিতা’, অবহেলিত মহিলা সমাজের মুখপত্র মহিলা পাক্ষিক ‘নারীকণ্ঠ’ প্রকাশিত হয় সাহানা বেগমের সম্পাদনায়। এ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদিকা ছিলেন আয়েশা খানম। ১৯৭৬ সাল থেকে ‘নারীকণ্ঠ’ সম্পাদনা করছেন নার্গিস আলম। মহিলা পাক্ষিক ‘তিলোত্তমা’ প্রকাশিত হয় বেগম রোকেয়া রহমানের সম্পাদনায়। ১৯৭৭ সালে এ পত্রিকা পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে মাহমুদা পারভীনের সম্পাদনায়। ১৯৭৭ সালেই প্রকাশিত হয় সালমা রফিক সম্পাদিত পাক্ষিক ‘ক্রীড়া জগৎ’। ১৯৮৩ সালে রিতা আরেফিন সম্পাদিত ‘তারকালোক’ এবং ১৯৮৫ সালে শামসুন নাহার জ্যোৎস্না সম্পাদিত ‘দিশা’ ও রহিমা খাতুন সম্পাদিত Muslim Times প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত প্রথম মহিলা মাসিক ‘প্রতিধ্বনি’ ১৯৭২ সালে অধ্যাপিকা ফরিদা রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার সহকারী সম্পাদিকা ছিলেন ফরিদা মেরী ও সাহারা খাতুন। ঐ বছরই একুশে ফেব্রুয়ারীতে বেগম আশরাফুন নেছা সম্পাদিত মহিলা মাসিক ‘বাঙলার মেয়ে’ প্রকাশিত হয়। জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূগোল সমিতি থেকে প্রকাশিত হয় মাসিক ভূগোল পত্রিকা ‘উপকূল’। এ পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক এবং সহযোগী সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে রাশেদা খানম ও তাহমিনা খাতুন। নভেম্বর মাসে বেগম সুফিয়া কামালের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ-সোভিয়েত মৈত্রী সমিতির মাসিক মুখপত্র ‘মৈত্রী’। এ ছাড়া প্রকাশিত হয় সৈয়দা হাফসা বেগম সম্পাদিত মাসিক ‘শিলাকুড়ি’ এবং সৈয়দা শাহিদা বেগম রানু সম্পাদিত মহিলা মাসিক ‘সুচরিতা’। সুচরিতার সহ-সম্পাদিকা ছিলেন মাজেদা আক্তার।
বাংলাদেশ পুলিশ সমবায় সমিতির মাসিক পত্রিকা ‘দীপক’ (১৯৬১ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘ডিটেকটিভ’ পত্রিকার পরিবর্তিতরূপ) ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। এর প্রধান সম্পাদিকা সেলিনা খালেক এবং সম্পাদিকা খালেদা সালাউদ্দিন। ১৯৮২ সালে সুরাইয়া হাকিম ও আমিনা আহমদ যথাক্রমে প্রধান সম্পাদিকা ও সহ-সম্পাদিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে ‘দীপক’ সুরাইয়া হাকিম ও সেলিনা খালেকের যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশিত হচ্ছে।
১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয় আফিকুন্নেসা রানু সম্পাদিত কিশোর মাসিক ‘তিয়াস’। ১৯৭৪ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত মহিলা মাসিক ‘রম্য’ পত্রিকার সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে হাসনা মামুন ও জাহিদা বানু।
বাংলা একাডেমীর সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা মাসিক (বর্তমানে ত্রৈমাসিক) ‘উত্তরাধিকার’ ১৯৭৪ সালের আগস্ট থেকে ১৯৭৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সম্পাদনা করেন ডঃ নীলিমা ইব্রাহীম। ১৯৮৩ সাল থেকে এ পত্রিকার সহ-সম্পাদক সেলিনা হোসেন।
১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর মাসিক ‘শিশু’ প্রকাশিত হয় জোবেদা খানমের সম্পাদনায়। বর্তমানে ‘শিশু’ সম্পাদনা করছেন সাদেকা শফিউল্লাহ। ঐ বছর আরো চারটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে-আম্বিয়া খাতুন জোসু সম্পাদিত সৃজনশীল সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক ‘প্রত্যয়’; শিরিন রহমান সম্পাদিত ‘এডাব নিউজ’; নার্গিস রফিকা বানু সম্পাদিত মাসিক ‘পটভূমি’ এবং শুভ্রা রহমান সম্পাদিত মাসিক ‘মেঘবার্তা’।
১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় ইরানী বেগম সম্পাদিত ‘মুখোমুখি’, তাসলিমা রশীদ সম্পাদিত ‘প্রভাতী’ এবং বেগম নূরজাহান কোরেশী সম্পাদিত ‘খাতুন’। ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয় সিভিল অফিসার প্রশিক্ষণ একাডেমী থেকে নীলুফার বেগম সম্পাদিত ‘কোটা পরিক্রমা’ এবং ডাঃ নীলুফার কামরোজ জাহান সম্পাদিত ‘যোগাযোগ’। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত সাহিত্য, সমাজ, ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক ‘হিন্দোল’-এর অন্যতম সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন জাহান আরা বেগম। এ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদিকা ছিলেন শামসুন নাহার পারুল।
১৯৮৪ সালে ডাঃ খাদিজা খাতুনের সম্পাদনায় ‘উপশম’, ১৯৮৫ সালে সৈয়দা আফসানার সম্পাদনায় ‘রোকসানা’ এবং ১৯৮৬ সালে তাজিন মুরশিদ-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘এদেশ একাল’। শেষোক্ত পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক নূরজাহান মুরশিদ এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শারমীন সোনিয়া। এ ছাড়া মাসিক ‘ললনা’ প্রকাশিত হয়েছিল সাঈদা গাফফার ও মোফারেজা বেগমের সম্পাদনায়।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত মহিলা সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকাগুচ্ছ হলো: খালেদা হাবিব সম্পাদিত ‘কণ্ঠস্বর’, রওশন আক্তার রাজিয়া সম্পাদিত ‘অনুষঙ্গ’, রাজিয়া রহমান সম্পাদিত ‘ত্রিভূজ’, বেগম খোদেজা জামান রীনা সম্পাদিত ‘অবদান’ এবং জাহানারা তাহের সম্পাদিত ‘মনীষা’। এ ছাড়া বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর ভলান্টারী স্টেরিলাইজেশন-এর ত্রৈমাসিক মুখপত্র ‘প্রণোদন’-এর প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ফরিদা রহমান।
মহিলা সম্পাদিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা চট্টগ্রামের Peoples view, এ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন ডাঃ সাইরা ইসলাম। খুলনা থেকে প্রকাশিত হয়েছে লুৎফুন নাহার মকবুল সম্পাদিত Daily Mail এবং ফেরদৌসী আলী সম্পাদিত Daily Tribune। মহিলা সম্পাদিত একমাত্র বাংলা দৈনিক ‘স্ফুলিঙ্গ’ যশোর থেকে ১৯৭৬ সালের ১লা জুলাই বেগম রাশিদা আক্তারের সম্পাদিনায় প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৭২ সালে ময়মনসিংহ থেকে রেবেকা ইয়াসমিনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক ‘বাংলার দর্পণ’। ১৯৭৫ সালে সুফিয়া খাতুন সম্পাদিত সাহিত্য-সংস্কৃতির সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘কাকন’ প্রকাশিত হয় বগুড়া থেকে। ‘কাকন’ এর সহকারী সম্পাদক ও প্রযুক্তি সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে তহমিনা বেগম ও জোবেদা হারুন। খুলনা থেকে ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয় আশরাফুননেছা সম্পাদিত ‘ছায়াপথ’।
১৯৭৮ সালে মহিলা সম্পাদিত তিনটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এগুলো হচ্ছে খুলনা থেকে রেহানা আক্তার সম্পাদিত ‘সকাল’, যশোর থেকে বেগম রাবেয়া খাতুন সম্পাদিত ‘গণমানুষ’ এবং কুমিল্লা থেকে সৈয়দা জাহানারা হায়দার সম্পাদিত ‘বাংলা বার্তা’।
১৯৭১ সালে ফরিদপুর থেকে রহিমা জোহরা সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘একাল’ এবং মনজুরা রহমান সম্পাদিত Weekly Patriot প্রকাশিত হয়।
১৯৮০ সালে লক্ষ্মীপুরের সাপ্তাহিক ‘নতুন সমাজ’ সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন বেগম মনোয়ারা আবদুল হাই। কুমিল্লার প্রাচীনতম সাপ্তাহিক ‘আমোদ’ সম্পাদনার দায়িত্ব পরবর্তীকালে গ্রহণ করেন সামসুন্নাহার রাখী। বাংলাদেশের প্রাচীনতম সাপ্তাহিক সিলেটের ‘যুগভেরী’ এখন সম্পাদনা করছেন বেগম ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী।
খুলনা থেকে প্রকাশিত হয়েছে আকতারুন নাহার সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘প্রভাষক’ এবং পঞ্চগড় থেকে জাহানারা আনোয়ারের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে সাপ্তাহিক ‘পঞ্চগড় বার্তা’।
খুলনা থেকে পাক্ষিক ‘নয়া দর্পণ’ ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়েছে। মহিলা সম্পাদিত একমাত্র পাক্ষিক ‘নয়া দর্পণ’ সম্পাদনা করেন বেগম ফরিদা ইয়াসমিন। এছাড়া সৈয়দা মর্জিনা খানমের সম্পাদনায় ‘অবকাশ’ নামে একটি সাময়িকী প্রকাশিত হয়।
১৯৭৩ সালে কুমিল্লা থেকে এন. এন. নীলিমা ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সত্যসেনার মুখপত্র ‘নকীব’ এবং চট্টগ্রাম থেকে ফাতেমা জোহরার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মহিলা মাসিক ‘অনামিকা’।
১৯৭৯ সালে বগুড়া থেকে প্রকাশিত হয় উত্তরবঙ্গের একমাত্র রম্য সাহিত্য মাসিক পত্রিকা ‘নতুন সাহিত্য’। এ পত্রিকার সম্পাদক লায়লা মোর্শেদা বেগম। ১৯৮১ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া থেকে প্রকাশিত হয় মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘মা’। এ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জমিলা বেগম। রাজশাহী থেকে ১৯৮৫ সালে সুলতানা হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে মাসিক ‘নন্দিনী’।
চট্টগ্রাম থেকে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সবুজ সাহিত্য বাসরের বার্ষিক পত্রিকা ‘সবুজ কণ্ঠ’-এর অন্যতম সম্পাদক ছিলেন নাসরীন সুলতানা রুকু। মহিলা ত্রৈমাসিক ‘জায়া’ ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় সামছুন্নাহার রহমান পরানের সম্পাদনায়। ত্রৈমাসিক ‘মহিলা’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন শামছুন নাহার। পত্রিকাটির মুদ্রাকর ছিলেন মমতা ভূঁইয়া। এ দু’টি পত্রিকা চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত হলেও ‘মহিলা’ পত্রিকা ১৯৮২ সাল হতে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। তখন এর সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন যথাক্রমে মমতা ভূঁইয়া ও রেহানা সালাম।
সম্পাদিকা, যুগ্ম সম্পাদিকা, মহিলা বিভাগের সম্পাদিকা প্রভৃতি পদে মহিলা সাংবাদিকদের পদচারণা ঘটেছে। ঢাকার পত্রিকার দিকে নজর দিলে দেখা যায়, স্বাধীনতা-উত্তরকালে অনেক মহিলাই সাংবাদিকের গুরুদায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছেন।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত দৈনিক গণকণ্ঠ-এর সহ সম্পাদক হিসেবে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন আমেনা সুলতানা বকুল, কুদসিয়া বেগম, রওশন জাহান সাথী, রোখসানা সুলতানা ও আফরোজা বেগম রীনা।
১৯৭৩ সালে প্রকাশিত দৈনিক জনপদ-এর মহিলা বিভাগের সম্পাদিকা ছিলেন রুবী রহমান। ঐ বছর থেকে দৈনিক সংবাদ-এর সাব-এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রওশন আরা জলিল, মাসুমা খাতুন ও আখতার জাহান মালিক। অধুনালুপ্ত দৈনিক পূর্বদেশ-এর সহ-সম্পাদক মেহেরুননেছা বর্তমানে কর্মরত আছেন দৈনিক বার্তায়। The New Nation-এর সাব-এডিটর হিসেবে কাজ করছেন মনোয়ারা বেগম ও পারভীন সুলতানা। দৈনিক আজাদ-এর সাব-এডিটর বিলকিস জাহান এবং মহিলা বিভাগের সম্পাদিকা শায়লা হক। দৈনিক সমাজ-এর সহ-সম্পাদক ছিলেন ফাতেমা আনসারী।
দৈনিক ইনকিলাব-এর সহ-সম্পাদক আরজিনা রহমান এবং মহিলা বিভাগের সম্পাদিকা মকবুলা পারভীন। এছাড়া দৈনিক জনতায় কর্মরত আছেন সেতারা মূসা।
১৯৭৩ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘সোমবার’-এর সহ-সম্পাদক ছিলেন সৈয়দা আখতার জাহান। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘ছুটি’র সহ-সম্পাদক মমতাজ বিলকিস এখনো কর্মরত আছেন। সাপ্তাহিক Holiday-এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন তাহমিনা সাঈদ। এছাড়া ‘সচিত্র সন্ধানী’তে ছিলেন মালেকা বেগম।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত মাসিক ‘স্বপক্ষে’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদিকা ছিলেন আখতার বানু এবং মাসিক ঢাকা ডাইজেস্ট-এর সহকারী সম্পাদিকা ছিলেন আয়শা চৌধুরী। কিশোর সম্পাদিত কিশোর মাসিক ‘অংকুর’ সম্পাদনা পরিষদের সদস্যা ছিলেন খুকু ইয়াসমীন।
১৯৭৩ সালে প্রকাশিত মাসিক ‘ধলেশ্বরী’ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক নাহিদা সুলতানা ও লাভলী হোসেন এবং মাসিক ‘শতদল’-এর সহ-সম্পাদক নিলুফার বেগম।
১৯৭৪ সালে প্রকাশিত মাসিক ‘মুখশ্রী’ পত্রিকার অন্যতম সহ-সম্পাদক হোসনে আরা চৌধুরী এবং মাসিক ‘মুক্তবাংলা’ সম্পাদনা পরিষদের অন্যতম সদস্যা রাজিয়া মীর। ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত মাসিক ‘প্রেয়সী’ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক নিলুফার হোসেন ও রঞ্জনা পারভীন। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত মাসিক ‘আলোচনা’-এর সহ-সম্পাদক হাসনাত জাহান ও মনিরা ইসলাম। ১৯৮২ সালে কিশোর মাসিক ‘নবারুণ’ পুনঃপ্রকাশিত হলে এর সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন খালেদা এদিব চৌধুরী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের ত্রৈমাসিক মুখপত্র ‘পুষ্টিবার্তা’র অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক সাঈদা খানম।
এ ছাড়া কলামিস্ট, ফ্রি-ল্যান্সার, প্রতিবেদক প্রভৃতি কাজে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন বেবী মওদুদ, কণিকা মাহফুজ, হোসনে আরা শাহেদ, শামীম আজাদ, নাসিমুন আরা হক, নাদিরা মজুমদার, সালমা রফিক, রাশিদা আমিন, হাসমত আরা, দিল মনোয়ারা মনু প্রমুখ।
খুলনার সাপ্তাহিক ‘জন্মভূমি’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আক্তার জাহান, সাপ্তাহিক ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক বেগম ফজিলা মুস্তাফিজ এবং সাপ্তাহিক রূপসার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ঝরণা রহমান।
চট্টগ্রামের সাপ্তাহিক ‘গণচেতনা’ পরিচালনা করেন বেগম জেবুন্নিসা মাহমুদ।
বরিশালের সাপ্তাহিক ‘বাংলার বনে’ পত্রিকার মহিলা বিভাগ সম্পাদনা করেন শাহ্ সাজেদা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ত্রৈমাসিক মুখপত্র ‘মনন’-এর অন্যতম সহ-সম্পাদক খানম মমতাজ আহমদ। কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত লোক সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্রের ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘লোক ঐতিহ্য’-এর সহযোগী সম্পাদক আমেনা করীম। সিলেট থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক ‘দিগন্ত’ পত্রিকার অন্যতম সহকারী সম্পাদক তাজিয়া এরফান লিজা ও রুবিনা রোকাইয়া।
ইউরোপেও পত্রিকা সম্পাদনায় বাঙালী মুসলিম মহিলারা কৃতিত্বের পরিচয় দিচ্ছেন। লণ্ডন নগরীর হেরোয়েড রোড থেকে প্রকাশিত হয় বেগম বাবলি রহমান সম্পাদিত দ্বিমাসিক ‘সেতুবন্ধ’।
১৯৮৪ সালের ১৬ই জানুয়ারী সুইডেনের উপশলা শহর থেকে খালেদা বীনা ফ্রেন্সী সম্পাদিত ‘দেশে দেশে নুতন দেশ’ নামে একটি দ্বিমাসিক পত্রিকা কিছুদিন নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছিল। এ পত্রিকার অন্যতম সহযোগী সম্পাদক ছিলেন আনোয়ারা আহমদ ও সুফিয়া মুর্শেদ।