আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া এবং তার ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা : সামান্য আলোকপাত

কে এম হাবিবুল্লাহ

যুগে যুগে এমন কিছু মানুষ আবির্ভূত হন, যাদের জীবন যেন এক চলমান দাওয়াত, এক আলোকিত দৃষ্টান্ত, যাদের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হয় ঈমান, জ্ঞান, আমল ও নিষ্ঠার দীপ্তি। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—আল্লাহ তাআলা এই দ্বীনের জন্য কিছু মানুষকে বেছে নেন, যাদের মাধ্যমে তিনি দ্বীনের হেফাজত, সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন করেন। আল্লামা আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ছিলেন তেমনই এক ব্যক্তিত্ব—আধুনিক বাংলাদেশের মাটিতে তিনি ছিলেন নববী মিশনের এক সত্যিকারের উত্তরাধিকারী। তাঁর জীবন যেন ছিল কর্মে, চিন্তায়, দাওয়াতে ও তাযকিয়ায় পূর্ণ এক নিরবচ্ছিন্ন সফর—এক কর্মমুখর জীবনযাত্রা।

শিক্ষা-দীক্ষায় তিনি ছিলেন মেধাবী, উদ্যমী ও নিষ্ঠাবান। শৈশবে প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়ার মাধ্যমেই তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা ঘটে। বিজ্ঞান বিভাগে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন শেষে তিনি দ্বীনি শিক্ষার পথে প্রবেশ করেন। মোমেনশাহীর ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়ায় ভর্তি হয়ে তিনি ইসলামী বিদ্যার গভীরে প্রবেশ করেন এবং পরে ঢাকার প্রসিদ্ধ জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ থেকে ১৯৮২–৮৩ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন অসাধারণ ছাত্র—বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় শরহে বেকায়া জামাতে প্রথম ও দাওরায়ে হাদীসে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। এই সাফল্যই তাঁর পরবর্তী জীবনের আলোকস্তম্ভ হয়ে ওঠে।

শিক্ষকতা ছিল তাঁর জীবনের প্রধান অধ্যায়। ১৯৮৩ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত টানা ৩৫ বছর তিনি কুরআন ও হাদীসের জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে গেছেন অক্লান্তভাবে। তাঁর শিক্ষাজীবনের বৃহত্তর অংশ কেটেছে জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগে—যে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তাঁর নাম আজও শ্রদ্ধাভরে উচ্চারিত হয়। তিনি শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান মুরব্বি, যিনি জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় ছাত্রদের কাছে বোধগম্য করে তুলতেন। তাঁর দরসে ফালসাফা ও মানতেকের মতো কঠিন বিষয়ও হয়ে উঠত শিশুর পাঠ্যের মতো সহজ। ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলতেন—“মাদরাসাগুলোতে বোর্ডে লিখে পাঠদান চালু করা উচিত, তাতে জটিল বিষয়গুলো সহজে বুঝে নেয়া যায়।” বাংলা-উর্দু মিশ্রণে তাঁর দরসের ভাষা ছিল মধুর ও প্রাণময়। তাঁর ক্লাসে ছাত্ররা যেন এক জ্ঞানের সাগরে ভাসতে ভাসতে আলোর দিশা খুঁজে পেত। তাই ছাত্রদের মুখে মুখে তিনি পরিচিত হন “আল্লামা হুজুর” নামে—এক নাম, যা পরবর্তীতে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে স্নেহ ও শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে ওঠে।

শিক্ষাদানের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন অনন্য বক্তা। সভা-সেমিনার, আলোচনা-সভা কিংবা জুমুআর মিম্বার—যেখানেই তিনি কথা বলতেন, শ্রোতারা তাঁর গভীর ভাবনা, যুক্তি ও ভাষার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হত। তাঁর বক্তব্যে ছিল সরলতা, পরিমিত আবেগ ও গভীর প্রজ্ঞার সমন্বয়। তিনি কৃত্রিম ভঙ্গি পরিহার করে পরিশুদ্ধ বাংলায় এমনভাবে ইসলামী সত্য তুলে ধরতেন যে, শ্রোতারা হৃদয় দিয়ে তা অনুভব করত। বহু বছর তিনি খিলগাঁও আনসার কোয়ার্টার বায়তুত তাকওয়া জামে মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর জুমুআর খুতবা শুধু ধর্মীয় অনুশাসন ছিল না, বরং ছিল জীবন-উপদেশ, আত্মশুদ্ধি ও সমাজগঠনের বাস্তব নির্দেশিকা। মুসল্লিগণ প্রত্যেক জুমুআ শেষে যেন নতুন এক জীবনের প্রত্যয় নিয়ে ঘরে ফিরতেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কওমী শিক্ষাঙ্গনে বাংলা ভাষার প্রতি যে অনীহা ছিল, সেটি দূর করতে তিনি নিরন্তর কাজ করেছেন। তাঁর প্রিয় শিক্ষক কাজী মুতাসিম বিল্লাহর প্রেরণায় তিনি কওমী মাদরাসায় বাংলা সাহিত্যচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেন। ছাত্রদের জন্য নিয়মিত বাংলা ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন এবং তাদের দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে লেখা তৈরির অনুশীলন করাতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন—ইসলামের বার্তা ছড়িয়ে দিতে হলে মাতৃভাষার দক্ষতা অপরিহার্য।

একজন গবেষক ও সাহিত্যিক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি ছিলেন সহজ-সরল ভাষার সুলেখক, যিনি গভীর তত্ত্বকে সাধারণ পাঠকের জন্য সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করতেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—“দেওবন্দ আন্দোলন : ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান”, “ইসলামী অর্থনীতির আধুনিক রূপায়ন”, “আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইসলাম”, “হাদীস অধ্যয়নের মূলনীতি”, “ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা”, “ইসলাম ও সমাজব্যবস্থা” প্রভৃতি। এসব বই কওমী ও সাধারণ শিক্ষিত সমাজে সমানভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তাঁর লেখা ‘দেওবন্দ আন্দোলন’ বর্তমানে কওমী মাদরাসার ফযিলত বর্ষের পাঠ্যবই হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি “আল-আমীন রিসার্চ একাডেমী” নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যা তাঁর চিন্তা ও কলমের স্থায়ী উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে। তাঁর উদ্যোগেই প্রকাশিত হয় বহু গুরুত্বপূর্ণ স্মারকগ্রন্থ, যেমন—“৩০ বছর দস্তারবন্দী সম্মেলনের স্মারক” ও “আল্লামা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ রহ.-এর জীবন ও কর্ম”। এসব প্রকাশনার পেছনে তাঁর ত্যাগ, শ্রম ও নিষ্ঠা ছিল অতুলনীয়।

তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ সাধক। তিনি চট্টগ্রামের নানুপুরের পীর সাহেব আল্লামা জমিরুদ্দিনের হাতে বায়আত গ্রহণ করেন এবং তাঁর কাছ থেকেই তাসাওউফে ইজাযত ও খেলাফত লাভ করেন। তাঁর আধ্যাত্মিক জীবন ছিল নিভৃত, সংযত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ। তিনি আত্মশুদ্ধিকে নববী মিরাসের অংশ হিসেবে দেখতেন এবং মনে করতেন, আলেম সমাজের দায়িত্ব শুধু জ্ঞান বিতরণ নয়, আত্মাও পরিশুদ্ধ করা।

একজন নায়েবে রাসূল হিসেবে তিনি ইসলামী রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন থেকেও দূরে থাকেননি। তিনি আকাবিরে দেওবন্দের নীতি অনুসরণ করে জাতির প্রয়োজনে ইসলামী ইস্যুগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত, বাতিল প্রতিরোধ আন্দোলনসহ বহু সংগঠনের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতা ও মুরব্বিগণের আস্থা নিয়ে। কওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। সরকারের নানান কৌশলী প্রস্তাবের জবাব তৈরির দায়িত্ব প্রায়ই তাঁর উপর ন্যস্ত হত, কারণ তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান, যুক্তিনির্ভর ও দূরদর্শী। শিক্ষানীতি ২০১০-এর ইসলামবিরোধী ধারাসমূহ চিহ্নিত করে সংশোধনের প্রস্তাবও তিনিই প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি ছিলেন দেওবন্দী ঐতিহ্যের এক সত্য উত্তরসূরি, যিনি রাজনীতির ময়দানে থেকেও কখনো আখলাক ও নীতির সীমা অতিক্রম করেননি।

সমাজসেবা ও মানবকল্যাণের দিকেও তিনি ছিলেন সমান সক্রিয়। তিনি বলতেন—“আমরা আলেম সমাজ কেবল দ্বীনী ইস্যু নিয়ে কথা বলি, কিন্তু জনগণের দৈনন্দিন অধিকার ও বৈষয়িক সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলি না, তাই তারা আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যায়।” এই উপলব্ধি থেকেই তিনি একাধিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যেমন—আল-আনসার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, হেলফ বাংলাদেশ, আল-আনসার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ও কওমী কল্যাণ সংস্থা। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সমাজে মানবিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বীজ বপন করে যান।

দেওবন্দী চিন্তা-চেতনা বিকাশেও তিনি ছিলেন অগ্রগামী। তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘দেওবন্দিয়্যাত’ কেবল একটি বিদ্যালয়ের নাম নয়, বরং এটি এক চিন্তাধারা—যা একজন আলেমকে নববী উত্তরাধিকার বহনের দীক্ষা দেয়। ছাত্রদের মাঝে এই চেতনা বিকাশের উদ্দেশ্যে তিনি “মুজাহাদা ফি সাবিলিল্লাহ—আল্লাহর পথে সংগ্রাম” নামে একটি অনুপ্রেরণামূলক পুস্তিকা রচনা করেন এবং তা ব্যাপকভাবে প্রচার করেন। তাঁর বক্তৃতা, দিকনির্দেশনা ও ব্যক্তিত্বে দেওবন্দের ফিকির ও রূহানি আদর্শের প্রতিফলন স্পষ্ট ছিল।

তাঁর ব্যক্তিজীবন ছিল বিনয়, হাস্যোজ্জ্বলতা ও মমতায় পরিপূর্ণ। তিনি ছিলেন সহজ-সরল, আন্তরিক এবং মানবিক গুণে ভরপুর এক মানুষ। কারও প্রতি বিদ্বেষ, হিংসা বা অভিযোগ তাঁর মাঝে ছিল না। তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে পেতেন একজন বন্ধুর মতো, আর ছাত্ররা পেতেন এক স্নেহময় অভিভাবক। যেএকবার তাঁর সংস্পর্শে এসেছে, সে ফিরে গেছে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ হয়ে। তিনি বলতেন—“একটি পৃষ্ঠা লেখার আগে আমি হাজার পৃষ্ঠা পড়ার চেষ্টা করি, কারণ জ্ঞান-গভীরতা ছাড়া কলমে বরকত আসে না।” এ বাক্যই যেন তাঁর সারাজীবনের বাণী—গবেষণা, অধ্যয়ন ও চিন্তার মেলবন্ধনে গড়া এক জ্ঞানতরী।

আল্লামা আবুল ফাতাহ ছিলেন অতীতের আকাবির ও আসলাফের মতো এক পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব, যিনি একই সঙ্গে ছিলেন শিক্ষক, গবেষক, দাঈ, সুফি, লেখক ও সংগঠক। তাঁর কর্ম, ত্যাগ ও চিন্তা এ দেশের ইসলামী শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক স্থায়ী দাগ রেখে গেছে। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন এক আলোকময় উত্তরাধিকার—জ্ঞান, কর্ম ও দাওয়াতের অবিরাম ধারা। 

 

২.

মানবসভ্যতার ইতিহাসে রাষ্ট্র, আইন ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে চিন্তার বিকাশ দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। যিশুখ্রিস্টের জন্মের প্রায় পাঁচশ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে রাষ্ট্র ও রাজনীতি বিষয়ে যে দার্শনিক চিন্তার সূত্রপাত হয়েছিল, তা ছিল মূলত জনগণের অংশগ্রহণ, নৈতিকতা ও শাসনব্যবস্থার আদর্শ কাঠামোকে কেন্দ্র করে। পরবর্তীতে রোমান সভ্যতায় প্রাকৃতিক আইন ও প্রাকৃতিক অধিকারের ধারণা যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিক অধিকারের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে। তবে সপ্তম শতাব্দীতে মানবেতিহাসে রাষ্ট্রচিন্তার জগতে এক নতুন ও মৌলিক ধারা যুক্ত হয়—মদীনা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্রভাবনার আত্মপ্রকাশ। দুঃখজনক হলেও সত্য, পাশ্চাত্যের গতানুগতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে এই ইসলামী রাষ্ট্রচিন্তার যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন অনুপস্থিত। এই শূন্যতাকেই পূরণ করার এক অনন্য প্রয়াস হলো মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া রচিত গ্রন্থসমূহ, বিশেষত ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা

দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এমাজ উদ্দীন আহমদ তাঁর অভিমতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মদীনা রাষ্ট্রের বিকাশের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একটি স্বতন্ত্র ও মৌলিক চিন্তাধারার জন্ম হয়, যা পাশ্চাত্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূলধারায় প্রায় উপেক্ষিত। মাওলানা আবুল ফাতাহর আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইসলাম গ্রন্থ পাঠের পর ড. এমাজ উদ্দীনের দৃষ্টিভঙ্গির যে পরিবর্তন ঘটে, তা প্রমাণ করে—এই রচনাগুলো কেবল ধর্মীয় আবেগনির্ভর নয়, বরং গভীর গবেষণা, যুক্তি ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একজন প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর কলমে পশ্চিমা গবেষকদের সীমাবদ্ধতা ও পক্ষপাতিত্বের সমালোচনা উঠে আসা মাওলানা আবুল ফাতাহর লেখনীশক্তি ও সার্থকতার বড় প্রমাণ।

ধর্মীয় ও গবেষণামূলক লেখালেখির ক্ষেত্রে ‘তালীফের প্রয়োজনীয়তা’ একটি মৌলিক বিষয়। কেবল ব্যক্তিগত সুনাম বা আত্মতৃপ্তির জন্য নয়, বরং সমাজের বৌদ্ধিক ও চিন্তাগত কোনো শূন্যতা পূরণের উদ্দেশ্যেই কলম ধরা উচিত—এই চেতনা ইসলামী ঐতিহ্যে সুপ্রাচীন। শায়খুল হিন্দ হযরত মাওলানা মাহমুদ হাসানের কুরআন অনুবাদের দীর্ঘ ভূমিকা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একই ধারাবাহিকতায় মাওলানা আবুল ফাতাহর লেখনীও কেবল তথ্য পরিবেশন নয়, বরং প্রয়োজনের আলোকে রচিত সময়োচিত বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগ।

কালের চিন্তাশীল আলেম মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেকের উক্তি—“সফল লেখক সে-ই, যার লেখায় কোনো শূন্যতা পূরণ হয়”—মাওলানা আবুল ফাতাহর ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য। তিনি মুসলমানদের দ্বীনী প্রয়োজন, আধুনিক জিজ্ঞাসা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটকে সামনে রেখে বিষয় নির্বাচন করেছেন। দাওয়াতী, শিক্ষামূলক ও গবেষণামূলক—সব ক্ষেত্রেই পাঠকের স্তর, রুচি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে গবেষণামূলক লেখার ক্ষেত্রে তিনি কেবল তথ্যভিত্তিক আলোচনা নয়, বরং চিন্তাশীল পাঠকের মনে প্রশ্ন, আলোড়ন ও নতুন ভাবনার জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছেন।

বাংলা ভাষায় ইসলামী চিন্তাধারার লেখালেখি তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেলেও প্রকৃত প্রয়োজন ও শূন্যতা পূরণের দিকটি অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়। এই প্রেক্ষাপটে মাওলানা আবুল ফাতাহর রচনাবলীর দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়, তাঁর প্রতিটি বই যেন নির্দিষ্ট একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ঘাটতিকে সামনে রেখেই রচিত। সংখ্যায় তাঁর বই খুব বেশি নয়, কিন্তু বিষয়বস্তুর গভীরতা ও বৈচিত্র্য বিস্ময়কর। দেওবন্দ আন্দোলন : ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান, ইসলামী অর্থনীতির আধুনিক রূপায়ন, আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইসলাম, স্রষ্টা ও তাঁর স্বরূপ সন্ধানে, হাদীস অধ্যয়নের মূলনীতি, ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা, ইসলাম ও যৌনবিধান, ইসলাম ও সমাজব্যবস্থা—এই গ্রন্থগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের জন্য প্রধান অবলম্বন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

বিশেষত ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা গ্রন্থটি আধুনিক রাষ্ট্র, আইন ও ন্যায়বিচার বিষয়ে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিকে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করেছে। লেখক এখানে কেবল ইসলামী ফিকহি কাঠামোই তুলে ধরেননি, বরং আধুনিক পাশ্চাত্য আইনব্যবস্থা, বিচারদর্শন ও মানবাধিকারের ধারণার সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইসলামী আইনের নৈতিক ভিত্তি, মানবিকতা ও ভারসাম্যপূর্ণ চরিত্রকে স্পষ্ট করেছেন। ফলে গ্রন্থটি ধর্মীয় পাঠকের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত চিন্তাশীল পাঠকদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।

মাওলানা আবুল ফাতাহর রচনার কয়েকটি স্বাতন্ত্র্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, বিষয় নির্বাচন—তিনি সবসময় প্রয়োজননির্ভর, কঠিন ও শ্রমসাধ্য বিষয় বেছে নিয়েছেন, যেখানে কাজ করার সাহস অনেকেই দেখান না। দ্বিতীয়ত, বিস্তর অধ্যয়ন—যে বিষয়ে লিখেছেন, তা নিয়ে বহুমাত্রিক পাঠ ও গবেষণার ছাপ তাঁর লেখায় সুস্পষ্ট। তৃতীয়ত, তুলনামূলক বিশ্লেষণ—ইসলামী চিন্তার পাশাপাশি পাশ্চাত্য দর্শন ও আধুনিক গবেষণাকে সামনে রেখে তিনি যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনা করেছেন। চতুর্থত, শাস্ত্রীয় ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ—যার ফলে তাঁর লেখা একপেশে না হয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে। পঞ্চমত, সহজ ও সাবলীল উপস্থাপন—জটিল ইতিহাস, দর্শন ও আইনগত আলোচনাও তিনি সাধারণ পাঠকের বোধগম্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা শুধু একটি গ্রন্থ নয়, বরং এটি মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের একটি প্রয়াস। মাওলানা আবুল ফাতাহ তাঁর সীমিত জীবনে যে সাহিত্যিক ও গবেষণামূলক অবদান রেখে গেছেন, তা তাঁকে একজন স্বপ্ননির্মাতা, সময়োচিত ও সফল লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর লেখনী প্রমাণ করে—সঠিক নিয়ত, গভীর অধ্যয়ন ও প্রয়োজননির্ভর চিন্তা থাকলে বাংলা ভাষায়ও আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী গবেষণা সম্ভব।

 

৩.

মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া রচিত ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা গ্রন্থটি সমকালীন মুসলিম সমাজের এক গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক সংকট ও বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে রচিত একটি সময়োচিত ও মৌলিক শ্রেষ্ঠকর্ম। একবিংশ শতকের সূচনালগ্নে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনগত অঙ্গনে ইসলামী আইন ও ফতোয়া বিষয়ে যে তীব্র বিতর্ক ও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়, এ গ্রন্থ সেই বাস্তবতার ভেতর থেকেই জন্ম নিয়েছে। ২০০১ সালে বাংলাদেশের হাইকোর্ট কর্তৃক সব ধরনের ফতোয়া নিষিদ্ধ ঘোষণার রায় শুধু ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে নয়, গোটা সমাজেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদে গঠিত হয় ‘ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি’ এবং এই আন্দোলন তৎকালীন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। প্রায় এক দশক পর ২০১১ সালে ফতোয়া বিরোধী রায় বাতিল হলেও দীর্ঘ এই সময়ে ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সমাজে ব্যাপক ভুল ধারণা, ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।

এই বিভ্রান্তির একটি বড় কারণ ছিল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানের অভাব। বিশেষ করে সাধারণ উচ্চশিক্ষিত ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ধার্মিক শ্রেণির মাঝেও ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে এমন সব মন্তব্য শোনা যাচ্ছিল, যা তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। ইসলামী জ্ঞানচর্চায় পশ্চিমা লেখক ও দার্শনিকদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা এবং বাংলা ভাষায় নির্ভরযোগ্য গবেষণামূলক গ্রন্থের অভাব এই সংকটকে আরও গভীর করে তোলে। ২০১১ সালে ফতোয়া বিরোধী রায় বাতিলের সময় আইনজীবীদের সহযোগিতায় ‘মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া’ যে গবেষণাধর্মী ভূমিকা পালন করে, তাতেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে—আইন ও বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অনেকের কাছেও ইসলামী আইন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই।

ঠিক এই ঐতিহাসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতার মধ্যেই মাওলানা আবুল ফাতাহ  প্রায় আট শত পৃষ্ঠার দুই খণ্ডে ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা গ্রন্থটি প্রণয়ন করেন, যা ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী ভোগবাদী জীবনদর্শনে অতিষ্ঠ মানুষ নতুন কোনো মুক্তির পথের সন্ধানে ইসলামী জীবনব্যবস্থার দিকে আকৃষ্ট হতে শুরু করেছিল। একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্ব ইসলামের ইতিহাস, রাষ্ট্রব্যবস্থা, আইন ও বিচার নিয়ে ব্যাপক অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা শুরু করে। ফলে অমুসলিম সমাজের পাশাপাশি মুসলিম সমাজেও ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা, আইন ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধে। ব্যক্তিগত ইবাদত নিয়ে যতটা আপত্তি ওঠেনি, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি আপত্তি উঠেছে ইসলামী আইন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা নিয়ে।

এই প্রেক্ষাপটে ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থার অস্তিত্ব, আধুনিক যুগে এর প্রাসঙ্গিকতা এবং বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে থাকে। ইসলামী আইন কি আদৌ একটি সুসংহত ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা? চৌদ্দশ বছর আগের এই আইন কি একবিংশ শতকে কার্যকর হতে পারে? আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় কি পশ্চিমা আইনব্যবস্থার অনুকরণই একমাত্র পথ? এসব প্রশ্নকে সামনে রেখেই মাওলানা আবুল ফাতাহ তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় গভীর বেদনা ও বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নতুন প্রজন্ম ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থার নাম শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, অথচ তাদের অধিকাংশেরই এ বিষয়ে মৌলিক কোনো ধারণা নেই। মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়ে নামাজ-রোজা আদায় করলেও ইসলামী আইনবিরোধী অবস্থানে সক্রিয় একটি শ্রেণির আত্মঘাতী ভূমিকার মূল কারণও এই অজ্ঞতা।

লেখক দৃঢ়তার সঙ্গে দেখাতে চান যে, ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা কেবল অতীতের কোনো স্মৃতি নয়; বরং এর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, মানবসভ্যতার জন্য প্রমাণিত সুফল, সর্বকালের উপযোগিতা ও সার্বজনীন কল্যাণধর্মিতা। ভোগবাদ, পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের দাপটে যখন পৃথিবী আজ নৈতিকতা, শান্তি ও ন্যায়বিচার হারিয়ে ফেলেছে, তখন ইসলামী আইনই পারে মানবতার জন্য একমাত্র শান্তির পথ দেখাতে।

গ্রন্থের বুদ্ধিবৃত্তিক পটভূমিতে লেখক আধুনিক বিশ্বের আইন ও রাষ্ট্রদর্শনের ব্যর্থতাও বিশ্লেষণ করেছেন। পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র—উভয় ব্যবস্থাই মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ফ্রান্সিস ফুকুয়ামার মতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর চিন্তাগত অবস্থান পরিবর্তন, পুঁজিবাদের জয়জয়কার থেকে সমাজতন্ত্রের পুনরাগমনের ভবিষ্যদ্বাণী—এসব উদাহরণ টেনে লেখক দেখিয়েছেন যে, মানব গবেষণালব্ধ দর্শন কখনোই নিরপেক্ষ ন্যায়বোধের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। দলীয় স্বার্থ ও মতাদর্শনির্ভর আইনের ফলে রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব বিনষ্ট হয় এবং মানুষের মনে আইনের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। এর বিপরীতে ইসলামী আইন আল্লাহপ্রদত্ত মানদণ্ডের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তা নিরপেক্ষ, স্থিতিশীল ও সর্বজনীন।

গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে মাওলানা আবুল ফাতাহ আইন ও ইসলামী আইনের তাত্ত্বিক ভিত্তি বিশ্লেষণ করেছেন। ইসলামপূর্ব যুগের আইনব্যবস্থা, আইনের সংজ্ঞা, উৎস, ইজতিহাদ, আইনের বৈশিষ্ট্য, স্বাধীনতা ও অধিকার, রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক আইন—সবকিছুই এখানে সুসংগঠিতভাবে আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে ভূমিকা অংশে বিজ্ঞান বনাম ন্যায়-অন্যায়, ধর্মের অপরিহার্যতা, ইসলামী আইনের চিরঞ্জীবতা ও অমুসলিমদের জন্য এর কল্যাণধর্মিতা পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

দ্বিতীয় খণ্ডে বিচারব্যবস্থার একটি মৌলিক কাঠামো উপস্থাপন করা হয়েছে। বিচারকের ভূমিকা, সাক্ষ্যপ্রমাণ, লিখিত ও ইলেকট্রনিক দলিল, বিচারিক প্রক্রিয়া, রায়প্রদান ও বাস্তবায়ন, সালিসীব্যবস্থা—এসব আলোচনার মাধ্যমে ইসলামী বিচারব্যবস্থার বাস্তব ও আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়েছে।

গ্রন্থটির সাফল্যের বড় প্রমাণ হলো দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনবিদ ও বিচারকদের স্বীকৃতি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আবদুর রউফ এবং সিনিয়র আইনজীবী এ. বি. এম নূরুল ইসলামের অভিমতে এই গ্রন্থ শুধু মুসলিমদের নয়, বরং সব ধর্মের শিক্ষিত মানুষের জন্য একটি পথপ্রদর্শক ও মূল্যবান রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সবশেষে লেখক উত্তরসূরীদের প্রতি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন পরবর্তী প্রজন্ম তার ওপর কাজ করে, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ যোগ করে এবং পাঠকবান্ধব করে তোলে। ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা তেমনই একটি ভিত্তিগ্রন্থ, যা ভবিষ্যৎ গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জন্য এক অমূল্য সম্পদ।

সার্বিকভাবে বলা যায়, ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা কেবল একটি বই নয়; এটি ইসলামী চিন্তার আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের এক সাহসী ঘোষণা, বিভ্রান্ত বিশ্বমানবতার সামনে ন্যায়, ইনসাফ ও শান্তির এক সুস্পষ্ট দিকনির্দেশ।

বিজ্ঞাপন

guest
3 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আবু রায়হান শিবলী
আবু রায়হান শিবলী
3 months ago

সুন্দর উপস্থাপন

ASHRAFUJJAMAN ZAKARIA
ASHRAFUJJAMAN ZAKARIA
3 months ago

সুন্দর লেখা।

তা মি ম
তা মি ম
2 months ago

ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থা— বিষয়টি মাদরাসা মহলেও বেশ অপরিচিত। যদিও ফিকহের কিতাবাদি পড়ানো হয়। ফিকহ পড়ানোর সময় অথবা আলাদা ভাবে বর্তমান প্রেক্ষাপটের সাথে মিলিয়ে বিষয়টি আলোচনা হওয়া দরকার।