বাংলায় মগ জলদস্যুর ইতিহাস

আমীরুল ইসলাম ফুআদ

ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীর সময়ে বাংলা অঞ্চল কেঁপে ওঠে মগ জলদস্যুদের আক্রমণে। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারত না, আতঙ্কে থাকত সারারাত। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দিত। জলজ্যান্ত মানুষকে মেরে টাঙিয়ে দিত গাছে গাছে। হাত পা কেটে নিয়ে উল্লাস করত। ধর্ষণ-লুণ্ঠন তাদের দৈনন্দিনের কাজ ছিল। গ্রাম থেকে গ্রাম লুটেপুটে নিত। তাদের নির্মম, নিষ্ঠুর ও বিভীষিকাময় অত্যাচারে বাংলা অঞ্চলের জনমানুষ এক ধরনের বর্বরোচিত দিনকাল গুজরান করছিল। বাংলা অঞ্চলে এক বিরল ইতিহাস রচিত হয়। সে ইতিহাস, জুলুম ও পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস। মগ জলদস্যুরা আবার সব জায়গায় অত্যাচার করত না। তারা উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে নির্যাতন চালাত। বিশেষ করে, চট্টগ্রাম থেকে ফরিদপুর, সুন্দরবন থেকে যশোর—এইসব অঞ্চলের মানুষ সবসময়ই নিরাপত্তাহীনতায় থাকত ।[1]ইমরান রাইহান: ইতিহাসের পাতা, সীরাত পাবলিকেশন, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০২৫, পৃষ্ঠা … Continue reading ঐ সময় তাদের পৈশাচিক অত্যাচারে বাংলায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গের জনমানুষ নানান বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে থাকে প্রতিনিয়ত।

 

কারা এই মগ জলদস্যু:

এইসব অত্যাচারী ও লুটেরা জলদস্যুরা মূলত আরাকানের বাসিন্দা। তবুও মগ (মঘ) নামের উৎপত্তি নিয়ে নানাজনের নানামত পরিলক্ষিত হয়। বর্মী ‘মৌং’ (Maung) থেকে মগ শব্দের উৎপত্তি অনুমান করা হয়ে থাকে। মৌং হচ্ছে বর্মীদের ধর্মীয় উপাধি। কেউ কেউ মনে করেন, ফারসি ‘মুঘ’ (অগ্নি উপাসক) শব্দ থেকে মঘ নামের উদ্ভব ।[2]মুহাম্মদ আব্দুল জলিল: বঙ্গে মগ-ফিরিঙ্গি ও বর্গির অত্যাচার, বাংলা একাডেমি, … Continue reading কেউ বলেন, সংস্কৃত ‘মদ্‌দু (জলচর পাখি, জলদস্যু) থেকে মগগু, মগ বা মং হয়েছে [3]ড. মুহাম্মদ এনামুল হক: মুসলিম বাংলা সাহিত্য, ঢাকা, ১৯৬৫, পৃষ্ঠা ১৮৯। অনেকে আবার মঘ শব্দটির ওপর শ্রেষ্ঠার্থ আরোপের পক্ষপাতী।[4]সত্যেন্দ্রনাথ ঘোষাল: কাজি দৌলৎ বিরচিত ‘সতী ময়না ও লোরচন্দ্রানী, পৃষ্ঠা … Continue reading যাঁরা শেষোক্ত মতের অনুসারী তাঁদের ধারণা, অতি প্রাচীনকালে (২২০০ খ্রিঃ পূঃ-২০০ খ্রিঃ) মগধ থেকে অনেক হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন বঙ্গে, আরাকানে ও বার্মায় ধর্ম প্রচার ও উপনিবেশ স্থাপন করতে আসে। পরবর্তীকালে আরাকানে ও বার্মায় কেবল বৌদ্ধধর্মই টিকে যায়, অন্যগুলো লোপ পায়।[5]আহমাদ শরীফ: বাঙালী ও বাঙালা সাহিত্য, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪২। আর যামিনীমোহন ঘোষ সংক্ষেপে মগদের পরিচয় তুলে ধরে বলেন, মগরা মূলত আরাকানের অধিবাসী যারা চট্টগ্রামের কাছাকাছি বাস করে।[6]Magh Raiders In Bengal, p-17-jamini mohan ghosh. Bookland private limited, allahabad. ইতিহাসবিদ শিবপ্রসাদ সমাদ্দার বলেন, আরাকান হচ্ছে ব্রহ্মাদেশেরই একটা প্রদেশ। ত্রিপুরার দক্ষিণ দিক থেকে আরাকান রাজ্য আরম্ভ হয়েছে। মঘরা হচ্ছে সেখানকারই বাসিন্দা। ধর্মে বৌদ্ধ হলেও তারা অহিংসার মন্ত্র উচ্চারণ করত না। এক সময়ে তারা বাংলাদেশেও আক্রমণ ক’রে সমগ্র চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী আর ত্রিপুরারও কতক অংশ অধিকার করেছিল। এইজন্যে অবশেষে তাদের সঙ্গে মোগলদের সংঘর্ষ হয়।[7]মুহাম্মদ আব্দুল জলিল: বঙ্গে মগ-ফিরিঙ্গি ও বর্গির অত্যাচার, বাংলা একাডেমি, … Continue reading

তাছাড়া, মগধ থেকে আগত এবং স্থানীয় যারা বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে কালক্রমে তারা সবাই অভিজাত প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে নিজেদের ‘মাগধী’ বলে পরিচয় দিতে থাকে। এই মনোভাব আরাকানের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজবংশ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়। এ কারণেই আরাকানের রাজা এবং সম্ভ্রান্ত বংশীয়রা চিরকাল নিজেদের মগধ রাজ-বংশোদ্ভূত ও ব্রাহ্মণ গোত্রীয় বলে দাবি করেন। আরাকানের রাজারা নিজেদের নাম সংস্কৃত ভাষায় যথা: মহৎচন্দ্র, সুলতচন্দ্র, নরপতিগী, রাজগী, শ্রীসূর্য, বড় ধর্মরাজা, মুনি ধর্মরাজা, চন্দ্রসূর্যধর্ম, শ্রীসুধর্মা, শ্রীচন্দ্রসুধর্মা এবং রাজধানীর নাম বৈশালী, ধন্যবতী, চম্পাবতী ইত্যাদি রেখেছেন।[8]মুহাম্মদ আব্দুল জলিল: বঙ্গে মগ-ফিরিঙ্গি ও বর্গির অত্যাচার, বাংলা একাডেমি, … Continue reading সবার উদ্দেশ্য কিন্তু একই ছিল!

এককালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৌদ্ধ ও মাগধী একার্থবোধক হয়ে ওঠে। অর্থাৎ একটি অপরটির প্রতিশব্দ রূপে চালু হয়। চট্টগ্রামে সাধারণার্থে আজও বৌদ্ধ অর্থে মঘ এবং মঘ অর্থে বৌদ্ধ নির্দেশিত হয়।[9]আব্দুল হক চৌধুরী: চট্টগ্রামের সমাজ ও সংস্কৃতির রূপরেখা, অপ্রকাশিত … Continue reading আবার ভাষাবিদ ড. আহমদ শরীফ বিভিন্ন তথ্য প্রমাণাদি থেকে মঘ শব্দের উৎপত্তি প্রসঙ্গে যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তা যথার্থ বলে গৃহীত হতে পারে “মথী প্রত্যক্ষ আরাকানী অর্থে এবং পরোক্ষ মগধ সম্ভূত আরাকানী ‘বৌদ্ধ রাজকীয়’ অর্থে ব্যবহৃত।[10]আহমাদ শরীফ: বাঙালী ও বাঙালা সাহিত্য, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪৩।

এই শব্দটি মূলত একটা অর্থে রূপান্তরিত হয় ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে। পর্তুগিজ জলদস্যুদের সঙ্গে যখন থেকে আরাকানী বৌদ্ধরা হাত মিলিয়ে বাংলার উপকূলীয় এলাকায় ধর্ষণ-লুণ্ঠন, হত্যার মতো জঘন্য কর্মে লিপ্ত হয় তখন থেকেই ‘মগ’ ও ‘মগের মুলুক’ জাতি ও দেশবাচক শব্দ দুটি অরাজকতার নামান্তর রূপে ব্যবহৃত হতে থাকে। ‘মগ’ মানে আরাকানী আর ‘মগের মুলুক’ মানে আরাকান; এ পরিচয় আজ অনেকের কাছেই অজ্ঞাত। বরং সমাজজীবনের কোথাও অনাচার অত্যাচার, নিপীড়ন নির্যাতন, অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল অবস্থা দেখা দিলে তাকেই বলা হয় ‘মগের মুলুক’। এই প্রবাদের প্রচলন মূলত তখন থেকেই।[11]মুহাম্মদ আব্দুল জলিল: বঙ্গে মগ-ফিরিঙ্গি ও বর্গির অত্যাচার, বাংলা একাডেমি, … Continue reading

 

প্রাচীন কাব্যে মগ শব্দ ব্যবহার:

সপ্তদশ শতাব্দীতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের দিকে মগ শব্দটি মগধ শব্দজাত থেকে প্রয়োগ করার প্রমাণ মেলে তৎকালীন ও পূর্বাপর সময়ের অনেক কবিদের কবিতায়। তাছাড়া, সেসব অধিকাংশ কবি, মূলত রোসাঙ্গ রাজসভার কবি।

‘আরাকান রাজ’ অর্থে ‘মগধির পতি’ ব্যবহার করেছেন সপ্তদশ শতাব্দীতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কবি মুহম্মদ খান তার ‘মজুল হোসেন’ নামক বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থে— 

‘যাহাকে প্রশংসা কৈল্য মগধির পতি’।[12]মুহম্মদ খান: সত্য-কলি-বিবাদ-সংবাদ বা মুগ-সংবাদ, আহমদ শরীফ সম্পাদিত, বাংলা … Continue reading

আর কবি এতিম কাসেম রচিত ‘আওরাদ্য বারোজ প্রশস্তি’তে লেখেছেন— 

আঁধার মানিক মৌজে কদম রসুল। 

ফাজিল সে অধিকারী মগধ বহুল।[13]ড. আহমদ শরীফ: এতিম কাসেম বিরচিত ‘আওরদ্য বারোজ প্রশস্তি, বাংলা একাডেমী … Continue reading

মগ যে মগধ শব্দজাত এবং বৌদ্ধ অর্থে ব্যবহার করা হয় তার প্রমাণ ধরা দেয় কবি এতিম কাসেমের আরেক লেখায়। কবি অন্য প্রসঙ্গে আবারো তা উল্লেখ করেছেন—

হাড়ি ডোম মগধ জাতি আর যে কুলাল। 

তোমার কল্যাণ হেতু মাগে সর্বকাল।[14]প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪০।

রোসাঙ্গ রাজসভা কবি দৌলৎ কাজী তার পৃষ্ঠপোষক রোসাঙ্গরাজের প্রশস্তি প্রসঙ্গে একই রূপ ধারণা ব্যক্ত করেছেন—

কর্ণফুল নদী পূর্বে আছে এক পুরী। 

রোসাঙ্গ নগর নাম স্বর্গ অবতরি। 

তাহাতে মগধ বংশ ক্রমে বুদ্ধাচার 

নাম শ্রীসুধর্ম রাজা ধর্ম অবতার।[15]দৌলত কাজী: সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী, ড. মযহারুল ইসলাম ও আবদুল ফিজ সম্পাদিত, … Continue reading

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, আরাকানে প্রচলিত মঘী সন থেকেই চট্টগ্রাম অঞ্চলে এই সনের ব্যবহার চালু হয়। রোসাঙ্গ রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওল তার ‘সপ্তপয়কর’ কাব্যের একস্থানে বলেছেন—

নানা শাস্ত্র পারগ বিদ্বান বিদগধ। 

আরবি ফারসি আর হিন্দুয়ানি মাগধ।[16]আলাওল: সপ্তপয়কর, উদ্ধৃত, আহমদ শরীফের বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, দ্বিতীয় খণ্ড, … Continue reading

দেখা গেছে, কবি আলাওল এখানে—মাগধ অর্থে আরাকানী ভাষা বোঝাতে চেয়েছেন। দৌলৎ কাজীর ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্যে আলাওল রচিত অংশে কবি আলাওল পুনরায় একস্থানে মঘী সনের কথা টেনে বলেছেন—

‘মগধের সনের শুনহ বিবরণ’।[17]ড. আহমদ শরীফ: বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪২।

 

মগ জলদস্যুদের অত্যাচার ও অন্যান্য:

মোগল শাসনামলের শুরুতে যখন বার ভুঁইয়াদের শাসন ক্ষমতা দুর্বল এবং মোগলরা নিজেদের ক্ষমতা শক্তভাবে প্রয়োগ করতে পারছিল না, তখনই মগ জলদস্যুদের বেপরোয়া দস্যুতা ও ভয়াবহ হিংস্রতা শুরু হয়। দুর্বলতার সুযোগ পেয়ে যায় এই লুটেরা জলদস্যু মগেরা। তারা প্রথম দিকে নদীমাতৃক দেশগুলোতে আক্রমণ চালায়। ইচ্ছেমতো অত্যাচার-অনাচার ও ভয়াবহ তাণ্ডব চালাতে থাকে। ঘরবাড়ি, ক্ষেত-ফসল জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে। গ্রাম থেকে গ্রাম জনমানবশূন্য হয়ে পড়তে থাকে। ফরাসি পর্যটক বার্নিয়ের লিখেছেন, মগ জলদস্যুদের আক্রমণে সমুদ্র উপকূলীয় অনেক দ্বীপ এখন জনশূন্য। এখন এই সব দ্বীপ দেখলে মনেই হয় না এককালে এখানে লোকালয় ছিল। ধু ধু করছে জনমানবশূন্য এইসব গ্রাম।[18]এনায়েত রসুল: মোগল সাম্রাজ্যের পথে পথে, স্বরবৃত্ত প্রকাশন, ঢাকা, পৃষ্ঠা ২১৫।

এই দস্যুতা ও হিংস্রতা প্রথমে মগরা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে তাদের সাথে যুক্ত হয় পর্তুগিজরা। এখন কথা হচ্ছে, পর্তুগিজ কারা? এদের পরিচয় নিয়ে দীর্ঘ আলাপ করা যাবে। সহজ কথায়, পর্তুগিজ শব্দ আর্মাডার (যুদ্ধ জাহাজ) অপভ্রংশ ‘হ্যাদ’, সাধারণ অর্থে যা পর্তুগিজ জলদস্যু নামে পরিচিত।[19]রমেশচন্দ্র মজুমদার: বাংলাদেশের ইতিহাস, মধ্যযুগ, পৃষ্ঠা ২২১। আবার কারো কারো মতে— পর্তুগিজ শাসকদের শাস্তির ভয়ে বোম্বে অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা দুর্বৃত্ত জলদস্যুদেরই তৎকালে এদেশের লোকেরা বোম্বেটে আখ্যা দিয়েছিল।[20]সতীশচন্দ্র মিত্র: যশোহর-খুলনার ইতিহাস, ২য় খণ্ড, ২য় সং, দাসগুপ্ত অ্যান্ড … Continue reading চট্টগ্রামে ও আরাকানে ছিল পর্তুগিজ বোম্বেটেদের প্রধান আস্তানা। সাধারণতঃ তারা চট্টগ্রাম থেকে বেরিয়ে নদীপথে নৌবাহিনী চালিয়ে যখন তখন হানা দিত হুগলি, যশোহর, ভূষণা, বাক্কা, বিক্রমপুর, সোনারগাঁ ও ঢাকা প্রভৃতি স্থানে। বলা বাহুল্য, তাদের পাপ কার্যের সঙ্গী হতো মগের দলও এবং তারাও ছিল তাদেরই মতো নিপুণ নাবিক।[21]শিবপ্রসাদ সমাদ্দার: ভারত ভূখণ্ডে পর্তুগিজ, আকাশ সিকদার প্রেস অ্যান্ড … Continue reading পর্তুগিজ বংশীয় এক ঐতিহাসিক পর্তুগিজদের ব্যাপারে লেখেন, পর্তুগিজদের কর্মকাণ্ডকে যেভাবেই উল্লেখ করা হোক সেটাই কম হয়ে যাবে। সেসময় তাদের পাপ কর্মকাণ্ড এতই বেড়ে গিয়েছিল—মনে হতো শয়তানের রাজত্ব কায়েম করে ফেলেছিল তারা।[22]জোয়াকিম জোসেফ এ ক্যাম্পোস: হিস্টরি অব দ্য পর্তুগিজ ইন বেংগল, দিব্যপ্রকাশ, … Continue reading পর্তুগিজরা যখন সন্দ্বীপে আক্রমণ করে তখন সন্দ্বীপের অধিপতি ছিলেন, কার্ভালহো। তখন তারা সেখানে ঢুকে আক্রমণ শুরু করলে নাগরিকরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পলায়ন করতে বাধ্য হয়েছিল। পরিত্যক্ত, বিজন নগর আচ্ছন্ন হয়ে যায় ঝোপঝাড় আগাছায়, কালক্রমে বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষের উপর মাথা তুলে দাঁড়ায় মহা মহীরুহ এবং চতুর্দিকে নরনারীর কলকোলাহলের পরিবর্তে শোনা যেতে থাকে ভয়াল জন্তুদের ভৈরব গর্জন। যেখানে লুটতরাজ ও নরহত্যার মহোৎসব শুরু করে।[23]আ.ফ.ম. আবদুল জলীল: দক্ষিণ বঙ্গে খৃষ্টান পাদরী ও মগ-ফিরিঙ্গি, ইতিহাস, ইতিহাস … Continue reading কখনো মগরা পর্তুগিজদেরকে কখনো আবার পর্তুগিজরা মগদের সাহায্য করে লুণ্ঠন ও হত্যা চালিয়ে যেতে থাকে। এই জলদস্যুদের নেতা ছিল ফ্রেই ভিসেন্তে নামক এক পাদরি। প্রথমদিকে দুই সম্প্রদায় মিলেমিশে লুণ্ঠন ও অন্যান্য যাবতীয় কাজগুলো করলেও পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে নানান দ্বান্দ্বিকতা ও কোন্দল সৃষ্টি হলে তারা পৃথক হয়ে যায়। দুইটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

১৬২০ খ্রিস্টাব্দের দিকে মগেরা ঢাকায় অতর্কিত হামলা চালায়। এই ব্যাপক হামলা অনেক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় অপ্রস্তুত বাঙালি। তখন এই মগ জলদস্যুর বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেন সুবাদার ইব্রাহিম খান ফতেহ জং। তার অসীম বীরত্বের সামনে টিকতে পারেনি মগ জলদস্যুরা। পরাজিত হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু, হৃদয়ে প্রতিশোধের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছিল তাদের। সেই প্রতিশোধ একটি বছর জিইয়ে রেখে ১৬২১ খ্রিস্টাব্দে তারা বরিশালের শাহবাজপুরে ব্যাপক হামলা চালায়। এই সংবাদ ইব্রাহিম খানের কাছে পৌঁছলে নৌযান নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করেন। তখন ভয়ে মগ জলদস্যুরা যশোরের দিকে পালিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে অনেক নারী পুরুষদের বন্দি করে। লেখক ইমরান রাইহান বন্দির সংখ্যা আনুমানিক ১৫০০ বলে উল্লেখ করেন।[24]ইমরান রাইহান: ইতিহাসের পাতা, সীরাত পাবলিকেশন, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০২৫, পৃষ্ঠা … Continue reading আর ১৬২১ থেকে ১৬২৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মগ ফিরিঙ্গিদের হাতে আনুমানিক ৪২০০০ জন মানুষ বন্দি হয়। তারপর ধূর্ত পর্তুগিজরা সেখান থেকে ২৮ হাজার বাঙালি মুসলমানকে খ্রিস্টান বানায়। আর বাকিদেরকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয় বিভিন্ন জায়গায়।[25]প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২২৪।

তারপর তখন ১৬২৫ খ্রিস্টাব্দ। মগ জলদস্যুরা ঢাকায় আক্রমণের ছক আঁকে। তখন ঢাকার মোগল সুবাদার ছিলেন খানজাদ খান। সে মগরাজ শ্রীসুধর্মের ভয়ে আর মগ জলদস্যুদের হিংস্রতার কথা ভেবে পালিয়ে যায়। মগ জলদস্যুরা পরম সুযোগ পেয়ে যায়। সগৌরবে বিজয়ীর হাসি হেসে ঢাকায় প্রবেশ করে তারা। শুরু হয় তাদের পাশবিকতা। নির্মম হত্যা আর লুণ্ঠন, জ্বালাও-পোড়াও আর ধর্ষণ। মগ জলদস্যুদের অত্যাচার ও ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে শিহাবুদ্দিন তালিশ লেখেন— পর্তুগিজদের মতোই মগ জলদস্যুরা জলপথে এসে বাংলায় লুণ্ঠন করত। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর কাউকেই ছাড়তেন না। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু-মুসলমান সকলকেই বন্দি করে তাদের হাতের তালু ছিদ্র করে সরু বেত প্রবেশ করিয়ে দিত এবং একজনের ওপর আরেকজনকে চাপিয়ে জাহাজের পাটাতনের নিচে ফেলে রাখত দিনের পর দিন। তারা সেখানে গভীর অন্ধকারের ভেতর গাদাগাদি করে থাকত আধা মরা হয়ে। পাখিকে যেমন মানুষ আহার দেয় তেমনি করে তারা প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় উপর থেকে বন্দিদের কয়েক মুঠোয় চাল ছড়িয়ে দিত। এই খাদ্য খেয়ে যারা প্রাণ ধারণ করতে পারত।[26]শিবপ্রসাদ সমাদ্দার: ভারত ভূখণ্ডে পর্তুগিজ, আকাশ সিকদার প্রেস অ্যান্ড … Continue reading দেশে ফিরে এই দস্যুরা তাদের সামর্থ্য অনুসারে চাষ বা অন্য কঠিন কার্যে নিয়োগ করত। অবশিষ্টগুলোকে দাক্ষিণাত্যে নিয়ে গিয়ে ওলন্দাজ, ইংরেজ বা ফরাসি বণিকদের নিকট বিক্রি করে আসত। সময় সময় তাদের তমলুক ও বালেশ্বর বন্দরে নিয়ে বিক্রয়ার্থে উপস্থিত করত। বিক্রি করে দিত বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন শহরে।

শিহাবুদ্দিন তালিশ আরও বলেন—দীর্ঘদিন দস্যুতার ফলে মগদের দেশ হয়েছে ক্রমশই জনশূন্য এবং প্রতিরোধ শক্তিতেও ক্ষীণ। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের পথে নদীর উভয় পার্শ্বে একজন গৃহস্থও থাকল না। এই মগের ধ্বংসলীলার ফলে বাকলার মতো সমৃদ্ধিশালী জনবসতির পুরো জেলায় এমন একটি গৃহও ছিল না যার মানুষ একটি প্রদীপ জ্বালাতে পারে। মানে, পুরো একটা জেলা শহরে বাতি জ্বালানোর মতো কেউ ছিল না।[27]বাংলা একাডেমি গবেষণা পত্রিকা: মাঘ-চৈত্র, ১৩৮০, পৃষ্ঠা ১০।

তাছাড়া, মগ জলদস্যুদের দস্যুতার প্রত্যক্ষদর্শী বাংলার সুবেদারের অন্যতম খ্যাতনামা সৈনিক ও ঐতিহাসিক মির্জা নাথান এ প্রসঙ্গে লেখেছেন—শ্রীপুর অঞ্চলে রাজকীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগে মগেরা শত শত নৌকা নিয়ে ঢুকে অসংখ্য গ্রাম লুণ্ঠন করে এবং গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে গ্রামবাসীদের বন্দি করে নিয়ে যায়।[28]Mirza Nathan Bharistan-i-ghavbi. Tr. by. Dr. M. I. Borah, Govt. of Assam, 1936, p. 146.

মগ দস্যুদের অত্যাচারের প্রত্যক্ষ বর্ণনা দিয়েছেন তৎকালীন সময়ের আরেকজন ফরাসি পর্যটক বার্নিয়েরও। সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে মগ-ফিরিঙ্গির অত্যাচারে বঙ্গের কী দুরবস্থার সৃষ্টি হয় তার অতি বাস্তব বর্ণনা তিনি তুলে ধরেছেন। প্রথমেই তিনি পর্তুগিজদের প্রসঙ্গে বলেছেন —এমন কোনো অপকর্ম ছিল না যা তারা করতে পারত না। তারা নামেই শুধু খ্রিস্টান ছিল, কিন্তু তাদের মতো জঘন্য পিশাচ প্রকৃতির লোক সচরাচর দেখা যেত না। খুন, জখম, ধর্ষণ, লুটতরাজ ইত্যাদি ব্যাপারে তাদের সমকক্ষ কেউ ছিল না। এই পর্তুগিজ দস্যুরা মগদের প্রশ্রয় ও উস্কানি পেয়ে রীতিমতো যথেচ্ছাচার করতে আরম্ভ করে। হাট বাজারের দিন গ্রামের মধ্যে ঢুকে গ্রামের লোকদের তারা ক্রীতদাস করার জন্য বন্দি করে নিয়ে যেত। উৎসব পার্বণের দিনও তারা এইভাবে গ্রামাঞ্চলে হানা দিত। অনেক সময় গ্রামের পর গ্রাম আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিত। নিম্নবঙ্গের কত শত গ্রাম যে তারা লুণ্ঠন করত। উক্ত জবানবন্দির শেষের দিকে বলেন— পর্তুগিজদের মতোই ছিল মগ জলদস্যুদের হিংস্রতা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা পর্তুগিজদেরকেও ছাড়িয়ে যায়।[29]বিনয় ঘোষ: বাদশাহী আমল: ইডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং প্রাঃ লিঃ, কলিকাতা, … Continue reading

মগ জলদস্যুদের প্রতিহত করার জন্য ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে সুবাদার মীর জুমলা পদক্ষেপ নিয়ে ইদ্রাকপুরে দুর্গ নির্মাণ করেন। যেন মগরা নদী পথে আসার সময় তাদেরকে প্রতিহত করা সহজ হয়। তারপর ১৬৬৪ সালে শায়েস্তা খান ক্ষমতায় আসলে তিনি মগদের প্রতিহত করতে পদক্ষেপ দেন। এই বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। মগ জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। সেসময় মগদের প্রধান ঘাঁটি ছিল চট্টগ্রামে। আর শায়েস্তা খান আগে চট্টগ্রাম বিজয় করার পরিকল্পনা নিয়ে সন্দ্বীপে বাহিনী পাঠান। আর তখন ছিল ১৬৬৫ সালের ১২ই নভেম্বর। তখন মোগল সেনারাও এগিয়ে আসে। ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দের ২৩ই জানুয়ারির দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মগ আর মোগলদের সংঘর্ষ হয়। তুমুল সংঘর্ষের ফলে মগদের জাহাজগুলো হেলে পড়ে। এরই মধ্যে শুরু হয় তুমুল গোলাগুলি। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মগরা সামাল দিতে না পেরে কর্ণফুলী নদীতে প্রবেশ করে। তাদের পিছু ধাওয়া করে মোগল বাহিনী। একপর্যায়ে মগ জলদস্যুরা পরাজিত হয়। তাদের কুঠিরগুলোতে মোগল বাহিনী আগুন ধরিয়ে ছারখার করে দেয়। মগদের বেশকিছু অস্ত্র ও হাতি মোগলদের দখলে আসে। তাদের দুর্গ থেকে অসংখ্য বন্দি কৃষক মুক্তি পায়। তখন সুযোগ পেয়ে সেইসব কৃষকেরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। নির্বিচারে মগদের হত্যা করতে থাকে। বেশকিছু মগ জলদস্যু কৃষকদের হাতে প্রাণ দেয়। তারপর দেখা গেছে, ২৯ জানুয়ারি ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে সুবাদার শায়েস্তা খানের কাছে বিজয়ের সংবাদ পৌঁছে। জানতে পারেন, মগ জলদস্যুর হাত থেকে রেহাই পেয়েছে এই বঙ্গভূমি। তখন তিনি শুকরিয়া আদায় করেন এবং গরিবদুঃখীদের মাঝে দান-খয়রাত ও সেনাবাহিনীদের উপহারসামগ্রী দেন।[30]ড. মোহাম্মদ মোহর আলী: মোঘল আমলে বাংলায় মুসলিম শাসনের ইতিহাস, মেধা বিকাশ … Continue reading তখন তাদের শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। কোমর সোজা করে দাঁড়ানোর শক্তি হারিয়ে ফেলে।

তখন অষ্টাদশ শতাব্দী। শায়েস্তা খানের মগ দমনের পর আবার তারা মাথা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। ‘ইস্ট ইন্ডিয়া ক্রনিকলের’ সাহায্যে জানা যায়—১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে মগ জলদস্যুরা বঙ্গদেশের ১৮০০ অধিবাসীকে বন্দি করে তাদের রাজার সম্মুখে উপস্থিত করে। আরাকানরাজ তাদের মধ্য থেকে একদলকে বেছে নিয়ে নিজের দাসত্ব কাজে নিয়োগ করেন। অবশিষ্ট লোকদিগকে পশুর ন্যায় গলায় রশি বেঁধে বাজারে বিক্রি করা হয়।[31]ড. মোহাম্মদ মোহর আলী: মোঘল আমলে বাংলায় মুসলিম শাসনের ইতিহাস, মেধা বিকাশ … Continue reading

ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির চব্বিশ পরগণা জেলা অধিকারের প্রারম্ভকালেও মগ ফিরিঙ্গি আক্রমণের ভয় কলিকাতা অঞ্চলেও ছিল। সে কারণে ইংরেজরা ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের নিকট হুগলি নদীর ওপর এক প্রকাণ্ড লৌহ শৃঙ্খল ঝুলিয়ে রাখে।[32]সতীশচন্দ্র মিত্র: যশোহর-খুলনার ইতিহাস, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৭।

তাছাড়া, হেস্টিং এর কালে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামের পাঁচখানি গ্রামের এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, জন্মহার মৃত্যুহার অপেক্ষা কম এবং তার মূলে মগ ফিরিঙ্গি ভীতি। ভাবতেই অবাক লাগে, কী পরিমাণ ভয়ে থাকত মানুষ! ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত ভুলুয়ার লবণের ঠিকাদারগণ মগ জলদস্যুর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য রেয়াত পেয়েছে। সে বছরই জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধৃত ১৮ জনকে মগরাজা চট্টগ্রামের প্রধানের নিকট ফেরত পাঠিয়েছেন। এমনকি ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দেও কলিকাতাবাসী মগের ভয়ে শঙ্কিত ছিল![33]বাংলা একাডেমী গবেষণা পত্রিকা, মাঘ-চৈত্র, ১৩৮০, পৃষ্ঠা ১২।

আজ তারা বেঁচে নেই। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তাদের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড আজও জীবন্ত। বাঙালি হত্যার রক্তের ছোপছোপ দাগ এখনও রয়ে গেছে তরতাজা। কান পাতলে এখনও শোনা যায় তাদের নির্মম গণহত্যার শিকারগ্রস্ত মানুষের কান্নার আওয়াজ। ভয়ে থরথর করে কেঁপে ওঠা শিশুর গোঙানি।

তথ্যসূত্র:

তথ্যসূত্র:
1 ইমরান রাইহান: ইতিহাসের পাতা, সীরাত পাবলিকেশন, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০২৫, পৃষ্ঠা ২২৩।
2 মুহাম্মদ আব্দুল জলিল: বঙ্গে মগ-ফিরিঙ্গি ও বর্গির অত্যাচার, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৯৮৮, পৃষ্ঠা ২৪।
3 ড. মুহাম্মদ এনামুল হক: মুসলিম বাংলা সাহিত্য, ঢাকা, ১৯৬৫, পৃষ্ঠা ১৮৯।
4 সত্যেন্দ্রনাথ ঘোষাল: কাজি দৌলৎ বিরচিত ‘সতী ময়না ও লোরচন্দ্রানী, পৃষ্ঠা ৫।
5 আহমাদ শরীফ: বাঙালী ও বাঙালা সাহিত্য, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪২।
6 Magh Raiders In Bengal, p-17-jamini mohan ghosh. Bookland private limited, allahabad.
7, 8, 11 মুহাম্মদ আব্দুল জলিল: বঙ্গে মগ-ফিরিঙ্গি ও বর্গির অত্যাচার, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৯৮৮, পৃষ্ঠা ২৫।
9 আব্দুল হক চৌধুরী: চট্টগ্রামের সমাজ ও সংস্কৃতির রূপরেখা, অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি, পৃষ্ঠা ২৬।
10 আহমাদ শরীফ: বাঙালী ও বাঙালা সাহিত্য, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪৩।
12 মুহম্মদ খান: সত্য-কলি-বিবাদ-সংবাদ বা মুগ-সংবাদ, আহমদ শরীফ সম্পাদিত, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৫৯, পৃষ্ঠা ১০০।
13 ড. আহমদ শরীফ: এতিম কাসেম বিরচিত ‘আওরদ্য বারোজ প্রশস্তি, বাংলা একাডেমী পত্রিকা, ভাদ্র-চৈত্র, ১৩৬৫, পৃষ্ঠা ৩৯।
14 প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪০।
15 দৌলত কাজী: সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী, ড. মযহারুল ইসলাম ও আবদুল ফিজ সম্পাদিত, নওরোজ কিতাবিস্তান, ঢাকা, ১৯৬৯, পৃষ্ঠা ৫০।
16 আলাওল: সপ্তপয়কর, উদ্ধৃত, আহমদ শরীফের বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪২।
17 ড. আহমদ শরীফ: বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪২।
18 এনায়েত রসুল: মোগল সাম্রাজ্যের পথে পথে, স্বরবৃত্ত প্রকাশন, ঢাকা, পৃষ্ঠা ২১৫।
19 রমেশচন্দ্র মজুমদার: বাংলাদেশের ইতিহাস, মধ্যযুগ, পৃষ্ঠা ২২১।
20 সতীশচন্দ্র মিত্র: যশোহর-খুলনার ইতিহাস, ২য় খণ্ড, ২য় সং, দাসগুপ্ত অ্যান্ড কোম্পানি প্রাঃ লি, কলিকাতা, ১৯৬৫, পৃষ্ঠা ১৭৬।
21 শিবপ্রসাদ সমাদ্দার: ভারত ভূখণ্ডে পর্তুগিজ, আকাশ সিকদার প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০২৫, পৃষ্ঠা ১৪২।
22 জোয়াকিম জোসেফ এ ক্যাম্পোস: হিস্টরি অব দ্য পর্তুগিজ ইন বেংগল, দিব্যপ্রকাশ, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১৪৮।
23 আ.ফ.ম. আবদুল জলীল: দক্ষিণ বঙ্গে খৃষ্টান পাদরী ও মগ-ফিরিঙ্গি, ইতিহাস, ইতিহাস পরিষদ পত্রিকা, আবদুল হালীম ও আবু মহাম্মদ হাবিবুল্লাহ সম্পাদিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যা, পৌষ-চৈত্র, ১৩৭৪, পৃষ্ঠা ২৮২।
24 ইমরান রাইহান: ইতিহাসের পাতা, সীরাত পাবলিকেশন, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০২৫, পৃষ্ঠা ২২৪।
25 প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২২৪।
26 শিবপ্রসাদ সমাদ্দার: ভারত ভূখণ্ডে পর্তুগিজ, আকাশ সিকদার প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০২৫, পৃষ্ঠা ১৪৩।
27 বাংলা একাডেমি গবেষণা পত্রিকা: মাঘ-চৈত্র, ১৩৮০, পৃষ্ঠা ১০।
28 Mirza Nathan Bharistan-i-ghavbi. Tr. by. Dr. M. I. Borah, Govt. of Assam, 1936, p. 146.
29 বিনয় ঘোষ: বাদশাহী আমল: ইডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং প্রাঃ লিঃ, কলিকাতা, ১৮৭৯, পৃষ্ঠা ৪৭।
30, 31 ড. মোহাম্মদ মোহর আলী: মোঘল আমলে বাংলায় মুসলিম শাসনের ইতিহাস, মেধা বিকাশ প্রকাশন, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৪২।
32 সতীশচন্দ্র মিত্র: যশোহর-খুলনার ইতিহাস, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৭।
33 বাংলা একাডেমী গবেষণা পত্রিকা, মাঘ-চৈত্র, ১৩৮০, পৃষ্ঠা ১২।

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments