অনেকদিন ধরেই যোগাযোগ থেকে তহা আবদুর রহমানকে নিয়ে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের কথা হচ্ছিল। সেই পঁচিশ সালের শুরুর দিকেই খালিদ সাইফুল্লাহ ভাই প্রথম এ প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তার আগ্রহে কোনো খামতি ছিল না, পরিকল্পনাও ছিল বিস্তৃত। কিন্তু জীবনের বাস্তবতা অনেক সময় ইচ্ছামাফিক চলে না; বরং সে আরও দ্রুতগতিতে ছুটে চলে। খালিদ ভাই নিজের নানান ব্যস্ততায় ডুবে গেলেন, আমিও আটকে গেলাম কাজের ভিড়ে। ফলে পরিকল্পনাটি দীর্ঘদিন ধরে কেবল আলোচনার টেবিলেই রয়ে গেল।
আসলে এই সংখ্যাটির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল খালিদ ভাইয়ের ফুরসত। কারণ গোটা সংখ্যার চিন্তা, পরিকল্পনা ও সম্পাদনার মূল ভার ছিল তার কাঁধেই। আমি সেখানে ছিলাম নামমাত্র একজন সহযাত্রী। বাংলাদেশে আমার জানামতে তহা আবদুর রহমানকে নিয়ে এত গভীর ও ধারাবাহিক চর্চা খুব কম মানুষই করেছেন। তার চিন্তার জগৎ, ভাষাদর্শন, নৈতিকতার দর্শন এবং আধুনিকতার সমালোচনা নিয়ে খালিদ ভাইয়ের যে নিবিষ্ট পাঠ, তা এই সংখ্যার পেছনে প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
আমাদের পরিকল্পনা অবশ্য আরও বড় ছিল। শুধু অনলাইন নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ ছাপা সংখ্যা প্রকাশের স্বপ্ন নিয়েই আমরা এগোচ্ছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম, এই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দার্শনিককে নিয়ে বাংলা ভাষায় একটি সংরক্ষণযোগ্য কাজ হোক। কিন্তু সব পরিকল্পনা তো আর মানুষের ইচ্ছামতো বাস্তবায়িত হয় না। সময়, ব্যস্ততা, সীমাবদ্ধতা—সবকিছু মিলিয়েই শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনার কিছু অংশ অসম্পূর্ণ থেকে গেছে।
তবু আনন্দের বিষয় হলো, সংখ্যাটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হলেও এটি প্রকাশিত হচ্ছে—এটাই বড় কথা। কারণ কোনো চিন্তামূলক কাজ কখনো পুরোপুরি নিখুঁত অবস্থায় শুরু হয় না; বরং শুরু হওয়ার মধ্যেই তার সবচেয়ে বড় সার্থকতা লুকিয়ে থাকে।
আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা লেখা দিয়েছেন, সময় দিয়েছেন, ভাবনা ভাগ করে নিয়েছেন—তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এই সংখ্যা মূলত সম্মিলিত এক বৌদ্ধিক প্রয়াস। এখানে যারা লিখেছেন, তারা কেবল প্রবন্ধ দেননি; বরং আমাদের চিন্তার পরিসরকে আরও উন্মুক্ত করেছেন।
আমরা আশা করি, এই প্রচেষ্টা বাংলা ভাষায় তহা আবদুর রহমান-চর্চার একটি নতুন দরজা খুলে দেবে। হয়তো এটি পূর্ণাঙ্গ নয়, হয়তো আরও অনেক কিছু করার বাকি আছে—কিন্তু প্রতিটি যাত্রাই তো প্রথম পদক্ষেপ থেকেই শুরু হয়।
তহা আবদুর রহমান-চর্চা আরও বেগবান হোক—সেটাই প্রত্যাশা।