দুয়ারে পাষাণ তালা (একাদশ কিস্তি)

মূল : মুস্তফা করিম

আরমান আল-বাঙালি

কোনোমতে নারিয়া পৌঁছাইতে পারে ওয়াজেদ। রোদের তাপে ঝলসানো, বিরানমতো একটা শহর নারিয়া। একটা মিশন ইশকুল চোখে পড়ে—বন্ধ। সামনে খেলার মাঠ। তার মাঝে দিয়া কুত্তা ভাগতেছে একটা। চোখে পড়ে কাপড়ের ছোটো ছোটো দোকান—ধূসর বিবর্ণ ধূলামলিন। খদ্দের নাই কোথাও। বইসা বইসা ঝিমাইতেছে মালিক। একটা ঘন-ডালপালা ছায়াদার বটগাছের নিচে তিনটা খালি টাঙ্গা দাঁড়ানো। সামনের আসনে পা ঝুলাইয়া ঘুমাইতেছে কোচোয়ানেরা। খানিকটা দূরে, এতক্ষণে চোখে পড়ে ওয়াজেদের, আরও কয়েকটা দোকান পুইড়া কালো। দেয়ালের গায়ে এখনও লাইগা আছে ধোঁয়ার কালি। ওয়াজেদের আরও চোখে পড়ে একটা ভাঙা মসজিদ। তার খানিক দূরত্বে একটা ভাঙা মন্দির। সামনে ছড়াইয়া-ছিটাইয়া রইছে বিচূর্ণ মূর্তিগুলা। আরও খানিকটা দূরত্বে একটা গুরুদুয়ারা—শিখ উপাসনালয়। কারা যেন খুইলা নিয়া গেছে ওর দরজা। চুন দিয়া চাঁদ-তারা আঁইকা দিছে দেয়ালে। 

অন্য সময় হইলে ওয়াজেদ থামত। কাউরে ধইরা বইসা জিগাইত এখানে দাঙ্গা কবে হইল, দাঙ্গা বাবদ কতজন মরল, ইত্যাদি। আর পালটা কেউ যদি তার এলাকার খবর জিগাইত তো সে গর্বভইরা বলত যে কোট ফাতাহ খানে দাঙ্গা বাবদ কোনো মুসলমানের ক্ষতি হয় নাই।

কিন্তু আজকে এইসব নিয়া ভাবার সময় নাই। তার কোথাও যাইতে হবে। দূরে কোথাও। সেখানে জীবন কেমন কাটবে, জানা নাই তার। অনিশ্চিত সব। একটা ঘোর তার মাথার উপর সওয়ার হইছে। কানের পাশটাতে একটানা বইলা যাইতেছে, যাও—যাও—যাও। এই ডাক থেকে নিস্তার নাই, পালানোর পথ নাই। তবু মনের কোণে আবছামতন, একচিলতা আলোর মতন, একটু আশার উঁকি—হয়তো সময়ের ব্যবধানের মতন জায়গায় ব্যবধানও যত বেশি হবে তত এই দহনজ্বালার উপর পরত পরত স্বস্তির পর্দা পড়তে থাকবে, তাতে এই বেচাইনি থেকে হয়তো একটু মুক্তি মিলবে।

দুয়েকজন রাস্তায় থমকাইয়া দাঁড়ায়। ওয়াজেদের রক্তমাখা জামা, বিধ্বস্ত দেহ আর ফোলা-কাটা-ফাটা চেহারার দিকে তাকাইয়া থাকে। তারা মুখ খুলবে, কিছু জিগেশ করবে, তার আগে ওয়াজেদ দ্রুত পায়ে সেখান থেকে সইরা পড়ে। পথ যেদিকে যায় সেদিকে পা চালায়। তার জিভ শুকাইয়া কাঠ। পিয়াসা গলার ভিতর কাঁটার মতন বিন্ধাইয়া থাকে। এটাও তার সাজা, তার পাওনা, মুখ বুইজা সহ্য করা লাগবে তার, জানে ওয়াজেদ। 

সড়ক তারে একটা রেল-ক্রসিংয়ের মুখে নিয়া আসে। উভয় পাশে গেট বন্ধ। একটা মালগাড়ি অপেক্ষা করতেছে লাল সংকেত কখন সবুজ হবে। দোনো পাশের টাঙ্গা লরি ঠেলাগাড়ি পথচারীরাও দাঁড়াইয়া আছে গেট খোলার অপেক্ষায়।

আকস্মিক বিজলি খেইলা যায় ওয়াজেদের মাথায়। গেটের পাশ দিয়া কাঁটাতারের বেড়া চইলা গেছে অনেকটা দূর। ওয়াজেদ শরীরের সমস্ত শক্তি জড়ো কইরা ছুট লাগায় ওদিকে। কাঁটাতারের ভিতর শরীর গলাইয়া পার হয়। তারপর সবেগে দৌড় দিয়া লাফাইয়া চইড়া বসে মালবাহী ট্রেনের একটা খালিমতন বগিতে। হইহই কইরা ওঠে লোকজন। দূরে দাঁড়াইয়া গালি বকে ওয়াজেদের সনে। ওরা বুইঝা গেছে টিকিট ছাড়া পালাইতেছে একটা লোক। কিন্তু ওয়াজেদ নির্বিকার। পকেটে একটা পয়সাও নাই যে কোথাও থেকে একটুকরা রুটি খাইতে পারবে। সেখানে টিকিট কাইটা যাত্রীবাহী ট্রেনে চড়ার আশাও এক দুরাশা। অতএব সে যা করে তাই সই। ধরা পড়লে যদি জেল হয়, তাও সই। ভালোই হবে আসলে। দিনদুয়েকের জন্য হইলেও একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই তো মিলবে।

গরমে বগির ভিতরটা যেন গনগন কইরা জ্বলতেছে। মেঝেতে ভিজা কাঠের গুঁড়া ছড়ানো। বরফের চাই ঢোয়ানো হইছিল আগে। গুঁড়াগুলা এখনো হিম। ওয়াজেদ শরীর ছাইড়া দেয় তাতে। ঠান্ডায় শান্তি লাগে খানিকটা। হাত-পা ছড়াইয়া দেয় সে। ফোলা জখমি গাল ঘষে কাঠের ঠান্ডা গুঁড়ায়।

তীক্ষ্ণস্বরে আর্তনাদ কইরা ওঠে ইঞ্জিন। ঘড়ঘড় শব্দে গড়াইতে থাকে চাকা। দানবসম রেলগাড়ি আগায় ধীরে ধীরে। খানিকবাদে গতি বাড়ে তার। ছুইটা চলে মালবাহী ট্রেন। 

কতটা সময় ওইভাবেই ঘোরের ভিতর পইড়া থাকে ওয়াজেদ। তারপর খোলা দরজা দিয়া যখন লু হাওয়া অবিরাম ঝাপটা মারে তার চোখেমুখে, তখন সম্বিৎ ফিরে তার। নিজের অজুদের লঘুতা টের পায় সে। হাসের পালকের মতন লঘু। তার মনে পড়ে অতীতের কথা, ফেইলা আসা সময়ের কথা, সেইসব লমহার কথা, যখন তার সুখস্বপ্ন আশা-আকাঙ্ক্ষা সব ধূলিসাৎ হইছে; মনে পড়ে সেইসব ভুলের কথা যা তার পবিত্রতারে মাটির সাথে মিশাইয়া দিছে। নামাজের পর, এবাদতের পর, যে অহং জাইগা উঠত দিলের ভিতরে, মইরা গেছে সেটাও। অন্তরটা নাপাক হইয়া গেছে দেহের মতন। খোদার নেয়ামতের মান রাখতে পারে নাই সে। কানতে লাগে ওয়াজেদ। দুঃখে-লজ্জায়-কষ্টে হেঁচকির মতন ওঠে তার। জীবনটা এখন বোঝা। বাঁইচা থাকাটাও দায়।

একটা সেতুর উপর উইঠা পড়ে ট্রেন। নিচ দিয়া ঝিলাম নদী বহমান। ওয়াজেদ বগির খোলা দরজার কাছে আইসা দাঁড়ায়। নিচে ঝিলামের শান্ত সবুজ জলরাশি যেন ওয়াজেদেরই এন্তেজার করতেছে। শত শত বছর ধইরা বহমান এই নদী কতশত মানুষরে কত কী অজুহাতে তার অন্ধকার বক্ষে বিলীন কইরা নিছে তার ইয়ত্তা নাই। 

ঝাপঁ দে ওয়াজেদ, ঝাঁপ দে, এই এক্ষনি, এই একটু সামনে। 

কিন্তু যদি নদীতে গিয়া না পড়ি? যদি কালো রেলিংয়ের গায়ে টক্কর খাইয়া পঙ্গু হই শুধু? তাহলে বাকি জীবনটা আরও আজাব হবে। দুনিয়াতেই নরকবাস। বাঁইচা থাকাটা তখন মিত্তুর চাইতেও কঠিন হবে।

ওয়াজেদ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। শুধু খোলা দরজায় ঠায় দাঁড়াইয়া শান্ত ঝিলামের দিকে তাকাইয়া থাকে। একসময় দেখে চোখের সামনে নদীটা আর নাই। ব্রিজটাও দূরে পলায়মান। রেললাইনের পাশে হঠাৎ লচক দিয়া ওঠা কোনো মেঠো পথ, আদিগন্ত গমের খেতে বাতাসে সোনালি ঢেউয়ের দোল—যেন ময়ুরপুচ্ছের নাচন—, দূরে গাছের ছায়ায় বইসা থাকা নারীপুরুষের দল, সবই পলায়মান।

খানিকবাদে ঝিলাম স্টেশনের ইয়ার্ডে গিয়া থামে ট্রেন। প্ল্যাটফর্ম তো না, যেন জনসমুদ্র। হিন্দুস্তান থেকে হিজরত কইরা আসা মোহাজের সবাই—নারী-পুরুষ-আবালবৃদ্ধবনিতা—সবার চোখে বিবর্ণ হতভম্ব দৃষ্টি। বাড়িঘরহারা মোহাজেরেরা বুইঝা উঠতে পারতেছে না কোথায় যাবে, কী করবে। চারপাশে গোটানো বিছানা, ব্যাগ বোঁচকা বাকশো, ছড়ানো-ছিটানো হাঁড়িপাতিল, বাসনকোসন। তাদের মাঝে ঘুইরা ঘুইরা পানি বিলাইতেছে হাতে সবুজ কাপড়ের পট্টি বান্ধা রেযাকারদের দল।

মালগাড়ি থেকে নামে ওয়াজেদ। এখন আর কিছু ভাবার শক্তি নাই। বলারও কিছু নাই। ভুখপিয়াসা আর থকানের মারে জিব্বা শুকাইয়া কাঠ। টলমল পায়ে প্ল্যাটফর্মের দিকে আগায় ওয়াজেদ। স্টেশনের খাম্বাখুঁটি আর সিগনালগুলা দুইলা ওঠে তার চোখের সামনে। নাকি মাথাই ঘুইরা ওঠে? 

রেযাকারদের একটা দলের চোখে পড়ে ওয়াজেদ। রক্তমাখা কাপড়, জখমি চেহারা আর ধুলিধূসর দাড়িতে শুকনা রক্তের দাগ দেইখা তাদের বুঝতে বাকি থাকে না ওয়াজেদ দাঙ্গার মুখে পড়া একজন মোহাজের মুসলমান, যে কোনোমতে মওতের ঘাট থেকে জান বাঁচাইয়া উইঠা আসতে পারছে।

ছুইটা আসে রেযাকারদের দল। বেটেখাটো এক রেযাকার সর্বাগ্রে দুই হাতে ধইরা পতনের হাত থেকে বাঁচায় ওয়াজেদরে। বাকিরা ধরাধরি কইরা তারে নিয়া যায় প্ল্যাটফর্মের ছায়ায়। 

‘খোদা মদদগার, এই কে আছ ওরে পানি পিলাও। দেখতেছ না, পিপাসায় মরতেছে লোকটা!’ বেটেখাটো লোকটা সঙ্গীদের উদ্দেশে চিৎকার কইরা ওঠে।

কেউ একজন ওয়াজেদের মুখে শরবতের গেলাস ঠেকায়। এক চুমুক দিতেই আবার সরাইয়া নেয়। আবার ধরে। শুরুতেই পুরা গেলাস পান করানো যাবে না। চুমুকের পর চুমুকে এভাবে একে একে তিন গেলাস খালি করে ওয়াজেদ। জানে পানি ফিরে তার। দেহের ভিতরকার দহন খানিকটা প্রশমিত হয়। একটা শীতল তরল ছড়াইয়া পড়ে কোষ থেকে কোষে। খুলতে থাকে মাথার ভিতরের জট। চোখের ঝাপসাভাব কমে খানিকটা। হামদরদি মানুষজন দাঁড়াইয়া আছে চারপাশে। 

‘কোত্থেকে আসতেছ, ভাই?’

‘গুরুদাসপুর থেকে?’

‘জলন্ধর থেকে?’

‘আর কেউ বাঁইচা নাই তোমার?’

মায়াভরা গলায় জিগেশ করে ওরা। ওদের কেউ ওয়াজেদরে কোমলভাবে শোয়াইয়া রাখছে কোলে, কেউ ধইরা আছে হাত, কেউ মাথার নিচ দিয়া হাত দিয়া রাখছে নরমভাবে। ওয়াজেদের মনে হয় সে কোনো ভিন্ন জগতে আইসা পড়ছে, যেখানে কেউ তারে চিনে না, কেউ তার আগের কথা জানে না। কোনো উত্তর করে না সে। আলতোভাবে চোখ বোজে শুধু। এখন চুপ থাকাই ভালো।

‘কীসব বোকার মতন প্রশ্ন করতেছ তোমরা? দুনিয়ার এমন কোনো জায়গা বাকি আছে যেখানে কাফের জানোয়ারগুলা আমাদের ভাইদের রক্ত ঝরাইতেছে না? আমাদের বোনদের ইজ্জত নিয়া খেলতেছে না? খোদার লানত পড়ুক ওই মোশরেকদের উপর।’ আকাশের দিকে দুই হাত তুইলা ফরিয়াদ জানায় খর্বকায় লোকটা। ওয়াজেদরে দুই হাতে প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত নিয়া আসছিল সে-ই। তার ফরসা ডিম্বাকৃতির মুখ আর কালো দাড়ি ঘামে ভিজা চিকচিক করতেছে। খাকি কুর্তাটা ঘামে ভিজা লেপটাইয়া আছে বুকে-পিঠে। তার গলায় এমন জোশ যে চারপাশের সবাই চুপ কইরা যায়।

‘মওলানা গিয়াস ঠিক বলতেছেন। এইসব সওয়াল এখন বেকার।’ আস্তে কইরা বইলা ওঠে কেউ।

এক খুবরু আওরত ভিজা দোপাট্টা দিয়া ওয়াজেদের চেহারার জমাটবাঁধা খুন মুছতে আসে। আতঙ্কে আঁতকে উইঠা মুখ ফিরাইয়া নেয় ওয়াজেদ। আওরতের মাসুম স্পর্শও ভয় জাগায় তার মনে। 

সরো। দূরে সরো। আমারে ছুঁইয়ো না। আর কোনো আজাব আসুক চাই না আমি। 

ওয়াজেদের ভয়ার্ত বিস্ফারিত দুই চোখের চাউনি যেন চিৎকার কইরা বলে।

‘দেখো ভাইয়েরা দেখো। কীরকম ভয় ওর চোখে। কীরকম আতঙ্ক। মনে হয় ওর মা-বোনরে ওর সামনেই মারছে কাফেরেরা। মারার আগে হয়তো ধর্ষণও করছে।’ বললেন মওলানা গিয়াসুদ্দিন।

‘ঠিক ঠিক।’ ‘হইতেই পারে।’ ‘অসম্ভব কিছু না।’ ভিড়ের ভিতর থেকে বলে কেউ কেউ।

হঠাৎ একটা ট্রেন আসে স্টেশনে। শিখ আর হিন্দু মোহাজেরে ভর্তি। দ্রুত ধাবমান। ট্রেনের দরজা-জানালা সব বন্ধ। কয়েকটা বন্ধ দরজার নিচ দিয়া আহতদের রক্ত ঝইরা পড়তেছে। ট্রেনের ছাদের গায়ে সাঁইটা থাকা একদল হিন্দু উল্লাস করতে করতে সামনে আগাইল। পিছনে ছাইড়া গেল আপন ভিটামাটি। সঙ্গে কইরা নিয়া গেল ইতিহাসের একটা অংশ, যার শিকড় প্রোথিত ছিল এই মাটির গভীরে। 

যেই আজাদিরে হিন্দুস্তানিরা ভাবছিল আনন্দ উদ্‌যাপনের সূচনা, তার খঞ্জর দেশরে তিন টুকরা কইরা গেল। আজাদি দিয়া গেল দুশমনি, বুইনা দিলো নফরতের বীজ। যেই চেহারাগুলি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধইরা পরিচিত ছিল, আপন ছিল, সুখে-দুখে একে অপরের আয়না ছিল, সেগুলি হঠাৎই আজ যেন অচেনা পরদেশি হইয়া গেছে; যেইসব বিদেশি প্রভুর দল হিন্দুস্তানের মাটিতে ক্ষুধা আর দুর্ভিক্ষের বীজ বুইনা দিছে, এখানকার বাসিন্দাদের গলায় গোলামির জিঞ্জির পরাইয়া দিছে, তাদের চেয়েও বদতরিন দুশমন হইয়া গেছে।

‘ধরো ধরো, থামাও, থামাও ট্রেনটারে। কাফেরদের আসো খতম কইরা দেই।’ মওলানা গিয়াস হাত উঁচাইয়া তার সাথিদের উসকাইতে উসকাইতে প্ল্যাটফর্মের দিকে ছোটেন। কিন্তু ট্রেন তার নাগালের বাইরে। হাজারো মানুষের বোঝা নিয়া ঝিলাম স্টেশন ছাইড়া যাইতেছে ট্রেনটা। সঙ্গে নিয়া যাইতেছে তাদের দুঃখ-যাতনার বোঝাও।

‘কী হইল তোমাদের? আমরা সিগনাল অফিসে গিয়া সিগনাল ফেইলা দিতে পারতাম না? ট্রেন থামাইতে পারতাম না?’ প্ল্যাটফর্মের মোহাজেরদের বলেন মওলানা গিয়াস। তার ভাবনায় ছুটন্ত ট্রেন থামানো সম্ভব। তিনি যেই নফরতের জোশে জ্বলতেছেন সেখানে দাঁড়াইয়া সম্ভব-অসম্ভবের হিসাবনিকাশ মাথায় আসে না।

‘তোমরা সবাই কাপুরুষ, বুজদিল। তভি তো ঘরবাড়ি ছাইড়া পালাইয়া আসছ!’ অসহায় মজবুর মোহাজেরদের উপর ফয়সালা চাপাইয়া দেন মওলানা।

কিন্তু তারা শুধু বাড়িঘর ছাইড়া আসে নাই। ছাইড়া আসছে জীবনের কত সরোদ সকাল, চুল্লিতে রুটি পোড়ার গন্ধ ভাইসা আসা নিথর সন্ধ্যা, পরাগের মতন ফুলের সুবাস গায়ে লাইগা থাকা কতশত ঋতু, ছাইড়া আসছে আরও কত কী, যার কতটা তারা ভুইলা যাবে, কতটা আজীবন বইয়া বেড়াবে।

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments