পশ্চিমা মিডিয়া এবং যুদ্ধ-সাংবাদিকতা

সিকান্দার আমিন

১.

পশ্চিমা মূলধারার সংবাদমাধ্যমের যুদ্ধ-সাংবাদিকতা ইতিহাসজুড়েই প্রশ্নবিদ্ধ। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরাক আগ্রাসন—প্রতিটি বড় সামরিক সংঘাতে তারা নিজেদের নিরপেক্ষ ও মানবিক হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে শক্তিধর রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভাষ্যকেই বৈধতা দিয়েছে। তবে গাজায় চলমান গণহত্যা এই দীর্ঘদিনের ভণ্ডামিকে আর আড়াল করে রাখতে পারেনি। গাজার ক্ষেত্রে পশ্চিমা মিডিয়ার ভূমিকা তাদের কথিত মানবিকতা, নৈতিকতা ও পেশাগত স্বাধীনতার মুখোশ সম্পূর্ণভাবে খুলে দিয়েছে। এই কাভারেজে যে পক্ষপাত কাজ করছে, তা কেবল রাজনৈতিক নয়; এটি গভীর বর্ণবাদী মানসিকতা ও ইসলামোফোবিয়ার বহিঃপ্রকাশ—যেখানে মুসলমানদের জীবন, মৃত্যু ও প্রতিরোধকে স্বভাবতই সন্দেহের চোখে দেখা হয়।

এই সংকটকে কোনো বিচ্ছিন্ন সাংবাদিকতাগত ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। বরং এটি ‘ওয়ার অন টেরর’ পরবর্তী পশ্চিমা জ্ঞানকাঠামোর অনিবার্য পরিণতি। এই কাঠামোর ভেতরে ইসলামকে নিরাপত্তা-হুমকি হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে, আর মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো সহিংসতাকে বৈধ রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে সাংবাদিকতার যে মৌলিক নৈতিকতা—নিপীড়িতের পাশে দাঁড়ানো, ক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলা—তা থেকে পশ্চিমা মিডিয়া ধীরে ধীরে সরে গেছে। এই বিচ্যুতি ব্যক্তিগত সম্পাদক বা প্রতিবেদকের নয়; এটি প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত দুর্বলতার ফল, যেখানে সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতি, কর্পোরেট স্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা একসঙ্গে কাজ করে।

এই কাঠামোর ভেতরে পশ্চিমা মিডিয়াকে এমনভাবে শাসিত করা হয় যে ফিলিস্তিনিদের জীবন স্বভাবতই কম মূল্যবান হয়ে ওঠে, তাদের প্রতিরোধকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, আর দখলদারিত্ব ও অবরোধের বাস্তবতা নীরবে উপেক্ষিত থাকে। সংঘাতের সংবাদ পরিবেশনে তারা কৃত্রিম প্রতিসাম্য বা ‘ফলস প্যারিটি’ সৃষ্টি করে—যেখানে দখলদার ও দখলীকৃত, আক্রমণকারী ও আক্রান্তকে সমান অবস্থানে দাঁড় করানো হয়। এর ফলে ক্ষমতার অসম সম্পর্ক, দীর্ঘস্থায়ী দখল ও কাঠামোগত নিপীড়নের ইতিহাস আড়ালে চলে যায়। একই সঙ্গে পশ্চিমা মিডিয়া কার্যত তাদের পেশাগত স্বাধীনতা ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে; সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের বক্তব্যই হয়ে উঠেছে চূড়ান্ত সত্য।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আনাস আল-শরিফের হত্যাকাণ্ড এই বাস্তবতার একটি প্রকট উদাহরণ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর বহু প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমা মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো ইজরায়েলি ভাষ্যকেই প্রধান সূত্র হিসেবে গ্রহণ করেছে। আনাস আল-শরিফ ও মোহাম্মদ কোরইকেয়ার হত্যাকাণ্ডও এই ধারার ব্যতিক্রম নয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম—‘ইজরায়েলি বিমান হামলায় আল জাজিরার চার সাংবাদিক নিহত, নেটওয়ার্কের দাবি’—এই ভাষা ব্যবহারের মধ্যেই পক্ষপাত স্পষ্ট। এখানে হত্যাকাণ্ডকে একটি নিশ্চিত সত্য হিসেবে না তুলে ধরে ‘দাবি’ হিসেবে হাজির করা হয়েছে, যেন ঘটনাটি বিতর্কিত।

ইজরাইলিদের হাতে নিহত সাংবাদিক শহিদ আনাস আল-শরিফ

ইজরায়েল যখন সাংবাদিক হত্যা করে, তখন পশ্চিমা মিডিয়া সচেতনভাবে অনিশ্চয়তার ভাষা ব্যবহার করে। প্রচুর প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও হত্যাকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ সূত্রের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তথাকথিত ভারসাম্য রক্ষার নামে ইজরায়েলের যাচাইবিহীন অভিযোগ প্রচার করা হয়—যেমন, আনাস আল-শরিফকে হামাস সেলের নেতা হিসেবে আখ্যা দেওয়া। তিনি এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করলেও সংবাদ উপস্থাপনায় ঘটনাটি ‘দাবি বনাম পাল্টা দাবি’র পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়। এর ফলে সাংবাদিক হত্যা একটি সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ না হয়ে মতামতের দ্বন্দ্বে পরিণত হয়।

বিবিসিসহ বহু সংবাদমাধ্যম আল-শরিফকে কার্যত ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিত্রিত করে ইজরায়েলি বয়ানকে কেন্দ্রে স্থাপন করেছে। এতে একটি মৌলিক সত্য আড়ালে চলে যায়—সাংবাদিকরা আন্তর্জাতিক আইনে বেসামরিক নাগরিক, এবং তাঁদের তাঁবুতে সরাসরি হামলা চালানো স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। নিউ ইয়র্কভিত্তিক কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) দেখিয়েছে, ইজরায়েল ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তোলে এবং পশ্চিমা মিডিয়া সেগুলো যাচাই ছাড়াই পুনরুৎপাদন করে। এর ফলে ভিত্তিহীন অভিযোগও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে গভীর সংকটে ফেলে।

তবে কিছু ব্যতিক্রমও লক্ষণীয়। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস আল-শরিফের হত্যাকাণ্ডে স্পষ্টভাবে অপরাধীর নাম উল্লেখ করেছে এবং এটিকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ধারাবাহিক হত্যার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে স্থাপন করেছে। এই দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে যে নৈতিক ও সাহসী সাংবাদিকতা এখনও সম্ভব, যদিও তা মূলধারায় প্রান্তিক হয়ে আছে।

পশ্চিমা মিডিয়ার পক্ষপাতের আরেকটি প্রধান উপাদান হলো ‘সন্ত্রাস’ ও ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দের রাজনৈতিক ব্যবহার। আজ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘সন্ত্রাসবাদ’ একটি নৈতিক অস্ত্র, যার প্রয়োগ একমুখী। পশ্চিমা সরকার ও মিডিয়া এই শব্দ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ‘অসভ্য’ ও ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে, অথচ নিজেদের সহিংসতাকে বৈধ যুদ্ধ বা আত্মরক্ষার নামে আড়াল করে। বিবিসি বা এএফপি নীতিগতভাবে এই শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকার কথা বললেও ইজরায়েল প্রসঙ্গে সেই সতর্কতা বিলীন হয়ে যায়। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ ‘সন্ত্রাস’, কিন্তু ইজরায়েলি বিমান হামলায় নারী-শিশু নিহত হলে তা হয়ে ওঠে ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা’ বা ‘ভুল হামলা’।

নোম চমস্কির ‘ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট’ এই দ্বিচারিতাকে তাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করে। তাঁর মতে, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্র ও কর্পোরেট স্বার্থের পক্ষে একটি প্রোপাগান্ডা মডেল অনুসরণ করে। ‘ওয়ার অন টেরর’-এর যুগে এই মডেল আরও নগ্ন হয়েছে। একই ধরনের সহিংসতা এক পক্ষের জন্য ‘ন্যায্য আত্মরক্ষা’, অন্য পক্ষের জন্য ‘সন্ত্রাসবাদ’। ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দটি কেবল তাদের জন্য সংরক্ষিত, যারা পশ্চিমা স্বার্থের বিরোধিতা করে। ফলে ইজরায়েলের বেসামরিক হত্যাকাণ্ড কখনোই ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ নামে চিহ্নিত হয় না; বরং শিরোনাম থেকে অপরাধীর নাম বাদ পড়ে।

এই নৈতিক দ্বিচারিতা গাজার দুর্ভিক্ষ কাভারেজেও স্পষ্ট। নিউ ইয়র্ক টাইমস অনাহারে মৃত এক শিশুর প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইজরায়েলপন্থী চাপের মুখে সম্পাদকীয় নোট যুক্ত করে সন্দেহ তৈরি করেছে, যেন অনাহারই মৃত্যুর মূল কারণ নয়। এতে ইজরায়েলের ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বাস্তবতা আড়াল হয়। অথচ জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ও প্রধান ত্রাণ-সংস্থাগুলো এই নীতির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

সিএনএন ও লে মন্ডের মতো সংবাদমাধ্যম দুর্ভিক্ষকে কাঠামোগত অপরাধ হিসেবে না দেখে বিচ্ছিন্ন মানবিক ট্র্যাজেডি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ইউক্রেনের ক্ষেত্রে যেখানে স্পষ্টভাবে ‘আক্রমণকারী বনাম আক্রান্ত’ ফ্রেম ব্যবহার করা হয়, গাজার ক্ষেত্রে সেখানে আবার ‘দুই পক্ষ’ প্রতিসাম্য ফিরে আসে। এর ফলে একটি দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ, যা গাজাকে বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করেছে, সেটিকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়।

ভালো সাংবাদিকতা ক্ষমতার প্রতি বৈরী, সত্যের প্রতি অনুগত। গাজার বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, অনাহার ও নিপীড়ন সুস্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ। এটিকে বিতর্কিত প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতার গভীর ব্যর্থতা। পশ্চিমা মূলধারার মিডিয়া এই ব্যর্থতার মাধ্যমে কেবল সত্য আড়াল করেনি; বরং দখল, নিপীড়ন ও গণহত্যার নীরব সহযোগীতে পরিণত হয়েছে।

 

২.

গাজা যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা মূলধারার সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কেবল সাংবাদিকতার সীমাবদ্ধতার প্রশ্ন নয়; বরং এটি একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর বহিঃপ্রকাশ। এই কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে ইসলামোফোবিয়া ও ওরিয়েন্টালিজম—দুটি পারস্পরিক সংযুক্ত জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যবস্থা, যা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সহিংস, অসভ্য ও নৈতিকভাবে নিম্ন হিসেবে উপস্থাপন করে এবং সেই সূত্রে তাদের ওপর চালানো সহিংসতাকে স্বাভাবিক বা ন্যায্য বলে প্রতিপন্ন করে। গাজায় ইজরায়েলি সামরিক আগ্রাসন, ত্রাণকর্মী ও সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড, হাসপাতাল ধ্বংস এবং শিশু হত্যার ঘটনাগুলোর পশ্চিমা মিডিয়া কাভারেজ এই পক্ষপাতদুষ্ট কাঠামোরই বাস্তব প্রতিফলন।

ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন (ডব্লিউসিকে)-এর ত্রাণ কনভয়ে ইজরায়েলি ড্রোন হামলা এই পক্ষপাতিত্বের একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ। তিনটি পৃথক গাড়িতে ধারাবাহিক হামলায় সাতজন আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ক্ষোভ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠলেও, পশ্চিমা মিডিয়ার বড় অংশ ইজরায়েলি সরকারের বক্তব্যকে অগ্রাধিকার দেয়। ঘটনাটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ এবং ‘যুদ্ধকালীন দুর্ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যেন এটি একটি অনিবার্য ভুল। অথচ আন্তর্জাতিক তদন্তে প্রমাণিত হয়, গাড়িগুলোর অবস্থান আগেই ইজরায়েলি বাহিনীকে জানানো হয়েছিল এবং একাধিক হামলা ধারাবাহিকভাবে চালানো হয়—যা ‘ভুল’ বা ‘দুর্ঘটনা’র যুক্তিকে সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করে। তবু পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে এই বাস্তবতাকে ঝাপসা করে, ইজরায়েলের দায় কমিয়ে দেখাতে সচেষ্ট হয়। এই ভাষাগত কৌশলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনকে একটি ‘দুঃখজনক ঘটনা’তে রূপান্তর করা হয় এবং গাজার যুদ্ধকে ‘যৌক্তিক’ ও ‘ন্যায়সঙ্গত’ বলে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার চেষ্টা চলে।

একই ধারা আরও ভয়াবহভাবে প্রকাশ পায় আল-শিফা হাসপাতালে ইজরায়েলি হামলার সংবাদ কাভারেজে। গাজার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কমপ্লেক্সে ট্যাংক ও ড্রোন ব্যবহার করে চালানো অভিযানে হাসপাতালের কার্যকারিতা কার্যত ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ প্রভাবশালী পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো এই হামলাকে ‘নিখুঁত সুনির্দিষ্ট অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে ইজরায়েলি সামরিক আখ্যানের প্রতিধ্বনি তোলে। হামাস সেখানে ‘পুনর্গঠিত হচ্ছিল’—এমন দাবি তুলে ধরা হয়, যদিও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবু প্রতিবেদনে বারবার বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ‘হামাসের সঙ্গে সংযুক্ত’, যা ইজরায়েলি দৃষ্টিভঙ্গিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার একটি পরিচিত কৌশল।

এমনকি আল-শিফা কমপ্লেক্সের ভেতর আল জাজিরার সাংবাদিক ইসমাইল আল-ঘউলকে মারধর ও গ্রেপ্তারের মতো গুরুতর ঘটনার খবরও নিউ ইয়র্ক টাইমস এড়িয়ে যায়। এটি কেবল তথ্য গোপন নয়, বরং সংঘাতকালীন সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্বের সরাসরি লঙ্ঘন। সাংবাদিকদের উপর সহিংসতা উপেক্ষা করা মানে রাষ্ট্রীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য মুছে ফেলা।

ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনের আল-শিফা সংক্রান্ত প্রতিবেদন এই পক্ষপাতিত্বকে আরও বুদ্ধিবৃত্তিক মোড়কে উপস্থাপন করে। ‘আল-শিফা হাসপাতালে ইজরায়েল ও হামাসের সঠিক ও ভুল’ শীর্ষক নিবন্ধে প্রথমে যুদ্ধ আইনের আলোকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, দ্রুতই লেখাটি ইজরায়েলি দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে চলে যায়। কোনো দৃঢ় প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হয়, হাসপাতালটি হামাস সামরিক কাজে ব্যবহার করেছে, ফলে এটি নাকি একটি বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। হামাসের অস্বীকার সহজেই খারিজ করা হয় এই যুক্তিতে যে, ‘তাদের প্রতারণার রেকর্ড আছে’। এই ধরনের যুক্তি সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতার পরিপন্থী এবং স্পষ্টভাবে একপাক্ষিক।

পরবর্তীতে ইকোনমিস্ট নিজেই স্বীকার করে যে, হামলার বৈধতা প্রমাণের জন্য ইজরায়েল পর্যাপ্ত তথ্য দেয়নি। কিন্তু তবু তারা আগের দাবিগুলো প্রত্যাহার করেনি বা কোনো ক্ষমাপ্রার্থনাও প্রকাশ করেনি। এর ফলে হাসপাতাল ধ্বংস ও সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধকে বৈধতা দেওয়ার একটি বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ থাকে।

এই সব পক্ষপাতদুষ্ট কাভারেজের গভীরে রয়েছে ইসলামোফোবিয়া ও ওরিয়েন্টালিজমের দীর্ঘ ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার। এডওয়ার্ড সাঈদ তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ ওরিয়েন্টালিজম-এ দেখিয়েছেন, কীভাবে পাশ্চাত্য নিজেদের যুক্তিবাদী, নৈতিক ও সভ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ‘প্রাচ্য’, বিশেষত মুসলিম ও আরব সমাজকে ‘অযুক্তিক, ধর্মান্ধ ও বর্বর’ এক ‘অপর’ হিসেবে নির্মাণ করেছে। এই জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্মাণ কেবল একাডেমিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি রাজনীতি, সামরিক নীতি ও গণমাধ্যমের ভাষা নির্ধারণ করে।

দীপা কুমার তাঁর Islamophobia and the Politics of Empire গ্রন্থে দেখিয়েছেন, ইসলামোফোবিয়া সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতির একটি অপরিহার্য হাতিয়ার। মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করলে তাদের দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ, অবরোধ বা গণহত্যাও ‘নিরাপত্তা’ ও ‘সভ্যতা রক্ষার’ নামে ন্যায্যতা পায়। গাজার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগকে লঘু করা, তাদের মৃত্যুকে ‘পার্শ্বক্ষতি’ হিসেবে দেখানো এই কাঠামোরই অংশ।

এই দৃষ্টিভঙ্গির সবচেয়ে নিষ্ঠুর প্রকাশ দেখা যায় গাজায় শিশুহত্যাকে আইনি ও নৈতিকভাবে বৈধ করার চেষ্টায়। দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনে গ্রেম উডের নিবন্ধে যুক্তি দেওয়া হয়, যুদ্ধের প্রয়োজনে শিশুদের মৃত্যু অনিবার্য এবং ইজরায়েল একটি ‘আইনসম্মত’ যুদ্ধ চালাচ্ছে। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ বিরোধী। শিশু অধিকার সনদ, চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধি স্পষ্টভাবে বেসামরিক নাগরিক ও শিশুদের সুরক্ষার কথা বলে। তবু এসব আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে শিশু হত্যাকে ‘কোলাটেরাল ড্যামেজ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এই যুক্তির পেছনে রয়েছে ‘ওয়ার অন টেরর’-এর ইসলামোফোবিক কাঠামো। যদি হামাস শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে—এই অভিযোগ সত্য ধরে নেওয়া হয়—তাহলে শিশুরা নাকি তাদের নিরীহতার সুরক্ষা হারায়। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার মূলনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। জোসেফ দাহেরের মতে, এমন বিশ্লেষণে ভুক্তভোগীদের জীবনের মূল্য হ্রাস পায় এবং একটি বর্ণবাদী মানসিকতা প্রতিফলিত হয়।

গাজা যুদ্ধের পশ্চিমা মিডিয়া কাভারেজ একটি কাঠামোগত পক্ষপাতের ফল, যার শিকড়ে রয়েছে ওরিয়েন্টালিজম ও ইসলামোফোবিয়া। এই কাঠামো ইজরায়েলি আগ্রাসনকে ন্যায্যতা দেয়, ফিলিস্তিনিদের মানবিক দুর্ভোগকে অদৃশ্য করে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার ধারণাকে খণ্ডিত করে। ফলে পশ্চিমা মিডিয়া কেবল তথ্য পরিবেশন করছে না; বরং ক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট আখ্যান নির্মাণ করছে—যেখানে কিছু মানুষের জীবন মূল্যবান, আর কিছু মানুষের মৃত্যু কেবল ‘দুঃখজনক কিন্তু প্রয়োজনীয়’ পরিসংখ্যান মাত্র।

 

৩.

ইজরায়েলি আগ্রাসন, ফিলিস্তিনি জনগণের উপর সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের ধারাবাহিক অবমাননার প্রেক্ষাপটে সংবাদ পরিবেশনের যে ধারা গড়ে উঠেছে, তা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে দখলদারিত্বের বাস্তবতাকে আড়াল করে ‘যুদ্ধ’ ও ‘নিরাপত্তা’-কেন্দ্রিক একতরফা আখ্যান নির্মাণ, যার মাধ্যমে ইজরায়েলকে আত্মরক্ষামূলক রাষ্ট্র হিসেবে এবং ফিলিস্তিনিদের ‘সন্ত্রাসী হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ পাওয়া যায় ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর একটি প্রতিবেদনে। সেখানে দাবি করা হয়, ৭ অক্টোবর রা’ইম সেটেলার বসতির কাছে অনুষ্ঠিত একটি সঙ্গিত উৎসবে ইজরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়েছিল, যাতে কয়েকজন ইজরায়েলি নাগরিক নিহত হন। এই তথ্য ইজরায়েলি বয়ানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে, কারণ এতদিন পশ্চিমা মিডিয়া এই ঘটনাকে একচেটিয়াভাবে হামাসের হামলা হিসেবে তুলে ধরেছিল এবং সেটিকে গাজায় ব্যাপক সামরিক আগ্রাসনের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, পশ্চিমা মূলধারার মিডিয়া এই প্রতিবেদনটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে। এই নীরবতা প্রমাণ করে, পশ্চিমা মিডিয়ার পক্ষপাতিত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইজরায়েলি সমাজের ভেতর থেকেই উত্থাপিত সমালোচনাকেও তারা আমলে নিতে অনিচ্ছুক।

এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে, পশ্চিমা মিডিয়া আর কেবল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়; বরং ইজরায়েলি রাষ্ট্রীয় আখ্যানকে বিশ্বজনমতের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার এক কার্যকর জনসংযোগ যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। এর একটি প্রকট দৃষ্টান্ত দেখা যায় সিএনএনের সংবাদদাতা নিক রবার্টসনের গাজা সফর প্রতিবেদনে। তিনি ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাজ্জারির তত্ত্বাবধানে গাজার একটি হাসপাতালে প্রবেশ করেন এবং সেখানে দেখানো অস্ত্র ও কক্ষগুলোকে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই হামাসের ‘অপারেশনাল ঘাঁটি’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। অথচ সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, এমন দৃশ্য সাজানো হতে পারে—এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্বাধীন যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এমন দাবি গ্রহণ করা পেশাগত দায়িত্বের গুরুতর লঙ্ঘন।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই আখ্যানকে একক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা অন্যান্য হাসপাতালের ক্ষেত্রেও প্রসারিত করা হয়েছে। এর ফলে গাজার চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উপস্থাপনের একটি পরিবেশ তৈরি হয়, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি পরিপন্থী। হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে সুরক্ষিত—এই মৌলিক সত্যকে পাশ কাটিয়ে এমন রিপোর্টিং ভবিষ্যৎ যুদ্ধাপরাধের নৈতিক বৈধতা তৈরিতে সহায়তা করে।

এই একতরফা প্রবণতা শুধু অ্যাংলো-আমেরিকান মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। ফ্রান্সের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম লে ফিগারোও এই পথে হাঁটছে। ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা গাজার হাসপাতালগুলোকে ‘ক্রসফায়ারে আটকা পড়া’ বলে বর্ণনা করে ইজরায়েল ও হামাসকে সমান যুদ্ধরত শক্তি হিসেবে চিত্রিত করেছে। এই ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে দখলদার শক্তি ও দখলীকৃত জনগণের মধ্যকার আইনি ও নৈতিক পার্থক্য সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়। ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করে হাসপাতাল বোমা হামলার দায় কার—এই প্রশ্নটি ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট করে রাখা হয়।

অথচ হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আল-শিফা হাসপাতালের নিচে হামাসের কোনো সামরিক ঘাঁটি থাকার বা হাসপাতালের ভেতরে তাদের কমান্ড সেন্টার পরিচালনার দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। এই অবস্থান পশ্চিমা মিডিয়ার প্রচারিত আখ্যানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। তবু এই ভিন্নমতগুলো সংবাদ কাভারেজে প্রান্তিক থেকে যায়, যা দেখায়—পশ্চিমা মিডিয়া সত্য অনুসন্ধানের চেয়ে রাষ্ট্রীয় বয়ানের পুনরুৎপাদনেই বেশি আগ্রহী।

পশ্চিমা মিডিয়ার আরেকটি মৌলিক ব্যর্থতা হলো গাজা সংকটকে ধারাবাহিকভাবে ‘ইজরায়েল বনাম হামাস যুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করা। এই ফ্রেমিং দখলদারিত্বের বাস্তবতাকে মুছে দেয় এবং জাতিসংঘ কর্তৃক ইজরায়েলকে ‘দখলদার শক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করার সত্যকে আড়াল করে। জন জে মিয়ারশাইমার ও স্টিফেন এম ওয়াল্ট তাঁদের The Israel Lobby and US Foreign Policy গ্রন্থে দেখিয়েছেন, কীভাবে শক্তিশালী লবিং ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ও মিডিয়া কাঠামোর মধ্যে ইজরায়েলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই প্রভাবই পশ্চিমা মিডিয়াকে ইজরায়েলের ‘নিরাপত্তা’ আখ্যানের প্রতি অনুগত করে তোলে।

এই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হয় ‘ওয়ার অন টেরর’ ও ইসলামোফোবিয়ার বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে। ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিত্রিত করা হয়, তাদের মানবিক পরিচয় ও ঐতিহাসিক বঞ্চনার বাস্তবতাকে অস্বীকার করে। ফলে দখলদারিত্ব একটি অদৃশ্য প্রেক্ষাপটে পরিণত হয়, আর ইজরায়েল একটি চির-হুমকির মুখে থাকা রাষ্ট্র হিসেবে সহানুভূতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান নেয়।

সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যে কতটা বিপন্ন, তার আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় সিএনএনের জেরেমি ডায়মন্ডের রিপোর্টে। গাজায় ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে থাকা অবস্থায় ধারণ করা ফুটেজ সম্প্রচারের আগে সামরিক বাহিনীর অনুমোদন নেওয়ার শর্তে সিএনএন সম্মতি দেয়। এই পূর্ব সেন্সরশিপ সাংবাদিকতাকে কার্যত সামরিক জনসংযোগে রূপান্তরিত করে। এতে সংবাদমাধ্যম সত্যের স্বাধীন পরিবেশক না হয়ে দখলদার শক্তির ভাষ্য প্রচারের বাহকে পরিণত হয়।

এই সংকটের পেছনে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের জাল। নোম চমস্কির ‘প্রোপাগান্ডা মডেল’ দেখায়, কীভাবে কর্পোরেট মালিকানা, বিজ্ঞাপন ও রাজনৈতিক স্বার্থ সংবাদকে প্রভাবিত করে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক জেফ বেজোসের ইজরায়েলে বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টি সম্পাদকীয় স্বাধীনতার ওপর কর্পোরেট স্বার্থের সম্ভাব্য প্রভাবের প্রশ্ন তোলে। এই ধরনের কাঠামোগত পক্ষপাত ইজরায়েলপন্থী অবস্থানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।

সব মিলিয়ে, গাজা সংকটের কভারেজ পশ্চিমা মিডিয়ার নৈতিক অবক্ষয়ের একটি নগ্ন চিত্র তুলে ধরে। এটি কেবল সাংবাদিকতার ব্যর্থতা নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধের প্রতিও এক গভীর বিশ্বাসঘাতকতা। এডওয়ার্ড সাঈদের ভাষায়, সংবাদ লেখা একটি নিরপেক্ষ ভাষিক কাজ নয়—এটি ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত এক যুদ্ধক্ষেত্র। এই যুদ্ধে পশ্চিমা মিডিয়া নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে কার্যত ইজরায়েলের পক্ষেই লড়ছে।

এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ একটাই—আখ্যানকে উপনিবেশমুক্ত করা, দখলদারিত্বের বাস্তবতাকে কেন্দ্রে আনা এবং ফিলিস্তিনিদের জীবন, মৃত্যু ও প্রতিরোধকে তাদের পূর্ণ আইনি ও মানবিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা। যতদিন এই কাঠামোগত পক্ষপাত ভাঙা না হবে, ততদিন পশ্চিমা মিডিয়া শুধু সত্যের অনুসন্ধানেই ব্যর্থ হবে না; বরং ইতিহাসের এক গভীর অন্যায়ের সহযোগী হিসেবেই বিবেচিত হবে।

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments