নৈতিক নেতৃত্ব ও আলেম সমাজের রাষ্ট্রভাবনা : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

রিদওয়ান হাসান

বাংলাদেশ তার ইতিহাসে বহুবার পুনর্জন্ম লাভ করেছে। ১৯৪৭-এ যে ভূখণ্ড পূর্ববঙ্গ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, তার ভিত্তি ছিল মূলত মুসলিম আত্মপরিচয়, ইসলামি মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের দাবি। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ সেই দাবিকে রূপ দেয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সেই প্রত্যাশা, যা রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও নাগরিক মর্যাদার অঙ্গীকার করেছিল, সেটি বিগত ৫৩ বছরের ইতিহাসে কখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এই অপূর্ণতার প্রতিক্রিয়াতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থান জনগণের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নৈতিক অসন্তোষেরই বিস্ফোরণ, একথা বলতে দ্বিধা নেই।

আলেম সমাজের রাষ্ট্রভাবনা কোনো আবেগনির্ভর ধর্মীয় কল্পনা ভাবলে না-ইনসাফি হবে। কিন্তু দেশের সেটেলমেন্ট সব সময় এই ভাবনাগুলোকে আবেগনির্ভর ভাবনা হিসেবে ফ্রেমিং করতে চায়। অথচ এসব রাষ্ট্রচিন্তা হচ্ছে রাজনৈতিক দর্শনের অন্তর্ভুক্ত, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজনীতি ও শিক্ষানীতির বাস্তব কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাতে চায়। ফলে আলেম সমাজের লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে নৈতিকতা হবে প্রশাসনের ভিত্তি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার থাকবে নাগরিক অধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে আর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হবে শোষণমুক্ত ও ন্যায্য বণ্টননির্ভর। এই ভাবনা আধুনিক বিশ্বের ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে ইসলামি ওয়েলফেয়ার স্টেট নীতিকে অত্যন্ত চমৎকার ভঙ্গিতে প্রাসঙ্গিক করে তোলে।

বাংলাদেশে ইসলামি চিন্তা ও আলেম সমাজের রাজনৈতিক ভূমিকা নতুন নয়। ঔপনিবেশিক আমল থেকে ভাষা আন্দোলন; ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ কিংবা নিকট অতীতের যত রাজনৈতিক আন্দোলন; সব পরিসরেই আলেম সমাজ কখনো সরাসরি কিংবা কখনো নৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের পাশে থেকেছে। তবুও রাষ্ট্রগঠনের নীতি ও কাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাদের চিন্তাধারাকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে আলেম সমাজ মসজিদে-মিম্বরে ইনসাফের কণ্ঠস্বর হিসেবে জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তৎকালীন মাদরাসাগুলো ছিল মুক্তিবাহিনীর অঘোষিত শেল্টার হাউজ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পরে ৭২-এর সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকেই রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে পুরোপুরি ধর্মীয় চেতনাকে রাষ্ট্র থেকে আদারিং করা হয়েছে। রাষ্ট্রকে এই সেক্যুলারাইজেশন প্রক্রিয়া শুধু ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদাই করেনি, বরং ধর্মীয় সমাজ নামে আলাদা একটি সামাজিক শ্রেণি সৃষ্টি করেছে। যেখানে ধর্মীয় সমাজ কখনো অতিরিক্ত দৃশ্যমান, আবার কখনো সম্পূর্ণ প্রান্তিক। এই সিলেক্টিভ ফ্রেমিংয়ের কারণে ন্যায় বিচার ও ইনসাফ প্রাসঙ্গিকতা হারায়। ঠিক জায়গাতেই টু-মাচ টু-লিটলের ধারণা দারুণভাবে প্রাসঙ্গিক। এ কারণে দেখা যায়, মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত হলে তারা নাগরিক হয়ে ওঠে না। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে অসংখ্য মাদরাসা শিক্ষার্থী শহীদ হলেও সেটা গণহত্যা হয় না, সিভিল সোসাইটি তাদেরকে হত্যার অভিযোগে সরকারকে প্রশ্ন করে না, কিন্তু কোনো ধর্মীয় নেতা অপরাধ করে বসলে তার পরিচয় হয় ‘হুজুর সমাজের কলঙ্ক’।

যাই হোক, ৭২-এর সংবিধানে সেক্যুলারিজমকে অনুপ্রবেশ করানোর পর দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা’ যুক্ত হলেও তা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হয়নি। কারণ, সেক্যুলার প্রক্রিয়ায় আলেম সমাজকে সব সময় একটা অপরাধী, রাষ্ট্রবিদ্রোহী কিংবা স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি হিসেবেই অতিরিক্ত দৃশ্যমান করা হয়েছিল। এই বিচ্ছিন্নতাই বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজজীবনে নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের মূল কারণ। এজন্য জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আলেম সমাজের রাষ্ট্রভাবনাকে যতটা গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল, দুঃখজনক হলেও সে প্রত্যাশিত অগ্রাধিকার তারা পায়নি। এ কারণেই ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমাজের অভিভাবক হিসেবে আলেম সমাজ সব সময় ন্যায় ও নৈতিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আহ্বান জানায়।

এই রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম ভিত্তি হবে ইনসাফ। এই ইনসাফের মানদণ্ড নির্ণয় হবে ওহির মাধ্যমে। কারণ, রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে নৈতিক ভিত্তির দৃঢ়তার ওপর। ইসলামি দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের দমন। ফলে রাষ্ট্রে নেতৃত্ব নির্ধারণের মানদণ্ড হবে ব্যক্তির চরিত্র, সততা ও নৈতিকতা; রাজনৈতিক আনুগত্য বা আর্থিক প্রভাব নয়। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘ইন্না আকরামাকুম ইনদাল্লাহি আতকাকুম’ অর্থাৎ মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় তাকওয়ার ভিত্তিতে, পদমর্যাদার ভিত্তিতে নয়—এই দর্শনের মর্মবাণীকে প্রতিফলিত করতে হবে। এই চিন্তাধারা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বাতিল করে না, বরং নৈতিকতার আলোয় তাকে সমৃদ্ধ করে। কারণ, আধুনিক রাষ্ট্রের সত্তা কেবল ভোটের হিসাব নয়; এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা এবং ক্ষমতার নৈতিক সীমাবদ্ধতার নিশ্চয়তা।

রাষ্ট্রচিন্তার দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নৈতিক সমাজ গঠন। এক্ষেত্রে আলেম সমাজের ফিলোসোফি হচ্ছে, রাষ্ট্র মানুষের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসের প্রতিফলন। যদি সমাজ থেকে নৈতিকতা বিলুপ্ত হয়, তাহলে কোনো আইনই ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না—তা শরিয়া আইন হোক বা আধুনিক আইন। তাই প্রয়োজন এমন এক সমাজব্যবস্থা, যেখানে সততা, দায়িত্বশীলতা, বিশ্বস্ততা ও ন্যায্যতা হবে সামাজিক সম্পর্কের কেন্দ্র। শিক্ষা, পরিবার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এই নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে হবে। যুবসমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া মাদকাসক্তি, অশ্লীলতা, ভোগবাদ ও আত্মকেন্দ্রিকতা রাষ্ট্র ও জাতীয় জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে এই নৈতিক ভিত্তি সংরক্ষণ ও শক্তিশালী করা এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার মানসিকতা নিশ্চিত করা।

অর্থনীতির ক্ষেত্রে আলেম সমাজ মুক্তবাজার অর্থনীতির চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও মুনাফাকেন্দ্রিক মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করেন। এক্ষেত্রে আলেম সমাজ অত্যন্ত দৃঢ়কণ্ঠে উচ্চারণ করেন যে, আধুনিক পুঁজিবাদ অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ায় এবং সমাজকে শোষণের কাঠামোয় আবদ্ধ করে। ফলে তারা এমন এক অর্থনৈতিক দর্শনের পক্ষে কথা বলেন, যেখানে সম্পদের প্রবাহ সমাজের সব স্তরে ন্যায়সঙ্গতভাবে পৌঁছাবে। এক্ষেত্রে তারা যাকাত, ওয়াকফ ও সদকা ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ করে একটি ইনসাফভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রবক্তা। এই ব্যবস্থায় শ্রমিক, কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে মর্যাদা পাবে। নৈতিকতা-নির্ভর এই অর্থনৈতিক কাঠামো টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য যেমন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দারিদ্র বিমোচনের সঙ্গেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলেই বিশ্বাস করি।

এই পর্যায়ে কথা বলা যায় শিক্ষা নিয়ে। শিক্ষাকে রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখে আলেম সমাজ। শিক্ষা হলো নৈতিকতা ও জ্ঞানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সেতুবন্ধন। আজকের বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কওমি, আলিয়া ও জেনারেল—এই তিন ধারায় বিভক্ত। এতে সমাজে মানসিক ও সাংস্কৃতিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে আলেমদের দীর্ঘদিনের দাবি, তারা জেনারেল শিক্ষাধারায় এমন একটি সমন্বিত শিক্ষানীতি চান, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা ও আধুনিক বিজ্ঞান পাশাপাশি চলবে। উদ্দেশ্য হলো এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা ধর্মীয় মূল্যবোধে দৃঢ় থাকবে এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা হবে রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত ও ইতিহাসের বিকৃতি থেকে মুক্ত। মুক্তিযুদ্ধসহ জাতির অতীত ইতিহাসকে বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করা শিক্ষার অন্যতম মৌলিক চাহিদা।

আলেম সমাজ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে জনগণের মালিকানার প্রতীকী হিসেবে দেখেন। তবে তারা সমালোচনা করেন সেই বাস্তবতাকে, যেখানে গণতন্ত্রের নামে একদলীয় ফ্যাসিবাদ এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি চলে। তাদের মতে, জনগণের অধিকার তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন জনগণ কেবল ভোটার নয়, বরং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশীদার হবে। এই দৃষ্টিতে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের গণআন্দোলন একই ধারার অংশ, যা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধারাবাহিকতায় আলেম সমাজ সব সময় বলে এসেছেন, দেশের শাসনব্যবস্থা ইসলামি মূল্যবোধ, ন্যায়-নীতি-ইনসাফ ও জবাবদিহিতামূলক হোক, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার বা প্রতিহিংসার রাজনীতি থাকবে না।

রাষ্ট্রচিন্তার আরেকটা প্রসঙ্গ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক চুক্তির পুনর্বহালের মধ্য দিয়েই একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পরিচয় গঠন সম্ভব। কিন্তু যখন একটা পক্ষ সেক্যুলারিজমকে চাপিয়ে দেয় তখন মাটি ও মানুষের ধর্মীয় আবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, একই সঙ্গে সমাজে নৈতিকতার মৌলিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। ধর্ম অবমাননা এক শ্রেণির লোকের অন্যতম ব্যাধি। বিশেষত যে দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, সে দেশে ইসলামকে অবমাননা করা রাষ্ট্রদ্রোহের নামান্তর। তথাপি ইসলামকে অবমাননা করে কিছু লোক শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে নয়, রাষ্ট্রের সার্বজনীন অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে যাচ্ছে। অথচ এর কোনো প্রতিকার নেই। এজন্য আলেম সমাজ এমন একটি বাংলাদেশ কল্পনা করেন, যেখানে মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মের নাগরিক সমমর্যাদা এবং নিরাপত্তা ভোগ করবে। কারণ রাষ্ট্র যদি জনগণের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সম্মান করে, তাহলে জাতীয় ঐক্য আরও দৃঢ় হবে।

সবশেষে, আলেম সমাজের রাষ্ট্রভাবনায় জাতীয় সার্বভৌমত্ব একটি অবিচ্ছেদ্য মূল্যবোধ। রাষ্ট্রকে কোনো বৈদেশিক প্রভাব বা পরনির্ভর অর্থনীতির শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা যাবে না। সীমান্তে হত্যা, বিদেশি আগ্রাসন, সাংস্কৃতিক অনুপ্রবেশ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় দরকার বাস্তববাদী ও দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়; এটি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তাই তারা এমন এক বাংলাদেশ কল্পনা করেন, যা নিজস্ব ঐতিহ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক দর্শনের আলোয় আত্মমর্যাদার সঙ্গে বিশ্বে টিকে থাকবে।

নিঃসন্দেহে আলেম সমাজের এসব রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে মতবিরোধ থাকতে পারে। তবে লেখক এই ভাবনাকে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্জাগরণ নয়, বরং বর্তমান আঞ্চলিক বাস্তবতা ও ভৌগলিক প্রেক্ষাপটে একটি ভারসাম্যমূলক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখেন। এর শক্তি নিহিত নৈতিক ভিত্তিতে। আজ যখন বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব আস্থাহীনতায় ভুগছে, তখন নৈতিকতার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া একটি নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। বাস্তবায়নের পথও চ্যালেঞ্জের, বিশেষত বহুধর্মীয় সমাজ ও জটিল অর্থনৈতিক কাঠামোর দেশে। তবুও আলেম সমাজের এই রাষ্ট্রভাবনা বাংলাদেশের রাজনীতি ও চিন্তাজগতে ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করাই যায়।

বিজ্ঞাপন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments