অদ্ভুত সূর্যের দিন

সাবের চৌধুরী

শান্ত তাম্বুরা

আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের গল্পগুলো অনেকটা একই রকম। শান্ত পাহাড় হঠাৎ গর্জে ওঠে। তারপর ধোঁয়া, ছাই আর আগুন উগরে দেয়। একসময় আশপাশের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। তবু প্রতিটি পাহাড়েরই নিজস্ব কিছু গল্প থাকে। এমনই এক পাহাড়ের নাম তাম্বুরা। এটি ছিল ইন্দোনেশিয়ার সুম্বাওয়া দ্বীপের বিশাল এলাকাজুড়ে।

এই ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮১৫ সালের এপ্রিল মাসে। পম্পেইয়ের ভিসুভিয়াস পাহাড় খুব উঁচু ছিল না। মোটেই ৪ হাজার দুশো ফুট। ৪২০ তলা একটি বিল্ডিংয়ের সমান। এর তুলনায় তাম্বোরা ছিল ভয়ংকর উঁচু। প্রায় ১৪ হাজার ফুট। মানে, প্রায় চৌদ্দশ তলা একটি বিল্ডিয়ের সমান। আকাশ ছুঁই ছুঁই উচ্চতা। অকল্পনীয় ব্যাপার।

তবে, ভিসুভিয়াসের মতো এটিও ছিল শান্ত, নীরব আর বহুদিনের চেনা এক বন্ধুর মতো। এর ঢাল ছিল উর্বর। ঘন সবুজে ঢাকা। বিচিত্র গাছপালা, পাখি আর নানান জীবজন্তুর নিরাপদ আবাসস্থল ছিল এই পাহাড়। এর ঢালে গড়ে ওঠেছিল অনেকগুলো জনবসতি। উর্বর মাটিতে মানুষ ফসল ফলাত, সমুদ্রে মাছ ধরত, পশু পালন করত। বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে খেলায় মেতে থাকত শিশুর দল। এই অরণ্য আর সবুজ ঢাল শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আশেপাশের মানুষের জীবিকার উৎস হয়ে ছিল।

১৮১৫ সালের এপ্রিলের সে দিনটিও ছিল শান্ত, সুন্দর, আর দশটি দিনের মতোই স্বাভাবিক। কৃষকেরা ধানের ক্ষেতে কাজ করছিল, জেলেরা তাদের ছোট কাঠের নৌকাগুলো সমুদ্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল, আর শিশুরা উপকূলের উষ্ণ বালুর উপর খেলছিল। তাদের মাথার ওপরে বন্ধুর মতো দাঁড়িয়ে ছিল মাউন্ট তাম্বোরা।

সুম্বাওয়ার মানুষের কাছে তাম্বোরা ভয়ের কোনো বিষয় ছিল না। ছিল বহু দিনের পরিচিত নিরাপদ এক পাহাড়। কিন্তু তারা জানত না শত শত বছর ধরে এর গভীরে জমে উঠছিল ভয়ংকর এক চাপ আর সে নীরবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন এক বিস্ফোরণের জন্য, যার কথা কেউই আগে থেকে কল্পনা করতে পারেনি।

 

পাহাড়চূড়ায় ভয়ংকর আলো

তবে ১৮১৫ সালের ভয়াবহ ঘটনাটি হঠাৎ করে ঘটেনি। তাম্বুরা মানুষকে কয়েক বছর আগেই সতর্ক করতে শুরু করেছিল।

১৮১২ সালে প্রথম অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়। ছোট ছোট অগ্ন্যুৎপাত, ধোঁয়ার মেঘ আর মৃদু গর্জন শোনা যেতে থাকে। কিন্তু গ্রামের মানুষ  এসব সতর্কবার্তাকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি ১৮১৪ সালে যখন পাহাড় থেকে বের হওয়া গরম ছাই তাদের মাঠে, ঘরে আর গাছপালার উপর পড়তে শুরু করেছিল, তখনও কেউ ভাবেনি সামনেই ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে।

১৮১৫ সাল। এপ্রিলের শুরুর দিকে পাহাড়ের মুখ থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার একটি বিশাল স্তম্ভ আকাশে উঠে গেল। রাতে গ্রামবাসীরা দেখল পাহাড়ের চূড়া জ্বলছে আর দৈত্যের মতো এক আগুনের শিখা আকাশকে লাল করে তুলছে। গ্রামের পশুগুলো অস্থির হয়ে ওঠলো। ঘোড়া, গরু, ছাগল—সব যেন ছটফট করতে লাগল কোনো এক অজানা আতঙ্কে

সে এলাকার মানুষ ছিল শিক্ষাবঞ্চিত এবং কুসংস্কারে আক্রান্ত। তারা আল্লাহকে চিনত না। বিভিন্ন দেবতাদের পুজা করত। তাই তারা ভাবলো দেবতারা রাগান্বিত হয়েছেন। এলাকা ছেড়ে পালানানোর বদলে দেবতাদের খুশি করার জন্য তারা আরো বেশি করে পুজা শুরু করল।

 

বিস্ফোরণ

১৮১৫ সালের ৫ এপ্রিল। একটি বিশাল বিস্ফোরণ পুরো দ্বীপকে কাঁপিয়ে দিল। পাহাড়ের বিশাল গহ্বর থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ছাই ঝরতে লাগল। অসহায়ের মতো তাকিয়ে রইল  হতবুদ্ধি গ্রামবাসী। বিস্ফোরণ এতোই জোরালো ছিল যে, শত শত কিলোমিটার দূর থেকেও তার শব্দ শোনা গিয়েছিল। কিন্ত কয়েকদিনের মধ্যে টের পাওয়া গেল এটি ছিল কেবল শুরু। সামনে যে বিস্ফোরণটি ঘটেছিল, এর তুলনায় প্রথম এই বিস্ফোরণটি বলতে গেলে কিছুই ছিল না। 

১৮১৫ সালের ১০ এপ্রিল। সন্ধ্যা।  সূর্যাস্তের পর। পাহাড় তার সবচেয়ে ভয়ংকর গর্জনটি ছুঁড়ে দিল। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে আগুন ও ছাইয়ের এক বিশাল স্তম্ভ সোজা প্রায় ৪০ কিলোমিটার উপরে উঠে গেল। সেই গর্জনের ভয়াবহতা ছিল হাজার হাজার বোমা বিস্ফোরণের চেয়েও বেশি। পাহাড়ের এই যন্ত্রণাকাতর আর্তনাদ শোনা গিয়েছিল দুই হাজার ছয়শ কিলোমিটার দূরেও। বিস্ফোরণের ধাক্কা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবী ঘুরে আবার ফিলে এসেছিল। মনে হচ্ছিল যেন সেই সন্ধ্যায় রাগান্বিত সূর্য নিজেই আকাশ ছেড়ে নেমে এসেছে পৃথিবীর বুকে। প্রথমে আকাশ লাল হয়ে উঠল, তারপর ধীরে ধীরে ঢেকে গেল কুচকুচে কালো অন্ধকারে। আশপাশের গ্রাম, বনভূমি, মানুষ আর পশুপাখি মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেল। মানুষের দৌড়ে পালানোর সুযোগটুকুও পেল না। এরপর টানা তিন দিন তাম্বোরা আগুন, ধোঁয়া আর ছাই উগড়ে যেতে লাগল।

ছাই আর ধোঁয়ার ঘন স্তরে সুম্বাওয়া দ্বীপ থেকে প্রায় আটশ কিলোমিটার দূরের জাভা দ্বীপেও এমন অন্ধকার নেমে এসেছিল যে মানুষ দিনের বেলাতেও নিজের হাত দেখতে পাচ্ছিল না। সুম্বাওয়া দ্বীপের তাম্বোরা ও পেকাত রাজ্য সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।

এরপরই রাগে ফেটে পড়লো সমুদ্র। নিকটবর্তী উপকুলের দিকে ধেয়ে গেল প্রায় ১৪ ফুট উঁচু বিশাল বিশাল ঢেউ। আছড়ে পড়লো গ্রামগুলোর উপর। জাহাজগুলো খেলনার নৌকার মতো উল্টে গেল এবং নাবিকেরা হারিয়ে গেল সমুদ্রের অতল জলে।

অবাক করা ব্যাপার হলো, যে তাম্বুরা ছিল ১৪ হাজার ফুট উঁচু, সেই পাহাড়েরর প্রায় অর্ধেক শরীরই বিস্ফোরণে উড়ে যায়। ভেতরে তৈরী হয় বিশাল এক গর্ত, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ক্যালডেরা। বিশাল মানে বিশাল। এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের দূরত্ব সাত কিলোমিটার। আর গভীরতা প্রায় এক কিলোমিটার। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, নয় হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ের মাথায় বসে আছে বিশাল এক পাথরের বাটি।

 বিস্ফোরণের পর শুধু পাহাড়ই বদলে যায়নি। প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও সুনামির ধাক্কায় সুম্বাওয়া দ্বীপের উপকূলের অনেক জায়গা ভেঙে পড়ে। কোথাও স্থলভাগের ভিতরে ঢুকে পড়ে সমুদ্র, কোথাও উপদ্বীপ বিচ্ছিন্ন হয়ে তৈরী হয় আরো ছোট ছোট দ্বীপের মতো ভূমিখণ্ড।

তাম্বোরার বিস্ফোরণ ছিল VEI-7 মাত্রার। মানব ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যোৎপাত ছিল এটি।

 

অদ্ভুত সূর্য

তাম্বোরার এই বিস্ফোরণের প্রভাব শুধু সুম্বাওয়া বা ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং, আগ্নেয়গিরির ধোাঁয়া ও ছাইয়ের স্তম্ভ বায়ুমণ্ডলের ভিতরে অনেক উঁচুতে উঠে গিয়েছিল। এরপর সেখান থেকে অদৃশ্য তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল সারা পৃথিবীতে। সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে তৈরি করেছিল অসংখ্য ক্ষুদ্র অ্যারোসল। যার ফলে পৃথিবীতে ঘটেছিল আরো একটি অদ্ভুত ঘটনা।

বাতাসে মিশে থাকা এরোসেল কণা সূর্যের আলোকে এপারে আসতে দিত না। প্রতিফলিত করে আবার মহাশূন্যে ফেরত পাঠাত। যার কারণে পৃথিবীর আকাশ হয়ে উঠলা টকটকে লাল, কোথাও বেগুনি। কোনো রোদ ছিল না। দিনের আকাশে দেখা যেত লালচে এক মৃত সূর্য, ধীরে ধীরে পূর্ব থেকে পশ্চিমে এগিয়ে চলেছে। দৃশ্যটি ছিল একই সঙ্গে ভয়ংকর ও আকর্ষণীয়। লন্ডনের বহু শিল্পী এই অদ্ভুত আকাশের ছবি এঁকেছিলেন।

এই অচেনা অন্ধকারের সাথে পৃথিবীজুড়ে নেমে এসেছিল অদ্ভুত এক ঠান্ডা। এমনকি ১৮১৬ সালে পৃথিবীতে গরমকাল বলতে কোনো কিছুর দেখা মেলেনি প্রায়। ইতিহাসে বছরটিকে বলা হয় ‘ইয়ার উইদাউট সামার’ বা গ্রীষ্মহীন বছর।

আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়াসহ পৃথিবীর সব জায়গায় দেখা দিল তীব্র খাদ্যসংকট। দেখা দিল। রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ল, ফসল নষ্ট হলো, দুর্ভিক্ষ ও মহামারির কবলে পড়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটল।

তাম্বুরার বিস্ফোরণে সরাসরি মারা গিয়েছিল দশ এগারো হাজারের মতো মানুষ। কিন্তু এর পরবর্তী প্রভাবে মারা গিয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, তাম্বোরার বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা লাখের কম নয়।

 

অন্ধকারের দানব

সে সময় তাম্বুরার বিস্ফোরণ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার মতো সুইজারল্যান্ডের আকাশকেও আলোহীন করে দিয়েছিল। ১৮১৬ সালের গ্রীষ্মকাল। সুইজারল্যান্ডের  জেনেভা হ্রদের তীরে কয়েকজন তরুণ লেখক একত্রিত হয়েছিলেন। অবিরাম বৃষ্টি আর অন্ধকারে তারা ঘরের ভিতর বন্দি। কোথাও বের হবার জো নেই। একসময় তারা ঠিক করলেন তিন জন তিনটি ভৌতিক গল্প লিখবেন। শেষে দেখা যাবে কার গল্পটা সবচেয়ে ভয়ংকর হয়েছে। তিন লেখকের একজন ছিলেন মেরি শেলি। অন্ধকারাচ্ছন্ন এই অদ্ভুত পৃথিবী তার মনের জগৎকে উলট পালট করে দিয়েছিল। এর ফলে তিনি যে গল্পটি লেখা শুরু করলেন, তা আর দশটা ভৌতিক গল্পের মতো স্বাভাবিক ছিল না। তিনি কল্পনা করলেন এমন এক বিজ্ঞানীর কথা, যিনি ভয়ংকর এক দানবকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন। দিন রাত গবেষণার পর একসময় সত্যিই ভয়ংকর এক দানবের জন্ম হলো। মেরি শেলি তার নাম রাখলেন ফ্র্যাংকেস্টাইন। পরবর্তী সময়ে এই গল্পটি পৃথিবীজোড়া খ্যাতি লাভ করে। কিন্তু মানুষ জানে না এই দানবটি জন্ম নিয়েছিল তাম্বুরার সেই অন্ধকার থেকেই। মেরি শেলির মনে অদ্ভুত সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবী, লাল আকাশ, মৃত সূর্য আর চারদিকে মৃত্যুর হাহাকার যে গভীর ভয় ও বিষণ্ণতা তৈরী করেছিল, সেটিই গল্পে বেরিয়ে এসেছে ফ্র্যাংকেস্টাইনের দানব হয়ে।

তিন জনের দ্বিতীয় জন ছিলেন লর্ড বায়রন। তিনি লিখলেন ‘ডার্কনেস’ নামক অসাধারণ সুন্দর এক কবিতা। সে কবিতায় তিনি কল্পনা করেছেন এমন এক পৃথিবীর কথা, যেখানে সূর্য নিভে গেছে, মানুষ ক্ষুধায় আতঙ্কে ভুলে গেছে নিজেদের চিন্তা, স্মৃতি, অনুভূতি, দয়ামায়া। পাখিরা উড়তে গিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। ভয়ে হিংস্র জন্তুরা এসে আশ্রয় নিয়েছে মানুষের ভীড়ে।

তার কবিতার শুরুর অংশটা ছিল এমন :

আমি এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছিলাম। ঠিক স্বপ্ন নয়, আবার সত্যও নয়।

হঠাৎ সূর্য নিভে গেছে, আকাশে আর কোনো আলো নেই। তারাগুলো দিশেহারা। ঘুরে বেড়াচ্ছে অন্ধকার মহাশূন্যে। আলোহীন। কোনো পথ নেই। ঠান্ডায় জমে যাওয়া পৃথিবী কালো অন্ধকারে ঢেকে গেছে, নিঃশব্দে ভেসে আছে চাঁদহীন আকাশের নিচে। ভোর আসে প্রতিদিন, কিন্তু সে ভোরে আলো নেই।

সেই বছরের অন্ধকার শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের চিন্তায়, কথাবার্তায়, গল্পে, সাহিত্যে বিপুল প্রভাব ফেলতে শুরু করে। 

মাউন্ট তাম্বুরা আজো আছে, আগের মতোই। বিশাল, নীরব, গম্ভীর। শত বছর ধরে ঘুমিয়ে আছে তার ভিতরের আগুন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের ঢাল আবার সবুজ হয়ে উঠেছে। গাছপালা জন্মেছে। মানুষ ফিরে এসেছে। সেখানে আবারো জেগে ওঠেছে জীবন। সবকিছু শান্ত, সুন্দর, সজীব। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক সেখানে ঘুরতে যায়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন। আর গ্রামের শিশুরা বিস্মিত চোখে তাদের মায়েদের মুখে শোনে সেই ভয়াল দিনের গল্প—যেদিন এক শান্ত পাহাড় হঠাৎ জেগে উঠে বদলে দিয়েছিল পৃথিবীর আকাশ।

 

এই লেখায় ব্যবহৃত তথ্যগুলো নেওয়া হয়েছে প্রধাণত Edge of Disaster পরিবেশিত ডকুমেন্টারি—Tambora 1815: The Deadliest Volcanic Eruption in History থেকে।

বিজ্ঞাপন

guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
জাকির হুসাইন
জাকির হুসাইন
26 days ago

লেখকের আরও লেখার জন্য অপেক্ষায়